রেস্তোরাঁ

 
      -দীপাঞ্জলি পাল
ও মেয়ে তোর নাম কিরে?
---মিষ্টি
কি করিস? 
---একটু টাকা দেবে। টাকা!!
আর বয়েস? 
---টাকা দাওনা ...টাকা।
অনেকদিন ভালো কিছু খাই নি
আগে বল বয়েস কত???
---জানি নাতো! সে কিরে?
বয়েস দিয়ে কি হবে!
তাহলে বাড়ী, 
---মেয়েদের কোনো বাড়ি হয় নাকি?
জন্ম থেকে বাপের ঘরে
বিয়ের পর স্বামীর ঘরে
বুড়ী হলে ছেলের ঘর 
তা না হলে বৃদ্ধঘর।
এই শোন, দাঁড়া, শুনে যা---
কার ঘরে থাকিস এখন?
---মা মরলো জন্ম দিয়ে
বাপ করলো আবার বিয়ে
থাকবো কোথায় আর গাছতলাতে।
রাতেও সেই গাছতলাতে!!!
রাত কি করে কাটাস শুনি?
---নেই মোদের অট্টালিকা
নেই কোনো প্রাসাদবাড়ি।
গাছ আর পথ আমার সাথী
সেইখানেতে কাটে রাতি।
ঘুম আসে কি সেই পথেতে
এত শত হট্টগোলে?
---আলোর থামের নীচে
গাছতলার ওই পাশে
চাদর মুড়ি দিয়ে 
কখনো বা জেগে।।
শোন,কি খেতে চাস তুই?
---ওই দোকানের হলুদ ভাত 
আর কি যেন সাথে লাল তরকারি
এতেই হবে। দেবে কিনে??
একটু ভেবেই দিলেম বলে
চল, যাই তাহলে ঐ দোকানে।
হলুদ ভাত আর  তরকারি দিয়ে
শেষ পাতেতে মিঠাই নিয়ে
যা খুশী তোর ইচ্ছে হবে
খেয়ে নিস তাই পেটপুরে।
দেখছিলাম তাকে আড়চোখেতে
ও বসলো মেঝের মাঝে।
ওঠ, কেনো বসলি এই খানেতে?
ওমা, সে কি গো,
দামী দোকান দামি খাবার
এটাই তো ঢের হয়েছে
এর চেয়ে আর কি বা চাই।
তবু ওঠ, চেয়ারে বস
এইখানেতে এভাবে খায়।
দেখছিল সে অবাক ভাবে
যখন এলো ডালির সাজে
কেউ খাচ্ছে চাইনিজ আর 
কেউ বা রঙিন ফোয়ারাতে।
যখন ওর খাবার এলো
ছলছল চোখ প্রশ্ন করলো
এত খাবার, সব কি আমার 
কি করে খাবো এতসব খাবার।
কষ্ট হলেও খেয়ে নিল সে
চুপটি করে গোগ্রাসেতে।
কতদিন যেন খায়নি কিছুই
পড়েনি পেটে ভালো কিছু।
প্ৰশ্ন করলাম সব শেষেতে
পেট ভরেছে, লাগবে আর কোনো কিছু
না গো না, কি বলছো
তিন দিনের খাওয়া খাইয়ে দিলে
আরো খাওয়াবে, পাগল নাকি!
চলে গেল সে তারপরেতে,
শান্তি পেলাম বহুদিন পরে
ওকে খাওয়াতে পেরে, আর 
ও ভালোভাবে খেলো বলে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন