১৫-ই আগস্ট


                       ✍️প্রশান্ত দাস 

ভারতবর্ষে ১৫ই আগস্ট দিনটি প্রতিবছর সম্মানের সহিত পালন করা হয়। এই দিনটিতে আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট আমাদের ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনাধীন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনতা আদায় করেছিল। দেশের জন্য স্বাধীনতার অর্জন করতে পেরে প্রত্যেক বছরেই এই দিনকে  প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। তখনকার সময়ের ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রধানত অহিংস অসহযোগ, আইন অমান্য আন্দোলন এবং বহু চরমপন্থী গুপ্ত রাজনৈতিক সমিতির অহিংস আন্দোলনের পথে পরিচালিত এক দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। দেশ স্বাধীনতার কিছুটা আগ-মুহূর্তে ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যে ধর্মের নিরিখে বিভাজিত হয়। তথাপি হিন্দুস্তান-পাকিস্তানের জন্মও হয়। ১৫ ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন জহরলাল নেহেরু শপথ নেন। তিনি শপথ নেওয়ার পর দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি  গেটের উপর ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে কিছুটা বক্তিতা রাখেন। আজও অগাস্টের ১৫ তারিখ দিনটিকে সম্মানের সঙ্গে বলা হয়। এই দিনে সারা ভারতবর্ষ জাতীয় ছুটি দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।  বিভিন্ন স্কুলে, অফিসে, বিভিন্ন পদের সেনাবাহিনী, বিভিন্ন রাজ্যের অলিতে-গলিতে প্রান্তে প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই দিনে ছেলেমেয়েরা শহীদ সেনাদের, দেশপ্রেমিকদের, ভারতমাতার এবং বিভিন্ন দেশদ্রোহীর সাজপোশাক পরিধান করে রেলিতে অংশগ্রহণ করে। চারিদিকে জনগণ জয়ধ্বনি দেয়, বাজনা বাজায়, নাট্যাভিনয়ে যোগদান করে। দেশপ্রেমিকদের, শহীদ হওয়া সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সারাদিন দেশের  মানুষজন আনন্দে উল্লাসে ঘুরে বেড়ায় জাতীয় পতাকা হাতে কিংবা সঙ্গে নিয়ে যেন ভারতবর্ষ নিজেই ঐ দিন নানা রঙে রঙিন হয়ে যায়। কিন্তু দেশের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লির লালকেল্লায়। রীতিমতো দেশের প্রধানমন্ত্রী পতাকা উত্তোলন করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতা ও শহীদ সেনাদের শ্রদ্ধা জানান।

                                            - "জয়হিন্দ "


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন