হাই স্বাধীনতা


            ✍️বিভুলাল চক্রবর্তী

হাই স্বাধীনতা-
তুমি এসেছ ? কী যে আনন্দ হচ্ছে! 
কিন্তু, তোমাকে বসাব কোথায়? 
জানি তুমি ক্ষণিকের অতিথি- 
রাত পোহালেই মলিন, ফ্যাকাশে
হয়ে যাবে বাসি! 
তবু তুমি এলে দেখতে পাই
আমার নির্বাসিত অতীতকে, 
আমার নির্যাতীতা বন্দিনী জননীকে। 
মনে পড়ে বীর শহীদদের আত্মত্যাগে
রক্ত ঝরানো এক দীর্ঘ স ্গ্রামের ইতিহাস! 
হায় স্বাধীনতা- 
আজ ভূগর্ভ থেকে মহাকাশ চর্চায়
তোমারই জয়জয়কার, কিন্তু - 
কোথায় তোমার সাইনিং ইন্ডিয়া, 
কোথায় একসূত্রে বিকাশের ধারা? 
স্বাধীনতা, আজ চুয়াত্তর বছর পরেও 
তোমার মানে এরা বোঝেনা! যারা এখনো
স্টেশনের পাশে পাতার ঝুপড়ি তে মাথা গুঁজে! 
যে অসহায় শিশুরা পথে জন্মায়, 
যে অবুঝ শিশুটা মৃতা মায়ের
আঁচল ধরে টানে, যে নির্ভয়ারা- 
মরেও দু: সহ যন্ত্রণা ভোগ করে
তারা বোঝেনা এ স্বাধীনতার মানে। 
যে ছেলেটা বইখাতা ছুঁড়ে
স্টেশন চত্বরে হাত পেতে ভিক্ষা চায়
ওদের মায়েরাও বুঝতে চায়না! 
চেয়ে থাকে বাতানুকূল কক্ষের দিকে
এক উদাস কঠিন দৃষ্টি মেলে। 
যে শ্রমিকরা কাটা পড়ে রেলের চাকায়
তারাও পায়নি এ স্বাধীনতার স্বাদ- 
তিক্ত, অম্ল না মিঠা! 
এ রক্ত কার স্বাধীনতার জন্য? তবে- 
যারা বঞ্চিত হতে হতে বিদ্রোহী হয়, 
দিন বদলের স্বপ্ন দেখে, তারা হয়তো
কিছুটা বোঝে- স্বাধীনতা কী এবং কেন। 
আর, স্বাধীনতার মানে তারাই বোঝে 
যারা শ্রমিকের রক্ত চুষে বিত্তশালী, 
শিল্পপতি- আর কিছু বাংরেজ রাজনীতিবিদ
যারা গিরগিটির মত রঙ পাল্টায়! 
তবু স্বাধীনতা, পেয়েছি তোমায়
অনেক ত্যাগের মহিমায়। 
ত্রিবর্ণ পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে পালন করি
স্বাধীনতা দিবস, খুব আনন্দ উচ্ছাসে। 
কেউ পায় চকলেট, কেউবা উদ্গার তোলে 
মিষ্টি সন্দেশে! ভালো থেকো স্বাধীনতা- 
আবার দেখা হবে ৩৬৫ দিন পরে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন