✍️বিপ্লব গোস্বামী
আমার প্রথম বার কলকাতা বেড়ানোর সফরসঙ্গী ছিলেন আমার মাসতুতো দাদা বিজয়।ফ্লাইটে ওঠার পর থেকেই উনি বলতে শুরু করেন কলকাতায় পৌঁছেই প্রথমে বিপদের চা খেয়ে নিবো।কয়েক বার বলার পর আমি উনাকে বললাম বিপদের চা মানেটা কি দাদা? চা তো চা'ই হয় তবে বিপদের চা বলতে কি বলতে চাচ্ছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। উনি সোজা উত্তর দিলেন ভাই বিপদের চা যখন খাবি তখন বুঝবি। এখন কিছুই বলব না তোকে।
দমদম নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর আমরা যশোর রোডের একটা হোটেলে ওঠলাম।হোটেরটা দমদম এয়ালপোর্টের ২ নং গেইটের পাশেই। যশোর রোডের শনি মন্দির পাড়ি দিয়ে একটু দূরেই।হোটেলের পাশেই গোবিন্দ মন্দিরের মোড়ের কাছে একটা ছোট্ট চায়ের দোখান।সেই দোকানের মালিকের নাম হলো বিপদ।আর সেই বিপদের হাতেই হলো চায়ের জাদু।আমারা হোটেলে জিনিস পত্র রেখেই সোজা বিপদের চা খেতে গেলাম।দাদার উৎসাহের শেষ নেই।আমিও কিছুটা কৌতুহলী।দোকানটা এতটাই ছোট্ট যে দোকানদার ছাড়া আর কেউই দোকানে দাঁড়াতে পারে না।দোকানে বসার কোন ব্যবস্তা নেই।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেতে হয় চা।আমি বিরক্তি অনুভব করতে লাগলাম কিন্তু দাদার জন্য কিছু বলতেও পারছিলাম না। তবুও দোকানে বেশ খদ্দেরের ভীড়।মিনিট পাঁচ ছয় দাঁড়ানোর ফর শেষে চা পেলাম হাতে।দাদা তো দিব্যি রাস্তায় দাঁড়িয়ে চা খেতে লাগলেন।চা খেতে খেতে আমাকে বলছিলেন কি হলো ভাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছিস খা খা চা খা।আমি কিছুটা বিরক্তি অনুভব করছিলাম।কিছুটা ইতস্ততঃ করে প্রথম চুমুক দিলাম।প্রথম চুমুকেই তো বশ।সত্যিই জাদু আছে বিপদের চা'তে।জীবনে অনেক চা খেয়েছি কিন্তু বিপদের চায়ের মতো এত স্বাদ আর কখনো পাইনি।দাদা তো এক কাপ খেয়ে আরেক কাপের অর্ডার করলেন।আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কি রে ভাই খাবি না কি আরেক কাপ ? আমিও মাথা নারিয়ে হ্যাঁ বললাম।দাদা হেসে বললেন কি হলো এতক্ষণ তো আমার উপর বিরক্ত ছিলি।এখন দেখছি বিপদের চায়ের প্রেমে পড়ে গেছিস।আমি শুধু হাসলাম।
এরপর থেকে আমি যত বারই কলকাতায় যাই প্রতিবারই বিপদের চা খেয়ে আসি।আমি কলকাতায় গেলে প্রথমেই এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে যশোর রোডের পাশের হোটেলে ওঠি।যত বারই গিয়েছি একই হোটেলে থেকেছি তাই ওখানকার হোটেলের কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় হয়ে গেছে।আমি যে হোটেলে থাকি তার কাছেই বিপদের চায়ের দোকান।বিপদের আসল নাম হলো বিপদ ভঞ্জন মুখার্জি। দীর্ঘাকায় গঠন , কৃষ্ণ কোলো গায়ের রং।জন্মের পর মনে হয় কেউ মুখে মধু দেয়নি।কড়া কড়া কথা বলে সব সময়ই।কোন দিন হাসি দেখিনি ওর মুখে।তবু খদ্দেরের অভাব নেই।লাইনে দাঁড়িয়ে লোকে চা খায়ে যায়।বসার মতো কিছুই নেই।কেউবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কেউবা গোবিন্দ মন্দিরের সিঁড়িতে বসে চা খান।অনেকে বাইক সাইকেল থামিয়ে চা খেয়ে যায়।বসারও কোন ব্যবস্তা নেই মুখে হাসি খুশিও নেই তবুও কেন এত লোকের ভীর ? এই প্রশ্নটার উত্তর পেতে হলে বিপদের হাতের চা খেতে হবে।জীবনে অনেক দোকান থেকে অনেক চা খেয়েছি কিন্তু বিপদের চায়ের স্বাদ কোথাও পাইনি।সত্যিই জাদু আছে বিপদের হাতে। বিপদের চা তৈরির ধরনটাও কিন্তু অন্য চা দোকানের থেকে একটু আলাদা।সত্যিই অন্য রকম স্বাদ।তাই তো দূর থেকে লোক এসে লাইন ধরে এক কাপ চা খেয়ে যান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন