অনুগল্প - বিক্রম রায়


              ✍️ মন্দিরা ভারতী

দুপুরবেলা বর্ডারে যাবার সময় মা বাবা পাড়ার সকল আত্মীয়সজন আসছে আমায় স্টেশনে ছাড়তে। ঠিক এমন সময় রমেন কাকা বলে উঠল ' কি রে.... শহীদ হতে যাচ্ছিস নাকি বাপু'! মা রেগে গিয়ে বলে উঠল - আহ্ ঠাকুরপো... এসব কি অলক্ষনে কথা বলছেন বলুন দেখি। পাড়ার কাকিমারা বলতে লাগল - তোকে আজ আর যেতে হবে না বাছা, কাল চলে যাস। তখন বাবা বললো ধুর্.... যতসব আজগুবি ব্যাপার। বিক্রম চল তো বাবা চল। দেরি হলে ট্রেন মিস করবি। মায়ের চোখের জল দেখে বাবা কাকিমার দিকে চেয়ে বললো - ' বুঝলে ঊষা  যদি এতই ভয় পেতুম তাহলে ছেলেকে আমার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বানাতুম, ক্ষুদিরাম বা সুভাষের মতো দেশের জন্য লড়াই এর জন্য তৈরি করতুম না। ছেলে আমার ভারতমায়ের সন্তান গো। 
ছলছল চোখে মা বলে উঠল - যেতে যখন হবেই তখন আর দেরি করিস নে বাবা। ভালোই ভালোই পৌঁছে গেলেই হলো। মা ঊষা কাকিমাকে বললো 'আমার বিক্রমকে আমি সেদিনই ভারতমায়ের হাতে তুলে দিয়েছি যেদিন ও দেশের সিপাহি হয়েছিল। ভারতমাতা ঠিক ওকে রক্ষা করবে'। 
মা বাবা সবার কথা শুনে খুব গর্ব হলো। ইতিমধ্যেই ট্রেন চলে এল। বাবা বললো পরের বার যখন যাবি, সাথে বৌমাকে পাঠানোর ব্যাবস্থা করবো। তাহলে আমরা এখানে একটু নিশ্চিন্ত হবো। 
হ্যাঁ হ্যাঁ খুব হয়েছে তোমাদের। এবার আমি আসছি।
বিক্রমের যাওয়ার একঘন্টা পর তার বাড়িতে একটা ফোন আসে। সব যেন নিস্তব্ধ। চারদিক অন্ধকার হয়ে এল তার মা বাবার চোখে। 
       

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন