"প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন।”- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়......................................✍️
ভালোবাসা কিংবা প্রেম শুধু একটি ছেলে এবং মেয়ের কাছাকাছি এসে প্রেমিক-প্রেমিকা হওয়া অথবা মধ্যেকার সম্পর্ক মনে করে ‘ভালোবাসা’ নামক মহা-পবিত্র নামটাকে অপমানিত না করাই শ্রেয়। ভালোবাসার পরিধি মহাবিশ্বের মতোই বিশাল। ‘ভালোবাসা’ নামক বস্তুটিতে যতটা আত্মতৃপ্তি বা অনুভূতি পাওয়া যায়, তা আর অন্য কিছুতে পাওয়া খুব মুশকিল। আর এই আত্মতৃপ্তির পরিপূর্ণ স্বাদ আপনি তখনই পাবেন, যখন এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও তার সৃষ্টিকে আপনি নিঃস্বার্থভাবে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারবেন। আপনার ভালোবাসা আপনার কাছেই, অন্য কারোর কাছে নেই। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,
'কাছে আছে দেখিতে না পাও,
তুমি কাহার সন্ধানে দূরে যাও।
মনের মতো কারে খুঁজে মরো,
সে কি আছে ভুবনে?
সে তো রয়েছে মনে।'
ভালোবাসার অনুভূতি আমাদের মনেই থাকে। আমাদের কাজ হবে মনের সম্পদগুলোকে সঠিকভাবে প্রদান করা, আর কিছুই নয়। আমাদের এই সংখ্যাটিতে বেশির ভাগ কবিতা প্রেম-ভালোবাসা নিয়ে প্রকাশিত এবং সংখ্যাটি সকল প্রেমিক-প্রেমিকাদের উৎসর্গ করলাম। আশা করি আপনাদের আকর্ষণ করবে। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা৷
ধন্যবাদান্তে এবং শুভ কামনায়
গৌরাঙ্গ সরকার
সম্পাদক, নবোন্মেষ
সমর্পিতা
✍️ মাধুরী লোধ
প্রতিনিয়ত বাঁচবার লড়াই এ পাক দনডী
ঘূর্ণাবর্তের জীবন তবুও বেঁচে থাকা মাঠ রাঙ্গানো সরিষা দোলের মতো প্রেম দোল হৃদয়ে গেঁথে ।
অপরাজিতা থাকার দূর্লভ শ্রম বিনম্র সাতকাহন , জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সুখ দুঃখের দহন , মত্ত উল্লাস বাস্তবতা কে ঘিরে ।
বাঁচার লড়াই এ সাথে পেতে পূর্ণিমাকে আমি যে মরিয়া আমার জৌলুস হীন জীবনে বসাতে বিউটি পার্লার
প্রতিনিয়ত নিজেকে মেলে ধরতে গেলে কিছু না কিছু বাদ সাধে ঐ যেমন সীমান্তে কাঁটাতার ।
সি্্হ শাবক ও খোঁজে উম,জাবরকাটা পশু ও খোঁজে শীতল ছায়া,হীরা চুননি শাক চুন্নি পোকা মাকড় গুলো খোঁজে উড়ে বেড়াবার ঘাস তেমনি
আমি ও লাগিয়ছি তর্জনীতে গ্রহের আ্্টি যদি পাই ওষধি দূর্বলতা কাটিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে পারি বারোমাস ।
রাজার রাজত্ব নেই বলে তো মুছে যায় নি রাজপথ
সে ভরসায় বাজারে সবজির আগুন মূল্য শুনে মনে ভেসে বেড়ায় এবার মাঠে নেমে করবো চাষবাস ।
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি তে হোক না খড়কুটো জ্বালাবার ধূম ,ঐ বটের ঝুড়ি যেমন বটগাছের নিরাপত্তা তেমনি গ্রামের পথ ঘাটের দৃশ্যে কাদাজল না থাকলে যে মানাবে না আর গ্রামের ছবি আঁকবে পর্ণ কুটির থাকবে না তা কি হয় । গ্রাম মানেই তো নির্মল হাওয়া , ঝোপঝাড়ে পরে আছে অমূল্য ঔষধ মাছ হাঁস বাঁশ ।।
তেমনি তো আমি হাত পেতে আছি কখন বলবে এসো দুজনে সাঁতরে পাড় হবো এপার ওপার তুমি জোগাবে বুদ্ধি আমি জোগাবো সাহস ।
সমর্পিতা কিছু বলো কোথায় রেখেছো বদ্ধ হদয় খোলার চাবি , সেটা পেতে আমার হৃদয় এ হচ্ছে ভালবাসার চাষ।
পদধ্বনি
✍️ স্বপন দেবনাথ
চোখ মুদলেই শুধু তোমার ভাবনা গুলো
চোখের নীলাভ আকাশ পানে ডানা মেলে উড়ে যায়।
চোখ মুদলেই শুধু তোমার স্মৃতি গুলো
কোমল কমল ন্যায় প্রস্ফুটিত হয়ে থাকে
চোখের আশেপাশে,
তার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় গুঞ্জনরত ভ্রমরেরা।
চোখ মুদলেই শুধু ভেসে ভেসে আসে তোমার কারুকার্য সম মুখাকৃতি।
চোখ মুদলে আজও কর্ণের দ্বার প্রান্তে ধ্বনিত হয়
তোমার চলার পদধ্বনি!
প্রেমের কথা
✍️ রাজা দেবরায়
"আমার একদিকে শুধু তুমি
পৃথিবী অন্যদিকে
এদিকে একটি প্রদীপ
সূর্যটা ওদিকে
আমি তোমারই দিকটা নিলাম
আমি তোমারই দিকটা নিলাম"
বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে'র গাওয়া একটি অপূর্ব প্রেমের গান। প্রেমের মানে বা অনুভূতি সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এই গানে। প্রেম সম্পর্কে আমাদের খুব একটা ভালো ধারণা নেই। মাতৃপ্রেম বা দেশপ্রেম ছাড়া প্রেমকে খুব ভালো দৃষ্টিতে দেখা হয়না। প্রেমকে উদযাপন করার কোনও সুযোগ নেই আমাদের সমাজে। দুঃখের কথা হলো আমাদের সমাজে বর্তমান সময়েও প্রেম বিষয়টিকে সহজভাবে নেওয়া হয়না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলের প্রেমের গান শুনলেও বা গাইলেও প্রায় বলা যায় অধিকাংশই প্রেম করতে দেখলে বা প্রেম করছে জানতে পারলে স্বাভাবিকভাবে একে স্বাগত জানানোর মানসিকতার অধিকারী হয়ে ওঠেননা।
অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পাড়ায় প্রেম করতে দেখলে একজন আরেকজনকে বলেন, "কী আরম্ভ করেছে দেখেছেন, পাড়ায় তো থাকাই যাবেনা দেখছি। খুব বিশ্রী ব্যাপার চলছে।"- ভাবুন প্রেম করছে অন্যরা, পাড়ায় থাকতে পারছেননা তিনি! অনেক সময় মনে হয় এটা কি ঈর্ষায় বলেন? নিজে করতে পারলে সব ঠিক হতো তখন?
প্রকাশ্যে মারামারি, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘুষ খাওয়া, ধূমপান ইত্যাদি আমরা মেনে নিই। কিন্তু কেউ প্রেম করলে অন্যগুলোর চেয়ে বেশি আলোচনা, সমালোচনা করা হয়। অথচ বড় বড় মানুষেরাই তো বলেন "প্রেম বড় পবিত্র ব্যাপার।" এই সেই! আসলে এগুলো মুখেই বলা হয়। আমাদের সিস্টেমে একটা লোক ঘুষ খেলে যতটা না সমালোচনা করা হয়, প্রেম করলে তার থেকে অনেক বেশি করা হয়। এককথায় বলে দেওয়া হয় "লোকটার চরিত্রের ঠিক নেই।" চরিত্রের বাস কোথায় তাহলে?
আবার দেখুন, নিজেরা হয়তো প্রেম করে বিয়ে করেছেন, এমনকি হয়তো পালিয়েও বিয়ে করেছেন, কিন্তু তারপরেও দেখা যায় প্রেমের ব্যাপারে অ্যালার্জী! কিছুটা সতর্কতামূলক ব্যাপার অবশ্যই থাকা উচিত। কিন্তু প্রেম করাকে অপরাধের সামিল করাটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। আর সবথেকে বড় কথা হলো, প্রেম তো বলে কয়ে বা ডেকে আসেনা। দিন-তারিখ বা তিথি-নক্ষত্র দেখেও আসেনা। প্রেম হয়ে যায়! কখন যে প্রেম আমাদের জীবনে আসবে সেটা আমরাও হয়তো বলতে পারবোনা। তাছাড়া প্রেম যে শুধুমাত্র একজনের সাথেই সারাজীবন হবে বা থাকবে সেই গ্যারান্টি কে দিতে পারে?
আসলে আমাদের ভাবনা, চিন্তার মধ্যে দ্বিচারিতা বা ঘাটতি দেখা যায় প্রায়শই। তাই বুঝতে হবে যে প্রেমই একমাত্র অনুভূতি যা দিয়ে পৃথিবী পরিবর্তন করা সম্ভব। আর এই অনুভূতি নষ্ট হয়ে গেলে আমরাই বিপদে পড়বো এবং পড়ছিও।
ব্যর্থ প্রেম
✍️ শুভ্রা দেব
স্নেহা আর রৌণক ফেসবুকে আলাপ। তারপর ধীরে ধীরে ফোনে কথোপকথন চলে। সম্পর্কে আসে দৃঢ়তা। স্নেহা খুব ভালোবাসতো রৌণককে। এক মূহুর্ত্তের জন্য কথা না বলে থাকতে পারতোনা। সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্নেহা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যায়, রৌণককে বাড়িতেও নিয়ে আসে।কিন্তু রৌণক নিজের রোজগারের পন্থা না থাকায় সম্পর্ক থেকে অনায়াসে বেড়িয়ে আসে। কিন্তু স্নেহা মনের দিক থেকে ভীষণভাবে ভেঙে পড়ে। রৌণকের সাথে কাটানো মূহুর্তগুলো বারবার মনে ভেসে আসে।
আজ স্নেহা বিবাহিত, দুই সন্তানের জননী। রৌণককে ফেসবুকে ব্লকলিস্টে রেখেছে,কিন্তু রৌণক আজও স্নেহার মনের কোণে বাসা বেঁধে আছে। মনের দরজায় রৌণককে ব্লক করতে পারেনি স্নেহা। ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণায় স্নেহা আজও ছটফট করে।
প্রেম
✍️ পাপিয়া দাস
জেগেছিল প্রেম
কোনো এককালে ঐ কোকিল পাখিটার বুকে।
প্রতিদিন কাক টা এসে
কত মধুর সুরে ডাকত তারে
প্রত্যেকদিন জ্বালাতন করত ভীষণভাবে।
কাকের প্রেমালাপে মুখরিত কোকিল।
কিছু না জেনে প্রেম সাগরে,
ভাসল কোকিল আপন মনে।
হঠাৎ একদিন জানতে পারলো
কাক নাকি ডিম পারে
ঐ কোকিলের ঘরে।
কোকিল তা শুনে
দুহাত মাথায় ধরে।
কাক তো দেখছি ভারী অলস,
নিজের আগুনে অন্যকে পুড়ে।
অনেক ভেবে চিন্তে
কাক কে দূরে তাড়িয়ে দিল,
কোকিল পরে ভালো সঙ্গী পেল
প্রেমালাপে দিন কাটছে ভালো।
এও মৃত্যু ৩
✍️ গৌরব নাথ
আমরা সেই বাগানে থাকি
যেখানে সুগন্ধের জন্য ফুল অভিনব হতে হবে
কলিকে মাড়িয়ে দেওয়া হয়
প্রথমজনকে ভুলে যেতে দ্বিতীয় মেয়েকে আনা হয়
এক বিষ বমির জন্য আবার বিষ খেতে হয়
এসো প্রেম করি
✍️---কৃষ্ণকুসুম পাল
প্রেম এক আত্মত্যাগ, পবিত্রতা,সততা,
প্রেমের নামে দেহের আকুতি কেন কবিতা?
এখনো প্রেম যদি হয়,
কখনো পরকীয়া নয়,
পরকীয়া ব্যাধি-
সম্ভোগ সমাধি,
ছোঁয়াচে রোগ ছলনায়
জীবন কেড়ে নেয় লহমায়,
সমাজ,সংসার অসার,
জীবন,যৌবন প্রেমের হার।
এসো প্রেম করি-
চিরদিন করো ভরসা,
তোমাকে ছাড়া-
আত্মহারা ভালোবাসা।
----------**********----------
বৃদ্ধের প্রেম
✍️ অনিমেষ গোপ
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে,
আজ বৃদ্ধ বড় একা।
একাতিত্ব দুর করতেই,
একটি ময়না সংগ্রহ।
মনের আদর যত্ন নিয়ে ব্যস্ত!
আহারে নেই বাহার।
ভোর সন্ধ্যা অনুভবহীন ।
ময়না ই সব ।
ময়না খাঁচা তার দেহ,
আর ময়না প্রাণ।
স্নান করিয়ে ময়নাকে রাখল-
উন্মুক্ত রবির কিরনে।
সুযোগে ময়না উড়াল-
দিল মুক্ত গগনে!
খাবার নিয়ে এসে দেখে-
খাঁচা খালি!
চোখে জলে খাঁচা নিয়ে-
ময়নার খোঁজ।
বুকে যন্ত্রনা,চোখের জলে ,
খাঁচা নিয়ে বসে
আজ ও আশা ময়না-
ফিরে আসবে;-
প্রাক্তন
--------------🖋দ্বীপ বণিক
ধুলো মাখা ডায়েরির ময়লার মাঝে,
দেখতে পেলাম শুকনো কালো একটি গোলাপ।
সেই প্রথম দিন তুমি দিয়েছিলে;
আমারি হাতে ভালোবেসে খুব যতনে।
তুমি আজ হারিয়ে গেছো,
নিজের মতো করে অন্যকে আপন ভেবে।
দেখো সেই গোলাপ আজও ভালোবেসে,
ডায়েরির পাতা আগলে রয়েছে।
আজও সব অতীতে শুধু তুমি,
তোমারি স্মৃতি আগলে দু'বছর পেরিয়ে।
সব কিছুর আজ সমাপ্তি হবে,
মুছে দেবো সব স্মৃতি আগুনের তাপে।
যেখানে তুমি নেই -----
স্মৃতি গুলো'তো অজুহাত মাত্র।
ভাঙা কাচে যেমন রুপের সৌন্দর্য আসেনা,
তোমার স্মৃতিতে আজ ভালোবাসা জন্মায়না।
নিজেকে বুঝাতে বুঝাতে শক্ত পাথর হয়েছে হৃদয়,
মনের মধ্যে তোমার নামে আর আবেগ জন্মায় না।
বিবেকের টানে আবেগ গুলো হারিয়ে গিয়েছে;
মরুভূমির এক ফোঁটা জলের মতো।
তুমি আজ নতুনে সুখী ;
সেই আমি প্রাক্তন ভুলতে শিখেছি।
ভালো থেকো আজ বলবো না,
তবে ভালো রাখতে শেখো যাকে আপন করেছো।।
শ্রাবণী (১)
✍️ চন্দন পাল
শ্রাবণী,,,,
তোকে আমি আগেও ভালবাসতাম।
তোর রূপ রস অনেক দেখেছি।
কতবার মাথায় শুকনো জামাখানি বেঁধে বুক জল পেরিয়েছি !
কখনো পিছলা পুকুর পাড়, ভাঙা জমির ধার, কখনো বা কানা বাঁশের সাকো।
তুই যে নিচু রাস্তায় অনেক জল ঢেলে রাখিস ।
তোর বুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে যখন পেরিয়ে যাই,
সারা শরীরে অচেনা ঢেউ খেলে যায়!
সেদিন চাঁদমুখি গায়েন বাবু, টিভিতে বলছিলঃ
তুই নাকি, মনসা, বেহুলা, চাঁদ সদাগর সবতাতেই মাখামাখি।
বুঝি !
তোর অনেক গন্ধ বর্ণও আছে ।
এক সূতোয় বেঁধে রাখিস বাংলার মাঠ-ঘাট, পেঁক-কাদা, রোয়া, চাষী আর আশা-ভরসা।
তাই বুঝি তোকে আরও ভালবাসতে ইচ্ছে হয়।
সেবার যখন ওগাঁয়ের মরা ঘর গুলির সাথে আদরের বাছুরগুলি ভাসিয়েছিলি !
পেট ফোলা, মরা,
গরু ছাগলগুলি দেখতে ভাল লাগছিল না রে।
তুই শুধু, ক্ষেত খাল বিল ভরা রাখিস।
দেখবি,
নাঙল আর কলমের হাসিখুশির সংসার।
আর সন্ধ্যায় তুলসী তলায়
পিদিমের আলোয় সব বাড়ির শ্রাবণীর মুখ।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ব্যস্ততাই তুমি
✍️ অভিজিৎ সরকার
শত ব্যস্ততার মধ্যে শুধু তোমায় খুজে বেড়ায়।
কি জানি একটা অদ্ভুত চাঞ্চল্য মন জুড়ে।
শুধু তুমাকে খুজে বেড়ায়।
খুব কষ্টে দিন টা কাটে, আর রাত অশ্রুতে।
মুখ ফুটে বলতে পারি না কাওকে।
শুধু তুমিই আমার হৃদয় জুড়ে।
নিতে পারবে না কেউ এ জায়গা।
শুধু তুমাকে ঘিরে আমার জগৎ।
জানি না কি কমতি ছিল।
আমার এই চাওয়াতে।
শুধু এইটা ঐ পারলাম না, তুমার ওই মনে একটু জায়গা করতে।
শুধু এই টুকু বলব ভালো থেকো।
কান্তা
✍️ সংগীত শীল
মল্লিকা,
আমি তোমায় স্নিগ্ধতা দিতে পারিনি,
হৃদয়ে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখতে পারিনি,
হুলুস্থুল ছন্নছাড়া ব্যস্ত শহরে ভালোবাসি বলতে পারিনি,
ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়ায় একবুক কবিতা লিখতে পারিনি,
রূপালী আগুনে তুমুল ঝড় তুলতে পারিনি,
রক্তবিন্দুর ফোঁটাকে জনসমাজের কাছে স্বীকৃতি দিতে পারিনি।
পেরেছি একটুকরো অবহেলায়
একটি চারাগাছ বড় করে তুলতে;
স্বস্নেহের সেই গাছটি আজ ভালোবাসার শেখর মেলে দাঁড়িয়েছে
গাছ ও মল্লিকার বুক জুরে বয়ে যায় সামান্য দীর্ঘশ্বাস।
হয়তো সুর উদাসী পথিকের প্রতি; তাচ্ছিল্যতা বাসা বেঁধেছে,
নির্দয় নির্মমতায় আগ্নেয়গিরির লাভার মতো ঝলসে যাচ্ছে!
পারিনি মল্লিকাকে তার ভালোবাসার মানুষের মতো ভালোবাসতে
যেমন করে আমার নিজস্ব নিকেতনের গাছটি বেড়ে উঠেছে অবহেলায়!
ব্যালকনি পেড়িয়ে বেলি ফুলের সুবাস দিয়ে আসতো মল্লিকাকে,
আমার বুকজুড়ে বেড়ে উঠে আজো-
তোমার ভালোবাসা, অবহেলার হারিয়ে ফেলা প্রতিঘাত করা গাছটি।
মল্লিকা,
আমি তোমার দু-চোখে আকাশ দেখতে চেয়েছিলাম,
আজ আমি শুধু অবহেলায় আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে একা!
সোহাগ ভালোবাসা
✍️ মায়া রানী মজুমদার
জীবনে ভালোবাসার দিন প্রতিদিন,
যদিও পালিত হয় এই বিশেষ দিন।
এই একটি দিন'কেই দিন-লিপিতে,
সবাই চায় বিশেষ করে ভালবাসিতে।
বেঁচে থাকুক ভালোবাসার অটুট বন্ধন,
নয়নাশ্রু ফেলে, না করে যেন কেউ ক্রন্দন।
চোখের ভাষাতেই বুঝে নাও মনের চাহিদা,
দু'জন থেকো না কভুও আলাদা আলাদা।
হাতে হাত রেখে কথা দিয়ে রেখো স্মরণে,
চলবে দুজনে একসাথে জীবনে মরনে।
হস্ত বাড়িয়ে তুলে দিয়ে হাতে লাল গোলাপ,
দুই জন বসে বসে করো শুধু প্রেমালাপ।
ভালোবাসা নয়তো শুধু প্রেমিক প্রেমিকার।
মা বাবা ভাই বোন ভালোবাসা যে
সবার,
স্মৃতিতেই রও সবে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত হয়ে,
নিশ্চিন্তে ভালোবেসে তুমি থাকো নির্ভয়ে।
সংসার সুখের, শুধু ভালোবাসারই কারণ,
ভালোবাসাকে কভুও করিও না অপসারণ।
ভালো ভাষাই সোহাগের প্রেমময় ভাষা,
বিশ্ববাসী চায় সোহাগ ভালোবাসার আশা।
ছেঁড়া পাল
✍️কলমে: বিউটি কর্মকার
আমার ভাষা যখন কথা বলে না,
তুমি ভাবো এই তো অবসর
নতুন ভাষা খোঁজার।
নতুন বসন্ত, নতুন কুহু-
আসলে তুমি ভাষা চিনতে পারো না।
তুমি সাদা মেঘ নিয়ে খেলতে ভালোবাসো,
মেঘের মধ্যে জমে থাকা জল-
তার কান্নাগুলো জমতে জমতে
একদিন ঝরে পড়ে অবেলায়।
তোমার বন্ধ দরজায় তার বৃথা আঘাত,
তুমি রোমাঞ্চিত তখন নতুন বর্ষায়।
আমার কথারা আজও লুকিয়ে থাকে
ওই দীঘির কালো জলে,
পদ্মেরা মুখ তুলে তাকায় বারবার,
তুমি স্বচ্ছ জ্যোৎস্না হয়ে ভেজাও চরাচর।
আমি একবুক জলে ডুবে থাকি,
আমার ভালোবাসা আজ ছিন্ন পালে
জড়িয়ে থাকে ওই ভাঙা নৌকো-
যে নাও ভেঙেছে তোমার কালবৈশাখী ঝড়ে।
আমিও মিথ্যা বলি
✍️ বিপ্লব গোস্বামী
আমিও এখন মিথ্যা বলি
আমিও এখন এরিয়ে চলি।
মিথ্যা বলি মায়ের কাছে
এরিয়ে চলি মায়ের সাথে।
মা যখন বলেন কেমন আছিস
তখন আমি মিথ্যা বলি,
যখন সত্য জানতে জেদ করেন
তখনই এরিয়ে চলি।
নানান কথায় মাকে ছলি
কথায় কথায় মিথ্যা বলি।
মাকে বলি আমি খুব ভালো
হাসি দিয়ে ঢাকি দুঃখ কালো।
বাস্তবে আমি একটুও ভালো নেই
শুধু ভালো থাকার অভিনয় করে
বুক ভরা কষ্ট চাপা দিয়ে বেঁচে আছি তবু রোজ মিথ্যা বলে মাকে শান্তি দেই।
ভোলবদল
✍️ সুস্মিতা রায়
মানুষকে পাল্টাতে দেখেছি
মূহুর্তের ব্যবধানে পাল্টে যেতে দেখেছি
ঢলে পড়া সূর্যের মত ---
কিংবা খানিকটা গিরগিটির ধাঁচে,
পুরোপুরি না হলেও খানিকটা অবাক করে দিয়ে
জীবন প্রতিবার ভোল পাল্টায় !
জীবনযাত্রা
✍️ শাশ্বতী দেব
জীবনযুদ্ধে যাও চালিয়ে সংগ্রাম বীর যোদ্ধার ন্যায়,
বাধা যতই না আসুক উৎরাতে হবে নিজেকেই।
মায়ায় সম্পৃক্ত সম্পর্কে জড়িয়ে হয়ে গেল অনেকটাই ভুল ,
গুছিয়ে নিতে হবে ধীরে ধীরে নিজের সব দায়ভার ।
অমোঘ এই বিষাদমাখা সম্পর্ক যুদ্ধের আভাষ দেয় ,
এই যুদ্ধে শুধুই নিজের মন ও বিবেক থাকবে সর্বসঙ্গী ।
চারদিকে আজ স্বার্থ নিয়ে ছুটোছুটি ,
কালিমালিপ্ত এই ঠুনকো সম্পর্কে বিধ্বস্ত এই মন ।
শান্ত লক্ষীর মত স্বস্তিতে আজকাল থাকা দায় ,
পরিসমাপ্তিতে থাকবে না কোন হিসেব - নিকেশ ।
দেবী
✍️ কলমে - সুস্মিতা সরকার
আসছে দেবী
শুভ লগ্নকে সাক্ষী রেখে ।
নতুন সূচনার
বানী শুনাতে ।
রাক্ষসদের হাত থেকে
মানব জাতীকে বাঁচাতে ।
মুগ্ধ দেবী
তোমার এই মহিমাতে ।
দান করো শক্তি
এই নারী জাতীকে ।
নীল হাতে যেন
নিজেকে রক্ষা করতে পারে ।
সুখের সময় যেন তোমার মনে রাখে
দুঃখকে যেন সে নিজেই জয় করতে পারে ।
হে দেবী
তোমায় শতকোটি প্রনাম ।
তোমার আগমনের অপেক্ষায়
ধন্য জগৎ সংসার ।
তোমায় পাবার পর
✍️ দীপক রঞ্জন কর
----------
তোমায় পাবার পর
ছেড়ে যেতে ইচ্ছে নেই
তোমার এই শহর।
অলিগলি চিনে গেছি সব
রেস্তোরাঁ,আর চা ঘর
নেই হারাবার ডর।
বিকালে রোজ কথা বলে
সৈকতের বালু চর,
চায়ের কাপে তুলি ঝড়।
তোমায় পাবার পর
ছেড়ে যেতে ইচ্ছে নেই
তোমার এই শহর ।
সন্ধ্যায় রোজ ডাকে আমায়
সেই পার্ক,নীল সরোবর ,
তোমার এই শহর ।
শহর আপন করে নিয়েছে
দিব্যি কেটে যায় প্রহর
তোমায় দেখার পর ।
ফাগুনে হৃদয়ে ধ্বনিত হয়
শুকনো পাতার মর্মর
তোমায় পাবার পর।
আষাঢ় শ্রাবণে মনে ভাবি
আছি এক ছাতার ভেতর
তোমায় পাবার পর।
আমি বাঁধি ঘর স্বপ্নে রাতভর
ছেড়ে যেতে ইচ্ছে নেই
তোমার এই শহর।
তোর নামে
✍️ সুস্মিতা মহাজন
একটা সমুদ্র লিখে দেবো তোর নামে,
তুই গড়ে নিস ঢেউগুলোকে।
রঙহীন তার জলের স্রোত;
পাশেই তার সোঁদা মাটির
মাতৃত্বের গন্ধ মাখে।
একটা পাখি দেবো তোর সাথে করে,
যে শুধু আমার সুখের নীড় খুঁজবে তোর কাছে-
ওই দূরে উড়ে গেলেও আবার
ফিরবে তোর টানে।
তোকে একটা স্বপ্ন দেবো এঁকে,
তুই তার রঙীন কেনা স্বপ্নে নাই-বা থাকলি-
নতুন করে স্বপ্ন দেখবি বলে।
নাম না জানা ভালোবাসা
✍️কাজী নিনারা বেগম
নিস্তব্ধ নীল চোখের প্রতিটি জলের ফোটায় ফোটায় কতটা আবেগ ও অব্যক্ত যন্ত্রনা,
জীবন কাব্যের মূল সারাংশে প্রানহীন লাইন গুলো মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের শিরায় পেচাতে পেচাতে অবাধ্যতার সীমান্ত অতিক্রম করে।
অবাধ্য মনে বৈরী মাতাল স্মৃতি গুলো,,
শুন্যতার ডুবে থাকা অ্যকারিয়ামে জীবন্মৃত খুজি তোমায়,,
হয়তোবা কিংবদন্তি সেই তোমাকে হারানো নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির লিফলেটে স্মৃতি ভষ্মীভূত,,
সেই নাম না জানা ভালো বাসাকে!
প্রেমের পরশ
✍️ কলমে -মনচলি চক্রবর্তী
এসেছে মধুর বর্ষণ
হৃদয়ে লেগেছে আজ
প্রেমের আগুন।
অন্তরে জ্বালা
সবার আড়ালে
চোখ জলে ভরা।
বর্ষণ মুখর দিনে
মন পাখি অজান্তে,
প্রেমের সাথি শুধু খুঁজে
ভালোবাসার পরশ মাখতে।
প্রথম প্রতিশ্রুতি
✍️ সুপর্ণা মজুমদার রায়
আষাঢ়ের প্রথম দিনে যেদিন বর্ষার জলে প্রথম ভিজেছিলুম,
বৃষ্টিতে মুখ রেখেছিলুম বৃষ্টির ঝিরঝিরে ছোঁয়া পেতে, শূন্যের জল মুঠোয় ভরে শুন্যে ছুড়েছিলুম ।
পিঠ অবধি এলানো একগুচ্ছ চুল সিক্ত করেছিলুম নিঃসঙ্কোচে,
ঘরের সমস্ত দরজা খুলে দিয়েছিলুম অগণিত উল্লাসে ।
সিক্ত হাওয়ায় উড়ন্ত পর্দাগুলো ভেসে যাচ্ছিল মাতাল হয়ে ।
সিক্ত বেশে শুধু অপেক্ষায় ছিলাম প্রথম বর্ষার জলে ভিজে ।
কথা যে দিয়েছিলে আসবে উত্সবের দিনে!!
নিয়ে যাবে সেই আষাঢ়ের রথের মেলায় ছাতা হাতে!! সে তোমার প্রথম প্রতিশ্রুতি ।
ভাবনার বিশাল ফর্দ,জমানো আধুলি ভিজে কাপড়ের আঁচলে বাধা ছিল তোমার অপেক্ষায় ।
তুমি কথা দিযেছিলে ।
কখনো খিরকি,কখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে,
সকাল হতে সন্ধ্যা প্রথম বর্ষায় ভিজেছিলুম অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ।
দিনাব্শানে ক্লান্ত মনে,মুখ থুবড়ে পরা,হৃদয়ের ছাউনি গুটিয়ে যখন ঘরে ফেরার পালা,
হটাৎ বৃষ্টির ঘোলা জলে ছাতা মাথায় অর্ধ ভেজা তোমাকে দেখা বৃষ্টি হতে পাওয়া আমার পরম প্রাপ্তি ।
শুরু হল জলমগ্ন রাস্তায় আমাদের পথচলা, বৃষ্টির ঘোলা জলে আমাদের পা ধুয়ে গেল ।
তোমার প্রথম প্রতিশ্রুতি রেখেছিলে ।
সত্যিই বর্ষা এসেছিল সেদিন ।
আষাঢ়ের প্রথম বর্ষার জল আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে গেল।
নিনাদিত হোক বাঙালির চিরন্তন সাম্যের বাণী
✍️ কলমে - শ্যাম মালাকার
কাল পেপারে পড়েছিলাম এই প্রথম একজন নারী ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি হয়েছে । শুনে মন ভরে গেছিলো ,মন থেকে দ্রৌপদী মহাশয়া কে আমি অনেক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছিলাম । অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই মাননীয়া রাষ্ট্রপতি মহাশয়া কে । কিন্ত যত দিন যাচ্ছে খবরে ফেসবুক what's up, যেখানেই দেখছি আমার so call শিক্ষিত বন্ধুরা কয়েকটা পোস্টার নিয়ে বা কিছু লেখার মাধ্যমে তুলে ধরছে যে " ভারতের সর্বপ্রথম একজন আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছে । " এ আমি কি দেখতে পাচ্ছি ? এই স্বাধীন ভারতে একটি স্বাধীন নাগরিক সর্বোপরি একজন স্বাধীন মানুষের পরিচয় তিনি কোন জাতির মানুষ ! আমি ভাবতেই পারছিনা যে তাদের মানসিকতা এত হীন । আজও পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতার কাছে নারী পরাধীন হয়ে রয়েছে ।
এই কারণেই বেগম রোকেয়া আজও প্রাসঙ্গিক আমাদের কাছে । বেগম রোকেয়া অনুভব করেছিলেন, ধর্ম অনেকক্ষেত্রেই নারীকে দাবিয়ে রাখার এক অস্ত্র। তাইতো তিনি ধর্মের নামে নারীদের অবদমিত করে রাখার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন। তার মতিচূর উপন্যাসের স্ত্রী জাতির অবনতি প্রবন্ধে তিনি বলে গেছেন - যখনই কোন ভগ্নী মস্তক উত্তোলনের চেষ্টা করিয়াছেন, অমনি ধর্মের দোহাই বা শাস্ত্রের বচনরূপ অস্ত্রাঘাতে তাঁহার মস্তক চূর্ণ হইয়াছে। আমরা প্রথমত যাহা মানি নাই, তাহা পরে ধর্মের আদেশ ভাবিয়া শিরোধার্য করিয়াছি। আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধি-ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে।”
কিন্তু এত বছর ধর্মের নামে আজও নারীদের অবরূদ্ধ করে রাখার প্রয়াস চালানো হয়। নারীর চলাফেরার ওপর এখনও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। মেয়েদের কাজ ঘরসংসার করা, তাদের অবস্থান অন্তঃপুরে— এমন কথা সমাজের অনেকই বিশ্বাস করে। উদার সমাজ, মুক্ত পরিবেশ আমরা এখনও গড়ে তুলতে পারিনি। অবশ্য উদার ও মুক্ত সমাজ এমনি এমনি আসে না। তার জন্য আন্তরিক প্রয়াস প্রয়োজন। এগিয়ে গিয়ে সেই প্রয়াস করতে হয় সমাজের অগ্রসরমান মানুষদেরই। কিন্তু এখানে আমাদের বিশেষ দুর্বলতা। নারী উন্নয়নে নারীদের ভূমিকাও আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সমাজের সার্বিক পরিবর্তনে বর্তমান নারীদের অবস্থান কোথায়? এখন অনেক নারী লেখাপড়া শিখছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে পারছে। চাকরির পরীক্ষায় সফল হচ্ছে।
তবে কিনা— ওইটুকুই। জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর নিজের সমাজের জন্য কাজ করার প্রয়াস কোথায়? আমার সমাজের প্রতি কর্তব্য অন্য সমাজের মানুষজন এসে করে দেবেন, এই ভাবনাই বোধহয় শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। ভোগবাদী জীবনের প্যাঁচে আটকে চাকরি, সন্তানের ক্যারিয়ার, ভালো বাড়ি— এত কিছুর মধ্যে নিজেদের জংধরা সমাজ নিয়ে ভাবার সময় কোথায়?
আপনাদের বলি দয়া করে জনজাতি, দলিত, সাঁওতাল শব্দ গুলো বার বার সব স্থানে প্রয়োগ করবেন না । মহাশয়া মূর্মু একজন ভারতীয় নাগরিক এটাই তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয় । এবং সর্বপরি তিনি একজন মানুষ । দয়া করে ST, SC , OBC উঁচু নীচু ভেদাভেদ করে এইভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব কে নীচু করবেন না 🙏
সমগ্র বিশ্ব যখন হিংসায় উন্মত্ত, রক্ত ঝরছে যখন পৃথিবীর নরম শরীর থেকে, তখন মধ্যযুগের বাংলার কবি ( বড়ু চণ্ডীদাস ) উচ্চারণ করেছিলেন মানব-ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক বাণী। এই বাংলার কবি বিশ্বকে শুনিয়ে ছিলেন মানবতার অমর কবিতা।
আমরা তাঁরই উত্তরাধিকার। আমরা উত্তরাধিকার ‘চর্যাপদ’ থেকে ‘গীতাঞ্জলি’। পদ্মা, গঙ্গা, বঙ্গোপসাগরের কূলে কূলে সহস্র বছর ধরে যে মানুষের বসবাস, তাদের সংগ্রামী জীবনের উত্তরাধিকার আমরা। সে জীবন অবিভাজ্য মানুষের। সে জীবন শ্রম ও আনন্দের। শান্তি ও সমন্বয়ের। প্রকৃতি ও পুরানের সংশ্লেষে গঠিত। সেই জীবনের সংস্কৃতি সততই প্রেমের জয়গান গায়। জীবনের জয়গান গায়। যুগে যুগে মানবের কল্যাণ কামনায় গীত হয় সাম্যের গান। জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সংস্কৃতি হয়ে ওঠে মানুষের জীবন ও জাতিসত্তা নির্মাণের প্রধানতম নিয়ামক। সম্প্রদায় ও সাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনা বিলুপ্ত হয় মানবজীবন থেকে উৎসারিত ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের কাছে।
মধ্যযুগের কবি আব্দুল হাকিমের তীব্র তীক্ষ্ণ কবিতা, ‘যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী/ সে সবে কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’ আমাদের এ কথা জানান দেয় যে এক কঠিন সংগ্রামের ভেতর দিতেই আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছে। ১৯০৫-এর বাংলা ভাগের ব্রিটিশ ষড়যন্ত্র ও বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপিত হয়। স্বয়ং কবিগুরুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। কবিগুরু রচনা করেন বাঙালি জাতিসত্তার প্রধানতম সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’সহ অমর সব সংগীত। সেই শিক্ষায় সব বৈরিতার মধ্যেও এ জাতি তার অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বহাল রেখেছে।
হে বাঙালির সন্তানেরা আমি অনুরোধ করছি -
হে নবীন, হে নতুন প্রজন্মের মানুষ, মন থেকে এ গৌরব কখনো মুছে ফেলো না যে তোমাদের এক সমৃদ্ধ অতীত আছে। এক বর্ণাঢ্য ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সকল ধর্ম-বর্ণ-জাতিনির্বিশেষে বিশ্বমানব হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তোমাদের লালন, রবীন্দ্র, নজরুল আছে। তোমরা নূরলদীন আর সূর্যসেন-প্রীতিলতার , ক্ষুদিরাম , নেতাজী , রামমোহন , রোকেয়া বিদ্যাসাগর , বিবেকানন্দের উত্তরাধিকার। তোমরাই মাওলানা ভাসানী, মণি সিং ও বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার। তোমাদের হাতেই তো সকল শক্তি ন্যস্ত করেছে মহাকাল। জ্বলে ওঠো। ছিন্নভিন্ন করো বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী মৌলবাদের হিংস্র থাবা।
আপনাদের বলি দয়া করে জনজাতি, দলিত, সাঁওতাল শব্দ গুলো বার বার সব স্থানে প্রয়োগ করবেন না । মহাশয়া মূর্মু একজন ভারতীয় নাগরিক এটাই তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয় । এবং সর্বপরি তিনি একজন মানুষ । দয়া করে ST, SC , OBC উঁচু নীচু ভেদাভেদ করে এইভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব কে নীচু করবেন না 🙏
দুঃখ ভরা কণ্ঠে বলি নিনাদিত হোক বাঙালির চিরন্তন সাম্যের বাণী—‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’।
প্রেম পর্ব
✍️ অগ্রদীপ দত্ত
প্রেম সবার কাছে মায়ার মতো,
প্রিয়জনের জন্য অন্তরে অবেগ শত।
প্রেম কল্পনা ভাবে যুগল ভাবিত,
কারোর প্রেম অন্তরে লুকায়িত,
কেউবা প্রেম পর্বে মুখরিত৷
চায় প্রেমের বাঁধনে বন্ধি থাকিত,
প্রেম যে কখনো হয়না সীমিত৷
দেখিবারে আঁখি পাঁখি ন্যায় ধায়,
প্রেম সম্পর্কে যুগল পেলবতা পায়।
নানা স্বপ্নের সাজে সজ্জিত,
হৃদে প্রেম গান হয় গীত।
যুগলের প্রেম এক মিষ্ট বন্ধন,
মনে হয় দু হৃদে একই স্পন্দন।
আশায় থাকে যুগল,কবে হবে বিয়ে,
সংসার করবে সমাজকে স্বীকৃতি দিয়ে।
বিয়ের আশাটা আশা থেকে যায়,
আবার কারোর ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।
প্রেমের গভীরে
✍️ কানু বনিক
সহস্র আলোকেবর্ষ পেরিয়ে কখন যে তোমার সাজানো বাগানে এসে গেছি, তা একেবারেই খেয়াল করি'নি।
এই স্নিগ্ধ সকালে,
আকাশ যতটাই ঘন নীল,
তার বুকেই ছড়িয়ে আছে হাসনুহেনার মতো গুচ্ছ গুচ্ছ একরতি সাদা মেঘ।
তুমি যা বলতে চেয়েছো, তা
সহস্রমনের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া প্রণয়ের প্রথম বেলায় বুঝে গেছি।
এই মহাকাশের গভীরে,
যেখানে পাড়ি দিলে বুকের ক্ষুধা নিমেষে মিটে যায়;
সেখানেই তোমার ষোলকলার পূর্ণতা পায়।
যতটা শ্রীবিদ্যার পূর্ণতা তোমার গভীরে আছে, ঠিক ততটার আলোই তুমি জ্বেলে নিও।
সেই আলোতেই শ্রীপঞ্চমীর সন্ধ্যায়,
শুধু তোমাকেই দেখে;
এক অনন্য প্রেমের সুরে গান গেয়ে যেতে চাই।
মানুষের স্বাধীনতা
✍️ ডাঃ রূপক পোদ্দার
-------------------------------------------
অবুঝ শিশু হামা গুড়ি দিতে লাগলো বাবা মায়ের লাশের উপর। উদাস দাওয়ায় বসে আছে তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের দুর্বল আলোর ঝিলিক আর বাতাসে নড়ছে চুলগুলো। তোমার জন্যে এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে নড়বড়ে খুঁটি ধরে দগ্ধ ঘরের। তোমার জন্য হাড্ডি সার মাংস হীনএক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে নিয়ে বসে আছে পথের ধারে। তোমার জন্য সেই কৃষক ও মেঘনা নদীর মাঝি যার ফুসফুস এখন পোকার দখলে আর সেই রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। সেই তেজস্বিনী তরুণ যার পদভারে নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে। সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জলন্ত ঘোষণার ধ্বনি প্রতিধ্বনি তুলে নতুন নিশানা উড়িয়ে দামামা বাজিয়ে দিকে দিকে এই পৃথিবীতে তোমাকে স্বাধীনতা যে আসতেই হলো সবকিছু ত্যাগ করে।
তুমি যে সাথি
✍️ পান্থ দাস
তুমি যে
সাথি মোর,
দিনে রাতে সুরভিতে
মেতে থাকি যে
সকল প্রহর ৷
আসো তুমি
বন্ধু হয়ে
করো নাকো ছলনা,
ভালোবাসায় রবো
মুছে দাও যে তুমিই
সকল বেদনা ৷
তোমাতে
মন ডুবেছে,
পরিবেশের মেলায়
মন নেচেছে,
হারিয়েছি নিজেকে
দেখেছি যখন
মনটা ভেসে চলেছে ৷
প্রণয়গীত
✍️ প্রবীর পাঁন্ডে
---------------------
ধন্য রে প্রণয় তুই, ধন্য তোর লীলা!
মানব হৃদয় নিয়ে যত সব খেলা।
কখনো হাসাও আর কখনো কাঁদাও,
বাহু মেলে হৃদ মাঝে কাছে টেনে নাও;
আশা ভালোবাসা দিয়ে দেখাও স্বপন,
স্নেহ আলিঙ্গন দিয়ে ভরে দাও মন।
দিবানিশি কর শুধু প্রেম গুনগান,
শুধু ভালোবাসা আর তাহার বাখান।
কানে কানে বলে যাও আমি যে তোমার-
একা ছেড়ে যাব না গো কোনোদিন আর।
তারপর একদিন সব কিছু ভুলে
বহুদূরে চলে যাও মাঝপথে ফেলে।
ধন্য রে প্রণয় তুই, ধন্য তোর লীলা!
কাছে টেনে ভালোবেসে কর অবহেলা।
মুখোমুখি
✍️ মানব দেবনাথ
ধরো,
কোনো এক পরন্ত বিকেলে
আমাদের হঠাৎ দেখা হলো,
সময় হঠাৎ যেনো থেমে গেলো।
তুমি আমি মুখোমুখি।
কতো না বলা কথা,
জমে থাকা সহস্র ব্যথা।
কতো মান-অভিমান,
সবটা উজার করে তোমায় বলতে চাইলাম।
কিন্তু প্রতিবারের মতোই এবারও,
তোমার ওই মায়াবী চোখে হারিয়ে গেলাম।
এবার সময় হয়ে এলো,
এখন তবে আসি;
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম,"এখনও ভালোবাসি!"
বর্ষায় গরমিল
✍️ প্রদীপ কুমার ভৌমিক
রথ গেল,খারছি গেল,
আসছে পূজা কের,
এখনও বৃষ্টি ধারা রয়েছে অমিল,
লাগছে যেন বর্ষায় গরমিল।
শ্রাবনের ধারা নাই
মাঠ সব পুড়ে ছাই।
ভূ-উষঞায়নের গন্ধ
পালঠি খাচ্ছে প্রকৃতির চিত্র,
যৌবন দেখাতে না পারছে,
নদী, নালা, জমি, পুকুর
চাষবাস প্রায় বন্ধ।
মার খাবে কৃষি
জীবন রাখতে হবে বাজি
এই বিচিত্র রূপ না যেন দেখি
শস্য শ্যামলা সবাই যেন বলতে পারি
এই প্রার্থনা আমি রাখি।
অনন্যা
✍️ চন্দ্রিমা বণিক
টানা টানা চোখ দুটো
কত কথা বলে,
চুপটি করে মুখটি বুজে
স্বপ্নে জেগে চলে,
কল্পনাতে বেড়ায় ঘুরে
দোলনচাঁপার সাথে,
বৃষ্টিফোঁটা হাতে ধরে
মনটি উড়ায় নীলে।
হঠাৎ আবার থমকে দাঁড়ায়
রাঙা মনের চলন,
টানা চোখের চাউনিতে
কত প্রশ্নের ভীড়,
গেঁয়ো পথে মনটি ঘুরে
বিরহী গানের সুরে,
করুণ চোখে জল ছলছল
ঝাপসা আশার নীড়।
এমনি চলে নববধূর
অবোধ প্রাণের খেলা,
নতুন প্রেমে অন্ধ বধূ
স্বপ্নে ভাসায় ভেলা,
অন্ধমন মানেনা বারণ
শহিদ স্বামীর টানে,
নববধূ নবসাজে
অপেক্ষায় দিনগুনে।
মানুষ
✍️ রূপালী রায়
আমি মানুষের ভিরে
মানুষ হারিয়েছি কত
খোঁজে পাই না আর ।
আমি আর খোঁজে পাই না ।
এলো চুলে ঢাকা দখিন মেরুর হাওয়া
আমার অনেক কিছুই
উড়িয়ে নিয়ে গেছে
আমি আর কেন খোঁজে তা পাই না ।
ভুল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি
ফিরতে ফিরতে অনেক রাত ।
যে কালো রঙ ঠিকানা হারায়
তারে কি গো আর খোঁজে পাওয়া যায় ?
আমি মানুষের ভিরে
মানুষ হারিয়েছি কত
খোঁজে পাই না আর
খোঁজে পাই না ।
সকাল পেরিয়ে দুপুরে গরিয়ে যেতে চলেছে
মানুষের সন্ধান আর পেলাম না ।
কেন হারাতে থাকে মানুষ
মানুষের মাঝে থেকে
কেন খোঁজে পাই না
সেই মানুষ ।
প্রহরী
✍️ সুজন দেবনাথ
আমি তোমার ঘুমন্ত পুরির
বিনিদ্র প্রহরী হতে চাই,
তোমার একলা শহর জুড়ে
রোজ রইবো পাহাড়ায়।
রাত জাগা পাখিদের মতো
এ দুটি আঁখি মেলে
তোমার সকল আঁধার জুড়ে
দেবো আলো ঢেলে।
মন খারাপের বীরহ বেলায়
শুনাবো হাজারো গান,
নবীন সুরের মূর্ছনায় রোজ
সাজাবো তোমার প্রাণ
তখন কি তুমি বাসবে ভালো
রাখবে আমায় পাশে?
আমার শহর ঝলমলে হোক
তোমায় ভালোবেসে।
প্রেমের বাঁধন
✍️ সুমন দাস
বেঁধেছি তোমায় প্রেমের বাঁধনে।
গভীর ভালোবাসা দিয়ে।।
বুঝতে পারো আর নাইবা পারো।
তোমাকেই রেখেছি বুকে।।
নীরবে আছি বলে এই তুমি ভেবো না।
ছিঁড়ে যাবে এই অদ্ভুত প্রেমের বাঁধন।।
ফুলে ফুলে সাজিয়ে রেখেছি তোমায়।
এই মন জুড়ে।।
আকাশের সীমা রেখা শেষ হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু প্রেমের বাঁধনের সুতো শেষ হবে না কখনো।।
কথার মাঝে থাকবো আমি।
তোমার আপন হয়ে।।
সকালের সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত হয়ে।
আছো মিশে মাঝরাতের গিটারের সুরে।।
হারিয়ে যাবো না কখনো আমি।
তোমার আবেগের ভালোবাসা থেকে
এ মনমোহতা আমি পাই,
হৃদয় হতে তোমায় চাই
তাই তো তোমাকেই রেখেছি।
প্রথম ও শেষ কবিতার পাতায়।।
প্রেমের অনুভূতি
✍️-রতন দেবনাথ
প্রেমই মুক্তি, প্রেমই শক্তি ,
প্রেমই পরিবর্তনের গুপ্তশক্তি।।
প্রেমই দিব্য সৌন্দর্যের,
দর্পণ স্বরূপ।
হৃদয়ে ভরপুর প্রেম,
আগুনে তার।
প্রত্যেক কথায় হৃদয়ে,
ঝড় তুলে আমার।
প্রেম একটি চমৎকার অসুখ,
কষ্ট পাওয়ার তিলে তিলে।
প্রেমের সেই আবেগ শক্তি,
সুখ এনেদেয় চুপটি করে।
নিষিদ্ধ প্রেম এক সময়ের সংসার,
এই ক্ষুদ্র জীবনে দুঃখ আনে আবার।
স্বপ্ন নীড়
✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ্য
বর্ষায় ভরা নদী,পূর্ণ যৌবনা
রূপে আত্মহারা মাঝিমোল্লা,
শুক পাখিরা সুর তোলেছে
অনন্ত প্রেমের মাধুরী মিশিয়ে।
একে অপরের কাছাকাছি
দূর পানে আবীর রাঙ্গা আকাশ,
কত হাসি,কত কথা,
কত গান, কত প্রত্যাশা।
স্বপ্নের গহীন দেশে দুজনে
একসাথে পাশাপাশি ;
কোন নূতন ভুবন গড়বে বলে
গানে গানে স্বপ্ন বুনন।
সকল সন্নিবদ্ধতার গন্ডি পেরিয়ে
ওরা হেঁটেছে পৃথিবীর পথে
প্রেম বাঁশুরীর মিষ্টি সুরে
হারিয়েছে স্বপ্ননীড়ে।
ডিটেকটিভ
✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
ভাবছি একটা ডিটেকটিভ রেখে নেবো।
মাসের শেষে একটা মোটা মাইনে দেবো।
কেন জান? অন্যের খবর নেওয়ার জন্য নয়!
একান্ত নিজের জন্য,
যে আমার মনের খবর লয়।।
কাজের ভীড়ে নিজেকে নিয়ে ভাবার এখন কি আর সময় হয়।
তাই ভাবছি ডিটেকটিভ রাখাটা
বিশেষ মন্দ বিষয় নয়।।
কবে নিজের সাথে সময় কাটিয়ে ছিলাম তাও গেছি ভুলে।
আজ আর হয় না নিজেকে জানা অভিনয়ের ছলে।।
ভাবছি তাই একটা ডিটেকটিভ রাখব খুব আপন করে।
কাজের শেষে যে আমার সাথে
একটু গল্প করে।।
কথায় কথায় হাসাবে আমায়
নাটকীয় ভাব ছেড়ে।
বুঝিয়ে দেবে সে ...
অতিথি হয়ে থাকাটা আমার
সাজে না নিজের ঘরে।।
হাসতে ভুলে গেছি আমি দুশ্চিন্তার সাথে হেঁটে।
ভুলে গেছি সময়ের ফেরে নিজের খবর নিতে।।
নিজেকে আজ বড়ো ভালোবাসি
প্রেমে পড়ে গেছি নিজের।
জীবনের বাকী সময় টুকু হতে চাই
নিজেই একান্ত নিজের।।
ইচ্ছে
✍️ সুবর্ণা চক্রবর্তী
তোমার সাথে গোধুলিবেলায়
পাড়ি দেবো মাঝদরিয়ায়।
যদি হাত টি ধরে বলো,
নীল আকাশে যাবো চলো।
ছুট্টে যাবো বহুদূরে ,
দিগন্তের পারাপারে।
কখনো বা ভিজবো বৃষ্টির ছোঁয়ায়
জড়িয়ে ধরবো বেঁচে থাকার আকুলতায় ।
আদুরে ছোঁয়ায় জোছনার সাথে
পা মেলাবো তোমাতে আমাতে।
শ্রাবনের ধারায়
সবটুকু ভাসিয়ে দেবো ইচ্ছেপূরণের ভেলায়।
ফিরে আসবো বারবার ,
জন্ম মৃত্যুর আবর্তনে মিলন হবে আবার।
*****
নির্জনতার খোঁজে
একটুখানি নির্জনতার খোঁজে
কতো পাহাড় ,গুহা , মরু প্রান্তর
দিয়েছি পাড়ি-
কোথাও পাইনি দেখা।
খুঁজেছি অজন্তা ইলোরা
গেছি গোবি সাহারায়
কতো সৈকত , বেলাভূমির -
বুকে কাটিয়েছি একা।
কতো দুর্গম পথঘাটে
হেঁটেছি দিবা নিশি,
একটুখানি নির্জনতার খোঁজে-
লোকালয় ছেড়ে বহুদূরে।
সব খুঁজে খুঁজে
তোমারই বুকে এসে
নিশ্চিন্তে মাথা গুঁজে
পেয়েছি স্বস্তির নির্জনতা ।
নিয়তি
✍️ মিঠুন রায়
সকালবেলা থেকেই আজ মন ভালো নেই ফুঁচকির।মুখ যেন গুমরো গুমরো ভাব।ফুঁচকোর ভালো নাম অয়নিকা সেন।আসলে দাদু আদর করে ছোটবেলায় নাম দিয়েছিলেন ফুঁচকি।আর কি,এখন বাড়ির সবাই ছাড়াও পাড়া পড়শীদের কাছেও অয়নিকার একটাই পরিচিতি ফুঁচকি।সবেমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে প্রথম বিভাগে।কিন্তু তার দীর্ঘদিনের শখ কলেজে ভর্তি হয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করার।কিন্তু পিতৃহীন ফুঁচকির দাদু-ঠাকুরমার ইচ্ছে এবার অন্তত নাতনীকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো।এ নিয়েই পরিবারে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে বাক্ বিতন্ডা।
কিন্তু আজ সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠেই ফুঁচকি জানতে পারল বাড়িতে বিকেল বেলায় পাত্র পক্ষ আসছে তাকে দেখার জন্য।খবরটা শুনেই তার চক্ষু একেবারে চড়ক গাছ।এ কি কান্ড!সরাসরি দাদুর ঘরে গিয়ে হাজির।আমি কি তোমাদের বোঝা হয়ে গেছে নাকি?নতুবা বল,প্রয়োজনে আমি টিউশন করব।তবু এখন বিয়েতে বসব না।কিন্তু দাদু সদানন্দ বাবুও নাছোড়বান্দা।প্রবীন মানুষ।জবান যখন দিয়েছেন ছেলের পক্ষতো আসবেই।এনিয়ে আর কোনো কথা তিনি শুনতে রাজী নন। পাত্র অবিনাশ গুপ্ত।পাশ্ববর্তী শহরে সরকারি বিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষক।ভদ্র স্বভাবের ছেলে।যাই হোক নির্ধারিত সময়ে পাত্র পক্ষ বাড়িতে হাজির হল।অবিনাশের মা তো ফুঁচকিকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেছেন।নিজের গলার গয়না দিয়ে তাকে আশীর্বাদ করেছেন।অবিনাশের সাথে একান্তে আলাপচারিতায় ফুঁচকি তার মনের ইচ্ছের কথা জানায়।সেও একবাক্যে রাজী হয়ে যায়।বেশ শ্রাবণ মাসের প্রথম দিকে বিয়ের দিন তারিখও হয়ে গেল।
একমাত্র নাতনির বিয়েতে কোনও ধরণের খামতি রাখতে রাজি নন সদানন্দ বাবু।সাড়ম্বরেই সম্পন্ন হল বিবাহ পর্ব।বাসর রাতে হল এক নতুন বিপত্তি।আচমকা একটা ফোন আসে অবিনাশের মোবাইলে।
-কি ডালিং, কেমন আছো।নতুন বউয়ের সাথে তোমার বাসর কেমন কাটছে, একবারও ভাবছো না আমার জীবনটা নষ্ট করে শেষপর্যন্ত অন্যের জীবনটা নিয়েও খেলছ তুমি!তুমি মিথ্যাবাদী, একটা প্রতারক।কেউ তোমাকে ক্ষমা করবে না।আমার জীবন নষ্ট করে তুমি নরকেও শান্তি পাবে না।
হঠাৎই লাইন কেটে গেল।বার বার অবিনাশ সেই অপরিচিত নম্বরটা ডায়াল করছে, অথচ কেউ রিসিভ করছে না।তবে গলার স্বর শুনে অবিনাশের আর বুঝতে বাকী রইল না,এই ফোনটা অবশ্যই ছিল রিয়ার।রিয়া ছিল তার কলেজ জীবনের সহপাঠী।শুধু সহপাঠীই নয়,এক সময়ের প্রেমিকা।কিন্তু রিয়াকে অবিনাশের পরিবার কখনো পছন্দ করেনি।বাধ্য হয়ে সে নিজে থেকেই রিয়ার কাছ থেকে সরে আসে।কিন্তু, একি!রিয়ার সাথে যে তার বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত কেটেছে।তবে কি রিয়ার কাছে ঐসব প্রমাণ এখনো রয়েছে।সিগেরেটের ধোয়ায় ভরে গেছে ঘর।অন্যদিকে ফুঁচকি ততক্ষণে ঘুমের দেশে।সারাদিনের ক্লান্তি যে তাকে অনেক আগেই অন্য জগতে নিয়ে গেছে।
সিড়ি দিয়ে বাড়ির ছাদে উঠেন অবিনাশ।নিজেকে যে আজ বড়ো অপরাধী মনে হচ্ছে।তবে কি রিয়া ও ফুঁচকি দুটি মেয়ের জীবন আমার কারণে নষ্ট হল! শেষরাতে ছাঁদ থেকে ঝাপ দিয়ে প্রাণ দিল সে।ভোরের আলো ফুটতেই বাড়িতে কান্নার রোল।নব বধূর হাতের মেহেন্দীর রঙও মুছেনি।এখনো পায়ে আলতা।এরই মধ্যে চিরদিনের মতো মুছে গেল সিঁথির সিদুর।লাল বেনারসীর বদলে চিরদিনের জন্য তার পরিধেয় হল সাদা থান কাপড়।ফুঁচকির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল।
মুর্ছিত ফুঁচকিকে নিয়ে ভর্তি করানো হল স্হানীয় হাসপাতালে।বৃদ্ধ সদানন্দবাবু আজ নাতনির দুঃখে দিশেহারা।আমিইতো এই ছোট্ মেয়েটার জীবন নষ্ট করেছি।সেতো এখন বিয়ে করার পক্ষে ছিল না।নিয়তির এ কি নির্মম পরিহাস!
প্রতিজ্ঞা
✍️ অসীম দেববর্মা
তুমি আমার
শুধুই আমার!
দুনিয়ার ছলনার নজর থেকে
আমার ভালোবাসার চাদরে
ঢেকে রাখব তোমারে।
উদাস দুপুরে খুঁজি না তোমাকে
বাতাসে নাড়ানো পাতার ফাঁকে।
খুঁজি না তোমাকে
পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের তাম্রাভ আভায়।
খুঁজি না তোমাকে
জোনাকির দলে সন্ধ্যায়,
খুঁজি না তোমাকে
রাতের আকাশের চাঁদ - তারাই।
তোমাকে খুঁজে খুঁজে
ক্লান্ত হয় না দেহ আমার
কারণ জানি তোমার স্থায়ী ঠিকানা
আমার হ্নদয়ের ভিতর!
তোমার দুঃখের পাহাড়
যদি বলো তুলতে রাজি
আমার মনের আঙ্গিনায়,
কথা দাও আমাকে ছেড়ে
কোনোদিন যাবে না চলে অন্য দোয়ারে।
প্রেম
✍️ প্রতীক হালদার
প্রেমের নেশা স্বপ্ন সাজায়
চোখের পাতা জুড়ে,
অভিমানের পাহাড় গড়ে
কখন থাকে দূরে।
প্রেমের হাসি দুঃখ ভোলায়
জুড়িয়ে যে দেয় মন,
কখন আবার ক্রুদ্ধ হয়ে
করে শুধু জ্বালাতন।
প্রেমের ভাষা চোখ ই বোঝে
হৃদয়ে ওঠে ঢেউ,
উথাল-পাথাল মন যমুনা
রাখে না খবর কেউ।
প্রেমের নেশা অনেক বড়
জীবন রাখে বাজী,
ঠুনকো কোনো আঘাত পেলে
মরতে থাকেও রাজি।
প্রেমের গল্প হৃদয় আকাশ
কখন রঙিন থাকে,
কখন আবার কালো মেঘে
আকাশটাকে ঢাকে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)