বঙ্কিম শ্রদ্ধাঞ্জলি

🙏🙏🙏💐
নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত। 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়.............✍️
বঙ্কিম ছিলেন উনিশ শতকের আবেগময় একজন বাঙালী ঔপন্যাসিক। বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে উনার হাত ধরেই আশীর্বাদ আমরা পেয়েছিলাম। এই আশীর্বাদ আমরা কতটুকু হৃদয়ে ধরে রেখেছি তা বলা মুশকিল! ঔপন্যাসিক হিসাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আমাদের কাছে সম্রাট। সমাজের করুণ কাহিনি যেন উনার হাত ধরেই বেঁচে আছে। আজ সাহিত্য যেন উপন্যাসের রসে রসিত হয় এই কামনা করি। সবার শুভ হোক, শুভ হোক সাহিত্যের সাগর। 
 ধন্যবাদান্তে-
গৌরাঙ্গ সরকার( সম্পাদক)
শিবশংকর দেবনাথ( সহসম্পাদক)
নবোন্মেষ, আগরতলা,  ত্রিপুরা

এখন সময় শূন্যতার

    ✍️নীলদ্বীপ কুমার

শেষ পথটুকু ফুরিয়ে গেলে যেমন কোথাও যাওয়ার থাকে না, 
তেমনি এই তোমার নদী সীমাবদ্ধতায় আমি ফুরিয়ে গেছি! 
কোথাও পাথর ভেঙে
যে ভাস্কর্য নির্মাণ করিছি করুনার ,স্নেহের, 
সেই দেশগুলো ক্রমশ তোমার মতোই বিলীন হয়ে গেছে অন্ধকারে। 
শূন্য তো নয় যেন তারও গভীর নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেছে
আমার বুকের উপর বয়ে চলা হ্রদ গুলো। 
যে পথ একদিন তোমার ব্যাকুলতায় 
কৃষ্ণচূড়া ঝরিয়েছে অঝোরে, 
আল পথ থেকে জল পথ 
তোমার পদ স্পর্শের আশায় ভেঙেছে গোমতীর বুক, 
সেখানে আজ সয়ে যাওয়া সাহারার মুখ ছবি! 
সবাইতো বাঁধে ঘর;
থাকে প্রিয়জন প্রয়োজন, 
থাকে জ্যোৎস্নার বেহিসাবী সুখ, 
এই যে সব শেষে আমার বুকে অযুত শূন্যতা
তুমি হীন দারুণ মৌনতা, 
আলোকবর্ষ দূরে তুমি;
তবুও কেন দিন শেষে তোমার অপেক্ষা? 

চির দ্বীপ

   ✍️শাশ্বতী দেব

তুমি ছিলে স্রষ্টা বন্দেমাতরম গানের, 
আনন্দমঠ ছিল তোমার রচনা। 
তোমার লেখনীতে ভাষা ফুটে উঠত  অনল, 
তোমার ভাষা ছিল না সবার বোধগম্য। 
তোমার লেখায় ঝড়ে পড়ত অনেক শত সহস্র শব্দ ভান্ডার, 
লেখনীর দূরন্ত প্রতাপ আজ ভেঙে দিল শব্দের সমস্ত বেড়াজাল। 
দুর্গেশনন্দিনী ছিল তোমারই এক অনুপম কৃতিত্ব। 
রাধারানী ছিল তোমার অন্যতম লেখা। 
তোমার লেখায় ঝড়ে পড়ত কুসুম, 
তোমার নাম থাকবে চিরদ্বীপের ন্যায় জলন্ত শিখার মতো।

সম্রাট

  ✍️সুমিতা স্মৃতি। 

বাংলা সাহিত্যের সম্রাট তুমি, তুমিই বাংলার প্রাণ। 
ভারতের জাতীয় স্তোত্র তোমার ' বন্দে মাতরম ' গান।। 

বুকে তোমার সাহস ছিল, মসীতে ছিল আগুন। 
কমলাকান্ত ছদ্মনামে কেড়ে নিয়েছ মানুষের মন।। 

নেই কোনো রাজ্য তোমার, নেই সিংহাসন। 
তবুও তুমি দখল করে আছ  শ্রেষ্ঠত্বের আসন।। 

তুমিই পেয়েছ প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিকের সন্মান। 
গীতার ব্যাখ্যাদাতা ও সাহিত্য সমালোচক হিসেবেও ছিলে খ্যাতিমান।। 

বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠা করে সুর তুলেছ প্রতিবাদের। 
চিরকাল তুমি অমর রবে অন্তরে মোদের।।

ছিল কী?

    ✍️পৌষালী ভৌমিক

ছিল কী সব? 
তিক্ততার আগুনের এই স্পর্শ,
না বোঝার অনলে করুনাহীন দৃশ্য
      ছিল কী সব?
মূক বধিরতার পেছনে জমা কথা,
চেয়েও না চাওয়ার সেই ব্যাথা
       ছিল কী সব? 
জেনেও সেসব না জানার ভান, 
অযথা রাখা নিজের মান
       ছিল কী সব? 
অশ্রু ভেজা রাতের কাহিনীতে,
পারলেনা যেন আপন করে নিতে
       ছিল কী সব? 
একপথে হেঁটে চলা,
তবুও যেন অধরা
       ছিল কী সব?
সত্যিই কি ছিল সব...?

শ্রদ্ধায় তুমি বঙ্কিম।

    ✍️সুস্মিতা দেবনাথ।

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম তুমি।
শুধু কবিই নও,
বাংলা সাহিত্যে তোমার অসিম অবদান,
ভুলে যাবার নয়।।
প্রথম আধুনিক বাংলা উপন‍‍্যাসিক তুমি।
গিতার ব‍্যক্ষাদাতা হিসেবেও বিষেশ ক্ষেতিমান তুমি।।
ছদ্মনাম তোমার কমলাকান্ত।
জন্ম ২৬ জুন ১৮৩৮ সালে, নৈহাটির কাঠাঁল পাড়ায়।।
তুমি আছো সাহিত্যে আছো আমার মনে।
তুমি চিরকাল থাকবে বেচেঁ,
এই ভাবেই অমর হয়ে।।

কঠোর সমাজ

    ✍️শতাব্দী দেবনাথ

সভ্যতা আজ আধুনিকতায় দিল পাড়ি, 
তবুও কেন ধর্ষিত হচ্ছে হাজারো নারী? 
ধর্ষকরা রাস্তায় বুক ফুলিয়ে হাটে
তাঁদের হয় না  কোনো লাজ, 
ধর্ষিতা লজ্জায় মুখ লোকিয়ে
 পড়ে থাকে সমাজের এক কোনায়।। 
সমাজের সচেতনতা কি কষ্ট পাচ্ছে? 
সবকিছু জেনেও যে পিঠ বাঁচাচ্ছে। 
দেবী দূর্গা সে তো দূর্গতি নাশিনী 
পরাধীনতার শিকার হতে সেতো এ জগতে আসেনি। 
কেন লোকে অ্যাসিড ছুঁড়ে, পোড়ালো মুখ তার  
সে কেন ভালো বাসেনি সেটাই কি দোষ তার??

সাহিত্য সম্রাট

         ✍️প্রিতম দাশ
❦︎--------------------❦︎
আজ এই শুভদিনে,
তুমি জন্মেছিলে।
পিতা যাদবচন্দ্রের,
ও মাতা দুর্গাসুন্দরীর,
কোল শুভ্র আলোয় আলোকিত করে।।

শিক্ষা দক্ষতায় ছিলে তুমি,
অতুল্য জ্ঞানের অধিকারী।
গীতার ব্যাখ্যাদাতা রূপে,
সাহিত্য সমালোচক হিসেবে,
তুমিই বিশেষ খ্যাতিমান।

গদ্য ও উপন্যাসে,
তোমার অসীম অবদানে, ফুটিয়ে তুলেছিলে,
বাংলা সাহিত্যকে।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে করেছ অমরত্ব লাভ।।

আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে,
এসেছিলে প্রথম সাহিত্য জগতে।
বঙ্কিমচন্দ্র নাম তোমার,
তুমিই সাহিত্য সম্রাট।
উপন্যাসের জনক হে তোমায় সহস্র প্রণাম।

তোমারে চাই

    ✍️ প্রীতম দাস। 

তুমি আসবে বলে
 সেদিন ভোরের আলো ম্রিয়মান হয়েছিল
আমার চোখের তারায়। 
প্রভাতে পবন ছিলো গম্ভীর, 
দূর্বাঘাসে জমেনি শিশির, 
পাখির কূজন প্রানবন্ত হয়নি সেদিন।

তুমি আসবে বলে
কৃষকের কাঁধে ওঠেনি লাঙল, 
সারাদিন কর্মব্যস্ততা হয়েছিল স্তব্ধ আমার। 

তুমি আসবে বলে 
সন্ধ্যা বাতাসে উরেনি সুদর্শন। 
মন্দিরে বাজেনি ঘন্টা, 
তুলসীতলে জলেনি মাটির প্রদীপ। 

তুমি আজও আসোনি, 
তাই জীবন বয়ে চলে আপন মহিমায়, 
পথ চলার সাথী হিসেবে আমি তোমারে চাই। 
ফিরে এসো একটিবার।

কাগজঘর

    ✍️সীমা দাস।

ধরাম ধরাম ,
উল্টে গেছে তাক।
সন্ধানি আলোয়,
উইপোকা বেঁধেছে ঘর।
পাতায় পাতায় জমেছে ধুলো,
এক ফোয়ারাতেই ছিটকে যায়।
কোন ঘেঁষে ঘাপটি মেরে,
লুকোচুরি খেলে বারবার।
দিন থেকে রাতের শেষ,
তাড়া করে খোঁজখবর।
একটু পরপরই মনে হয়,
হলাম বুঝি মুখোমুখি।
পাতার পর পাতা,
উল্টে গেছে অসহায়ের মত।
থামতে তবু নারাজ,
আজ হবে পাকা দেখাদেখি।
ওই অগোছালো একটি পাতায়,
হারিয়ে গেছে তোর স্মৃতি।
নিবেদিত কলমে তৈরি,
তোর লেখা শেষ চিঠি।
আজ তাই ফিরে আয়,
ছবি আঁকি পাঁচিল জুড়ে।

শূন‍্যতা

    ✍️মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

অদেখা সব আপন জনে
দেখার সুপ্ত অভিলাষ,
এসেছিলাম তাই কোন এক প্রাতে
শান্ত আলোর পথ বেয়ে।

নানা রঙ্গের দিনগুলি সাজিয়ে
আপন হাতে বেঁধেছি আলয়,
সৌম‍্য মলয়ে করেছি রচন,
যেথায় শোভিত একান্ত প্রিয়জন।

দিনে দিনে এগিয়েছে সময়,
স্বপ্নের ভুবনে অনাবিল স্রোতে
হেঁটেছি আমি জানা অজানাকে
পাথেয় করে,হারিয়ে অলির সুভাসে।

আসেনি ক্লান্তি,থামেনি চরণ
অভিজনের লাগি ছুটেছি দিকবিদিক।
সকল যাতনা আপন ঝুলিতে রাখি
উদার মনে বিলোয় শুধুই খুশী।

চাওয়া পাওয়ার ত‍ুল‍্যাঙ্কে আজ
নেমেছে নূন‍্যতা,নৈরাশ‍্যের পৃথিবীতে
আমি একা,মৃত‍্যুদূত রইলো অপেক্ষায় 
ভাইরাস ছোঁয়েছে আমায়, আর ছেড়েছে সবাই।

কমলাকান্ত

   ✍️পান্থ দাস
পরাধীন ভারতের অশ্রু জলে
হয়েছিলে হাজির এক বিশাল বলে,
বন্দেমাতরমের অগ্নি স্লোগানে
উঠেছিল কেঁপে ব্রিটিশ সেইকালে ৷

নৈহাটির গৌরব তুমি
গৌরব তুমি সমগ্র ভারতের,
বঙ্গদর্শনের দ্বারা তুলেছিলে
মূল সুর প্রতিবাদের ৷

বাংলা সাহিত্যের
সাহিত্য সম্রাট তুমি
ছিলে উপন‍্যাসেরও জনক,
ছদ্মনামে কমলাকান্ত তুমি
রেখে গেলে অজস্র সৃষ্টি
মূলত দুর্গেশনন্দিনী এবং আনন্দমঠ ৷

কত ঝকঝক করতো এই ত্রিভুবন

মিঠুন দেবনাথ

কত ঝকঝক করতো এই ত্রিভুবন,
ছিলো সবুজ বনালীতে ভরা ,
রাস্তাঘাট,পাহাড়-পর্বত ,টিলা,
সবুজ ঘাসে ঢাকা থাকতো সদা l
সবুজ ফসলে ভরা ছিল
এই পৃথিবীর মৃত্তিকা l
কিন্তু এই সবুজের পতাকা
আজ পৃথিবীর বুকে হ্রাস পাচ্ছে l
সবুজ ফসল হ্রাস পাচ্ছে ,
সৌন্দর্য্যের পাহাড়-পর্বত
হ্রাস পাচ্ছে ও সমতল হচ্ছে l
সৌন্দর্য ভরা পার্কের দোলনায়
শিশুদের হাসি আনন্দ  করতো ,
যা আজ হারিয়ে যাচ্ছে l
রাস্তার পাশে বড়ো বট গাছ
ছিলো বেশ বৃহৎ ও সুন্দর ,
যা আজ হারিয়ে ফেলেছি l
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে
নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য l
পরিবেশকে নিষ্ঠুর ভাবে ধ্বংস করছি ,
মানুষের গভীর সুখে আমরা অন্ধ হয়ে গেছি l

প্রিয় ঔপন্যাসিক ওগো বঙ্কিমচন্দ্র

   ✍️সুজন দেবনাথ

প্রিয় ঔপন্যাসিক ওগো বঙ্কিমচন্দ্র,
বাংলা গদ্য ও উপন্যাসের বিকাশে
তোমার অবদান ছিল অসীম।
তুমি ছিলে উনিশ শতকের---
বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক।
যাকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে
তুমি পেয়েছো চির অমরত্ব।
তুমিই প্রথম আধুনিক বাংলা ঔপন্যাসিক
হিসেবে গণ্য হয়েছিলে।
গীতার ব্যাখ্যা দান হিসেবেও তুমি খ্যাতিমান।
কমলাকান্ত ছদ্মনামে পরিচিত---
বাংলা সাহিত্য সম্রাট তুমি
চিরদিন রবে বাঙালির অন্তরে,
জন্মদিনে সহস্র প্রণাম আজ তোমারে।

নারী দিবস

   ✍️অন্কিতা বর্ধন

নারী দিবস ,কিসের নারী দিবস, কেন নারী দিবস?

আমি কি সুরক্ষিত আজও ধর্ষণের হাত থেকে?

সেই অবুঝ শিশুটিও যেন রেহাই পায়না ,সেই পিপাসুদের হাত থেকে ।

লজ্জা হয় ,নারী দিবস মানাতে।
যে দেশে আজও অত্যাচারিত হাজারো নারী শুধুমাত্র পনের জন্য,
প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে ভ্রূণ হত্যার মতো জঘন্য কাজটি,
 যেন সেই ছোট্ট ফুলের কলিটিকে গোড়া থেকে মুচড়ে ছিঁড়ে ফেলে দেয় ,
আর বলে এই পৃথিবীতে আসার তোমার কোন অধিকার নেই ,
কারণ তুমি নারী।
সেই দেশে কিসের নারী দিবস?
যে দেশে হয় বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে গৃহবধূ হত্যা।
সমাজ আজকাল বলে, আজকের যুগের মেয়েরা খুব মর্ডান,
বারো হাতের শাড়ির বদলে পড়ে জিন্স,
গভীর রাতে বাড়ি ফিরে ,
নাইট ক্লাবে পার্টি করে ,
আবার অভিযোগ তুলে ধর্ষণের।
তাহলে বলি -পরিয়ে দাও সে অবুঝ শিশুটিকে শাড়ি।
গভীর রাতে সেই শিশুটিও কি নাইট ক্লাবে পার্টি করে? 
বুক ফেটে কান্না আসে ,
এত কি লালসা  , যা রক্ষা পায়নি অবুঝ দেহটিও।
হে মানবতা ,তুমি কেন চুপ?
হে মানবতা ,তোমার মানব অশ্র কোথায়?
পায়ের তলায় পিসিয়ে মার  সেই পিসাচরদের,
সেই রাক্ষস রুপি মানবদের,
 যার চোখে অবুঝ মনও উদ্ধার নেই।
পিসিয়ে মারো সেই জনম জনমের ভিখারিদের,
যারা পণের আদায়ে অত্যাচারিত করে হাজারো নারীদের।
পিষে মারো এই খুনিদের, যারা পৃথিবীতে আসতে না আসতে শেষ করে দেয়  ,
সেই ফুটফুটে প্রাণ টিকে।

হে নারী, ঝাঁপিয়ে পড়ো প্রতিশোধের আগুনে‌।
সেই পাপীদের রক্ত পান করে তুমি তোমার ক্ষুধা মেটাও।
সেই খুনিদের ধ্বংস করে ফেলো এই জগৎ সংসার থেকে।
হে নারী তুমি জাগো,
সেই দিন হবে তোমার নারী
 দিবস ,
যেদিন তুমি তোমার পাপীদের পায়ের তলায় পিষে মারবে।

সাহিত্য সম্রাট

    ✍️প্রবীর পাঁন্ডে
---------------------------------
বিশ্বজুড়ে কত রাজা, একরাট,বিরাট
তবুও একলা তুমিই সাহিত্য সম্রাট।
বঙ্কিম তোমার সৃষ্ট সাহিত্য আলোকে
করেছে আলোকময় গোটা বাংলাকে।
বঙ্গবাসী বাঙালিকে হে গল্পকার-
কত অদ্ভুত আখ্যান দিয়েছো উপহার। 
ঔপন্যাসের জগতে করিলে রচনা
যে নব ধারার, তার নাহিকো তুলনা।
ইতিহাসকেও তুমি গল্পের আকারে
করেছো রচনা যেন কত না প্রকারে। 
সাহিত্যের সাধু ভাষা করিয়া উদ্ধার
করিলে উন্মোচন নব দিগন্তের দ্বার। 
কত নব নব চরিত্রের করেছো যে সৃষ্টি;
রজনী কে দিয়েছে শেষে আলোকের দৃষ্টি। 
প্রবন্ধে,গল্প-কথায় ত্যাগের মহিমা
সগর্বে তুলেছো ধরে,বিচিত্র উপমা। 
তোমার বন্দনা গীত 'বন্দেমাতরম্'
আজও ভারত মাকে জানাই প্রণাম। 
হে মহান বঙ্কিমচন্দ্র, হে সাহিত্য রাজ
সামান্য তো নও তুমি, ঋষি তুমি আজ।

খোঁজ

    ✍️ মন্দিরা ভারতী

মেঘলা দিনের বৃষ্টিতে
  দুই নয়নের দৃষ্টিতে
একলা বসে বারান্দায়
সখী যখন নাই
   তুমি খুঁজছো গো কারে?

শুনেছি তোমার মনের মানুষ
গেছে চলে বহুদূরে
তবু কেন ডাকো তারে
বৃষ্টি দিনে সুরে সুরে?
তুমি ডেকো না গো
তুমি ডেকো না আর তারে।

তার নৌকো ডিঙি
ভেসে গেছে দূরে,
মাঝি বায়ছে ভিন্ন দিশায় এখন
এই কিনার ভুলে।

সে তো আসবে না আর এই পথে 
তুমি খুঁজছো গো যারে।।

বৃষ্টি

    ✍️সুরজিৎ নমঃ

      ঘন ঘন মেঘ হয়ে আকাশে জম্মাও তুমি।
  প্রবাল জলধারা হয়ে বৃষ্টি রূপে আসো ভৃপৃষ্টে।
  নদীনালা করে তোলো প্রানময় , সবুজকে করো  সতেজ। গাছ পালা খুঁজে পায় বাঁচার নতুন রসদ।
  মাটির বুকে জমা হয় মধু , কৃষকের মনে জম্মায় নতুন আলো।জমি হয় উর্বর, ফসল ফলে অধিক।মানব কল্যাণে তথা সৃষ্টির কল্যাণে রেখে যাও অবদান। প্রকৃতিকে নতুন করে সাজাও এই সৃষ্টি , তুমি তো সেই বৃষ্টি।

হারতে চাইনি

✍️সুস্মিতা মহাজন 

গিয়েছিলাম আজ আরেকটিবার
তোকে সব বলবো বলে,
ভেবেছিলাম আজ মনের জ্বালা, যন্ত্রণা, আবেগ, অনুভূতিগুলো তোকে জানাবো।
জানিস! চেষ্টাও করেছিলাম
তবে পারিনি রে, পারিনি কিছুই বোঝাতে,
ভেবেছিলাম হৃদয় খুলে দেখাবো;
দেখাবো কতটা ক্ষত, এখন রক্ত শুকিয়ে কালো হয়ে গেছে!
পারিনি রে, আজও হেরে গেছে হদয় মস্তিষ্কের কাছে।
তুইও বুঝলি না আমি বোঝাতে পারিনি বলে,
আজীবন অবুঝ হয়েই থাকুক তোর হৃদয়। 
জানি একটা সময় পর আমি অপরাধী তকমাই পাবো,
সেটা আমি আজই মেনে নিলাম নিরবে,,,,,!

লজ্জা

✍️গোপাল দে

কলমের ডগা থেকে 
সদ‍্যমুক্তি পাওয়া প্রতিটা শব্দ 
আজ এক নিদারুণ লজ্জায় লজ্জিত,
কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে
বিশ্বের দরবারে মাথা হেঁট করে
লেখনী স্তিমিত হয়ে পড়ে।
প্রতিবাদী হতে গিয়ে পরক্ষণে
অধিকার হারিয়ে ফেলেন বাক্ দেবী,
বিচারের প্রতিটা বাণী শুধু
নীরবে নিভৃতেই কাঁদে
হাজারো মিছিলের ভিড়ে।
না,এ পৃথিবী আর
শিশুর বাসযোগ‍্য হলো না,
কবির সেই অঙ্গীকারও আজ ভূলুন্ঠিত।
জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন নিতে গিয়ে
ধরিত্রী আজ কলুষিত,কর্দমাক্ত,লজ্জিত।

ধ্রুবতাঁরা

   ✍️ সম্পা কর্মকার

সাহিত্যের পথের পথিক সে,  আপন মনে চলেছে তাঁর লেখনী। 
বিন্দু বিন্দু লেখনীর আদলে গড়ে তুলেছে সাহিত্য নগরী।।
সাহিত্যের আঙ্গিনায় এনে দিলো লাবণ্যময়ী রূপ।
তাই তো সাহিত্য সম্রাট জুটিল তার স্বরূপ।।
দুর্গেশনন্দিনী রচনা তোমার , প্রাণে করে প্রেমের সঞ্চার।
বিশ্ব ইজতেমায় ব্যাপ্ত তোমার সাহিত্যের জলছবি।।
তোমার লেখনীতে ফুটে উঠে জনজীবনের প্রতিচ্ছবি।
বাংলার জগতে বঙ্কিম তুমি অনন্য ধ্রুবতাঁরা।।
নিমড়ানু লেখা তোমার স্বপ্নের মতো সুন্দর, সুন্দর তোমার প্রকাশনা।
মুগ্ধ হয়ে পাঠ করতে গিয়ে হই আনমনা ।।
তোমার অঙ্গুলির টানে উঠে আসে জগতের মঙ্গল-কামনা।
কবি তুমি জুড়ে আছো মোদের হৃদয়ের গহীন আঙ্গিনা ।।
তব চরণে লহ কবি শতকোটি প্রণামাঞ্জলি ।
তোমার জন্মজয়ন্তীতে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি ।।

শৃঙ্গার

    ✍️  কৃষ্ণ দাস 

এই যে কিশোরী শুনছো ,
সময়ের মোহজালে কানামাছি ভোঁ দৌড় দেয় আপন পরানের শৃঙ্গার।
আলো আঁধারিতে পথ খুঁজে না পেয়ে বৈধতা গ্রহণ করে নিলাম,
তুমি কি নির্জন পথের পথিক হবে।
মাথার শৃঙ্গার করে রাখা সেই সমস্যার কারণ।।
কর্ম ,ধর্ম নিয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখা সেই কথা।
আচ্ছা এই যে কিশোরী মেয়ে শুনছো ,
তুমি কি জানো কিসের আলামত নিজ আশা হইতে বাহির হইয়া যায়?
তুমি মস্ত সেয়ানা বিপ্লবী মানুষ তো বাপু ,
কেনো হে কিশোরী মেয়ে,
তোমার সুন্দর কথা তবে,! 
তবে তুমি তোমার কষ্ট টাকেই মাথার শৃঙ্গার করে নিলাম বলে বেড়াও!!!
ওহে মেয়ে ,
আমার কাঁধে যে ভারী স্বপ্ন রে মেয়ে।।
আচ্ছা মানুষ তো তুমি ,
কেনো? 
তোমার কথার অর্থ বহন করে কিছু মূল্যহীন ঠিকানা ।।
ঠিক বলেছিস রে মেয়ে ,
সব প্রশ্নের জবাবে বলি, 
নিজের পরিচয়,নিজের সাধ্য কেই নিজের জীবনের , 
নিজের মাথার শৃঙ্গার করে রাখি ।।
তবে তুই কোথায় যেনো যাচ্ছিস রে মেয়ে ??
              প্রথম অংশ

হৃদয় দহন

   ✍️সাধন নমঃ

আজ মধু শশির সুধা কিরণ নয়,
আজ ঘোর রজনী।
ক্লান্ত প্রহরী পথের ধারে ঘুমায় নি
জেগে আছে সহস্র রাত্রী।।

আজ বৃন্দাবনের দোল উৎসব নয়
যেন বজ্রে ঝরা রক্ত।
পথের মোরে আজ মহাপ্রভুর বাণী নেই
হারিয়েছে চৈতন্যভক্ত।।

আজ যেন কুয়াশায় ঢাকা মাঠের প্রান্তে
প্রেয়সীর সিক্ত আঁচল নয়।
পাথরে -লৌহে আঘাত করিয়া
মানব মনের ক্ষয়।।

আজ আর রবি গুরুর প্রেমাকাঙ্খী কলম নয়
রক্তে লেখা অগ্নিবানী।
হারিয়েছে হৃদয়ের মধুময় বকুলগুচ্ছ
আছে সুকান্তের কলমখানি।।

প্রতীক্ষা

   ✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য্য
""""""""""""""""""""""""""""""""""
চারিদিকে উৎসুক জনতার ভিড় 
আমি দাঁড়িয়ে মঞ্চে,
অসহায়, দুর্বল, অবলাদের হাততালিতে মুখরিত চারপাশ। 

একটা শর্ত পূরণ হলো
লড়াইয়ে সফল আমরা...
আজ থেকে আর কোনদিন ...
কোন কন্যাভ্রূণ হত্যা হবে না,
পণের জন্য কোন গৃহবধুকে পুড়িয়ে মারা হবে না,
কেউ ধর্ষিতা হবে না, 
চিরতরে নারী নির্যাতন অধ্যায়ের আজ পরিসমাপ্তি......
এই ঘোষণাটি দিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে আসছি...

ঝরঝর করে দু'চোখ বেয়ে ঝরে পড়ছে আনন্দাশ্রু ...
বুকের ভেতর হাজারো আতসবাজির রোশনাই ...
হাজারো খুশির ঢেউ আছড়ে পড়ছে মনের গহীনে...।

হঠাৎ ঘুম ভাঙলো।
আমি স্বপ্নে আবিষ্ট...
ঘুমের আবেশ থেকে বেরিয়ে দেখি,
হায়! সবই যে ফাঁকি।

 এ জীবনে নারীমুক্তির সাক্ষী হওয়া 
আমার হয়েও আর হলো না!

দেখলাম সাঁকোর ওপারে স্বপ্নগুলো জ্বলজ্বল করছে.....

বৃদ্ধাশ্রম থেকে বলছি

✍🏻পূজা মজুমদার

ওহো মানবজাতি, শুনতে পারছো কি?
আমি এক অভাগা, বৃদ্ধাশ্রম থেকে বলছি!
জীবন এক যুদ্ধ ক্ষেত্র, যুদ্ধ করতে হয় দৈনিক 
সেখানে আমি এক অভাগা পরাজিত সৈনিক 

শোন হে মানবজাতি
ভীষন ভালো আছি হেথায়, পেয়েছি অনেক জ্ঞাতি
বলছি কেন ভালো তবে শুনবে কি অভাগার জীবনী?

ঘরটা ছিলো ভীষণ ফাঁকা, থাকতাম আমি বোকা
কইতো না কেউ একটি কথা, লাগতো বড্ড একা।

ঘরে ছিলো শুধু তিনটি লোক, তার মধ্যে এক খোকা
আসতো সে গভীর রাতে এটাই যে ছিলো তার পেশা।
সম্বল বলতে এই খোকা, আমায় খুব ভালোবাসতো
জানা ছিলো না এই ভালোবাসা শুধু এক লোভের নাম মাত্র। 

বৌমা ছিলো যেমন রুপবতী, তেমনি ছিলো শিক্ষিত, 
সারাদিন মোবাইলের নেশায় তার মস্তিষ্ক ছিলো বিকৃত। 
বললে কে কার কথা শুনে, থাকতো সে নিজের মতো!
আমি এক অভাগা বুড়ো থাকতাম নিজের মতো।

তিনবেলা মিলে একবেলা দে, তাও একটা শুকনো রুটি 
নিজের ঘরে চলে অন্যের বাহাদুরি! 
ছেলে আমার দেখেও করতো না দেখার ভান
ছি! কি বলছি এসব, তার কাছে তো আমি ছিলাম এক জড়বস্তুর সমান।

এই জায়গা টা বড্ড ভালো, গল্প করার সাথী পেলাম কতো!
এই জীবনটা নতুন ভেবে কাটিয়ে দিচ্ছি নিজের মতো!
নিজের বাড়ি ছেড়ে আমি থাকি অন্যের ঘর
ধন্যবাদ জানাই তাকে, যে এই বৃদ্ধাশ্রমের কারিগর!!!

সাহিত্য সম্রাট

    মনচলি চক্রবর্তী 

সাহিত্য সম্রাট, বাঙ্গালীর গৌরব ধন
সাহিত্য আকাশের এক উজ্জ্বল ভাস্কর যেমন।
সত্য শিব সুন্দর ছিল সম্রাটের লেখার আদর্শ
বিশিষ্ট  সাহিত্য রচয়িতা উনিশ শতকের  মতাদর্শ।  
তোমার প্রতিভায় বাংলা ভাষা, 
সাহিত্যের ডালি ভরে উঠলো। 
তোমার দেশ মাতৃকার গৌরব গাথায়
 বিপ্লবীরা গর্জে উঠলো। 
তোমার লেখনীতে ছিলো স্বাধীনতার লড়াইয়ের মূল মন্ত্র
আনন্দ মঠের বন্দেমাতরম  ভারতবাসীর কাছে হয়ে উঠলো  বীজমন্ত্র।
সাহিত্যিক, ওপন্যাসিক তার চেয়ে বড় তুমি  সাহসী বীর অম্লান
বাঙ্গালী মনের গভীরে চিরকালের সম্রাট  তুমি 
বাংলা মায়ের সন্তান। 
আবার তোমার পুনর্জন্ম  হোক বঙ্কিম
এই বাংলার বুকে
আজ  তোমার জন্মতিথিতে প্রনমি সম্রাট তোমায় নতমস্তকে।

ঘুরাঘুরি

 

    কৃষান নম:

দেশ ছেড়ে বিদেশে করবো ঘুরাঘুরি
এটাই আমার মনের আশা, 
দেখবো নানা রকম মানুষ।
শিখবো তাদের আঞ্চলিক ভাষা, 
বন্ধুর মতো করবো আচরন।
মনে রাখবে গভীর ভালোবাসা, 
দেখবো তাদের আচার আচরণ।
দেখবো ঘুরে ফিরে তাদের দেশ, 
মিশবো তাদের সাথে আবেগ মেখে ।
মিশবো আমি তাদের সাথে, 
বন্ধু মতো খেলবো তাদের সাথে খেলা ।

পদ্য- সম্রাট তুমি

   ভবানী বিশ্বাস

রাজ্য নেই, রাজকর্ম নেই
নেই রাজ্যপাট ,
কথার মালা গেঁথেই তুমি ,
হয়েছো সম্রাট। 

না আছে সৈন্য তোমার
না আছে প্রজা ,
এর পরেও তুমি কবিবর
এই ভুবনের রাজা। 

সম্বল তোমার তুলি - কলম
আর যে কালি - দোয়াত ,
এইটুকু অস্ত্র নিয়ে গুরু -
করলে তুমি এ বিশ্ব বাজিমাত। 

দিয়ে তুমি ভালোবাসা 
জাগিয়েছো কতো আশা ;
ভরেছো মানব হৃদয় । 

তোমার মরমী লেখা -
শুকিয়েছে অশ্রু রেখা, 
ভালোবাসায় করলে সখা
সাহিত্যের রণ জয়।

মিশ্ররাগে কল্পনাবিলাসী


    
     কানু বনিক

শরতের নির্মাল‍্য আলোতে স্রোতস্বতীকে যতটা স্বচ্ছ মনে হয়;
তারই চরাঞ্চলে কাশঝাড়ের নিভৃতবাস।

শ্রীপল্লবী আজ ততটা পুষ্পিত, মেঘহীন আকাশ যতটা মনোহর হয়।

বেলাশেষে স্নেহভাজনরা দূরে থাকলেও, সেঁজুতির আলোতে খুঁজে নেওয়া যায়।

আল‍েখ‍্যগুলি আজ অন্তরালে, শিউলি তার সুগন্ধ ছড়ায়; ঠিক তখনই মেদহীন কথামালার কুঞ্জকুটিরে মেঘমল্লার গুণকথন হয়।

প্রভাতী সংগীতে' আত্মার শুদ্ধিকরন যতটুকু করা যায় ; মন ছুঁয়ে যাওয়া কথাগুলো ততটাই বিকশিত।

মহানন্দার হ্রদয়ে থাকা অজস্র অনুভূতি, প্রকাশিত হতেই তা হয়  আলোকময়;
সনাতনী ধারাতে রাজগৃহে আজও মহাবাক‍্য পাঠ হয়।

দূরের সংগ্রামীরা যতটুকু স্বাভিমানি, একটু হাত বাড়ালেই কাছে পাওয়া যায় ;
একটুখানি স্ততিবাক‍্য পাঠে তাদের পরম বন্ধুও হওয়া যায়।

কন্যারূপেন

       দীপাঞ্জলি পাল

আমি একটি সাধারণ মেয়ে
না সাধারণ বললে ভুল হবে 
আমি অসাধারণ,অসাধারণ মেয়ে
কেন অসাধারণ জানো
আমি স্বাধীন ,মা বাবার একমাত্র মেয়ে 
এতই স্বাধীন যে 
এক সমাজ বলে যাকে মুক্ত বিহঙ্গ
আর এক সমাজ বলে কর্দমাক্ত ডোবা।
আমি একটি ভালো মেয়ে
না ভালো বললে ও ভুল হবে
আসলে ভালোর সংজ্ঞাটা কি,
কে ভালো আর কে খারাপ--
দশমীতে ভাসানে যায় সেই দুর্গা, নাকি আমার দুর্গা যে অশ্রুজলে বিছানায় ভাসে কাউকে সুখী করতে।
অমাবস্যায় যে নৃত্য করে কঙ্কাল ঝুলিয়ে সেই অভয়া,
নাকি কালো রঙের জন্য বঞ্চিত-লাঞ্ছিত হয় সেই অভয়া।
শুভ্র বস্ত্রের মা সারদা নাকি শুভ্র বস্ত্রের কোনো কলঙ্কিনী বিধবা!
কে ভালো আর কে খারাপ??
যে পড়ায় ভালো নাকি দেখতে ভালো
যে খেলায় পটু নাকি গৃহস্থালিতে নিপুন
যে বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে নাকি
সে যে অনাথ হয়ে জন্ম নিয়েছে
কে ভালো?
যে সৎ পথে টাকা রোজগার করে পরিবার চালায় সে,
নাকি যে বাধ্য হয় নিজেকে বিক্রি করতে শুধু দুটো অন্নের 
অভাবে।   আর খারাপ?
যে পরীক্ষায় কম নম্বর পায় সে
নাকি যার ভালোবাসা বারবার ঝরে পড়ে ঝর্ণার সিক্ততায়।
যে কিনা সংসার গড়ার কারিগর ,তবু লুন্ঠিত হতে হয় বসুমাতার কোলে।
যে গর্ভে ধারণ করে তোমাকেও আর আমাকেও
তবু প্রশ্ন ওঠে কন্যা সন্তান কেন?
হয়তো কারো মনের মতো কেউ নয়,হবেও না কোনোদিন
তবু সবাইকে নিজের মতো করে বাঁচতে হয় বাঁচার তাগিদে।
যা বাইরের কেউ বোঝে না,নাকি বোঝার চেষ্টা করেনা, 
কেউ দুমুঠো অন্ন তুলে দেয় না আর বলতে আসে ভালো খারাপ?
ভাবুন সময় হয়েছে বিচারের, ভাবনার,প্রতিবাদ করার।
বুঝুন,বুঝতে শিখুন ভালো আর খারাপের বৈষম্যতাকে।
ভালো খারাপ কারোর রং,গুন,চরিত্র, পেশায় লেখা থাকে না।
লেখা থাকে আমাদের চিন্তা,চেতনা আর ভাবাদর্শে।

ভালোবাসার চরিত্র

     রূপক পোদ্দার

ভালোবাসাটা এরকম চাই, তোমার প্রেমে বার বার  মাতোয়ারা হয়ে যাই। হাতে হাত ধরে শুধুমাত্র তোমার সাথে জীবনের এই কঠিন পথে এগোতে চাই, কি থাকবে তো তুমি সারাজীবন আমার পাশে। তোমার প্রশ্ন আমি বদলে গেলাম কেন? তোমার জন্য নিজে বদলে গেছি, বদলে গেছি বলেই তো তোমার জীবনে আমার অভাবটা তোমাকে বোঝাতে পারব আমার গুরুত্ব তোমার কাছে কতটুকু। কেউ খোঁজার নেই ভেবে তাই হারিয়ে যেতে চাই, দূরে গগনের নীল আকাশের কোনো ঠিকানায় যেখানে থাকবে শুধু তুমি আর আমি। মেঘগুলো আজ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় আমার এ যে কি আনন্দ মনের উঠোনে, টুপ্ টুপ্ টুপ্ দুয়েক ফোঁটায় পুলকিত শিহরণ পথের দাবি পথেই থাক হোকনা সে পথ রংবিহীন উষ্ণতাকে মাপার কাঠি, না হয় হারাক রাত্রিদিন।আমি অনেক বোকা হতে পারি, অনেক অবাধ্য হতে পারি, অনেক রাগি হতে পারি,
আমি অনেকের কাছে খারাপ ও হতে পারি, বিধাতার প্রকৃতির নিয়মের কাছে আমরা কিন্তু সবাইকে খুশি করতে পারিনা বা খুশিতে থাকতে পারিনা। আমি কালকেও হেসেছি, আমি আজ ও হাসছি এবং আমি আগামীকাল ও হাসবো, শুধুমাত্র এইজন্যই কারণ জীবন বড়ই ছোট,কান্নাকাটির করার জন্য নয়। চোখের ভাষা সে তো চোখ-ই জানে, স্বপ্নের কথা সে তো ঘুম-ই জানে। আজ ও মন ভাবে তার কথা আজ ও চোখ খুজে তার দিশা, আজ ও আমি হাসি তার সুখে আমি আজ ও কাঁদি তার দুঃখে আজ ও আমার স্বপ্নে আসে, জানিনা আজ ও সে আমায় ভালবাসে কি না। যুগযুগ ধরে ছুঁয়ে এসেছ লতায় পাতায়, তবু যেন ছোঁয়া হয়ে ওঠেনি, ভালো করে দেখা হয়ে ওঠেনি কিছু পাওয়া হয়নি। ভালোবাসার সাধ মেটেনা তো কিছুতেই মেটেনা।কেউ জানেনা কেন কাঁদে এ মন, কেউ জানে না কষ্ট কোথায় লুকিয়ে আছে, ভিতরে অনেক কষ্ট তাই।  সময় বদলে যায়, পরিবেশ বদলে যায়, মানুষের মন ও বদলে যায় আজ যাকে ভালো লাগে, কাল তাকে ভুলে যেতে সময় লাগে না এতটুকু ও। যাকে ভালবাসি ভালবাসি বলতে গলা শুকিয়ে যেত , আজ তার মুখটি ভাল করে মনে ও পড়ে না ৷

মন-চেতনার স্বরূপ পরিচিতি

     সত্যব্রত সাহা
   
 মানব অস্তিত্ব ত্রিসত্তা ভিত্তিকঃ (এক) পাঞ্চভৌতিক শরীর (physical body), (দুই) মন (Mind), (তিন) আত্মা বা চৈতন্যসত্তা (Consciousness) — এই তিনে মিলে মানব অস্তিত্ব ৷ এদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান, একের অনুপস্থিতিতে অন্যের অস্তিত্ব বিপর্যয় ঘটে যায় ৷ আমরা নির্দ্বিধায় মন-চেতনার বাস্তব অস্তিত্ব স্বীকার করে নিই ৷ কিন্তু এদের উৎপত্তির উৎস বা কারণ নিয়ে আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অাছে ৷ 

জড়বাদীরা বলে থাকে— মন ও চেতনা মস্তিষ্কের রাসায়নিক বিক্রিয়াজাত উৎপন্ন সত্তা ৷ কারো মতে— মনের স্বরূপ হচ্ছে চেতনা ৷ কারো মতে— মন ও চেতনা  অভিন্ন সত্তা ৷ আবার কারো মতে— মন ও চেতনা ভিন্ন তথা পৃথক সত্তা ৷
************************************
© মন-চেতনার মনোবিজ্ঞান জাত ধারণাঃ মনতত্ত্ব নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে মুলতঃ প্লেটো, এরিস্টটল ও অন্যান্য গ্রীক দার্শনিকদের সময়কাল থেকে ৷ মনতত্ত্ব নিয়ে কথা বলেছেন — ডেকার্তে, লাইবনিজ, লক, বার্কলে, হিউম, কান্ট, হেগেল,  শোপেনহেওর, ফ্রয়েড ও ক্লামার্স প্রভৃতি পাশ্চাত্ত্য দার্শনিকগণ ৷
************************************
© মনোবিজ্ঞানে মনের সংজ্ঞাঃ মনোবিদদের মতে মনের যথার্থ সংজ্ঞা (definition) দেওয়া সম্ভব নয় ৷ তারা বলে থাকেন— বুদ্ধি ও বিবেকবোধের এক সমষ্টিগত রূপ হচ্ছে মন, যা চিন্তন (thinking), অনুভূতি (feeling) ও ইচ্ছা (willing)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় ৷ মন হল সেই সত্তা, যা আবেগ ও কল্পনার জনক ৷
************************************
© জড়বাদী দার্শনিকদের মতবাদঃ তাঁরা বলেন— মানসিক প্রবৃত্তি তথা ক্রিয়াকাণ্ডের কোনটাই শরীর থেকে ভিন্ন নয় অর্থাৎ মস্তিষ্ক থেকে উদ্ভূত শারীরবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই মন ও চেতনা নামক সূক্ষ্ম সত্তাদ্বয়ের জন্ম হয়ে থাকে ৷ সুতরাং দেহের মৃত্যুর সাথে সাথে সেই মন-চেতনা ধ্বংস হয়ে যায় ৷

দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও  সাংস্কৃতিক চর্চা প্রভৃতি  কার্যাবলী মন সংক্রান্ত ব্যাপার ৷ এছাড়া প্রেমপ্রীতি, স্নেহ, ভালবাসা, মমতা ও প্রশান্তি, ষড়রিপু প্রভৃতিও মন সংক্রান্ত ব্যাপার ৷ দেহ সংক্রান্ত জৈবিক চাহিদা পূরণের পর মানসিক চাহিদা পূরণের দিকে মানুষ ধাবিত হতে থাকে ৷ অর্থাৎ যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র ব্যাপকভাবে রয়েছে সেখানে সঙ্গীতচর্চা, বিজ্ঞানচর্চা প্রভৃতি জনিত মানসিক কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পালিত হতে পারে না ৷ দেহের রোগের ন্যায় মনেরও রোগ হয়ে থাকে, যাকে বলা হয়— 'মানসিক রোগ' ৷ অতএব দেহ ও মনের আলাদা অস্তিত্ব স্বীকার করতেই হচ্ছে ৷
************************************
© মনের প্রকৃত উৎস কি মস্তিষ্কঃ মনের উৎস দেহ তথা মস্তিষ্ক মনে হলেও মনের প্রকৃত উৎস মস্তিষ্ক নয়, মন দেহ থেকে ভিন্ন এক সূক্ষ্মতর (subtler) সত্তা, যার প্রকৃত উৎস হচ্ছে চৈতন্যসত্তা ৷ ঘটনাটিকে বুঝতে হবে উক্ত যুক্তির মাধ্যমে অর্থাৎ " না থেকে হ্যাঁ-এর উৎপত্তি হতে পারে না (i.e. from nothing something can not be created) ৷" তার মানে জড়সত্তা দেহতত্ত্বের মধ্যে 'মন' পূর্ব থেকেই অব্যক্ত অবস্থায় বিরাজিত ছিল, অনুকূল পরিবেশে তা দেহমধ্যে ব্যক্ত হল মাত্র  অর্থাৎ জড়বস্তু (matter)  থেকে মনের উৎপত্তি হয়েছে, একথাটিও সত্য ৷
************************************
© আনন্দমার্গ দর্শনে মন ও চেতনার সংজ্ঞাঃ দর্শন বিচারে— জড়বস্তু পঞ্চ স্তরাত্মক ৷ তন্মধ্যে জড়বস্তুর সুক্ষ্মতম স্তরটির নাম—  আকাশতত্ত্ব বা ব্যোমতত্ত্ব (etherial entity) ৷ এর চেয়ে সূক্ষ্মতর সত্তার নাম— 'মন' (i.e. the entity which is finer or subtler than the etherial entity is called 'Mind') ৷ আর মনের চেয়ে সূক্ষ্মতর সত্তার নাম হচ্ছে— 'চেতনা বা চৈতন্' (i.e. the entity which is finer or subtler than mind is called 'Consciousness') ৷ অতএব সৃষ্টির মধ্যে যেহেতু চেতনার চেয়ে কোন সূক্ষ্মতর সত্তার সন্ধান নেই, সেহেতু ভারতীয় দর্শনবিচারে 'চেতনা বা চৈতন্য' সত্তাকেই জগতের চরম উৎস বলে মেনে নেওয়া হয়েছে ৷  'পুরুষ' শব্দ নাম দিয়ে এই চৈতন্যসত্তার গুণকীর্ত্তন শুরু করা হয়েছিল ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলে ৷ এই চৈতন্যসত্তা বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ— দু'টি অবস্থায় বিরাজমান ৷ আনন্দমার্গ দর্শনে  বিশুদ্ধ চৈতন্যসত্তার দার্শনিক নামকরণ করা  হয়েছে— " নির্গুণ পুরুষ বা শিব বা চিতিশক্তি" (Cognitive faculty) ৷ এই 'পুরুষ' তত্ত্ব হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির একম্ অদ্বিতীয়ম্ চরম মৌল সত্তা (Noumenal entity) ৷

ফুলদানি

     ✍️দীপ্র দাস চৌধুরী

শহরের ক্যানভাসে জলেদের দাগ
তুমি শুধু ক'রে যাও ভালোবাসা ভাগ।

কার ভাগে বেশি পড়ে? কার ভাগে কম?
এইসব ভেবে হয় মনটা জখম।

মেঘ জমে চুপিসারে। মেলে দেয় ডানা...
আজকে তো কাউকেই ভালোবাসা মানা।

ভালোবাসা জলে মেশে, ঘোলা হয় মন
আজকে সে দূরে গেছে যে ছিল আপন।

যারা চলে যেতে যায় তারা তো থামেনা,
বুকে শুধু মেঘ জমে বারিশ নামেনা।

জমতে জমতে মেঘ ভেঙে পড়ে শেষে
ভেজায় শহর ফের মাটি ভালোবেসে...

ভালোবাসা মিশে যায় মাটিদের সাথে
মনের টুকরোগুলো তুলে নিয়ে হাতে-

ফের তুমি ভাগ করো ভালোবাসা জানি
ফুলের কদর কবে করে ফুলদানি?

আর্তনাদ

     ✍️কাজী নিনারা বেগম

এক শান্ত বিকালে হাটছি একা একা,, 
এক অদৃশ্য স্মৃতি বহন করে।। 
জীবনে আঁকা বাঁকা পথে বড়ই ক্লান্ত,, 
চল্লিশ উর্ধে আমি হাটছি একা।। 
একে একে সব, স্বজন হারানোর শোকে,,
আমার দুচোখ যেন মমির মত শান্ত।। 
প্রিয় জনের লাশ কাঁধে নিয়ে হাটছি বিলক্ষণ,, 
কাতর কন্ঠে পাঠ করছি সেই বিদায়ী গান।।

বাবা

     ✍আলমগর কবীর

আজ বাবা বেঁচে আছেন তাই হয়তো বাবার উপযুক্ত সম্মানটুকু দিতে তোদের লজ্জা!
একদিন হঠাৎ কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যাবেন তিনি! 
কাউকে কিছু বলবেননা, জানাবেননা, হঠাৎ চলে যাবেন! কোথাও খোঁজেও পাওয়া যাবেনা। 
তখন তোদের কত রকমের সম্মানের কথা মনে হবে! 
কিন্তুু তাতে আর কি এসময়ে যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে!  
তখন আর মুখ লুকি লুকিয়ে কাঁদতে হবেনা তোদের! 
চোখের জন ফেলতে হবে কেনো তোদের এই বুড়োটার জন্য! 
তোদের কিচ্ছু করতে হবেনা তখন!  
তখন শুধু চুপ থেকে বাবাকে একটু শান্তিতে বিদায় দিস!
বাবাতো তোদের কাজে আসেনি তাই,  বিদায়ের দিনে শুধু এইটুকু করে দিস!  
তাতেও তিনি কিচ্ছুটি মনে করবেননা!  
আমি জানি,  আমি ভালো করেই জানি বাবা কি জিনিস!  
কারণ আমি সবসয় বাবার পাশে থাকতাম,  বাবার অনেকটা  কাছেও  থেকেছি আমি
 আর বাবাকে খুব কাছে থেকেও দেখেছি! 
তাই অনুভবটা করতে আমায় তেমন বেশি ভাবতে হয়নি! 
বাবা আমাদের জন্য হাজারও অপমান সহ্য করে,  বুকে চাপা দিয়ে নিরব হয়ে থাকতেন।
তবুও কাউকিছু বলতেননা। 
তোদের দেওয়া বহু অপবাদ শুনে বাবা হাসিমাখা মুখটা গুমরাও হয়ে যেতে দেখেছি!
তবুও বাবা বুকের মধ্যে জমে থাকা সবটুকু বেদনা বলতে যাননি! 
বলতে যাননি তিনি তোদের কাছে কিছু 
যা বলেছেন আমাকে সব বলে গেছেন!  
 আমিও ভুলবোনা তা কখনো!  
ভালোবাসি বাবা বলতে চেয়েছি অনেকবার 
কিন্তুু বলতে পারিনি! 
এখন বলি ভালোবাসি বাবা,  এই একবারই যথেষ্ট বলতে হবেনা আর বার বার! 
এই একবারই লেখা হয়ে গেলে মুছবেনা কখনো
স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে
তুমি ফিরে আসবে আমার ডায়েরিতে কলম হয়ে আবার।

জামাই ষষ্ঠী


                   ✍️বিজয় ভৌমিক

জামাইবাবু, জামাইবাবু,করছো তুমি কি?
দেখছো না যে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয়েছি।
জামাইবাবু, জামাইবাবু, করছো সেথায় কি?
দেখছো না যে শ্বশুরবাড়ির খাবারের লিষ্ট করছি।

আম, কাঁঠালের গন্ধে ভরা আষাঢ় মাসে।
ইলিশ,মাংস,হরেক রকম খাবার সঙ্গে আছে।।
বন্ধ থাকুক আজ তোমার সকল কাজ।
ষষ্ঠীতে তুমি হবে জামাই রাজ।।

সন্দেশ, দই, মিষ্টির হাঁড়ি।
ডাকছে তোমায় শ্বশুরবাড়ি।।
আজকে জামাইদের হবে আনন্দ।
নতুন জামাইদের জানাই অভিনন্দ।।