সম্পাদকীয়

✍️........................................ সম্পাদকীয়

     সৈনিকদের রক্তের শ্বেতকণিকা গুনতে গুনতে ৭৫ বছর পেরিয়ে গেল আমাদের ভারতবর্ষের স্বাধীনতার বয়স। কত মা তার সন্তানের রক্তের কলসি চোখের সামনে ভাঙতে দেখেছে! এই স্বাধীনতা টাকার বিনিময়ে নয়, এই স্বাধীনতা প্রতারকদের প্রতারণায় নয়, এই স্বাধীনতা নরমপন্থী দলের জন্য নয়, এই স্বাধীনতা রক্তের বিনিময়ে অর্জন হয়েছে। যদিও দেশভাগ হয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।  আর এই দেশভাগ রুখতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুনঃরায়  রাখীবন্ধন উৎসবও দিয়েছিলেন। তাই আমি মনে করি,পরিবারের সবাই যেমন আলাদা হয়ে গেলে শক্তি কমে যায়, তেমনি দেশভাগ হলে দেশের শক্তি কমে যায়। তার জন্য আমাদের সর্বকাল সম্পর্ক ঠিকিয়ে রাখতে। ভুল বোঝাবুঝি শেষ করে গঠনমূলক সমালোচনা করে নিজেদের সম্পর্ক শক্ত করতে হবে। আর দেশপ্রেমি হলে   নেতাজীর মত ত্যাগী হতে হবে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত স্বদেশ প্রেম থাকতে হবে, গান্ধীজির মত সমাজসেবী হতে হবে। আজকের দিনে এটাই মূলমন্ত্র মনে করি। নাহলে, নিজের উন্নয়ন হবে ঠিকই, কিন্তু দেশের উন্নয়ন নাও হতে পারে। আমাদের এই সংখ্যা দেশপ্রেমি, সমাজসেবী, সমাজসংস্কারক এবং আত্মত্যাগীদের নামে উৎসর্গ করলাম। 

ধন্যবাদ এবং শুভ কামনায়
 গৌরাঙ্গ সরকার
(সম্পাদক  নবোন্মেষ পত্রিকা)
 শিবশংকর দেবনাথ
সহসম্পাদক, নবোন্মেষ
 সুপর্ণা মজুমদার রায়
সভাপতি, নবোন্মেষ
 পান্থ দাস
প্রধান আহ্বায়ক, নবোন্মেষ

কালো না ফর্সা


 ✍️ অমৃকা মজুমদার

      চারিদিক থমথমে একটা পরিবেশ।বদ্ধ একটা রুম।পরিচিত আপনজনের কোন মুখ দেখা যাচ্ছে না।অচেনা কিছু মুখ।শরীর অসাড়,নিস্তেজ ।শুধু চোখ দুটি সজাগ ।অপলক  দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই মুখগুলির দিকে কোন একটা বহু প্রতীক্ষিত সুসংবাদ শোনার অধীর আগ্রহে।শায়িত অপারেশান থিয়েটারে
কৃষ্ণকলি দেখতে পাচ্ছিল দুজন ডাক্তার ,তিন জন নার্স অস্ত্রসস্ত্র শুধু নাড়ানাড়ি করছিল।সে অনুভব করছিল ওর পেটের ঝাঁকুনি  আর ওদের ফিসফিস শব্দ।  --কিছুক্ষন বাদেই ডাক্তারবাবু ফুটফুটে একটা শিশুকে দুহাতে গলায় ধরে ঝুলিয়ে ওকে বলছিল,"দেখ মা,তোর ঘরে লক্ষ্মী এসেছে, একদম তোর মত দেখতে হয়েছে।"
---কিছুটা আনন্দের ,কিছুটা উদ্বিগ্নের মধ্যে নির্বাক কৃষ্ণকলি তখন অস্থির হয়ে যাচ্ছিল শুধু এটা জানার জন্য যে  সদ্যজাত শিশুটি কালো না ফর্সা হল ,ওর মতো কালো হয় নি তো? কিন্তু কথা বলতে পারছিল না কারণ এনেস্থেসিয়ার কারণে মুখে জোর পাচ্ছিল না।
--সিজারিয়ান ডেলিভারি ।প্রথম সন্তান।সেই প্রথম এক নজর দেখেই কখন ঘুমিয়ে গেলো সে বুঝতে পারে নি।জ্ঞান ফিরতেই দেখে ওর আশেপাশে অনেক প্রসূতি মায়েরা। 
--ওদের একজন বলছিল ,"বেশ দেখতে তোমার বাচ্চাটা"।
---কিন্তু মনে চলছিল নানা জল্পনা কল্পনা।যাই হউক,ওরা ফর্সা বলায় মোটামুটি আশ্বস্ত হল আর একটু স্বস্তি পেল যে,না,অন্তত ওর মত হয় নি,বাচাঁ গেলো।
--ছয় দিন পর ছুটি পেয়ে যখন বাড়িতে প্রবেশ করল,
পাড়া -পড়শীদের মুখে শুধু একটাই বুলি," না,মা-র মতো হয়নি।চিন্তা নেই।"
---অনুভব করছিল সে তখন যে  শ্বশুরবাড়ির মানুষেরাও একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।বেজায় খুশি সবাই।
--ছেলেকে বিয়ে করানোর সময় যতসব দুশ্চিন্তা ছিল ওসবের একটু প্রশমন হয়েছে। বাচ্চা টা অন্তত কালো হয় নি।
কালো মেয়েকে বিয়ে করলে পরবর্তী প্রজন্ম কালো হয়েই জন্মাবে ----এই ভয়টা খানিকটা কেটে গেল।
--আবার কেউ কেউ বলছিল,"এখন ফর্সা দেখালেও কিছু দিন পর রোদে পুড়ে কালো হয়ে যাবে।মায়ের রং নি পায় পরে কে জানে!" 
--নানান মানুষের নানান কথা।

      ----যখনই বুঝতে শিখলো সেই থেকে কৃষ্ণকলি একটা কথা শুনতে শুনতে তিতিবিরক্ত হয়ে গেছে।
---ওর মা বাবাকে প্রায়ই শুনতে হত," মেয়েটাকে বিয়ে দিতে কষ্ট হবে,ভালো করে পড়াশোনা করান।আবার বেশি পড়ালেও ক্ষতি কারণ উপযুক্ত পাত্রস্থ করতে হলে গাঁটের পয়সা ফুরিয়ে যাবে।" ---বিয়ের সম্বন্ধ আসলেই পাত্র পক্ষ বলতো," মেয়ে কালো অনেক পণ লাগবে।"
---- ওর মনে হত টাকা দিলে ,পণ দিলেই কালো র কলঙ্ক ঢেকে যাবে!
-- এমতাবস্থায়  কৃষ্ণকলি ঠিক করে এখন আর বিয়ে করবে না।বয়স যখন হয়েই গেছে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী  হয়ে বিয়ে করবে।--
----মন দৃঢ় করে কঠোর পরিশ্রম করে সে একটা ভাল সরকারি চাকুরিতে জয়েন করে এবং ভালোবেসে বিয়ে করে নেয়।
---কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা নেই। 
--শ্বশুরালয়ে গিয়েই শুনতে হয়েছে ওদের পরিবারে কেউ কালো নেই।এই বুঝি কালো যুগের  সূচনা হল।
---তারপর সন্তান সম্ভবা হলেই সকলে বলাবলি করত বাচ্চাটা যেন মায়ের মতো রং না পায়।
---তাই যেদিন অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারবাবু ওর ফুটফুটে শিশুটাকে এক নজর দেখাল,ওই মুহূর্ত টা ওর জীবনে লাল অক্ষরে অবিস্মরনীয় হয়ে রইল ।

তোমায় বুঝে কয় জনায়

✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

স্বাধীনতা ;কে তুমি? কি বা পরিচয়?
আচ্ছা সবাই কি তোমায় জানে,চেনে, বুঝে?

ঐ যে ফুটপাতে শুয়ে আছে চাদর মোড়ে,
বড়লোক বাবার বখাটে ছেলেটা 
মাতাল হয়ে ,হুঁচোট খায় যার 'পরে 
তবুও চুপটি করে শুয়ে থাকে পাশ ফিরে
সে জানে স্বাধীনতার মানে?

যে  শিশুটা রাস্তার মোড়ে হাত পেতে খাবার খোঁজে,
আবর্জনার স্তুপে কুকুরের সাথে রুটি ভাগ করে
ক্ষিধের জ্বালায় হন‍্যি হয়ে ছুটে বাবুদের পাশে
দশটা টাকার প্রত‍্যাশায়,সে কি বুঝে
স্বাধীনতা কারে কয়?জানে স্বাধীনতার পরিচয়?

যে মেয়েটি কৈশোরে খুঁইয়েছে সম্ভ্রম
সমাজের লুলোপ দৃষ্টির রোষানলে 
জ্বলেছে আত্মা,ধর্ষিতার তকমা নিয়ে 
আছে বেঁচে,আদমরা,সে কি অনুভব করে
স্বাধীনতার মর্যাদা?

যে মেয়েটা নিষিদ্ধ পল্লীতে গুমরে কাঁদে;
সমাজের অবিচারে সকল স্বপ্নের বিসর্জনে,
প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকে বিবেকের দংশনে,
সে কি বুঝতে চায় স্বাধীনতার বিশালতা?
চিনতে চায় স্বাধীনতার অস্তিত্ব ?

তুমি যে চিরদীপ্ত,চিরায়মানা
সাগরের চেয়েও সুবিপুল তোমার গভীরতা
আকাশের চেয়েও সুবিশাল তোমার মর্যাদা
কিন্তু তোমায় বুঝে কয়জনা? স্বাধীনতার মানে বুঝে
কেবল আকাশ, সূর্য,তারা ।

আমার দেশ


✍️ অসীম দেববর্মা
 
 পৃথিবীর বুকে নেই এমন আর দেশ
ভারত মায়ের মতো অরূপ সৌন্দর্যের 
                  সমাবেশ! 
      নানা প্রান্তের নানা ভাষা 
             নানা পরিধান, 
     বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের 
               মিলনস্থান! 
একে একে ঋতুরা এসে মিশে
        ভারত মায়ের বুকে
ফুলে, ফলে, শস্য, সবুজের শ্যামলীতে
  পাখিরা গায় গান মনের সুখে। 
অমৃত প্রবাহিনী তটিনীরা কলকল করে
            বয়ে চলে নিত্য, 
মহাসাগরের উচ্ছল স্রোত ধুয়ায় মায়ের
            চরণ তা সত্য। 
     তিন রঙের জাতীয় পতাকা
তার মাঝে সুশোভিত অশোক চক্রের
             চব্বিশ শলাকা। 
       চন্দ্র, সূর্য, তারা, নক্ষত্রের মতো 
 জয়ের ধ্বজা উড়তে থাকুক সবার শিখরে, 
 জীবনের সংগ্ৰামে লড়াই করে বাঁচতে চাই
 স্বাধীনতা সংগ্রামী, শহীদ জওয়ান, কৃষক, 
        শ্রমজীবীদের কর্ম মন্ত্র আঁকড়ে ।

অমৃত মহোৎসব


  ✍️ বিপ্লব গোস্বামী

      সেজেছে দেশ স্বাধীনতার
                  অমৃত মহোৎসবে,
     ঘরে ঘরে তেরেঙা পতাকা
               উড়াবে আজ সবে।

    সারাদেশে আনন্দ জোয়ার
                      আনন্দ উৎসব,
       বন্ধেমাতরম জয় হিন্দের
                     উঠেছে যে রব।

        আট থেকে আশি সবাই
      আজ আনন্দে আত্মহারা,
          নত শিরে স্মরি তাদের
          অমৃত এনেছেন যাঁরা ।

স্বাদ হীন স্বাধীনতা


✍️ বানী পাল

আরও একবার বিপ্লব হোক
চুয়াত্তরটি স্বাধীনতার মুখোশ উন্মোচিত করে
বেরিয়ে আসুক উলঙ্গ পরাধীনতা ।

সংক্রামিত হোক মানবতা
আমরা সবাই সেভাবেই লড়ব ধারালো রক্ত দিয়ে
এটা হবে গর্ভের জন্য গর্বের লড়াই ।

বার্তা পাঠাও আগামীর কানে
নব প্রজন্মের কপালে আঁকো স্বাধীনতার তিলক
গালে লাগিয়ে দাও নবারুণের লাল।

আলগা হোক কুসংস্কারের আঁচল
হিংস্রতা ধ্বংস হোক ,শুধুমাত্র সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি মেখে
হোক স্বাদপূরক স্বাধীনতার সূর্যোদয়  ।

সংগ্রাম চলবেই

✍️ কামনা দেব

জাগো এবার, জাগো সবাই
সংগ্রাম করো বাঁচার জন্য ,
জীবনটা যে কঠিন লড়াই 
বেঁচে থাকা নয় সামান্য। 

প্রতারণার প্রলোভনে 
পা দিও না কখনো কেউ,
আত্মবোধের অপমানে 
প্রতিবাদের তুলবে যে ঢেউ।

বাঁচার সংগ্রাম চলছে চলবেই
জনগণের সম্মানেতে ,
বাঁচার নির্মোক অধিকারেই
মনুষত্বের স্বত্তা কাড়তে।

প্রয়োজনে দেবো রক্ত 
পেতে সম্ভ্রম শান্তি স্বস্তি,
পথের বাঁধা হোক না শক্ত 
লড়বো শহর হতে বস্তি ।

সমাজ দস্যের অত্যাচারে
বাঁচতে প্রাণপণ যুদ্ধ চলবেই,
মিথ্যাচার আর ব্যাভিচারে
সংগ্রাম লড়াই করতে হবেই ।

রবি তুমি


   ✍️ মিতা বন্দোপাধ্যায় 

"রবি",তোমার শুভ জন্মদিনে তোমায় নিয়ে ,
অন্ধকারে ভাবছি বসে আপনমনে।
ভোরের অম্বরে উদীয়মান তেজোদীপ্ত রবি ;
 রাতের চন্দ্রালোকে হলে নীরবে ছবি ।।

হৃদয় আঙিনায় অসংখ্য তোমার শব্দ তরঙ্গ, 
নিঁশব্দ অবিরাম  বাজায় কাব্য ছন্দ ।
সারা ভূবন হিল্লোলিত তোমার মহিমায় ;
দিশেহারা পথ খুঁজেপায় তোমারি কাব্য কথায় ।।

মনোমাঝে আন্দোলিত হয় তোমার।শব্দ কলি ,
যাতে লেখা আছে দুঃখ সুখের হিসেবগুলি ।
বিশ্ব মাঝে তোমার প্রকাশ ,সর্বত্র বিচরণ,
জাতি কুলমান সব ধন্য হয় অগনন।।
শুধু কবি নও তুমি বিশাল জ্ঞানতপস্বী,
বিশ্বলোকে তাই সর্বশ্রষঠ যশস্বী ।
আলো অন্ধকারে  রাত দিন তোমার কথা ও সুর 
বাজে এর মাঝে বিশ্ব দেখে ভারী সুমধুর ।।
প্রতিটি হৃদয়ে আছ অক্ষয় হয়ে ,
জ্ঞানের আলোক বর্তিতা কথায় ও সুরে ।

স্বাধীনতা এসে


✍️ প্রতীক হালদার 

স্বাধীনতা এসে খুলে দিল দ্বার
বইলো সুখের হাওয়া,
দুখের আঁধার কেটে যেতেই
সুখের হদিশ পাওয়া।

সবটুকু সুখ দিয়ে গেল ওরা
বুকের রক্ত দিয়ে,
সাহস করে যুদ্ধে নেমে 
নিল স্বাধীনতা ছিনিয়ে।

মাতৃভূমির বীর যে ওরা 
জন্ম দেশের জন্য,
দেশের সেবায় মাতালো ওরা 
হল জীবন ধন্য।

এদেশ বলে এসো ফিরে
মাতৃভূমির টানে,
আজ যে আমি স্বাধীন শুধু
তোমাদের বলিদানে ।

বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য

   ✍️ সুজন দেবনাথ

আমার এই মহান দেশের মাটি
সোনার চেয়েও সহস্র গুণ খাঁটি,
হাজার বৈচিত্রের মধ্যেও ঐক্য যে
আমার দেশেই মিলে।
হে পবিত্র ভূমি তুমি জন্ম দিয়েছো
কতো গুণী মুনিঋষির,
যার ধুলিকণা গায়ে মেখেও আজ 
আমরা যে পরম শান্তি পাই।
একদিন যখন পরাধীনতার গ্লানি
এই পবিত্র ভূমি কে গ্রাস করছিলো,
তখন তো এই দেশমাতৃকার
সাহসী সন্তানেরাই এগিয়েছিলো।
সেদিন তো ছিলোনা জাতিভেদ!
ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রান্তের মানুষ
এক জাতি এক প্রাণ আর একতার মন্ত্রে
দিক্ষীত হয়ে নির্ভয়ে বুক পেতেছিলেন
বিদেশি শক্তির ধারালো অস্ত্রে।
এদেশ স্বাধীনতার তেরঙ্গা পতাকা
সকল জাতির রক্তের বিনিময়ে পাওয়া,
ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে
যখন পরাধীন ভারত কে স্বাধীন করতে 
সবার প্রয়োজন ছিলো,
আজ স্বাধীন সেই ভূখণ্ডে কেন তবে 
এতো জাতির বিভিন্নতা সৃষ্টি হলো?
বিভিদের মাঝে মিলনের গান কি
তবে আজ আমরা ভুলে গেছি ?

হে স্বাধীনতা


  ✍️ সুমন দাস

হে স্বাধীনতা, আমরা তোমাকেই চাই,
পরাধীনতাকে নয়।
তোমাকে পাওয়ার জন্য,
কত না ভাসাতে হবে রক্তগঙ্গায়‌।
স্বাধীনতা মোদের জন্মগত অধিকার,
পরাধীনতার শৃঙ্খলকে জানাই ধিক্কার৷
থাকবো না দাসত্বের শৃংখলে,
স্বাধীনতা গড়বো নিজ বাহুবলে।
তুমি আসবে বলে ছাই হল গ্রামের পর গ্রাম,
দানবের মতো চিৎকার করতে করতে।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত জলন্ত,
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে।
এক ফোটা রক্তের বিনিময়ে আমরা গড়বো স্বাধীনতা,
পরাধীনতাকে বিধ্বস্ত করে।
এই প্রতিবাদ আমরা চাই ,
প্রতিবাদের দ্বারা ন্যায্য বিচার পাই।
এই স্বাধীনতা আসবে বলে,
দেশ হলো স্বস্তি উজাড়।
পুরনো নিশান উড়িয়ে নতুন নিশান নিয়ে,
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।
তাই এই স্বাধীনতা আমরা চাই,
স্বাধীনভাবে জীবন গড়তে চাই ।

আজও খুঁজি তোমায় স্বাধীনতা


   ✍️ সংহিতা ভট্টাচার্য্য

৭৫ তম স্বাধীনতার সকাল। 
তেরঙ্গা উড়ছে পত পত করে।
সুউচ্চ হিমালয় স্ব গর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দেশের উত্তর পূর্ব প্রান্তে।
কল কল শব্দে  বইছে গঙ্গা পাহাড় পেরিয়ে সমতলে।
আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে দেশবন্দনার গান...
রাজপথ জুড়ে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা...
নেতাজী মহাত্মা ক্ষুদিরাম 
বিনয় -বাদল- দীনেশ, 
ঝাঁসির রাণী... নানা সাজে সুজজ্জিত কিশোর কিশোরী। 

এরই মাঝে অনেক প্রশ্নচিহ্নের ভীড়ে স্বাধীনতা আজও অসহায় কাঁদে... 

যখন দেখি.... 
বিশাল অট্টালিকার পাশে দু' মুঠো অন্নের জন্য আধপেটা মানুষের বাঁচার লড়াই..
কনকনে ঠান্ডা শীতের রাতে কুয়াশার চাদর জড়িয়ে থরথর করে কাঁপছে অভাগী মা।

দুর্বল অসহায় মানুষের করুন আর্তনাদ,খুন,ধর্ষণ
ধর্মের নামে স্বজন পোষণ... 
দাঁতে দাঁত চেপে পাথর হয়ে বসে থাকা  আশি পেরিয়ে যাওয়া  অসহায় বৃদ্ধ পিতা। 

স্বাধীনতা তুমি কোথায়!..
বহু শহীদের রক্তে রাঙানো রাজপথ! 
মহাত্মার অহিংস অসহযোগ... 
আজাদ সুভাষের বিপ্লব বলিদান.. 
আজ কোথায় হারিয়ে গেলো সেই  স্বাধীনতার মান ?

ভাবনার স্বাধীনতা!


   ✍️ রাজা দেবরায়

ভাবনার স্বাধীনতা নেই,
মস্তিষ্ক হারিয়েছে খেই!
ভাবতে রাজী নই আমি,
তথ্য থাকলেই তো দামী!
বিজ্ঞাপনের জন্য টিভি,
আর চাই নাচ, গান, মুভি।
ব্যস এতেই হবে দারুণ খুব,
আর কিছুতে দেবোনা ডুব।

ব্রেনটাকে শুধু খেলাতে হবে,
তবেই ভাবনার প্র্যাকটিস হবে।
তখনই ভাবনা হবে একদম স্বাধীন,
ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ হবে নিজ অধীন !

স্বাধীনতা তুমি কার

   ✍️ দেবলীনা ভট্টাচার্য্য

   হে স্বাধীনতা তুমি কার?
কি তোমার পরিচয় বলতে পারো আমায়
স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে দাড়িয়েও
এই সমাজের মেয়েরা পরাধীন আজো
হে স্বাধীনতা, ইংরেজদের থেকে মুক্ত করে
কত মানুষ রক্তের বিনিময়ে এনেছে তোমায় এদেশে
কত মানুষ হয়েছে শহীদ আর
শত শত মা হয়েছে সন্তানহারা
সবকিছুর বিনিময়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট
স্বাধীন হয়েছিল আমাদের এই দেশ

তবে বর্তমানে এসমাজে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা
স্বাধীন হয়েও আজো এসমাজে বাস করছে পরাধীনতা
এই স্বাধীন দেশে আজো মায়েরা আতঙ্কে থাকে
শুধুমাত্র ঘরে মেয়ে জন্ম নিয়েছে বলে
এদেশে দিনের আলোয়ও হয় মেয়েরা অপহরন
নেই তাদের সুরক্ষা এই স্বাধীন দেশে 
রাতে কোথাও যেতে গেলে আজো
মেয়েদের বলা হয় একা মেয়ে মানুষ রাতে যাসনে
দুপুরে বাড়ি থেকে বের হতে গেলে বলা হয়
তাড়াতাড়ি ফিরবি বাড়ি , সন্ধ্যা করিসনে
বলতে পারো স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পরেও
মেয়েদের কেন এরকম গন্ডীবদ্ধ জীবন
স্বাধীনতা আসলে তুমি কার এদেশে
তা জানতে চায় বর্তমানের অনেক নবীন মন ।

সাক্ষী

 
  ✍️ চন্দন পাল

সংরক্ষিত আলোর ভাঙন রোখার অক্ষমতায়, 
সঙ্কুচিত এ জীবন !
ক্ষমা কোরো সমভিব্যাহারী, ক্ষমা কোরো কিশোর কাঁচা।
 
জাগঘুমের দেশে অল্প কিছু জেগে থাকার দলে, আমি আর তুমি।
তাও বিবক্ষায় তাপ যোগাতে ধন মানহানি ভয়ে ভীত।

হবো নাই বা কেন? 
মান রক্ষকের সর্দারও এখন শীততাপ ঘরে লক্ষাধিক ভাড়া সহ বুকের তারকা বাড়ায়, ভাল'র প্রতিযোগিতা ব্যাতিরেকে।
নবযৌবন সোনার মুঠোফোন আর বাইকে মোহান্ধ।

যে কলমের মুখ এখনও বন্দুকের চেয়ে ধারালো গল্প বলে।
সে শ্রোতা এখন সুবিধার গল্প শুনতে আহ্লাদ বোধ করে। টিকটক বিডিও আর অভিযোজন জলসা সেরে,
দলে দলে পেপ্সু স্বপ্নে হাঁটে, আদা ব্যাপারীর গল্প শোনে মাঠে। 
"শ্রেষ্ঠ আসন" গোল্লায় যাক, মচমচি গল্পে হাত তালি দেয়,
দেয় বডি গার্ডও। নিজ ভবিষ্যৎ এর উজ্জ্বলতায়।!

প্রতিবেশীর অনুজ্জ্বল ঘরে, অভাবী চিৎকারে, রাতের ঘুম কতটুকু নির্বিঘ্ন উজ্জ্বল!!  তা সময়ই বলবে।

সাক্ষী রইলাম এ সময় সন্ধিক্ষনে, শিশুর বাসযোগ্য ভূমির দূরস্থ বৃথা সংকল্পে।

বিবক্ষা,,, বলার ইচ্ছা 
পেপ্সু,,, পাওয়ার ইচ্ছা ।

স্বাধীনতা


  ✍️ আলমগীর কবীর

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে আমাকে আমার মত খেতে দেয়া।
রুচি যা খেতে চায় তা খাবে ; 
যদি খেয়ে হজম করতে পারে তাহলে গরু খাবে, শুয়োর খাবে যা খুশি তা খাবে। 

আমাকে আমার মত করে পড়তে দেবে 
আমি কি পড়ব, কার লাখ খা বই পড়ব তা নিয়ে কেউ নাকগলাবেনা।
আমি আস্তিকদের বই পড়ব, নাস্তিকদের বই পড়ব, আমি পৃথিবীর সবার ইতিহাস পড়ব, জানব;
আমি গীতা পড়ব কোরআন পড়ব, বেদ বাইবেল ত্রিপিটক পড়ব আমার যা খুশি তা পড়ব!

আমি খাটো পোষাক পরিধান করব, লম্বা জামা পরব, আমার কাছে যে পোষাক ভাললাগে  আমি সে পোষাক পড়ব।

আমি রাস্তায় বের হব, হাট বাজারে যাব, আমার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনব।
আমি যখন রাস্তা দিয়ে হাটব তখন আমার মুখ দেখা যাবে আমার বুক ভেসে থাকবে।

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে যখন যা খুশি তা গাইব,গান গাইব গজল গাইব, শ্যামা সংগীত গাইব;

পরাধীন থেকে আমি আমরা মুক্তি চাইব
কি খাব, কি পড়ব,কি গাইব তা আমাদের নির্ধারণ করে দেয়া থেকে মুক্তি চাই;

আমি স্বাধীনতা চাই, আমরা স্বাধীনতা চাই, স্বাধীনতা চাই !

দর্পচূর্ণ

   ✍️ রেহানা বেগম হেনা

আমি যে দেখেছি -
অনেক বছর ধরে পশুরাজের দাপট-
সমস্ত অরণ্যজুড়ে ;
সব পশুপাখি ছিল ভীত সন্ত্রস্ত,
নিঃশ্বাস নিতে ভয় পেত সবাই
অরণ্যে পা ফেলতো নিঃশব্দে;
শুকনো পাতার মর্মর শব্দে যেন ঘুম না ভাঙ্গে পশুরাজের ।

কিন্তু আজ দেখলাম -
পশুরাজ মৃত, পড়ে আছে বনের এককোণে।
বীভৎস তার লাশ, দেখে আৎকে উঠলাম,
দেহটা পচে ফুলে ফেঁপে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে;
হাজারো লাল , কালো পিঁপড়ে
তার পচা দেহ জুড়ে ঘোরে বেড়াচ্ছে,
কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তার দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।

আজ সে বড়ো অসহায়
আজ আর নেই দৈহিক শক্তির দাপট,
নেই অহঙ্কার, হুঙ্কার, গর্জন, বাহুবল।
যা দিয়ে এতোদিন অরণ্যে সৃষ্টি করে রেখেছিল ত্রাস।

অরণ্য আজ বড়ো শান্ত, স্তব্ধ
সময় বদলেছে -
বনের পশুপাখিরা আজ নিরাপদে পথ চলছে,
খরগোশের ছানারা আজ লাফালাফি করছে
মনের আনন্দে।
সময় সবারই আসে
সময় পরিবর্তনশীল
দাপট , হুঙ্কার আজ ফুটপাতে ধুলোয় গড়াগড়ি খায়,
সুউচ্চ বৃক্ষের কচি পাতায় আজ
আলোর ঝলকানিতে আর বাতাসের দোলায় যেন তারই সঙ্গীত ।

অমৃত মহোৎসব


✍️ অর্ধেন্দু ভৌমিক

ঠাকুরদাদাদের মাথায় ছিল পরাধীন চাঁদ, 
সেদিন চাঁদ তারা আকাশের সুখ শিকলবাঁধা, শ্বাসরুদ্ধ---
অভাবনীয় অনুভবে হৃদয় রক্তমাখা 
ক্ষুদিরাম নেতাজী আরো আরো বীরের ত্যাগ... 

খোলসছাড়ারা  টের পায়  স্বাধীনতার সুখ,
 স্বাধীন চাঁদের আকাশ মাথায়
 আমায় কাঁদায় মা'য়ের ভালোবাসা
 স্বাধীনতা আজ, অমৃত মহোৎসব ।

স্বদেশ মুক্তির গান

🖌️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

জন্মিয়া মায়ের কোলে যে সন্তান জননী ভুলে। 
মাতৃ জঠরে যেন তার স্থান নাহি মিলে।। 
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে যে হাওয়া লাগে গায়ে। 
স্বদেশের মাটিতে গড়া নিজ কায়া পেয়ে।। 
স্বদেশের জল-হাওয়া রোজ পেয়ে পেয়ে। 
বেড়ে ওঠে মানবশিশু  মাতৃদুগ্ধ খেয়ে।। 
স্বদেশ লালন-পালন করে নিজ সন্তানেরে। 
ব্রিটিশ বাহিনী এসে  তারে শাসন করে।। 
দুশোটি বছর ধরে কত অন্যায় আর অত্যাচার। 
১৯৪৭ সালে ১৫ ই আগস্ট দিনটি তার প্রতিকার। 
দেশের মাটি যারে হৃদয়ে রেখেছে ধরে। 
সেই ছেলে দেশের জন্য মুক্তি যুদ্ধ করে।। 
বর্বর অত্যাচার, শাসন-শোষণ হলো অবসান। 
শহীদের রক্তে পেলাম মোরা স্বাধীনতার মান।। 
স্বদেশের লাগি কত সন্তান দিয়েছে নিজের প্রাণ। 
স্বাধীনতা আজ তাদের দেওয়া মুক্তির শ্লোগান।। 
 ব্রিটিশের  হাতে অস্ত্রাঘাতে রক্ত নদী বহে। 
দেশ আজিকে রক্তে রাঙনো মুক্তির গান গায়ে।

স্বাধীনতার চোখ


                  ✍️দীপু দেবনাথ 

রক্ত মাখা পোশাকে দেখেছি আমি হাজারো চোখ 
সেই রাঙা চোখে ছিল স্বাধীনতার সুখ 
কতই না ঝরেছে রক্ত, হয়েছে মার কূল শূন্য
রাতের আধারে কত সন্তানকে ছিড়ে খেয়েছে বন্য পশু
আঁধারে মায়ের আর্তনাদ, সন্তান কে হারাবার
বাতাসে বইছে রক্ত মাখা দুর্গন্ধ
স্বাধীন হবার বইছে রক্তের ধারা
এই নির্মমতার পরিহাসে মাটি রক্তাক্ত 
মাটির বুকে লেগেছে শীত,
পরেছে গায় লাল চাদর
কূলে তুলে নিয়েছে মাতৃ ভূমি বির সন্তান কে 
ফিরুক মায়ের কোলে সন্তান 
ফিরুক সিঁথির সিঁদুর।
উড়োক পাখি নির্ভয়ে
বয়ে আনুক খুশি সবার মনে ।

বঙ্গদেশের বীর


                    ✍️সোমা নস্কর 

হে বীর শত সন্তান তোমরা রেখেছ দেশের মান 
হীন চক্রান্তের আক্রমণে তুচ্ছ করেছ নিজের প্রাণ,
তোমরা তো কারোর মায়ের পুত্র কোন সতীর অলংকার 
হিংসা দাঙ্গা মৃত্যুযুদ্ধে এগিয়েছো বার বার।
দেশের ভূমি দখল করে যারা করেছিল রাজ
তাদের প্রতিবাদ করে স্বাধীনতা এসেছে আজ,
বলিদানের আত্মঘাতে এনেছো তোমরা জয়ের পথ
আগামী দিনে শক্তি যোগাবে যুদ্ধবাহী তোমার রথ।

স্বপথ নিয়েছ দেশের জন্য প্রাণ থাকতে লড়বে
ভাবুনি তোমরা নিজের কথা বাঁচবে বা কি মরবে,
আজ নেই শুধু তোমরা,রইবে মোদের দেশের মান
ভুলিব কেমনে শহিদ কীর্তি,দিয়েছ তোমরা অমর দান।
তোমাদের স্বার্থ ত্যাগের দানে দিয়েছ ভূমির মূল্য দাম,
টাইগার হিলের উর্ধ্ব চূড়ায়,রবে তোমাদের চির সুনাম।

সুভাষের স্বাধীনতা


                  ✍️রাহুল দেবনাথ

৭৫ বছরের বুড়ি মা আজ‌ও পরাধীন সুভাষ!
দু-বেলা দু-মুঠো অন্নের বদলে সে কেবল,
চার পাঁচটা কুকথা খেয়েছে।
কখনো প্রতিবাদ করেনি!
বরং সন্তানদের পাশে থাকবেন বলে,
মাথা গোজার ছোট্ট একটা ছাঁদ চেয়েছিল শুধু
দিন গুনে সে ছাঁদ এখন বৃদ্ধাশ্রমে...
তবে কিসের জন্য তুমি হারিয়ে গেছো সুভাষ?
কেনই বা তুমি স্বাধীনতা চেয়েছিলে?
রক্তের ঋণী করে ভারতবাসীকে।
ফিরে দেখো সুভাষ,
পরাধীনতার শিকল হতে,
সংশয়ের আড়ালে মুক্ত দেশবাসী,
তোমার ফেরার দিন গুনছে সুভাষ!
ফিরে এসো আরও একবার।
হে ভারত বীর, হে নেতাজি
আমরা আরো একবার রক্ত দিতে রাজি!
আমাদের স্বাধীনতা দাও আবারও !

স্বাধীনতা পর্ব


                       ✍️অগ্রদীপ দত্ত

ভারতবাসীর গর্ব মাতৃভূমির স্বাধীনতা দিবসকে নিয়ে,
পরাধীনতা হতে ভারতবাসী নিয়েছে স্বাধীনতা ছিনিয়ে।
ব্রিটিশ শাসনে সহ্য করতো ব্যভিচার অত্যাচার,
চলতো শুধু ভারত বিরোধী যতসব কারবার।
লুটেপুটে নিয়ে গেল ভারতের যত সব ধন,
হিন্দু মুসলমান বিরোধে লর্ড কার্জনের উস্কানি,
রবী ঠাকুর জানতো এতে ভারতবাসীর ঐকে হানী।
সম্প্রিতীর জন্য হিন্দু মুসলমানে করায় রাখি বন্ধন,
বুঝিয়ে দেয় হিন্দু মুসলমান একে অপরের স্পন্দন।
ক্ষুদিরাম ভগৎসিং হাসিমুখে অন্তিম বিদায় নিল ,
বিট্রিশ বিদ্রোহের নতুন এক আলোড়ন তুলে গেল।
স্বাধীনতা লাভে নেতাজি গান্ধীজী প্রমুখ বীর সন্তানের আগমন,
দেশপ্রেমিকের কন্ঠে বাজে ভারত মোদের 'তন মন জন গন'।
দেশপ্রেমে মাতোয়ারা ব্রিটিশ বিরোধী দেশ প্রেমিক,
ভারত স্বাধীনে ছুটে আসে নানা প্রান্তের নাগরিক।
বীর সন্তানরা করছে ভারত মাতাকে শ্রাদ্ধা ভক্তি,
জাতী ধর্ম বর্ন সকলের ভূমিকায় ভারত বিট্রিশ মুক্তি।
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল ভারত মায়ের সন্তান,
কত বীর সন্তান স্বাধীনতা খারিতে দিয়েছে প্রাণ,
কোনক্রমে ব্যর্থ যায়নি দেশপ্রেমিকের আত্ম বলিদান।
দুশো বছরের দুষ্কৃতি,অন্যায়,অত্যাচার বলে শেষ কী হয়?
মনে রেখো স্বাধীনতা প্রাপ্তী মানে প্রত্যেক ভারতবাসীর জয়।
পনের আগস্ট উনিশ শতকের সাতচল্লিশ দশকের ঐ দিন,
দুশো বছরের পরাধীনতা থেকে হয়েছে  ভারত স্বাধীন,
স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে মোদের অসংখ্যা ঋন ।

স্বাধীনতা


                  ✍️সুস্মিতা সরকার

মানুষ হিতে মানুষের জন্য
নয়কো কোনো পরাধীনতা ।
মানুষ কূলে জন্ম মোদের 
মানুষের কুলে প্রয়াণ  ।
স্বাধীন ভাবে বাঁচব সবে
এই যে মোদের জন্ম স্থান ।
ভারত মোদের জন্ম ভূমি
ভারত মোদের গর্ব ।
ভারত হীতে জীবন দান 
এইতো মোদের গর্ব । 
স্মরণীয় সব ব্যক্তির্বগ  
ভারত হীতে যারা দিয়েছে জীবনের বলিদান
তাদের প্রতি মোর শত শত প্রনাম । 
যারা আজ ও  নিজের জীবনের বীনিময়ে 
করছে ভারতমাতার সেবা  ।  
তাদের প্রতি মোর শত শত প্রনাম ।

রাখিপূর্ণিমা


                ✍️গৌরাঙ্গ সরকার

বাবাহারা রঞ্জিত শহরে গিয়েছিল একটি চাকুরির খুঁজে। পকেটে টাকা ছিল না। পুরনো বেগে পুরনো ৫টা ১০ টাকার নোট ছিল। যাওয়ার সময় মা'র কাছ থেকে ১০০ টাকা চেয়ে নিল। আবার ২দিন পর যেতে হবে, তাই টাকা বাঁচানোর জন্য বাড়িতে ৫০ টাকা দিয়ে কোনোরকম ফিরে এল। আসতেই তার বোন বলে উঠলো "দাদা, একটু হাতটা দে, আজকে রাখিপূর্ণিমা " এই বলে রাখি পড়িয়ে দিল। রঞ্জিত মনে মনে বলছে, "আমার তো মনেই নেই। নে বোন, এই ১০০ টাকাটা রাখ্, বেশিকিছু দিতে পারলাম না।" বোন- "আচ্ছা দাদা।" ২দিন পর রঞ্জিত তার এক বন্ধুকে কল করে বলছে, "১০০ টাকা পাওয়া যাবে ভাই?" বোন অন্য ঘর থেকে শুনে রঞ্জিতের দেওয়া টাকাটা বের করে বলছে, "দাদা, ঘর ঝাড় দিতে গিয়ে তোর ঘরে ১০০ টাকা পেয়েছিলাম, এই নে।"
রঞ্জিত- "আমার ঘরে তুই টাকা পেলি কোথায়?" রঞ্জিত ব্যাপারটা বুঝেও না বোঝার অভিনয় করছে, অসহায় হয়ে টাকাটা নিয়ে নিল। হয়তো বুকে পাথর রেখে টাকাটা নিতে হল।
এটাই ভাইবোনের ভালোবাসা। একজনের পকেট খালি কিন্তু বোনের জন্য ভালোবাসার পকেট ভরপুর। আর আরেকজনের মুখে সুখ না মেখে দাদার জন্য নিজের সুখ ত্যাগ করল। একজন সৈনিক(ভাই) আরেকজন দেশমাতা(বোন) ।

নব ভারত


             ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায়

পূর্ব গগনে উঠেছে অরুণ তরুণ ভারত জাগো,
অলস হয়ে ঘুমিয়ে থেকো না একতার ছবি আঁকো। 
দেশকে যারা করেছে খন্ড অন্তর কলহ দ্বন্দ্বে, 
চিহ্নিত করো তাদের তোমরা হাত রেখে সহোদর স্কন্ধে। 
স্বার্থের তাগিদে দেশকে যারা শোষণ করে তিলে তিলে, 
কালিমার টীকা এঁকে দাও তোমরা তাদের কপালে। ধ্বজা উড়িয়ে যারা মায়ের স্বাধীনতার গান গায়, 
তাদের শাসনে ভারত এখনো পরাধীন রয়ে যায়। 
সব বাঁধা বেড়াজাল ভেঙে এগিয়ে তোমরা যাও, 
অন্ধকারকে চুরমার করে দেশের কালিমা ঘুচাও। 
উঁচু নীচুর ভেদাভেদগুলো নিশ্চিহ্ন করে দাও  
মানবধর্মের পথে চলে দেশকে স্বাধীন করে নাও ।

মুক্তির আনন্দ


                  ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

আমি পাখি হবো
উড়ে  উড়ে যাবো।
নীল দিগন্ত জুড়ে 
পাখা মেলে  উড়ে।
নেই কোনো খাঁচা 
মুক্ত  হয়ে বাঁচা।
দিক দিগন্তে মিশে, 
যাবো আনন্দে ভেসে।
দূরে দূর দূরান্তে, 
একবারে শেষ  প্রান্তে। 
সীমানা টুকু ছাড়িয়ে 
ডেকে যাবো চেঁচিয়ে। 
নেই কাঁটাতার সীমানা 
আসীমে  আমার ঠিকানা। 
নাচবো  স্বাধীনতার আনন্দে 
মুক্তির  গানকরবো  ছন্দে। 
আমি পাখি হবো
পরাধীনতার শিকল ছিড়ে,
ডানা মেলে বেরাবো
মুক্তির আনন্দে উড়বো ।

স্বাধীনতা


                   ✍️শম্পা ঘোষ

শহীদের রক্তে ঋণী স্বাধীনতা
আজ বন্ধ্যা তবু স্মরণ সভায়
নীলকর সাহেবের জুলুম বা
রোজ রোজ মূল্যবৃদ্ধির খেসারদে-
মানুষের স্বাধীনতা শৃঙ্খলিত
আজও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি মাত্র,
একজোটে বহিরশত্রু নির্গমনে যে মুষ্টিবদ্ধ আওয়াজ জেগে উঠেছিল তাকে ভুলি কেমন করে?
সকল অচলায়তন ভেঙে আবারো জাগিও-  স্ব-অধীনতার মন্ত্রে গর্ব করে শহীদের রক্তে ললাট কোনে এঁকে দিই বিজয় স্মারক সত্যিকারের স্বাধীনতার ।

স্বাধীন ভারত


                  ✍️দীপক রঞ্জন কর

দুইশ বছর পরাধীন ভারত ব্রিটিশের শাসনে, 
রাজত্ব করে কৌশলে ইংরেজ দখল সিংহাসনে,
অত্যাচার অবিচার লাঞ্ছনা কত করে গৌরবে, 
সহ্য করেছে নিত্য ভারতবাসী  অসহায় নীরবে।
তরুণ যুবকরা গর্জে উঠে আর নয়কো পরাধীন ,
বহু তাজাপ্রাণ বিনিময়ে আজ ভারতবর্ষ স্বাধীন।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতবাসী ভাই ভাই
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে করছে প্রাণপণ সংগ্রাম লড়াই।
দেশের বিনিময়ে দিতে হয়েছে প্রচুর তাজা রক্ত,
১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত হয় পরাধীন মুক্ত ।

স্বাধীনতা

         
                          ✍️শুভ্রা দেব

স্বাধীনতা, তুমি পূর্ব দিগন্তে উদিত রবি 
তোমায় নিয়ে কবিতা রচে কতো হাজার কবি
তুমি মায়ের বুক ভরা আশা,
প্রেয়সীর ভালোবাসা 
সন্তানের মুখের দীপ্তমান হাসি।
স্বাধীনতা,তুমি আমার ভাইয়ের রক্তে ভেজা মাটির গন্ধ,
কফিন বন্দী বীর শহীদের দেহ-
হাজারো সৈন‍্যের রক্তে রাঙা উড়ন্ত তেরঙ্গা
তুমি কবিগুরুর কলমে 'ভারততীর্থ'
বিদ্রোহীর কন্ঠে ধ্বনিত 'কান্ডারী হুশিয়ার '।
স্বাধীনতা, তুমি নবীন ভারতের প্রাণ,
তোমাতে বজায় আজও প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য 
ইতিহাসের প্রতিটা পাতায় পাতায় রয়েছে লেখা 
তোমায় ঘিরে কতো হাজারো অমরত্বের জয়গান ।

আমার স্বদেশ


                  ✍️রাজেশ ঘোষ

যতই করো বিভেদ, হিন্দু মুসলমান
পরিচয় একটাই ভারতীয়, ভারত আমার মহান
এ দেশ তোমার, আমার, সবার
অহংকার করি আমি, ভারতীয় হবার 
এই দেশের বাতাসে পাই, বুক ভরা প্রাণ 
নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই, ভারত মায়ের সন্তান 
এই দেশের মাটিতে মিশে আছে, কত শহীদের রক্ত
ইতিহাস হয়েছে সাক্ষী, কত ঘটনা অব্যাক্ত
স্বদেশ আমায় শেখায়, স্বপ্ন দেখতে 
এক জাতি, এক প্রাণ, ভেদাভেদ ভুলে থাকতে 
বহু বৈচিত্রের সমাহার, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী
যুগ যুগ ধরে বয়ে চলেছে, গঙ্গা - যমুনা - গোদাবরী
এক সূত্রে বেঁধে আছি, আমরা সবাই
স্বাধীনতা ছিল না সহজ, করতে হয়েছে লড়াই
যতই দেখি মাগো, তুমার রূপের বাহার
মুগ্ধ হই, ধন্য হই আমি প্রতিবার
আজ তুমি স্বাধীন, নেই পরাধীনতার শৃঙ্খল
তবুও মাঝে মাঝে দুঃখ হয়, যখন দেখি তোমার চোখে জল

ত্রিপুরার গভীর অরণ্যে অনন্ত ঐশ্বর্যের প্রতিষ্ঠান-


                   ✍️ সুজিত ভৌমিক

যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়- 'ত্রিপুরাকে কেন ভালো লাগে '? ত্রিপুরার মূল আকর্ষণ কি বা মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুই কি?' ত্রিপুরার প্রকৃত ও মূল বৈশিষ্ট্যই বা কোথায় অথবা ত্রিপুরা কিসে শ্রেষ্ঠ? ' উত্তরদাতা যদি বিদেশি তথ্য ফরেনার হয় তবে হয়তো বলবেন, ''Tripura is best in It's forest'।  অথবা বলে বসবেন, 'The forest of this state is dense and unique ''। কোন বহিঃরাজ্যবাসী ভারতবাসী হয়তো বলবেন 'ত্রিপুরার অরণ্যের তুলনা নেই।' আর এ রাজ্যের কাউকে তথা ত্রিপুরাবাসী কোন একজনকে  প্রশ্ন করলে- 'ত্রিপুরার শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি? অমনিই, তৎক্ষনাৎ চোখবুঁজে একটি ও একমাত্র উত্তরই আসবে। আর সে জবাবটি বা উত্তরটি হল, ' অরণ্য সম্পদ।' আবেগ তাড়িত হয়ে কেউ হয়তো বলবেন, 'ত্রিপুরার একমাত্র সম্পদ অরণ্য সম্পদ।' ত্রিপুরার একমাত্র ঐশ্বর্য অরণ্য ঐশ্বর্য। 

   আর বলা বাহুল্য, অরণ্য অভ্যন্তরে বা বনের স্পর্শে যাদের বাস, বিশেষ করে যে সমস্ত উপজাতি অংশের মানুষজন অরণ্যবাসী, তাঁরা যদিও আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণভাবে অরণ্য, গাছপালা, বৃক্ষ ইত্যাদির উপর নির্ভর করেন, অরণ্য উদ্ভিদের ফল, মূল, পাতা, শুকনো জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, গৃহের পরিকাঠামো ও আচ্ছাদনের জন্য, পশুপালনের জন্য, বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ ও রোগপীড়াতে ভেষজ উদ্ভিদাদির ছাল, পাতা, ডাল ও পুষ্প, ফল ও মূলের নির্যাস সংগ্রহ ইত্যাদির জন্য অরণ্য অভ্যন্তরের গাছপালা ও বৃক্ষাদির উপর নির্ভরশীল, তবে একথা অনস্বীকার্য যে তাঁরা বন, অরণ্য, বৃক্ষ ও উদ্ভিদকে গভীর ভাবে ভালবাসেন, বনের বৃক্ষাদির প্রতি প্রীতি,  বনবাসীদের সবুজ গাছপালার প্রতি গভীর অন্তরের টান, প্রাণের আকর্ষণ ও হৃদয়ের উষ্ণ ভালবাসা। নয়তো তাঁরা কিন্তু সংখ্যক হলেও অরণ্যভূমি ছেড়ে বনের ঠিকানা ত্যাগ করে মলস্রোতে সামিল হতেন, কিছু বা স্বল্প সংখ্যায় হলেও লোকালয়বাসী বা গ্রামবাসী হতেন, বা শহরের চাকচিক্য বা সুযোগ সুবিধা, আরাম আয়েশ ও বিলাসিতার অংশীদার হতেন। সুতরাং যারা বনবাসী, অরণ্য অভ্যন্তরের যাদের বাসস্থান, তাঁরা অরণ্য ও বৃক্ষাদিকে অতি কাছের বস্তু, অতি বিশ্বস্ত  ও আপনজন, অন্তরের ভালোবাসার ঐশ্বর্য্যে লালন করা স্বর্গসুখ বস্তু, দুর্লভ সুখের ধন হল এই বন ও অরণ্য। একথাই আসল সত্য যে, অরণ্য ও বনবাসীরাই অরণ্যকে সবচেয়ে বেশী ভালবাসেন। যাইহোক, ত্রিপুরার অরণ্যের হাতছানি অন্তহীন, সীমাহীন ও দুর্বার। ত্রিপুরার অরণ্যের গভীরতা, সতেজতা, দুর্ভেদ্যতা, সবুজের অবিচ্ছিন্নতা, বিচিত্র সব পাখিদের কলকাকলি ভরা ছন্দের উদ্দামতা, সীমাহীন সবুজের মোহময়তা, বিচিত্র সব গাছগাছালির রহস্য ও রোমাঞ্চ যেন এক অন্যবিল আনন্দ, এক স্বর্গীয় অনুভূতি, একবুক বাতাস, উদাসীন সনের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া আর ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যাওয়া মন জঙ্গলের ঘোর আবর্তে, গহন বনের নিঃঝুম, নিঃশব্দ শীতলতায় এ যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়া, মন হারানো বনের সবুজে মুক্তির স্বাদ, অনন্ত শান্তির বার্তা, স্বর্গীয় সুষমার হাতছানি। আর ত্রিপুরা অরণ্যেই এই বৈচিত্র্য ও বিভূতির প্রকাশ৷ ত্রিপুরার অরণ্য তাই অনন্য। 

  উল্লেখ্য রাজন্য আমলে এরাজ্যে 'হাতি খেদা' নামে একটি শব্দবন্ধ তথা মজাদার ও ঐতিহাসিক শব্দযুগলের কথা জানা যায়। এ রাজ্য থেকে তখন বহিঃরাজ্যে হাতি বিক্রি করে বিশাল অঙ্কের অর্থ আয়ের উৎস স্বরূপই এই 'হাতি খেদা' অভিযানের সূচনা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায় এই রাজ্যে তখন হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০টির মতো। দক্ষিণের গোমতী, অমরপুর, বামপুর, উত্তরের মনু, আমবাসা ও তেলিয়ামুড়ার নিকটবর্তী অঞ্চলে হাতিদের আনাগোনা ছিল সর্বাধিক ও লক্ষণীয় ভাবে উল্লেখযোগ্য। এ রাজ্যে প্রায় ১৫৪৫ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে ।  অরণ্যাঞ্চলের পরিধির বিস্তৃতিও ছিল খুবই সন্তোষজনক ও সর্বোচ্চ মাত্রা বিশিষ্ট। বলা যায় গভীর, গহন, ঘন জঙ্গলে আবৃত ছিল ভারতের বৃহৎ অংশের ভূমি অঞ্চল। যেমন খ্রীস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বর্ষ নাগাদ ভারতের মোট ভৌগোলিক আয়তনের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ অঞ্চল ছিল অরণ্যাবৃত। আর ১৯০০  খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ছিল ৪০ শতাংশ বনাঞ্চল। ১৯৫১ সালে তা নেমে যায় ২২ শতাংশে,
 আর ১৯৯৫ সালে বনাঞ্চলের পরিমাণ দাঁড়ায় কমবেশি প্রায় ১৯৩৯ শতাংশে।

    উল্লেখ্য, ত্রিপুরা রাজ্যে ২০০৩ বন সমীক্ষা অনুযায়ী বনাঞ্চলের আয়তন ৬২৯৪.২৯৩ বর্গকিমি এবং বৃক্ষ রয়েছে এখন এলাকার পরিমাণ ৮০৯৩ বর্গকিমি। প্রায় ৩০৪৭ বর্গকিমি জুড়ে রয়েছে উন্মুক্ত বন। উল্লেখ্য, ভারতের উদ্ভিদ সাম্রাজ্যের ১২.৮৬ ভাগ উদ্ভিদ এর আবাসভূমি হল এই ত্রিপুরা। যদিও মাথাপিছু বনের পরিমাণ তথ্য বনভূমির আয়তন (per capita area of forest land)- এর ক্ষেত্রে পৃথিবীতে সবচেয়ে নিম্নে হল ভারত। আর বর্তমানে পৃথিবীতে বনভূমি হ্রাসের বার্ষিক হার ১.৭ মিলিয়ন হেক্টর। উল্লেখ্য, উদয়পুরস্থিত জগদ্বিখ্যাত, সতীর একান্ন পীঠের একটি, মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির সংলগ্ন বৃহৎ দীঘি কল্যাণ সাগরে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ বর্তমান। এই বিরল প্রজাতির কচ্ছপগুলি বৃহদায়তন ও বয়সে অতিপ্রাচীন  এবং পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পরিশেষে বলি ত্রিপুরার অরণ্যে রয়েছে সাক্ষাৎ বনদেবী (Living Goddess of forest) এর অবস্থান ও অধিষ্ঠান। ইংরেজ দার্শনিক ও মনীষী তথা বিখ্যাত লেখক Francis Bacon (1561-1626, English Politician, Philosopher, and essayist) এর গুরুগম্ভীর ও প্রগাঢ় তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি দিয়েই এ নিবন্ধের ইতি টানছি। Francis Bacon বলেছেন, 
" God Almighty first planted a garden ; and indeed, it is the purest of human pleasure. "

তোমার চরণতলে (গান)


                 ✍️প্রসেনজিৎ পাল 

তোমার চরণতলে পাই যেন গো ঠাঁই, 
তোমার নামে, তোমার গানে তোমারেই যেন পাই।
দিন ফুরাল, রাত্রি গেল কত জনম ধরে, 
তোমায় পাবার স্বপ্ন তবু আছে হৃদয় জুড়ে। 
জানি প্রভু ধরা দেবে একদিন তুমি 
যেদিন পূর্ণ হবে পুণ্যে আমার হৃদয়ভূমি।
এই আশাতেই আছি আনন্দে ইচ্ছে হবে পূরণ, 
পাব পাব কোন এক নিশিদিনে তোমার রাঙা চরণ।

দেশহীত


                     ✍️পান্থ দাস

হলেন শহীদ 
শত শত অমর কিশোর,
হে বীর প্রসবিনী
ভয়টা কি তোর !

দেশ প্রেমের 
অবাধ সাধনায়,
ধ্যান জ্ঞান কি আর
বৃথা যায় !

যায়না যে ভোলা
তোমাদের রক্তে রাঙা
জাতীয় পতাকা,

দেশহীতে যে দিলেন 
ভরা যৌবন 
চাইতো যে শুধুই একতা ।

রাজনৈতিক দলগুলোকে সাজেশন


                  ✍️ রাজা দেবরায়



প্রায় সব রাজনৈতিক দলগুলোরই যুবশক্তি বা ইওথ উইং বা সংগঠন আছে। কিন্তু এগুলোতে শুধু রাজনৈতিক চর্চা (সেটাও সঠিকভাবে হয়না) বা কর্মসূচী প্রতিপালনই মূখ্য ব্যাপার থাকে। যুব মানে তো বিশাল কিছু। যুব মানে প্রেম, যুব মানে আবেগ, যুব মানে নতুন ভাবনাচর্চা, যুব মানে নতুন সৃষ্টি, যুব মানে নতুন সংস্কৃতি, যুব মানে নতুন দিশা, যুব মানে নতুন দৃষ্টিকোণ!

কিন্তু এগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার চিন্তাভাবনা কি রাজনৈতিক দলগুলো করছে? মনে তো হয়না! যুবদের মিটিংয়ে কেনো প্রেম, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সিনেমা, গান ইত্যাদি বিষয় থাকবেনা? এগুলো থাকলে তো এগুলোর চর্চার মাধ্যমে নেতৃত্বরা আগামীদিনের সঠিক, যোগ্য, উৎকৃষ্ট নেতৃত্ব সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কথাবার্তার মধ্যেই সীমিত না রেখে একেক দিন একেক বিষয়ে সবাইকে আলোচনা করতে দেওয়া হোক। তাঁদের কাছে প্রেম আসলে কী, সেটা তাঁরা মন খুলে বলুক। কেনো এই গায়কের গান ভালো লাগে মন খুলে বলুক। কেনো এই খেলা ভালো লাগে বা এই খেলোয়াড় ভালো লাগে বলুক। সাহিত্য, খেলা, রাজনীতি ইত্যাদি বিষয়ে ডিবেট হোক। ডাটা কালেকশন করে তুলনামূলক বিশ্লেষণ হোক। তবেই তো তাঁদের মনে যুক্তি, দৃষ্টিভঙ্গির খেলা চলবে। বিভিন্ন বিষয়ে বন্ধুত্বমূলক প্রতিযোগিতা হোক নিজেদের মধ্যে। সৃজনশীল উৎকর্ষতা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসুক এবং বৃদ্ধি পাক তাঁদের মধ্যে। তবেই তো আমরা ভবিষ্যতে দারুণ রাজনীতিবিদ পাবো।

এছাড়া শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হোক। শিক্ষাকে আরো উন্নত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আলোচনা হোক। যদি ভালো প্রস্তাব পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হোক। এইরকম নানা বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনার মাধ্যমে জনগণের সুবিধে হবে এরকম বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তাব দেওয়া হোক। তারপরে এই যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাবগুলো জনসমক্ষে আনা হোক। রাজনৈতিক স্বার্থে শুধুমাত্র ধর্ণা বা একদল লোক নিয়ে ডেপুটেশন এই জিনিসগুলো এখন মানুষ সেইভাবে পছন্দ করেননা। তাছাড়া এগুলো দেখতে দেখতে একঘেয়েমি লাগে জনগণের। কেনোনা নির্দিষ্ট বিষয়ে এগুলো করার পর আর কিছু জানা যায়না এবং ফলো-আপ করা হয়না। তবে অবশ্যই এইসব নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, গবেষণা, আলোচনা, সমালোচনা ইত্যাদি হোক।

যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই মুখ্য উইং হলো যুবশক্তি। ফলে তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সুশিক্ষিত করার জন্য সঠিক অর্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করা মূল কর্তব্য অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর। তবেই রাজনৈতিক দলগুলো সত্যিকার অর্থেই সঠিক পথে ধাবিত হবে।

রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরকে দোষারোপ করার চাইতে গঠনমূলক সুপরামর্শ বা সুচিন্তা প্রদান করলে সেটা জনগণের কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য হবে। তবে উপযুক্ত তথ্য, প্রমাণ সহ শাসক দলের বা সরকারের ভুল পদক্ষেপগুলো তো অবশ্যই বিরোধী দলগুলো ধরিয়ে দেবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে। অনেক সময় আমরা এগুলো দেখেও থাকি।

পরিশেষে এটাই বলার, আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলো উপযুক্ত নেতৃত্ব উপহার দিক আমাদের। আর শুধু এইটুকুই চাওয়া যে আগামী দিনগুলোতে রাজনীতি একটু হটকে, গঠনমূলক, ইতিবাচক এবং শান্তিপূর্ণ হোক।

'স্বরূপ'

               ✍️ দিব্যেন্দু নাথ

- আমি যদি আবার নাইনের ছাত্র হই, তুমি কি  সেভেনের ছাত্রী হবে?
- না। 
- কেন?
- দাদাদের মাঝে! দাদা দাদা বলে আবার তোমাকে খোঁজাবো?
- এও তো ঠিক! তবে এখন পর্যন্ত তো সেই দাদা-ই ডাকো।
- সে তো তোমার জন্য!
- এছাড়া আমার আর কি করার ছিল?
- হ্যাঁ। পালিয়ে গিয়ে বংশের আভিজাত্য বাঁচানো-ই ছিল তোমার সঠিক সিদ্ধান্ত।
- যাইহোক! সাতকাহন গল্পের পর তো এখনও একটা সম্পর্ক টিকে আছে। কথাটা শুনে আঁখির এতদিনের শুষ্ক বাঁকা নয়ন বেয়ে দু-ফোটা অশ্রু টপ-টপ করে ঝরে গেল। স্বাভাবিক ভাবে বলতে চাইল, পরল না। অনেকটা গোঙানির মতো আওয়াজ বের হল গলা থেকে, - আমার অভিমানটা কোনদিন বুঝতে পারোনি তুমি।
- কে বলল সে কথা?
- কেন টুপুর পরতে গেছিলে আমাকে রেখে?
- সেদিন তো তুমি পরিস্কার-ই বলে দিয়ে ছিলে...!
- পেছনটায় কে ছিল! মনে আছে? 
- আছে।
- আমি আর মনের প্রলাপ ছড়িয়ে লোক হাসাতে চাই না দিব্যদা। অধরা ব্যথায় আক্রান্ত আঁখি একটু মুচকি হাসি দিয়ে আবার বলল, - সমাজের মিথ্যে অহমিকায় ভরা আমার দাদা! কেন যে নিজকে এত সংস্কারসম্পন্ন মনে করে। এবার যেন দিব্যর গলাটা কেঁপে উঠল। তবে সেটা ভয়ে নয়! হারানো বিরহে।
- তুমিও তো সায় দিয়ে ছিলে দাদাকে।
- এছাড়া কি করার ছিল আমার! 
- প্রতিবাদ করা।
- তোমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অবলা নারীর কণ্ঠে কি এত সাহস আছে?
- পক্ষে একটি মাত্র ধনাত্মক সংকেত দিতে আমাকে, দেখতে কি করি!
- মারডাঙা করতে?
- করতাম।
- লোকে হাসতো! ভালোবাসায় হিংসা...। কথা বলে আঁখির চোখমুখ উদাস হয়ে যায়।
- তুমি রাধার অন্তর, পিঞ্জরে নিয়ে জন্মিলেও... আমিও কিন্তু কৃষ্ণর মতো প্রভাস নদীর পারে বসে আছি এখনো...।
- ছাড়ো না গো বিরহ! কি আর হবে এসব ভেবে। আমার তো ঠিকানা-ই বদলে গেছে।
- হ্যাঁ। তুমি তো মায়ের তকমায় রঞ্জিত হয়ে গেছো।  পৃথিবীতে এই একটাই সম্পর্ক আছে সব সম্পর্ককে  ফিকে করে দেওয়ার জন্য। 

এবার মৌনতা আকড়ে ধরে আঁখিকে। বিষ্ময় না আকুলতায় ছেয়ে গেছে, বুঝা গেল না। প্রলাপ সুরে  বলতে লাগল দিব্য, - আমিও চাই না.... মা সম্পর্কটা কোনো দিন পৃথিবীতে কুলোষিত হোক। সহজ পৃথিবীর জটিল করা নিয়মানুযায়ী তো, ভুলটা সবসময় পুরুষদের-ই হয়! এই কলঙ্কটা আমারই থাক! অশ্রু পান করতে শিখে গেছি এখন। চোখের জল ছাড়া সমাজের সমস্ত ভার বইতে পারি। 
- হ্যাঁ গো। মেয়েরা তো কেঁদে হালকা হয়, লোকসমক্ষে। পাঁচমিশালি আহা-উহু তাও পাওয়া যায় শ্বান্তণা স্বরূপ! তাতে যদিও দুঃখ কমে না। কিন্তু সমব্যথী ধরে নেয়া যায়। অথচ পুরুষদের এমন এক যোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করে রাখে 'সময়', যেন কাঁদাটাও লজ্জার। ওদেরও মন আছে, স্বাভাবিক কান্না আছে এটা মনে-ই থাকে না। মানসিক নির্যাতনে পুরুষরাই বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আঁখির কথা শুনে অজস্র দুঃখের মাঝে পুলকের ছোঁয়া পেল  দিব্য। কেমন জানি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আঁখি আবার বলতে লাগল, - মৌনব্রত ভেঙে ফেলো। বেশি চুপ থেকো না! তোমার কথা মতো বেনারসি পড়েছিলাম ঠিকই। ভেবে না তাতে তুমি 'দোষী' এটাই আমাদের ভাগ্য ছিল। আজ যে অবতারের পূজা করছি! গোপনে তুমিই তো ঢেলে দিয়েছো হাতে ফুল। 

দিব্য পুরুষ হয়েও ভুলে গেছে, সে পুরুষ; বাউল হয়ে ভুলে গেছে তার স্বরূপ। না হলেও কি দুচোখ একসাথে ভেঙে গলে যেত! বাউল ধর্মে কারো প্রতি কোনো খেদ থাকতে নেই। তবুও কেন জানি আঁখির বারবার মনে হচ্ছে, দিব্য পথ ভ্রান্ত...!! প্রশ্নটা করবে কি করবে না, না ভেবেই সুধালো, - আজ একটা সত্য বলবে?
- কি গো?
- আমারে সংসারি বানিয়ে তুমি কেন বাউল হলে!
- ওঃ, সে-কথা! উত্তর জানা প্রশ্নটা করে কেন লজ্জা দিচ্ছো। 

আঁখি নীরব হয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। বিনয় ভরা বিলাশিতার হাসি দিয়ে বলে, - ইজ্জত! সেটা বাঁচাতেই তো এখনো দাদা বলে ডাকি...। নাহলে তোমার সঙ্গী হয়ে চলে যেতাম সাধন মার্গে। কথাটা দিব্য না শুনলেও অনুমান করতে পারল। মনে মনে বলল, - তোমার ওজন এত বেড়ে গেছে যে; আর পারছি না! বুকে নিয়ে বইতে...।

স্বাধীনতার সোপান


            ✍️মণীষা গুপ্ত পাল 
 
দুশো বছরের ইংরেজ শাসনের পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি পেল যেদিন আমাদের দেশ মহান ভারত বর্ষ --
সে দিনটা ছিল চিরকাঙ্ক্ষিত, বিপ্লবীদের দীর্ঘ লড়ায়ের সুফল, মুক্তির সুখ ।
অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে যারা সেদিন স্বাধীনতা এনেছিল বুকে করে ,
স্বাধীন দেশের স্বপ্ন নিয়ে অকালে তাদেরই প্রাণ ঝরে ছিল।
 কত মায়ের মমতার বন্ধন ছিন্ন করার কাহিনী,
 কত মেয়ের আত্মসুখ বিসর্জনের গল্প-
 ইতিহাসে আজও অমলিন।

 সময়ের সোপান বেয়ে আজ আমরা স্বাধীন ,
স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় উৎসব।
 কিন্তু আমরা কতটুকু হয়েছে স্বাধীন? অপেক্ষার চাদর বিছিয়ে আজও আছি মুক্ত আকাশ দেখার জন্য।
 এসো, আজ শেষ শ্রাবণে মুক্তির বারিধারায় স্নাত হই আরো একবার, স্যালুট জানাই সেইসব আত্মত্যাগীদের, সেইসব মহান সংগ্রামীদের  ,যাদের ত্যাগ ও তিতিক্ষায় পরবর্তী প্রজন্ম মুক্ত আকাশ পেয়েছে।

ভালোবাসার বাড়িতে

 
               ✍️চিরশ্রী দেবনাথ

ভালোবাসা খুব একা হয়,
যারা ভালোবাসা ভেবে গোলাপ দিচ্ছে    
তারা এখনো জানে না, গোলাপের নিচে নীরবতার সাম্রাজ্য
আগামীতে তারা একা হেঁটে যাবে বলে
তৈরি হচ্ছে শহর, পার্ক, ফুলের দোকান    
এ পথে আমি যখন যাবো, তখন তুমি হেলায় ওড়াচ্ছ স্মৃতি
শীতের ধুলোলাগা পাতার মতো সেসব স্মৃতিস্মারক আমার অসুস্থতা, 
তবুও আমি এখন খুব নিশ্চিন্ত,
হারিয়ে ফেলার পর আর ভালোবাসা হারানোর ভয় থাকে না
আমরা আর একে অপরকে দিব্যি দিই না
আমাদের কল্পনার বাতাসবাড়িতে 
এখন অজস্র দোয়েলপাখির মেলা বসেছে, গানের জলসা
 গোলকধাঁধায় পড়ে, সেই বাড়ি ছেড়ে এসেছি দুজনেই
তাতে হিমেল বাতাস বইছে , রোদের আহ্লাদ
তুমি বন্ধুর কাছে গল্প করছো, প্রেম হলো 'ন্যাকামো '
তাই এসবে হাসি পায়, তার চাইতে অনেক ভালো আছো এখন। 
আমি বন্ধুর কাছে গল্প করছি, ভালোবাসা বলে কিছু হয় না
পুরোটাই  ' ইগোসেন্টার্ড '। 
আসলে ভেতরে ভেতরে ভেঙে যাচ্ছি দুজনে
সেই ভাঙন ঢাকতে, আমরা আত্মহত্যার ঘটনাকে হেরে যাওয়ার গল্প বলে ঘেন্না করি, 
পৃথিবীতে কেউ চলে গেলে, তাকে ছাড়াও আছে বেঁচে থাকার
অজস্র জলঠিকানা, 
একথা আমি কোথায় যেন এইমাত্র বলে এলাম উল্লাসে। 
আমাকে ঢাকতে আমি উজ্জ্বল পোশাক পরছি
তোমাকে বিস্মৃত হতে ভ্রমণে যাচ্ছি পাহাড়ে সমুদ্রে
আমার  আংটির নীলাভ পাথর থেকে গড়িয়ে যাচ্ছে তোমার রঙ
তাতে চুম্বন নেই, শ্রাবণ নেই, নেই চোখের ওপর চোখ রাখার অমোঘ তুর্যনাদ
কিন্তু গোপনে খোঁজ রাখছি তোমার
তোমার দেহে কী তেমনি ধাতব ঔজ্জ্বল্য 
চশমার পাওয়ার বেড়ে, চোখ হয়েছে আরোও আবেদনময়
কারা কারা তোমার জন্য মুগ্ধ হয়? সেইসব শুকনো নদীতে কী তবে আমার ছেড়ে আসা জোয়ার?
একসময় আমরা ক্লান্ত হই
প্রতিটি দিনের মধ্যে যে গভীর একটি দিন আছে, সেখানে
এসে দাঁড়াই।

কোথাও কেউ নেই, আমাদের ছেড়ে চলে গেছে পৃথিবী
আমরা মৌন বিষাদের মতো নিজেদের গিলছি
অথচ আমাদের বাতাসবাড়িতে ভালোবাসার উৎসব হচ্ছে ...
সেখানে তোমার ও আমার নামে আসেনি কোনো আমন্ত্রণ।

তারাও স্বাধীন হোক

 
         ✍️সুমিতা স্মৃতি

তুমি দেশভক্ত দেখছো আর আমি দেখেছি কতগুলো ক্ষুধার্ত লোক। 
তোমার আজ স্বাধীনতার দিন আর অসহায়দের শোক।। 

তুমি গায়ে রঙ মাখছো গেরুয়া, সাদা, সবুজ। 
কিন্তু তারা পেটের দায়ে শহরতলীতে ঘুরছে রোজ রোজ।। 

তোমার কাছে স্বাধীনতা মানে জাতীয় পতাকা উড়ানো। 
তাদের কাছে স্বাধীনতা মানে দুমুঠো খাবার জুটানো।। 

তোমার কাছে কতশত স্লোগান জয় হিন্দ আরও কতকি । 
তাদের মুখে একটাই স্লোগান বাবু একটু খাবার দেবে কি? 

তোমরা আজ দেশ জুড়ে তুলছো বিজয় ধ্বনি। 
তাদের চোখেমুখে আজও ক্লান্তি, হয়তো খাবার মেলেনি।। 

চোখ তুলে দেখো তাদের তারাও এদেশের'ই লোক। 
তবে আজ স্বাধীনতার দিনেও তাদের কেন শোক?

দুর্গতিনাশিনী মা


  ✍️ আসিব মিয়া

মা তুই তো এসেছিলি দুর্গতিনাশিনী হ'য়ে, স্বর্গ দেবতাদের আর্শীবাদ নিয়ে।
এসেছিলি মা স্বর্গ হতে মর্ত্যেলোকে,
আলোর কিরণ ছড়ায়ে মেঘেরও পালঙ্কে।
এসেছিলি মা ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ উলুধ্বনিতে,
সিংহবাহনে মা তোর আগমন এই ধরণীতে।
এসেছিলি দশভুজায় নাশ করতে দুর্গম অসুর,
অশুভ শক্তির ঘোর আঁধার করিতে দূর।
এসেছিলি মা স্বর্গ হতে দৈব্যশক্তি নিয়ে,
'দূর্গা' রুপে শিবের সোহাগিনী হয়ে।
মা, আজ বাদে কাল ফিরবি কৈলাসে,
অশ্রুসিক্ত এই নয়ন তোর প্রত্যাগমন উচ্ছ্বাসে!

ভেজা নীড়


  ✍️ অন্তরা ভট্ট

রঙিন পাতার স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সেই ছোট্ট ঘর
হালকা হাওয়ায় নড়বড়ে হয় সারাক্ষণ
দুলছে দোদুল দোলে খোলা ছাওয়ায়
লাগছে যে বেশ চমৎকার।
হালকা করে মেঘ জমেছে
নামলো বৃষ্টি সেথায় 
বৃষ্টি ভিজে যাচ্ছে যে তার পাতার রঙ
ঘরের কোনে জমলো বুঝি হালকা জল
হঠাৎ করে বজ্রাঘাতে 
ভাংলো বুঝি গাছের ডাল
থাকবে কোথায় ভাবছে বসে
এ কেমন কর্মফল।
পূব আকাশে তাকিয়ে থাকে
আসবে ঊষা কবে
বৃষ্টি থামুক বাঁধবো বাসা
স্বপ্ন আসবে ফিরে।

প্রেয়সী


✍️ প্রবীর পাঁন্ডে

আজকে জোৎস্না রাতে রূদ্ধ দ্বার খুলে
এসো দেবী জ্যোতির্ময়ী স্নিগ্ধ দৃষ্টি তুলে। 
দুটি করে বদ্ধ করে নিয়ে এসে আলো, 
আমার হৃদয় মাঝে দীপ খানি জ্বালো। 
লক্ষ কোটি বর্ষ ধরে অন্তরে আমার
পুঞ্জীভূত হয়ে আছে যত অন্ধকার
দূর করে দাও আজি আলোর প্রকাশে। 
ধন্য করো হে আমায় নিরব পরশে। 
ওগো প্রেয়সী পূর্নিমা দিব্য ধাম বাসী
অঙ্গে অঙ্গে ঢেলে দিয়ে সুধা রাশি রাশি;
আমার হৃদয়-মন চির তৃপ্ত করে
মিটাও রূপের তৃষ্ণা নিমেষের তরে। 
আলোর ছটায় ভরে আমার আলোয়
সৌন্দর্য প্লাবন এনে ঘটাও প্রলয়।

লোকে কি বলবে


✍️ বিজয়া শর্মা

নিজের খেয়ালখুশি মত পারি না চলতে
পারি না নিজে কিছু করতে,
পাছে লোকে কি বলবে।

সর্বদাই থাকি আড়ালে
সম্মুখে পা বাড়াতে পারি না,
পাছে লোকে কি বলবে।

পছন্দের পোশাক পরতে নেই
 ইচ্ছা মতো ঘুরতে নেই,
পাছে লোকে কি বলবে।

ছেলে বন্ধু রাখতে নেই
নিজের মতো সাজতে নেই,
পাছে লোকে কি বলবে।

জীবন কিন্তু একান্তই নিজের,
তাও লোকে কি ভাববে।

বলছি লোকের কথা বাদ দিয়ে,
এবার নিজের কথাটা কি ভাববে।

নিঝুমতা পেরিয়ে

✍️ সঙ্গীতা গুপ্ত

এই শহর এখন নিঝুম
দাবদাহের পর শীতল স্পর্শের দিকে মুখিয়ে
জমাট কালো মেঘের আড়ম্বর,
অভিমানী আকাশটা যেন
সহসাই আমার বুকের উপর,
কতকাল তুমি মৌন
জীবনের কথাগুলো আঁধারে
এই শ্রাবণ দুপুরের স্নিগ্ধতায়
শরীর মন ভেসে যায় বৃষ্টি ভেজা পথে,
জলরং ভরাট আকাশ
একঝাঁক মুক্ত পায়রা উড়ে গেল,
বৃষ্টি ভেজা উপোষী রাতের আঁধারে
উপশম কেবলই তুমি।

অনিকেত ঠিকানা

✍️ শুভ্রা সাহা

    মহামিলনের এই মেলায় 
তুমি কি একাকী খুঁজে নিতে পার 
সমৃদ্ধতায় পূর্ণ কোন অনুভূতিকে ?
     হয়তো বা কেউ এক গাল হেসে 
    তারপরে চলে যাবে 
      ঠাসা ভিড়ে পিঁপড়ের পথ খুঁজে ।
   তুমি অসহায় অবাক চোখে -
    আবারও খুঁজবে কাউকে -
     ; অন্য ঠিকানার ।

      প্রীতির কোনো বাধা কাউকে কখনও 
      একা করে না ।
     সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই 
     যখন তুমি এগিয়ে যাবে ।
  অন্য পথিকের অসহায় 
    পথ খোঁজা কে আপন করে ,
   আন্তরিকতার ভিড়ে মিশে যাবে ।

তোমার পূর্ব মৌন মুহূর্তগুলোর জন্য
 এক সকরুন ব্যথা বিদীর্ন মনে 
     সময়ের আক্ষেপ করে ,
    মনের গভীরে  অন্য ব্রহ্মাণ্ডের জন্য 
       আকুল হও তুমি।

গোমতীর তীরে


✍️ পৌষালী ভৌমিক

ঐ যে গোমতীর তীর,
  তটিনীর ধারে এক মায়ার নীড়,
  কুমারী কলসি কাঁখে ছড়ায় কুন্তলের ভিড়।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  কল্লোলিনী উর্বর করে যেথার তটভূমি,
  ফসলে ভরায়ে ভূতল কর্ষকে দেয় শান্তি।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  জোয়ার ভাটায় দোলে হেথায় ধীবরের প্রাণ,
  ধীবরির সুপ্রভ কোমরবন্ধ যেন তারই প্রমাণ।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  বিহগ-বিহগীর মধুরতা ওথায় প্রবহমান,
  অনুরাগে আবেগে ধুয়ে যায় শত অভিমান।
ঐ যে গোমতীর তীর,
  বনানী ঘেরা কুসুমের রঙে রাঙা বিকেল,
  রক্তিমা ছড়ায় কাহিনী আর গল্পকথা অঢেল।
কৃষ্ণবেনীর সুখ-দুঃখের অঙ্গ এ গোমতী,
মায়ার সাগর সে যে অপত্যের জননী,
পবিত্র,পুণ্যময় আর প্রশান্তির নীর,
         ঐ যে গোমতীর তীর...

সেই মানুষটা

✍️  বিজিত গোস্বামী

বৃষ্টির ফুলকি থেকে অতীত বের করার মজাই আলাদা
শৈশব পাগল ,এলোমেলো বাতাস গায়ে চড়িয়ে
ছুটে যাওয়া দামাল সখ্যতার এ গল্প বয়সের ভারে ও
 বেঁচে আছে, কেবল ছবি হয়ে।

একসাথে দঙ্গল সখা সখির বিচরণ ভূমি হারিয়ে গেছে!
পাড়ার জেঠা জেঠি কাকু কাকীমা দাদু দিদিমা কবে
মুখ গুটিয়ে নিয়েছে
বেঁচে আছে সময় ক্যানভাসের ফুটো থেকে হাহাকার গিলে খায়।
হারভাঙা সে শীত মরে গেছে কবে
নিয়ন শহরের সে বাতি রোজ জ্বলে
নিভু নিভু আলো কেবল কুয়াশা শূন্য
রাত বাড়লে খোলা আকাশের গোল টেবিল বৈঠক
 আকাশ ভরে অগণিত তারা সাজিয়ে আসর---কোথায় সে দিন!
জোনাকির মিটমিট আলোর খোঁজে পেছন ধাওয়া ব্যর্থ আজ।

আজ কেবল ব্যস্ততা---
কার চেয়ে কে এগিয়ে
ফার্স্ট হওয়ার দূর্বার ইচ্ছে, পৌঁছানোর প্রবল বাসনা,গোল চাই গোল লক্ষ্যভেদে জড়িয়ে বল।

তখন এসব ছিলনা!
আজ মরেও বেঁচে থাকতে হয়
অতীত চাদর গায়ে উঠোন ফুলকি দেখার সে চোখ মৃতপ্রায়, ন্যুজ শরীর ভাবলেশহীন মুখে একগাদা দাড়ি, হাতে গান্ধী লাঠি।

বৃষ্টির সকাল


    ✍️ অভিজিৎ সরকার

সকালটা ছিল খুব সুন্দর।
ঘুমটা ভাঙল রিমঝিম শব্দে।
উঠে দেখি প্রকৃতি যেন  সেজেছে।
মনটা ভরে উঠলো এই দৃশ্য দেখে।
অন্যান্য দিনের মতো  প্রকৃতি নয় আজ।
যেন সম্পুর্ণ রূপ নিয়েছে পাল্টে।
আমিও প্রতিদিনের মত লেগে পরি আমার কাজে,
এই রিমঝিম বৃষ্টি সকালটা কে খুব সুন্দর করে তুলল।
আমিও বেরিয়ে পরলাম প্রকৃতির মধ্য দিয়ে কাজে।
রাস্তা টাও রূপ নিয়েছে পাল্টে,
আর চারিদিকে সবুজের আচ্ছাধন ,
যেন এই বর্ষার সময় বসন্ত এল।
আমারও মনটা আর নেয় রাস্তায়,
এই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে।
বেলা হতে যাচ্ছে কিন্তু সূর্যের নেয় খুঁজ।
আকাশ যেন ' তাকে ' রেখেছে ডেকে।
নিয়েছে ' তার ' আঁচলে ,
এখন আর রিমঝিম বৃষ্টি রইল না।
কিন্তু প্রকৃতি সেই রয়ে গেল।
আমি আমার মত কাজে লেগে পরলাম,
কিন্তু ' সে ' স্তির হয়ে রইল।
জানিনা আজ এমন কি হল, যে সকালটা এত সুন্দর শুরু হল।

অন্তঃসত্বা


✍️ সংহিতা চৌধুরী

আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কিছুদিন পরেই আমার স্বামী একটি নতুন শাড়ি কিনে আনে। খুশি যেন আর ধরে না।প্রথম যেদিন আমার নাড়ি ছিঁড়ে বেড়িয়ে আসবে সেইদিন শাড়িটা আমি পড়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরবো। কিছুদিন পরেই আমার ডেলিভারির সময় এগিয়ে এলো। আমার শরীর আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে। যথাসময়ে আমি যার তত্বাবধানে ছিলাম সেই লেডি ডক্টর আমার পরিবারকে এসে বললেন যে, যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সুতপাকে বাঁচাতে পারিনি। সুতপা বলে গেছে,"আমার কিছু হয়ে গেলে বেবিকে  আমার স্বামীর কোলে তুলে দিও"। তাই হলো।"শাড়িটা আমি পড়েছি ঠিক, তবে নাড়ি ছেঁড়ার কষ্ট চিরতরে ঘুচে গেলো আমার"।

শ্রাবনের বৃষ্টি ধারা

 
 ✍️ সুধীন দাশ গুপ্ত

শ্রাবনের বৃষ্টি ধারা 
আমি যে আপন হারা। 
ধেয়েছো কালো মেঘে 
ঝরবে এবার প্রবল বেগে। 
ঝিম ঝিম ঝিম পরছো ঝরে 
বাতাস শীতল করে। 
হঠাৎ এসে কালো মুখে 
আছো তুমি আপনি সুখে। 
আকাশটাকে করে কালো 
ঢেকে রাখো স্বচ্ছ আলো। 
তোমার ঐ বৃষ্টি ধারা 
আমি যে আপন হারা। 
আসো  তুমি  ফিরে ফিরে 
জগৎ টাকে রাখছো ঘিরে। 
এ কেমন তোমার ধারা 
ঢেকে দাউ সকল তারা।