ঘুম শেষে

       ✒️বিপ্লব দেবনাথ

ফোন বাজার শব্দে আমার কাঁচা ঘুম ভেঙে গেল। তখন বোধহয় ঘড়ি তে ভোর পাঁচটা বাজে‌। কাঁচা ঘুম বলার কারন হল আমার মত নেটিজেনদের ভোর পাঁচটা হল রাতের বিছানায় ডুব মারার পারফেক্ট লগ্ন। সারারাত জেগে জেগে ব‌ইটা ঘেটে ঘেটে, খাতায় কলমের খোঁচা দিয়ে, ইন্টারজালের ইন্টারনালে মাছ ধরে ধরে হামি খাওয়া আর আঙুলের চুটকি কাটা ছাড়া আজকাল পাঠকদের আকাশছোঁয়া ডিমান্ড পূর্ণ করা কল্পনাতীত।রোজকার রুটিন মেনে মহাভারত অশুদ্ধ না করে ৩টা নাগাদ চিত্রার বকুনির পর বিছানায় গিয়ে ছিলাম। সে যাই হোক, বালিশের পাশ থেকে ফোনটা কানে চাপা দিয়ে দুচোখ বন্ধ রেখেই বললাম "হ্যালো"
ফোনের ওপাশ থেকে একটা হাওমাও করে কাঁদার শব্দ আমার লঘু মস্তিষ্কের পিটুইটারি কে উদ্দীপিত করে দিল। সাথে সাথে ঘুমটা স্পিরিট স্বরূপ উর্দ্ধপাতিত হয়ে গেল। আমি উঠে বসে ফোন স্ক্রিনে নম্বর টা একবার দেখে নিয়ে বললাম "সঞ্চিতা, তোর কি হল? কাঁদছিস কেন?"
: হাওমাও এর মাত্রা এবার দ্বিগুণ হয়ে গেল।
আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম " কি হল বলবি বোন? কি হল?"
তবু কান্না চলছে নদীর স্রোতের অনুকূলে। 
"তুনা, কাঁদছিস কেন বলবি? কি হল হলটা কি?"
 কান্না কিন্তু থামল না কিন্তু এবার শব্দের তীব্রতা কমে ক্রমে ফুঁপানোতে পরিনত হল।আমি গায়ের গামছা টা একহাতে ধরে বিছানা থেকে নীচে নেমে এলাম। উত্তর কিন্তু আসছিল না কোনো। আমি এবার দরজার লক্ টা খুলে একবার বাইরে একবার ভেতরে পাগলের মত পাইচারি করতে লাগলাম আর
আমি বারবার তার কান্নার কারন জিজ্ঞেস করতে থাকলাম। কিন্তু উত্তর না পেয়ে শেষমেষ চিত্রাকে ফোন দেব স্থির করলাম। বেচারিকে সারারাত "ওগো শুনছো, কিগো ওটা কি সত্যি? ওটা এমন হলে ব্যাপারটা কেমন হয়?" এসব প্রশ্নের বনে ঘুরিয়ে জ্বালিয়ে মেরেছি। জানি ফোন করলে বিরক্ত হবে কিন্তু না করে উপায় নেই কারন এরকম পরিস্থিতিতে তাকে ছাড়া যে উদ্ধার নেই আমার। সে যাই হোক, সাতপাঁচ না ভেবে তাকে কনফারেন্সে লাগিয়ে দিলাম। অনেকক্ষন রিং করার পর সে ফোনটা রিসিভ করেই "কি হল? সারারাত জ্বালিয়ে মারলি এখন আবার কি হল? তোর মত গাধার সাথে প্রেম করাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।তোর মত দজ্জাল ছাগল গরুর সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছা আমার নেই" এসব বলে যাচ্ছিল।তার কথার মাঝে আমি বারবার তাকে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছিলাম। শেষে চিৎকার করে বলে উঠলাম কি বলতে চাইছি শুনবি? আর আওয়াজ টা যেন চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়ে আমার কানে ফিরে আসছিল। আমার একবার এদিক ওদিক তাকিয়ে আবার ফোনটা কানে লাগালাম। এবার তার বকাবাদ্য থামল। ততক্ষনে আমার চিৎকারে সঞ্চিতার কান্না ও থেমে গেল। আমি চিত্রাকে বলতে যাচ্ছিলাম "দেখ তোমার বোন তখন থেকে কেঁদেই যাচ্ছে। কিছু বলছে না"
সঞ্চিতা বলে উঠল আমার "এবার রাখিবন্ধনে আমার লেপটপ  লাগবে। সেবারের মত যদি একটা সেলিব্রেশন ধরিয়ে দাওনা দাদা তবে আমার সাথে কথা বলার দরকার নেই।"
"যতসব...." বলে চিত্রা কল টা কেটে দিল। আমি কি বলব না বলব ভেবে উঠতে পারছিলাম না। "তুই তোর রাখি উপলক্ষে কি গিফ্ট চাই, তার জন্য আমাদের ঘুম বেঁচে দিলি ?? যা ও ভাবছিলাম দেব এবার লেপটপ টা।  যা দেবনা লেপটপ, আর তোর মত পেত্নীর সাথে কথা বলার আমার কোনো সখ নেই।" বলে কল টা কেটে কপালে হাত দিয়ে বাড়ান্দায় বসে রইলাম। মুখের কোনে আমার অজান্তেই একটা মুচকি হাসি খেলে গেল।
 আমার প্রেমিকার বোন সঞ্চিতা সেই সুবাদে আমার ও বোন। প্রতিবার আমায় রাখি বাঁধে। আমাদের মধ্যে ঠিক ভাই বোনটার মত দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া চলে। আমি ও জ্বালানোর সুযোগ পেলে তাকে ছাড়িনা।
সাতপাঁচ ভাবছিলাম বসে বসে সকাল ৬টার এলার্মে আমি ভাবনার দেশ থেকে বাস্তবে ফিরে আসলাম। উঠে ঘরে ঢুকে দুহাতের কোনোই  মটকে  কটমট আওয়াজেএকটা বড় হামি খেলাম। তারপর ধীরে ধীরে আমার টেবিলের দিকে গেলাম।টেবিলে রাখা গিফ্টের প্যেকেট টা তে একবার হাত বুলিয়ে গামছা টা একবার শক্ত করে বাঁধলাম।
প্যেকেটে ডেল কোম্পানির ব্রেন্ড নিও লেপটপ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন