গোলু
✍️ -মৌসুমী গোয়ালা
চারদিকে প্রবল ঝড় বইছে। ঝড় কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসতেই পড়তে লাগল ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি । টিনা কাঁচের জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিল বাইরে। হঠাৎ দেখল গেরেজের সামনে ছোট গোল বাদামি রঙের কিছু একটা রাখা। ভালো করে লক্ষ্য করতেই বুঝল জিনিসটি নড়াচড়া করছে। আলো আঁধারিতে স্পষ্ট দেখা না গেলেও দুটো কান ও একটা লেজ দেখা যাচ্ছিল। বাবাকে ডেকে দেখাতেই, তিনি ছাতা মাথায় দিয়ে সেটিকে ঘরে নিয়ে এলন। টিনা খুশি হয়ে নাম রাখল গোলু। তার আকৃতি দেখেই এই নামকরণ। টিনা এবং তার মার যত্নআত্তিতে সারমেয় শাবকটি ধিরে ধিরে বড়ো হতে থাকল। বিপত্তি ঘটল টিনার ঠাম্মার তীর্থভ্রমন শেষে বাড়ি ফিরতেই। গোলুকে দেখেই তিনি রেগে ঢেকে একশা। তার মতে কুকুর ঘরে ঢুকলে শনিদেবতা রুষ্ট হয় তাই তার এখানে থাকা চলবে না। টিনার জেদের কাছে হার মানলেও তক্কেতক্কে ছিলেন কখন এই আপদ বালাই কে বিদায় করা যায়। সুযোগ বুঝে করলেনও ঠিক তাই। টিনা গ্রীষ্মের ছুটিতে মাসির বাড়িতে বেড়াতে গেলেই বাড়ি থেকে দূরে ছেড়ে দিয়ে এলেন। ইট কংক্রিটের জঙ্গলে গ্রীষ্মের দাবদাহে গোলুর প্রাণ ওষ্টাগত। পিচের রাস্তার গরমে শরীর ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। বাতাস উত্তপ্ত। তেষ্টায় জিভ শুকিয়ে কাঠ। বড়ো বড়ো ইমারতের ভিড়ে আশ্রয়ের স্থানটুকো খুঁজে পাওয়া মুসকিল। এদিক ওদিক অনেক ঘোরাঘুরির পর আস্তাকুঁড়ের খাবারে কোনরকমে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে রাখে একরত্তিটি।
চরদিনের মাথায় টিনা মাসির বাড়ি থেকে ফিরে এসে গোলুকে না পেয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। মনের মধ্যে কালবৈশাখীর তান্ডব চলতে থাকে। মায়ের শত বারণ সত্বেও সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পরে গোলুর খোঁজে। চারদিকে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পাওয়া গেল একটি বদ্ধ দোকানের শেডের নিচে। ভয়ে সিঁটিয়ে এককোনে বসা। টিনাকে দেখেই দৌড়ে তার পায়ের এসে কুঁই কুঁই শব্দ করতে থাকে। যেন অনেকদিনের জমানো দুঃখ অভিমান সব জানাচ্ছে। টিনাও গোলুকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। মাটি থেকে তুলে আদর করে সাইকেলের কেরিয়ারে রাখল। গ্রীষ্মের কালবৈশাখীর শেষে টিনার দু'চোখে শ্রাবনের ধারা। চোখের জল মুছতে মুছতে দু'জন এগিয়ে চলল বাড়ির পথে।
ঠাই
✍️সানিয়া জাহান।
যদি তোমার মনের কোথায়
পেতাম একটু ঠাই,
তবে নিজের অজান্তে লিখে যেতাম
কতই না গান।
ছন্দে-ছন্দে ভরে যেত
যেতো পাহাড় সমুদ্র
ঢেউর মাঝে গুণে যেতাম কতইনা রঙ্গিন স্বপ্ন।
গোলাপের পাপড়ি গুলি
যখন বাজে- বাজে ফোটে,
চাঁদের হাসিটা তখন আরো উজ্জল লাগে।
তবু যদি তোমার মনের কোঠায়
পেতাম একটু ঠাঁই,
এলোমেলো জীবনটা গুছিয়ে নিতাম।
কুয়ার ধারে বসে যখন ভাবনায় থাকি ডুবি
কাঠ- ঠুকরো পাখিগুলি ঠন-ঠন করে।
পরান কহে কত কথা, কহার যে কেহ নাই
আমি সৌন্দর্যের প্রেমিক
কবিতা লিখে যাই।
তবু তোমার মনের কোঠায় যদি পেতাম একটু ঠাঁই,
প্রাণের কথাগুলি ডাইরিতে,লিখে যেতাম।।
একুশ তুমি
একুশ তুমি আছো আজও -
সবার মনেৱ দোৱে ,
থাকবে তুমি জনম জনম
এই ভাবেই ঘুরে।
একুশ তুমি যতই হও
সবার থেকে প্রবীণ
তবুও তুমি নবীন ভোরে
শিশুর মত সৱলই রবে ।
তোমায় নিয়ে কতই না ৱাজনীতিৱ খেলা,
ৱাজপথে যতই হোক 'ভাষাবাঁচাও' পালা,
ফেষ্টুন হাতে গায় যত ,অহংকারী গান ,
তাতে তোমাৱ বইবে আৱো সমৃদ্ধতার বান।
তোমায় নিয়ে ঋদ্ধ মানব
গায় যে জয়গান।
তোমাৱ মাসে তোমাৱ গ্ৰামে-
যত পৱিজন
গানযে বাঁধে বাংলা ভাষায় -
বাংলা মায়েৱ ধন।
তোমার মত মুগ্ধ মাস একটিও আৱ নাই,
মায়ের ভাষায় গর্ব তুমি ,সকল হাসা কাঁদা ।
তোমাৱ মত ভক্তি কেন সব কাজেতে নয় !
মানবতাৱ.এই শক্তি বাৰ্তা ,যেন বিশ্বজুৱে বয়।
একলা চলো

✍️প্রিয়াঙ্কা দেবনাথ
থামলে কেন?
বুকের ভেতর ভয়ে থরথর?
ভয়ের পথে হাঁটছো কেন?
কাদের নিয়ে ভাবছো এতো?
এই যে তুমি একলা একা
ধুকছো ভীষণ,
দাবানলে বুকের পাঁজর
পুড়ছে যে হায়!
দেখছে কারা?
বাঁচতে যদি চাও এ জীবন,
ভয়ের খাঁচা ভেঙেই দেখো।
ভাবলো কারা, জানলো কারা?
বললো কিসব কে ?
ওসব ভাবা ছেড়ে দিয়ে,
একলা পথে চলতে শেখো।
মাতৃভাষা
মোদের গর্ব মোদের দম্ভ মোদের মাতৃভাষা
তোমায় ছাড়া চলা নাহি,তুমি সকলের ভালোবাসা,
তোমার হাতে হাতটি রেখে এগিয়েছে সভ্যতা
তুমিই যুগের শিক্ষাগুরু,তুমিই জ্ঞানের দক্ষতা।
মাতৃভাষা শেখায় মোদের সঠিক ভাষার দাম
সব ভাষাই শিখতে চাই নিয়ে বাংলার নাম।
অনেক কবি দেশপ্রেমিক রাঙায় মাতৃভাষা
তাদের ভালোবাসার স্মৃতি অক্ষয় বাংলা ভাষা
রক্তে লেখা ইতিহাসকে করি প্রণাম নত শির
মোদের মাতৃভাষার সম্মান রেখেছে শত বীর,
শত কোটির ভারতবাসীর ধরেছে শিক্ষার হাল
একুশে ফেব্রুয়ারি রাখবে মনে ভারতবর্ষ চিরকাল।।
একুশ আমার চেতনা
পরাধীনতার বিপদ স্কুল পথে হাঁটতে হাঁটতে ভারী হতেছিল একটি ভাষার চেতনা।
অসহ ভার বইতে বইতে ,শিরদাঁড়া নুইতে নুইতে হারাচ্ছিল সকল সম্ভাবনা।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াতেই হয়।
নাও ডুবতে থাকলে খড়্গপুর আঁকড়ে ধরতে হয়।
প্রাণপণ লড়াই, জীবন মরণ লড়াই।
লড়াই, লড়াই, লড়াই...
রানার প্রান্তরে, রাজপথের রক্ত ঝরা লড়াই।
মাতৃভাষার শৃঙ্খল মোচনের লড়াই।
বাংলাভাষার মুক্তির উদ্বেল লড়াই।
শত,শত,শহীদ প্রাণের রক্তস্নাত লড়াইয়ে এবার জয় পাই।
শহীদ যারা নির্ভীক ওরা ,শপথে ভরপুর ওরা।
সালাম,সালাম, রফিক, বরকত ওদের প্রাণের ভয় যে নাই।
এভাবেই, এভাবেই একুশ তোমায় পাই।
একুশ কোন সংখ্যা নয়,আত্ম চেতনার জাগরণ মন্ত্রে বিজয়ী আলপনা।
একুশ কোনো সংখ্যা নয়,একটি ভাষা--তোমার ,আমার মায়ের ভাষার
বাংলাভাষার বিশ্ব সভায় মুকুট মণির দ্যোতনা।
একুশ আমার মুক্ত চেতনা।
বসন্তের হাওয়ার মতো
বসন্তের হাওয়ার মতো এলোমেলো জীবন
চারিদিকে এত আলো, তবুও হৃদয়ে একগুচ্ছ অন্ধকার
লজ্জাপতি পাতার সাথে শূন্যপথে বিহঙ্গ,,
তারপর শুকনো পাতার মতো হৃদয়ে যখন সন্ধ্যা আসে ---
জীবনের কোন এক অচেনা সন্ধ্যায়,
নগ্ন হাতের কর গুনে দেখি
কত দিন
কত রাত যে কেটে গেল
তা জানার নেই।
জীবন প্রায়'ই ---
পূর্বাহ্ণ থেকে শুরু হয়ে কোন এক সময়
সমস্ত কিছু স্তব্ধ হয়ে যায়;
জীবন যে বসন্তের হাওয়ার মতো ধীরে ধীরে ---
কখন যে এই জীবনের সাথে মৃত্যু এক হয়ে মিশে গেল,
তার কোনো জ্ঞান নেই।
তারপর বোধহয়
সমস্ত জীবন যেন এক মায়াময় নারীর খেলা
আমাকে ঘিরে রয়েছে কেবল শূন্যতা
আর শূন্যতা।
অসুখে ও সুখ খুঁজে পাই
কয় দিন ধরে বাবার অসুখ,
কথা সুর পাল্টে গেছে,
সবকিছুতে যেন ব্যথা অনুভব হয়,
একটু আরাম পেলে এক চিলতে রোদ্দুর যেন শীত সকালে ঝিলিক দিয়ে যায় ।
মুহূর্তে ফিরে গেলাম নিজের অসুখে,
একটু নড়তেই,মাথার কাছে বসে থাকার বাবা
কেমন যেন অনুভব করেন- "কষ্ট হচ্ছে না তো"
স্ফীত হেসে সত্য টা লুকাবার চেষ্টা করতাম,
তবু মনে হয় বাবা সব বুঝে।
এই ভাবনার শেষ না হতেই ,
ছেলের সাথে কাটানো হাসপাতালে চলে গেলাম,
কতদিন ছটফটে টা বাহিরের আকাশ দেখে না,
সেই বিকালে একটু সুস্থ হলে,কোলে করে বিছানা থেকে একটু বাহিরে আনতেই ,সেই খুশির ঝিলিক টা এখনও মনের এক কোনে ছবি হয়ে আছে।
বাবা,আমি,ছেলে, আমরা যেন এক অসুস্থ পরিক্রমা করি,তবুও কাছে টেনে নেয় একে অপরের কাছে,অসুখে ও সুখ খুঁজে পাই ।
বিরহের গান

✍️ডঃ দীপঙ্কর বিশ্বাস
বৃষ্টি ধারায়, আমার মন মনের মেলায়,
ছুটে যায় সেই পূর্ণিমার রাতে।
যেদিন দেখা হয়েছিল প্রথম, আলোর খেলায়
মন মোহিনী তোমার সাথে।
মিলনে হৃদয়ে মধুর স্বাদ, মিষ্টি শঙ্খনাদ
আবার ও এই বৃষ্টি বেলায়,
হারানো প্রেমের স্মৃতি, করে আর্তনাদ
মন মেতেছে সর্বনাশী খেলায়।
এক সাথে স্বপ্ন দেখেছিল, হেসেছিল, ভালবেসেছিল
প্রেমের সুর বেজেছিল প্রতিক্ষণে।
তোমার চোখের নীল অভ্রে এ মনে বসন্ত ফুল ফুটেছিল
হারিয়ে গেল কোন অভিমানে?
প্রেমের অনুরাগ উঠেছিল জ্বলে, কোন ছলনার ছলে
স্বপ্নের অতিথি তোমার স্মৃতি
মনে মনে ভাসে, বারে বারে ফিরে আসে প্রতিপলে
হেরে যায় মনের অনুভুতি।
ভীষণ একা হয়ে যায় এই মন, অতলে হারিয়ে যায় সেই ক্ষণ,
তোমার স্মৃতিই আলো জ্বালায় সে অতলে
সব অপেক্ষা তোমার প্রেমে ভরে যায়, আশা জাগায় অনুক্ষণ,
প্রেম সমুদ্রে হারিয়ে যাই আমি সব কিছু ভুলে।
হারানো প্রেমের দুঃখ শীতল মেঘের মত ছুঁয়ে যায়, রাতের অন্ধকার ছায়ায়
আমি এখন অচেনা পথে তোমায় খুঁজে যাই
তোমার হাসিমুখ, মিলনের অপূর্ণ সুখ, জড়িয়ে থাকুক আমার ভগ্ন হিয়ায়,
তবু যেন প্রেমের মধুর সুর সদা শুনতে পাই।
ভাষা
ভাষা কি?
ভাষা হলো শিল্প,
লিখি যতই
লাগে যে অল্প।
ভাষা কি?
ভাষা হলো রঙ তুলি,
যতই আঁকি
ততই শিখি।
ভাষা কি?
ভাষা হলো সাহিত্য,
যতই ভাবি
ততই বাড়ে আধিপত্য।
স্বাদ
বিষের ভয়ে তরুণী বন্ধ করে দেয় সম্পর্কের দরজা,
জলতরঙ্গের মত ঢেউ খেলানো হাসির আড়ালে গায় গান মন্দাক্রান্তা ছন্দে!
ছুঁয়ে যায় মনোপ্রাণ শুকনো মাটির ভেজা ভেজা গন্ধে,
সুরেলা পাখির ডাকে চিঠি পৌঁছে দেয় আবেগ ক্লিষ্ট মনের খামে।
আমি হাহাকার করে বসেছিলাম!
উতলা প্রেমের গল্পে তিনতাল গুনতে খোয়াই নদীর তীরে,
প্রেমের স্বাদে অতৃপ্ত বিষের আগুন জ্বলছিল মনপবনের নৌকো ঘিরে।
জলস্রোত পার হয়ে ফিরে আসি নিজের অসীমে ,
অতি অন্ধকার পেরিয়ে কলম ছুঁয়ে ভাবনার রঙ মাখে হলুদ পরীর মনে....
উপলব্ধি
জীবনটা ছিল খুবই একা,
তখন ছিল না কোন ঠেকা।
আজ পড়েছি মহা ঠেকাতে,
পারছি না কিছুতে একা থাকতে।
একা জীবন ছিল একঘেয়েমি-তে পূর্ন,
তখন মনে হয়েছিল জীবনটা শূন্য।
একা থাকার মূহুর্ত ছিল বড়োই নিরস,
সেটা অনুভব করেছি পেয়ে তোমার পরশ।
একা থাকাতে জীবনের উপলব্ধি ছিল অসম্পূর্ণ,
আজ শুধু চাই জীবনুপলব্ধি হয় না যেন ক্ষুর্ন।
শুধু পুলক থেকে আসে না অনুভূতির পূর্নতা,
পুলক আর শোক মিলে মিটে উপলব্ধির শূন্যতা।
এক একটা ঘটনা থেকে এক একটা অনুভবের সৃষ্টি,
সুখের মূহুর্ত গুলি থেকে মনটা হয়ে ওঠে মিষ্টি।
সুখের মাঝে এক টুকরো দুঃখ মনকে করে তিক্ত,
তাই কোন কিছুই ভালো নয় অতিরিক্ত।
ইংলিশ মিডিয়াম
✍️ শ্যাম মালাকার
রাত পোহালেই ভোরের আলো
ফুটবে আকাশে ।
বাংলার মাটি কেঁদে উঠবে ।
মাতবে শোকেতে ।
কাল প্রভাতে কৃষ্ণচূড়ার ঐ ফুল গুলি
লাগবে ভারি শক্ত ।
ঐ ফুলে লেগে আছে -
তোমার আমার বাঙালীর ভাই
রফিক সালাম আর বকরতের রক্ত ।
সেই একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের দাম -
আজ গ্রাস করেছে ইংলিশ মিডিয়াম ।
পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো সেই ভাষা শহীদদের ভগ্নী।
কাল প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
রাজপথে আজ ছড়াও ফুলের বন্যা ।
আজ নিশিতে গুমশে কাঁদে -
শত ভাষা শহীদদের কন্যা ।
বটতলা আর কদমতলি -
রাজপথ হোক বা অন্ধগলি -
কাল প্রভাতে শুনতে পাবে
বাংলা মায়ের ক্রন্দনের কলি ।
কাল প্রভাতে বিষাদের রঙ ফুটে উঠবে
পাখির পালকে কিংবা নারীর দু-চোখে ।
সেই একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের দাম -
আজ গ্রাস করেছে ইংলিশ মিডিয়াম ।
মায়ের বুকের দুধের মান বাঁচাতে
সেদিন মমতাজ বেগমের কপাল ভাঙলো,
তালাক তালাক তালাক তাকে শুনতে হলো ।
কমলার সিঁথিতে উঠলো শেষ সিঁদুর ।
রক্তের রঙে রঙীন হলো তার
আলতা পেড়ে শাড়িটা ।
সেই একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের দাম -
আজ গ্রাস করেছে ইংলিশ মিডিয়াম ।
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে সেদিন বঙ্গ জননী শুনেছিল
বিভীষিকাময় একটা আর্তনাদ ।
বঙ্গ তনয়ারা সেদিন নিজের বুকের দিয়ে -
বাংলা মায়ের ইজ্জত ঢেকেছিল ।
বঙ্গ তনয়েরা সেদিন উন্মাত হয়ে -
শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে -
শোষিত শৃঙ্খলিত বঙ্গ মায়ের ধমনীতে
প্রানের সঞ্চার করেছিল ।
সেই একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের দাম -
আজ গ্রাস করেছে ইংলিশ মিডিয়াম ।
বিশ্বজুরে ঐ কমিউনিকেশন -
ইংলিশে যার বেজায় ফ্যাশন।
বাংলা আজ কেউ পড়ে না কী ?
রক্তের দাম হয় না কী ?
আজ রফিকের কাঁদে , সালামের কাঁদে ।
কাঁদে বরকতের মা ।
আজ বাঙালী কাঁদে , বাংলা কাঁদে ।
কাঁদে ভাষা শহীদদের বঙ্গধাম ।
ঐ দিকেতে দাঁড়িয়ে হাঁসে -
ইংলিশ মিডিয়াম।
অট্ট হাসি হেসে সে বলে -
বিশ্বজুরে ঐ কমিউনিকেশন -
ইংলিশে যার বেজায় ফ্যাশন।
বাংলা আজ কেউ পড়ে না কী ?
রক্তের দাম হয় না কী ?
ওহে রফিক , ওহে সালাম -
ও আমার বরকত ভাই ।
সেই একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তের দাম -
আজ গ্রাস করেছে -
ইংলিশ মিডিয়াম ।
তৃপ্তি
✍️ স্বর্ণ কমলিকা চক্রবর্তী
বৃষ্টি আজ সারা দিনেও কমবে না, তা বলে কোন কিছু বন্ধ নেই ,বাজারহাট, স্কুল ,কলেজ ,অফিস সবই খোলা ।ছেলের সকালে স্কুল কিন্তু সে উঠবে না। মোহিনী পড়েছে বিপদে ,ওর আজ একটা ক্লাস টেস্ট আছে ।কাল রাতে কষ্ট করেসব শিখিয়েছে। এখন যদি পরীক্ষা না দিতে পারে তবে তো নাম্বারের পার্সেন্টেজ কমে যাবে। বৃষ্টিও যে একটা শুরু করেছে ,সেই মধ্যরাত থেকে ঝরছে এখন তো একটু বিশ্রাম নিতে পারে। কি করে যে আজ ঘুম ভাঙবে জানে না সে।
মোবাইলটা খুললো
সে, আজকাল খুব সুবিধা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ থাকাতে। সব খবরা খবর এই গ্রুপে চলে আসে ,সে তো মনে মনে ঠাকুর কে ডেকেই মোবাইলটা খুলেছে মেসেজটাও পেয়ে গেল যেটা সে দেখতে চেয়েছিল। স্কুলের একটা গ্রুপ রয়েছে তাদের যা কিছু জানানোর বিষয় সব এই গ্রুপে প্রিন্সিপাল স্যার পোস্ট করে দেন, ফোন করার কোন প্রয়োজনই পড়ে না। সে চাইছিল প্রিন্সিপাল স্যার সেটাই পোস্ট করেছেন, মানে আজ সকালের সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করে দেয়া হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার দরুন ।আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ।
পুরো মেসেজটা পড়ে আনন্দে হুররে বলে চেঁচে উঠল মোহিনী। মনে হচ্ছে সেই ছাত্র, পরীক্ষা দিতে হবে না স্কুলে যেতে হবে না এমন দিনে শুধু ঘুম ।সত্যিই ছেলে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে ,পড়েছে তো সে। অতএব পরীক্ষা যে ওর ই ।
জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সে। বাইরে রাস্তার বেশ জল জমেছে ছাতা মাথায় সব এখন বাজারের দিকে যাচ্ছে। যারা গত রাতে বাজার করে নিয়েছে তারা ভাগ্যবান কারণ জল দিয়ে তাদের যেতে হবে না ।ওর বৱ সেই ভাগ্যবানদের দলে পড়ে কারণ আজ তাদেরও বাজার করা হয়ে গেছে।
যেই বাজারের কথা মনে হলো অমনি বিদ্যুতের মতো মাথায় খুব তাড়াতাড়ি একটা প্রশ্ন মাথায় এলো। সব খোলা ঠিক আছে ,কিন্তু ছায়া ?সে ছুটি নেবে না তো? বলতেই পারে। ফোন করে যে "এত বৃষ্টিতে রাস্তাতে অটো পাচ্ছি না তাই আজ আসবো না।
ঘড়ির দিকে তাকালো সে ।ওর আসার এখনো সময় হয়নি ,ফোন তো হাতেই আছে। ফোন তো আসেনি, এ টো বাসন গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে গতকাল এত বাসন না ভরালে ভালো ছিল। যেদিন ছায়া বলে যায় যে আগামীকাল আসবে না সেদিন বাসনের প্রতি মায়া বেড়ে যায়। শুধু শুধু বাসন ভরাতে মন চায় না ,আর যখন আসে তখন যে কত বাসনের প্রয়োজন হয়।
গতকাল প্রচুর বাসন ভরিয়েছে এখন মনে হচ্ছে বাসন গুলো ওর মাজতে হবে, নিজের উপরই কেমন একটা রাগ উঠতে লাগলো। বাবা-ছেলে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে, ঘুম থেকে উঠেই বলবে ," রান্না হল আজ আমাকে তাড়াতাড়ি অফিস যেতে হবে প্রচুর কাজ জমে আছে ,"নিত্যদিনের ডায়লগ ওর মুখস্ত ।কিন্তু ছায়া তো এখনো এলো না, সময় যে বয়ে যাচ্ছে ।
নির্দিষ্ট সময়ের ১০ মিনিট পর টুংটাং শোনা গেল, দৌড়ে গিয়ে খুশি মনে দরজা খুলল সে ।আর ওর চিন্তা নেই ,ছাতাটা বারান্দায় রেখে ছায়া বলল "বৃষ্টির জন্য রাস্তায় অটো খুব কম ছেলে বলেছিল এমন দিনে না বার হতে কিন্তু দাদার অফিসরয়েছে তোমার কষ্ট হবে তাই চলে এলাম। "সে বলল "সত্যি কষ্ট হতো ,এক কাপ গরম চা খেয়ে কাজে লেগে যাও "।ছায়া বলল "ঠিক আছে গরম চা দাও।"8 সে বাসন মাজা শুরু করেছে ওর ফোনটা এল ।ফোনটা ঘাড়ে চাপা দিয়ে কথা বলতে বলতে ওর কাজ শুরু হল। মোহিনী রান্না বসিয়েছে ওর কানে মোটামুটি কথাগুলো সব চলে আসে ।সে শুনতে চায় না কিন্তু বারনও করতে পারছে না। কি করবে সে?
ছায়া আর পাঁচটা বউয়ের মত সংসার করতে চেয়েছিল। কিন্তু যে সংসারটা করতে সাহায্য করবে তাকে তো সবার আগে সংসারী হতে হবে। শুধু কি ছেলে মেয়ে জন্ম দেওয়া ,প্রতি রাতে মদ খেয়ে এসে পুরুষত্ব ফলানোর জন্য বউকে প্রচন্ড ভাবে মারধর করা ,এটাই সংসারী পুরুষের লক্ষণ ?যেটা নাকি ছায়ার ঘাড়ে পড়েছিল। ভেবেছিল সংসার করবে ।সফলতা অর্জন করতে পারলো না ।
অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল যে সে বাচ্চা গুলো নিয়ে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু খাবে কি? কোথায় থাকবে? বাপের বাড়িতে সে যাবে না। লেখাপড়া তো শেখেনি কিন্তু বাচ্চাদের স্কুলে পড়াচ্ছে। অতএব এখন চারটে বাড়িতে এসে কাজ করে। সবাই ওকে খুব ভালোবাসে মোটামুটি এখন সে ভালোই চলছে। সে চার বাড়ি থেকে প্রচুর সহায়তা পায় বাচ্চাদের লেখাপড়ার ব্যাপারে কিন্তু এত কিছুর পর যে ওর মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে যায়। মনের ব্যাকুলতা সে বুঝতে পারে অন্য কারোর বোঝার কথা না।
পতি মহারাজ খুশি হয়ে আরেকজন কে নিয়ে খুশিতে জীবন কাটাচ্ছে ।কিন্তু সে? ওর কথা কে ভাববে?
ভগবান সত্যিই ওকে একজন ভাবার লোক দিল অটো দিয়ে ওর সঙ্গে যে মহিলা প্রায়ই আসে এবং কথাবার্তা হয় সে ওর এক পরিচিত বন্ধুর ফোন নাম্বার দিলো ছায়াকে ।ছায়া কেন জানি মিসকল দিল সেই নাম্বারে ।
আজ প্রায় দু মাস ছায়া শুধু ফোনে ওর সেই বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে। যখন সে কথা বলে ওর চোখে মুখে একটা তৃপ্তির আভা ফুটে ওঠে ।সেই বন্ধুর চারচাকা গাড়ি রয়েছে ,সকালে কাজে বেরোবার আগে ছায়াকে ফোন করে। সেও এই ফোনের অপেক্ষায় থাকে ।
প্রত্যেক মানুষের তো একটা মনের চাহিদা থাকে সেটা যদি সে কথা বলে পূরণ করতে পারে তবে কি সেটা দোষের? মোহিনি বুঝতে পারছে না সে ছায়াকে কি বলবে ?ওর কি বলা উচিত সে যেন ওই ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখে ?কেন বলবে সে ?সে যদি একটু সময় নিজেকে একটু অক্সিজেন দিতে পারে তবে ক্ষতি কি জীবনে? সুখের সংজ্ঞাটা জানতো না। না হয় ফোনে সে বিবাহিত ছেলের সঙ্গে কথা বলে সে সুখ শব্দটার মানে খোঁজার চেষ্টা করছে,। এবং হয়তো পাচ্ছে ও।
নিমগ্ন
ভাঙ্গা ঘরের মতো আমার ভাষা
তপ্ত আগুনের ভেতর লোহার মতো পুড়ে ছাই আজ
এখন মায়েরা শেখায় না বাংলাভাষা
আমাদের আঙিনাজুড়ে ঝরে না বকুল
কাননে কুসুমকলি ফুটে না আর
ইংরেজি আর হিন্দিতে বাংলাভাষার ভাঙাতরী নিমগ্নপ্রায়...
মাতৃভাষা দিবস
মাতৃভাষা হলো সবচেয়ে সুন্দর ভাষা ,
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সমগ্র বিশ্ববাসীর আশা।
বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় 21.ই-ফেব্রুয়ারি,
এর বদলে মহান ব্যক্তিদের জীবনও চলে গেছে তাড়াতাড়ি।
মাতৃভাষার অনেক আছে কবিতা ও গান ,
এর পিছনে আছে ভাষার জন্য লড়াই য়ের অবদান।
যেদিন মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ,
সেদিন বিশ্ববাসী একটি কথাও কয়।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো 21.ই-ফেব্রুয়ারি,
আমি কি এত সহজে ভুলিতে পারি ।
যতদিন আছে বিশ্ববাসীর প্রাণ,
ততোদিন করবে মাতৃভাষার জয় গান।
এক কাপ চা
আবার যদি দেখা হয়,
এক কাপ চায়ের রইলো আমন্ত্রণ।
জানি তুমি জিজ্ঞেস করবে,এতো কিছু থাকতে-
চা-ই কেবল...?
জানো? প্রেমিকার কোনো সমার্থক হয়না।
রোজ সকালে চায়ের কাপে চুমু যেমন।
এইতো সেদিনের প্রথম স্পর্শ,
মনে পড়ে, সেই প্রথম চুম্বন!
হোকনা তা চিনি ছাড়া,
এক কাপ চায়ে-ই আমি থাকতে পারি।
বাকি সব ক্লান্তি বাহানা,
যত সব মিথ্যে বিবরণ।
চাঁদ মামা

✍️ প্রসেনজিৎ কুমার পাল
চন্দ্রপ্রভা হতে দেয় না রাতকে ঘুটঘুটে কালো,
অমাবস্যা ছাড়া সব রাতেই ফুটে শশীধরের আলো।
পূর্ণিমাতে স্পষ্টভাবে বিধুর প্রভা ফুটে,
কাজের চাপে হিমাংশু মামা পশ্চিম দিকে ছুটে।
অমাবস্যার রাত্রে চন্দ্রমা নেয় ছুটি,
এ ছাড়া আর তার কাজে নেইকো কোন ত্রুটি।
সূর্য ছাড়া অন্ধকারে দিবা,
সূর্য বিভা ছাড়া আভা হীন নিশাকরি।
চন্দ্রমার গায়ে কেমন যেন কালো একটা দাগ?
বাকিটা যেন চকচকে সাদা টাক।
তার কথা ভাবলেই আমি হই অবাক!
যে সারাটা রাত বিলায় চাঁদের আলো,
তার গায়েতেই নাকি একটা দাগ কালো।
এতো দেখি এক আজব লীলা,
যেমন জলে ভাসে শিলা।
প্রাইসে থাকে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে,
লোকে তারে চাঁদ মামা বলে ডাকে।
অবলা ভাষা
✍️ চন্দন পাল
পশুর ভাষা আছে, ভাষা আছে পাখিরও,
সুখ দুখ রাগ রোষ, দ্বেষ দেখায় রোজ।
বোবা ভাইটিও গরজ বুঝায় শরীরী ভাষায়।
মেঘ দেখলে সব, দলবদ্ধ হয় নিগূঢ় ভাষায়।
সে কোন্ ভাষা যা; অপরকে দূরে ঠেলে!
সে কোন্ ভাষা যা; ত্রস্ত করে!
সে কোন ভাষা যা; মায়ার মোহে বাঁধে !
সে কোন্ ভাষা, যা সুন্দর পৃথিবী গড়ে !
আছে এক ভাষা যা অন্তরে অন্তর টানে।
শিশুর বিমর্ষ ভাষায়; মা এগিয়ে দেয় বুক,
বলিরেখার ভাষায় প্রিয়, প্রিয়ার মাথায় বুলায় হাত,
জল আর বড়ি এগিয়ে দেয় কেউ; ঈশ্বরের ইসারায়।
একুশ আর একুশে নেই
১৯৫২সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী
রক্তে লেখা দুরন্ত বিকেল
আগুনের রক্ত জবা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা একুশের দলিল
একুশের সোনালী মাঠ
একুশের মহা সমুদ্র
পথঘাট পল্লী প্রান্তরে শুধুই বাজে
একুশ বাঁশির সুর ।
জব্বার বরকত রফিক সালাম
তাঁরা শুধু বাংলাদেশের শহীদ নেই
একুশ আর একুশের স্থানে নেই ।
একুশের রৌদ্র তরঙ্গ বিশ্বের প্রতিটি ঘরে
আগুন ছড়ায় ফাগুন বনে
শিল্পে সাহিত্যে
মানবতার রক্ত বীজে,
সব পাখি ঘরে ফিরে
সব নদী সমুদ্রে
সব সমুদ্র একই ভাষায় কথা বলে
একই রঙে হাসে
দিন রাত্রির প্রেমের মতো ।
১৯শে মে শিলচর এগারো শহীদ লাশও
সূর্যালোকের মতো দিগন্তরেখা নেই
এখন আর দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই
একুশ আর একুশের স্থানে নেই।
একুশ থেকে ফোটে ওঠে নদী
নদীতে নারীর মতো জল
একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধ
মার্চের সবুজ ইতিহাস বিজয় দিবসের রক্ত তিলক
লাল গোলাপের দু চোখ
নতুন করে আঁকা হয় বর্ণমালার মানচিত্র
সুঠাম শরীর ।
এভাবে একুশের কথা মনে হলেই জেগে ওঠি
জ্বলে ওঠি
রাত্রির আঁধার
এখন একুশের আর আলেদা কোন দেশ নেই
আলেদা কোন প্রতিকৃতি নেই
একুশ আর একুশে নেই
একুশ আর একুশে নেই ।
নুডলসের গপ্পো (সপ্তম পর্ব)
আরেকদল বিশেষজ্ঞের মতে-
The Food and Drug Administration (FDA) has classified MSG as a food ingredient that's "generally recognized as safe" which puts an end to all the claims certifying MSG as dangerous. It goes without saying that MSG should be used in small quantities and excess or regular use of this flavouring can be harmful to your body.
MSG is just a flavouring made with glutamic acid, which is a common amino acid found in foods like vegetables, cheese, tomatoes, fish, meat, eggs, lentils and other dairy products. MSG is also not non-vegetarian, as it is a chemical product created using naturally occurring substances.
We can safely conclude that MSG itself cannot induce a heart attack and neither cause a terminal illness. It is safe to use in small quantities and is not toxic for your health.
তাহলে কী দাঁড়ালো বিষয়টা? কেউ বলছেন ভালো নয়, কেউ বলছেন খারাপ নয়, কেউ বলছেন কম পরিমাণ শরীরে গেলে ক্ষতি নেই, বেশি মাত্রায় গেলে খারাপ!
আবার কেউ বলছেন, শরীরের ওপর অজিনোমোটোর প্রভাব ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৮ সালে 'চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিন্ড্রোম' আবিষ্কার হওয়ার পর জীবজন্তুদের ওপর এর কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চলে। ইঁদুর, গিনিপিগ ও বাঁদরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায় বিশেষত এদের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের চিরস্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে এবং মানব শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনাকে স্বীকার করে নেওয়া হয়।
(চলবে)
সম্পৰ্কটা আত্নাৱ
অনন্ত কাল বাঁচতে চাই অকৃত্ৰিম ভালবাসায়,
তুমি যে আমাৱ দূৱে থাকা নিৱাময়।
বুকেৱ ভিতৱ প্লাবন নামে নিয়ম ভেঙে,
গুমড়ে ওঠে ঢেউ হাজাৱো স্বপ্নে ৱেঙে।
একদিন ছাড়তে হবে মায়া পৃথিবীৱ দোৱ,
তবুও ভালবাসাৱ তৃষ্ণা আনে নতুন ভোৱ।
জাগে অদম্য ইচ্ছাৱ দুৱন্ত বাড়বাড়ন্ত
কোথাও যেন ছিঁড়ে যায় নিয়মেৱ আদি অন্ত।
নীৱবতাৱ কাছে নতজানু হয়ে দুহাত পাতি
উচ্ছ্বাসেৱ বন্ধন খুলে আহ্লাদে মাতি।
মনেৱ উঠোনে তোমাৱ অবাধ প্ৰবেশাধিকাৱ
আটকানোৱ মতো অসাধ্য সাধ্য কাৱ?
শুধু বিশ্বাসেৱ ভাড়াৱ অমূল্য সঞ্চয়
কখনো কাঙাল হবে না জানি ,দৃঢ় প্ৰত্যয়।
দূৱে থাকা খুব কাছে মানুষটি গোপনে,
সব দেয়াল ভেঙে কাছেই থাকবে অতি যত্নে।
বলবে,জীবনটা এতো ছোট কেন!
প্ৰতিজন্মেই তোমায় আঁকড়ে থাকব ,জেনো।
আমার বাংলা ভাষা
মনের ভাব বিনিময় মাধ্যম
যাকে বলি সবে ভাষা ,
আবেগ মেশানো মন্ত্র যেখানে
কেবলই মাতৃভাষা ।
হৃদয় ছুঁয়ে আসে যে
ভক্তি আর ভালোবাসা
সরল প্রাণ বিনিময়ে
একমাত্র মায়ের ভাষা।
যে ভাষাতে মিটে যায়
মনের আশা পিপাসা
আমার গর্ব আমার প্রাণ
আমার বাংলা ভাষা।
বাংলা ভাষা বাংলা বোল
মনের আদান-প্রদানে
বাংলার বাদ্য ঢাকঢোল
উৎসব পূজা পার্বণে।
এ ভাষা যে বলতে সহজ
শুনতে বড়ই সুমধুর,
বাংলা ভাষায় পাই রে
কোমল অনুভূতির সুর ।
কবির ভাষায় মাতৃভাষা
মায়ের দুধের সমান,
একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষা শহীদ
স্মরণে জানাই সম্মান।
সরস্বতী মায়ের বন্দনা
সরস্বতী মায়ের গানের বন্দনা,
গান রচয়িতার কুশল কামনা।
যারা আনন্দে গেয়ে যান গান,
উনাদেরই নিজেদের অবদান।
কন্ঠ তো মোদের সবার আছে,
সুকন্ঠ তো নেই সবার কাছে !
সুকন্ঠ যে সরস্বতীর আশির্বাদ,
দীর্ঘায়ু হোক দিলেন আশির্বাদ।
গানের মাঝেই লুকিয়ে শান্তনা,
গান করো নিরিবিলি আনমনা।
গান ভুলিয়ে দেয় যন্ত্রণা ব্যথা,
দুশ্চিন্তা করিও না শুধু অযথা।
সরস্বতী মোদের কন্ঠে বিরাজে,
তাই তো কথা বলি সকাল সাঁজে। জ্ঞানে বিদ্যায় সরস্বতীর অবদান,
সযত্নে রাখব মোরা দেবীর সম্মান।
বাক বন্ধ হলেই, কন্ঠও হলে রুদ্ধ,
বাক-শক্তি হারিয়ে গেলে হয় জব্ধ।
মিনতি মাগো দাও মোদের শক্তি,
তব পদযুগলদ্বয় ধরে করি ভক্তি।
একুশের স্মৃতি
আজও প্রতিটি বাঙালির স্মৃতিতে গেঁথে আছে,
বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদের,
হৃদয়বিদারক আত্ম বলিদানের কথা।
রফিক বরকত শফিউরের রক্তে,
ভিজেছিল সেই দিন বাংলা মায়ের আঁচল।
প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল সহস্র বাঙালি,
প্রতিধ্বনিত ছিল বাংলার আকাশে বাতাসে।
বিভীষিকাময় রক্তের আভা ঢাকার রাজপথে,
হাল ছাড়েনি কেউ জবাবে পাল্টা জবাব,
বিক্ষোভের প্রতিবাদ মিছিল উত্তাল উর্মাদনা।
নির্দ্বিধায় বুক পেতে দিল জব্বার সালাম,
গুলিবিদ্ধ হলো আরো শতেক বাঙালি,
স্মৃতির পাতায় প্রতিটি বাঙালির বক্ষ পিঞ্জরে,
গেঁথে আছে চির অমর শহীদের কথা।
মুক্তি পেলো বাংলা ভাষা রক্তের স্তুপে দাঁড়িয়ে,
একুশ তুমি চির অমর আছো আমার হৃদয়ে।
বীর শহীদদের সালাম জানাই বিনম্র চিত্তে,
বাংলা ভাষার জয়ধ্বনি আজ তোমাদের রক্তে।
বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব
তার সাথে পরিচয় একদিন দুপুরবেলা
ফেইসবুকে রিকোয়েস্ট ছাটাই করতে গিয়ে আচমকা।
বন্ধুত্ব করার অনুরোধ করেছিলো সে,
আমি মনে মনে বললাম ___ "এ আবার কোন
ছেলে হে? "
অতঃপর কবিতা দিয়ে প্রথম কথা,
আস্তে আস্তে ভালো বন্ধু হওয়া।
আমাদের হঠাৎ দেখা
বাস স্টপিজে দাঁড়িয়ে সে
আমায় দেখে বলা
----" আরে কে সে চিনা
চিনা " !
দুজনের গন্তব্য স্থল
ছিলো এক,
যেতে যেতে পথে দুজনায় হাসাহাসি হয়েছিলো অনেক।
আজ আমরা পাঁচবছরে পা রাখতে যাচ্ছি।
বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব,
বেঁচে থাকুক বিশ্বাস,
বেঁচে থাকুক আমাদের সম্পর্ক।
২১শে ফেব্রুয়ারি
হে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো আছো তুমি -
আমার হৃদয় জুড়ে,
বাঙালির হয়ে থেকো
তুমি চিরস্মরণীয় হয়ে।
এদেশ, ও দেশ ঘুরে,
তোমায় ভুলতে পারিনি।
একুশে ফেব্রুয়ারি
স্বদেশ আমার মাতৃভূমি
বাংলায় আমি বাঙালী,
তোমায় কি ভুলতে পারি?
যতই আসুক ঝড় বাদল,
যতই আসুক তুফান,
তোমায় আমরা করব স্মরণ,
হে একুশে ফেব্রুয়ারি মহান
হে বীর যোদ্ধা তুমি-
তুমি মোদের গর্ব,
হৃদয়ের মাঝে আছো তুমি,
হয়ে উজ্জ্বল তারা
শ্রান্তিহীনভাবে চলেছো
তুমি হে মহান
একুশে ফেব্রুয়ারি।
গোলাপ
আমি ফুলের তোরার সেই গোলাপ,
যাকে চিরেছো তুমি বারবার টুকরো করেছো,
কয়েক হাজার দিতে বলেছো আগুনে ঝাঁপ।
তাও আমি আছি ,থাকবো , পেওনা খারাপ।
আমি ফুলের তোরার সেই গোলাপ,
যাকে হতে বলেছো নির্বাক,
করেছো যাকে ঘৃণায় হতবাক,
দিতে বলেছো আগুনে ঝাঁপ।
তাও আমি আছি ,থাকবো , পেওনা খারাপ।
আমি ফুলের তোরার সেই গোলাপ,
কতবার যার হৃদয়ের তুমি বেদনা,
যার হৃদয়ের সাথে করছো ছলনা,
দিতে বলছো আগুনে ঝাঁপ।
তাও আমি আছি ,থাকবো , পেওনা খারাপ।
এই বাড়ীটা
সন্তান মাকে প্রশ্ন করে ঐ বাড়ীটা কার মা ?
মা বললেন এটা বাড়ী নয় বিদ্যা শালা।এখানে হয়
লেখা পড়া খেলা ব ই খাতা কলমে। এ বাড়ির ওপর নীচ ঘর বারান্দা বাগানে সাজানো আছে পড়ার বিষয়। ই্্লিশ এ পাশ্চাত্য হাওয়া বাংলায় জীবন প্রকৃতি সংস্কৃতে প্রাচীন ভৃষণ হিন্দীতে কোলাকোলি। ভূগোলের আঁতুর ঘর ইতিহাস এর ঘৌড়দৌড় বিজ্ঞান নাড়ী নক্ষত্র সমাজ বিদ্যার কর্ম শালা অ্্কের দাবা খেলা সাহিত্যে ফুটে ফুলকলি।
বাবা বললেন মহাকাশ ছেড়ে নেমে আসেন চন্দ্র সূর্য তারা নক্ষত্র পরীক্ষার খাতায়।বছর শেষে হয় মাপজোপ কে বেশি লিখলো । জীবনের প্রতি পদ প্রতিপল কিভাবে জেতা যায় লাভ ক্ষতির পাঠ।
সন্তান বললো আমি ও খেলতে চাই লেখাপড়া খেলা হাতে কলমে।
মা বললেন অবশ্যই খেলবে শিক্ষক দের সাথে।পাঠ শেষে দেবে গুরু দক্ষিণা দশ এ প্রথম হয়ে।
শিক্ষক যা দেখলেন শিক্ষার্থীর জানবার ক্ষুধা।ব ই খাতা কলমে দুর্দান্ত খেলা। শিক্ষা থীর জানবার নেশা তৈরী করে প্রশ্নের পর প্রশ্ন।যেন চলন্ত বিশ্বকোষ। প্রকৃতি মাঠঘাট নদীর উচ্ছলতা ভূগোলের এ মাঠ ও মাঠ সমুদ্রের জোয়ার ভাটা অ্্কের বাজি মহাকাশে বুড়ী ছোঁওয়া ইতিহাসের মাটি খোঁড়া। পিছিয়ে নেই ধর্ম তর্ক অর্থ আইন সামাজিক আলোড়নএমন কি রাজনীতি ও।
শিক্ষকরা পিঠ চাপড়ে বলে বাহ।তোকে দেখে আমাদের মনে জেগেছে বিশ্বকে জানবার ক্ষুধা।এমন ছাত্রের শিক্ষক ,যে গর্বে ফুলে বুক।
বাবা দেখলেন সন্তান শুকিয়ে গেছে লেখাপড়া শেখার কঠিনতম কলায়।রাতদিন দিনরাত এ শিক্ষাথীরকাছে। খাবার টেবিল এ অ্্ক বিছানায় বিজ্ঞান স্নান ঘরে ভূগোল দোলনায় ইতিহাস ঘুম ঘোরে ই্্লিশ স্বপ্ন ঘোরে বা্্লা রাজনীতি অর্থনীতি সমাজনীতি সু সমন্বয় এর সমন্বয়। স্বাস্থ্য সচেতন পরিবেশ বান্ধব।
বাবা বললেন আশির্বাদ করি তুই বিদ্বান হ দিগ্বিজয়ী হবি হবি আদর্শবান।
এমন করে কাটে দশ বছর । লেখাপড়া শেখার কঠিনতয় কলায় সন্তান আঁকে জীবনের স্বপ্নগুলো
। একদিন আসে মায়ের স্বপ্ন পূরণ এর মূহুর্ত। সন্তান এর উজ্বল মুখে মা দেখেন মধ্যাহ্নের সূর্য।
দশ এ সে প্রথম।
মা বললেন সোনা ছেলে।হীরা মাণিক আমার।
সন্তান বললো বড়ো ক্লান্ত আমি। একটুখানি ঘুমাতে দাও তোমার কোলে।
বিদ্যালয় বাড়িতে আজ মহারতির বাজনা। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা খেলছেন দোল। বাড়ির ইট কাঠ ক্্কিট এ সাজো সাজো রব। শিক্ষক দের হর্ষ রোল সহপাঠী দের কোলাহল সন্তান মুখ লুকায় বাবার আড়ালে।
প্রাণের ভাষা
ভাষা আমার প্রাণ ভাষা আমার সম্মান।
যতদিন বাঁচি রাখব ধরে মাতৃভাষার মান।।
মায়ের মুখের মধুর বুলি ফোটায় প্রাণে ভাষার কলি।
শহর নগর অলি গলি মাতৃভাষায় কোলাকুলি।।
বীর শহীদের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী।
আত্ম দহনে পূর্ণ সেইদিন কি করে ভুলতে পারি।।
একুশ আমার নতুন আলো রক্তিম সূর্যোদয়।
মনে মনে প্রাণে প্রাণে বিজয়ের সুর, গাঁথা গৌরবময়।।
সমাপ্তিহীন ঠিকানা
চাইলেই কি আকাশকে আপন করা যায়?
কিংবা পাহাড় অথবা সমুদ্র ;
তুমিই বলো;
মেঘের পরশে আমার স্বস্তিকা চূর্ণবিচূর্ণ,
আজ আকাশের মধ্যমায় স্থান নিয়েছো তুমি।
যেই আকাশটা ছিলো আমার পূর্ণতা;
সেই আকাশের বুকে, এখন তুমি মধ্যমণি।
ঐ দূরের আকাশটাই একদিন ,
মায়াবী আলো ছড়িয়ে অগোছালো মনটাকে বেঁধে দিয়েছিলো।
দিশাহীন নদীগুলো যেমন ছুটতে ছুটতে এক সময় সমুদ্রে মিশে যায়,
সেই সমুদ্রটাই একটা সমাপ্তিহীন ঠিকানা।
সেই সমুদ্রের বুকে পড়ন্ত বিকেলের ভাস্কর্যে দেখেছিলাম,
একমুঠো নীল নীল আকাশ,
যে আমায় ডেকেছিলো এক বসন্তসন্ধ্যায়।
এই পাহাড়টাও অনেক আপন ছিলো,
তার প্রান্তিক রেখা খুঁজতে খুঁজতে,
হারিয়ে গেছিলাল ;
ঝর্ণাহীন কোনো মায়াবী রেখায়।
আলোকিত আগামীর জন্য
✍️রেহানা বেগম হেনা
আলো দিতে দিতে সূর্যটা আজ বড়ো ক্লান্ত-
সাড়ে চারশো কোটি বছর ধরে।
তবুও এতোটুকু হইনি আলোকিত আমরা,
ঘুটঘুটে অন্ধকারে বসবাস আমাদের,
যেন চির অমাবস্যা করেছে গ্রাস।
যেদিকে তাকাই সেদিকেই শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার,
অন্ধকার আর অন্ধকার।
যেন অন্ধ কূপে নিমজ্জিত আমরা।
তাপ অবশ্য পেয়েছি বেশ পর্যাপ্ত,
তাই তো আজ তপ্ত দেশের মস্তিষ্ক।
এতো আলোতেও আমাদের অন্ধ বিবেক,
ধর্মান্ধতায় ঘিরেছে চারপাশ।
কবে আমরা শুষে নেব আলো?
কবে হবো আলোকিত?
নাকি এমনি করেই কাটাবো চিরকাল?
কত কত প্রশ্ন জাগে মনে।
তবে আমি আশাবাদী -
আমাদের সন্তান হবে আলোকিত,
বিশ্ব দুয়ার মাঝে হবেই একদিন প্রতিষ্ঠিত ।
একুশ মানে
একুশ মানে আমার ভাষা
একুশ মানে তোমার ভাষা
একুশ মানে সবার ভাষা
একুশ মানে বাংলা ভাষা
সবার প্রানে জাগায় আশা।
একুশ মানে রফিক সালাম
একুশ মানে শহীদ প্রান
একুশ মানে জব্বার বরকত
একুশ মানে ভাষার গান
একুশ মানে মাতৃভাষা
একুশ মানে ভ্রাতৃভাষা
একুশ মানে মুখের ভাষা
একুশ মানে মনের আশা
একুশ মানে স্বপ্ন সুখ
একুশ এলে ভরে উঠে গর্বে বুক।
দেশপ্রেমিক
বছর ছ'য়ের নাতিটা সেদিন , বললো আমায় ডেকে! "আমার মা কেন সিঁদুর পরেনা ? কেন থাকে মুখ ঢেকে?"
কি যে বলি তারে , পতাকার তরে , শহীদ হয়েছে বাপটা ।
ভাঙা বুকে কত সয়েছি প্লাবন, বয়ে গেছে ঝড় ঝাপটা।
বুকে টেনে তারে, বলি --"জাদু ওরে ,বুলেটে হারালো প্রাণ
দেশটাকে ভালোবেসে দেহখানি, হয়ে গেল খান খান
জয়হিন্দ বলে, লুটিয়ে পড়লো ভারত মাটির কোলে।
সেই থেকে ফাঁকা সিঁথি নিয়ে ঘোরে, ভাসে নয়নের জলে।
অবুঝ সে ছেলে বোঝেনিকো অত, দেশপ্রেম বলে কাকে?
চিৎকার স্বরে, এ ঘরে ও ঘরে , ডেকে ফেরে তার মাকে।
ম তুমি আমায় সত্যি বলো ? আমিও যুদ্ধে যাবো !!
কবে গো আমিও বাবার মতই , অমনি শহীদ হবো ?
কথা দাও কভু আমার জন্য কাঁদবেনা আর তুমি
বাবার মত আমিও যে মা , হতে চাই দেশ -প্রেমী।
বছর ছয়েই এমন জেদী সে , ছাব্বিসে হবে সেনা
সেদিনের তরে পুরো পরিবারে শুরু হয় দিন গোনা ।
মাস কেটে যায়, বছর শেষ হয় , দামাল ডিঙোই বয়স
বুকে অদম্য আগ্রহ আর দুই চোখ ভরা সাহস ।
"যে বাপের লালে ধুয়ে গেছে দেশ, সে বাপের ছেলে আমি
দেশটার প্রতি প্রেম ছিল তাই , হয়েছি দেশপ্রেমিক "
স্ত্রী কে এসে বলে, -"হয়েছি সৈন্য, এবার আমিও লড়বো ,
দেশদ্রোহী কে নাশ করে যদি মরতে হয় তো মরবো ।
যদি কোনোদিন বুকে গুলি বিঁধে হই নীলিমার সুর
সবুজ মাটিতে দাঁড়িয়ে তুমিও পরবে গেরুয়া সিঁদুর
বর্ণমালা
দেশভাগে বুক ভেঙেছে, ভাগ মানুষে মানুষে
ভাষার কোন ভাগ হয়নি কাঁটাতার চিরে গেলে
বর্ণমালায় এখনো সাজে এদেশে ও দেশে
বিদ্বেষ দূরে ঠেলে দিয়ে আত্মীয়তায় মেলে
যেখানে শব্দই একই কথা বলে একই গান গায়
সেখানে বর্ণমালা একসাথে পায় সকলের সম্মান
এখনও শকুনেরা সজাগ রয়েছে উড়ছে আকাশে আকাশে
কখন জানি বিভাজন টানে বুকটাকে ভরে হা-হুতাশে ।
ভয় হয় বুঝি লুট হয়ে যায় বর্ণমালার সংসার
নকশি কাঁথা কি জানি হারায় পার হয় কোন পারাবার
আমাদের পরব, আমাদের ঈদ, পূজাও বড়দিন
বর্ণমালার মালায় গাঁথি গাজন লাঠি খেলা,
মুর্শিদি আর বাউল গানের আখড়ায় মত্তলীন,
সীমানা পেরিয়ে জমে ওঠে আজও প্রাণের বই মেলা ।
এসো, তাই আজ এক সুরে বলি, একসাথে মিলিয়ে গলা
তোমার আমার প্রাণে বাঁচুক চিরায়ত বর্ণমালা ।
প্রেম
কে গো তুমি অপরূপা,রূপসী সুন্দরী
চোখ দুটি টানা টানা যেন মনোহারি।
বন্ধু আমার হবে নাকি, এসো একটু আলাপ করি
করোনা আর বাহানা, ওগো দিও না আর আড়ি।
আমি চাই তুমি আমারি প্রেমে পড়ো, মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবেসে সতেজ কর।
পদ্মকলির ফুটেছে ফুল, হৃদয় সরোবরে
দুজনে মিলে কাটব সাঁতার প্রেম নিবেদনের তরে।
মন, আশা, বাসার সম্মিলিত রুপই হলো ভালোবাসা
হাসি কান্না, দুঃখ, বেদনায় সৃষ্টি হয় নিরাশা। ভালোলাগা থেকে প্রেম, ভালোবাসা, প্রীতির উৎপত্তি হয়
ছোটা ছুটি র নেশা কেটে গিয়ে, ভালোবাসা অটুট রয়।
মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে যেমন নিঃশ্বাস ।ভালোবাসাকে টিকিয়ে রাখে তেমন বিশ্বাস।
যে ভালোবাসা আমাকে সারা জগৎ ভুলিয়ে দেবে
সারাক্ষণ তুমি শুধু আমাকে ভালবাসতে ব্যস্ত থাকবে।
সত্যি বন্ধু হয়ে তুমি থাকবে আমার সাথে
চিরদিন থেকো পাশে,হাত রেখো হাতে।
আকাশে চন্দ্র,সূর্য থাকবে যতদিন দুজনার মধুর মিলনে র প্রেমের স্মৃতি থাকবে ততদিন।
একে একে চলে যাচ্ছে
✍️ পাপিয়া দাস
একে একে চলে যাচ্ছে
পাপিয়া দাস,মেলাঘর।
শৈশবে বন্ধুরা সবে মিলে
খেলতাম কতো মজা করে।
কৈশোরের পা দিতেই
পড়াশুনার চাপে শৈশবের কিছু বন্ধুরা গেলো দূরে সরে।
কৈশোরের সেই বন্ধুদের নিয়ে
চলতো শুধু ফিসফিস সব কথা।
যৌবনে সেই পা রাখতেই
পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে কৈশোরের কিছু বন্ধু
থেকে গেল শুধু স্মৃতির পাতায়।
যৌবনের জীবন পাতায় কিছু বন্ধু
প্রেম সাগরে ভেসে ভেসে প্রেমে মজেছিল খুব।
সাংসারিক হয়ে যায় কেউ
কিছু ছুটে দায়িত্বের পিছু।
বিয়ে করে সংসারেতে দিল কেউ মন
কর্তব্যে বিলিয়ে দিল জীবন।
শৈশবে ভাইবোনও এক প্লেটে
খেতাম কেমন মজা করে।
হাসা-হাসি সাথে মারা-মারি চলতো
অবিরাম সকাল- সন্ধ্যায়,
আর রাত- দুপুরে।
মা -বাবার,আদর -যত্ন,
সবই ছিল কতো মিষ্টি।
দিন দিন চলে যাচ্ছে একে একে সব
শুধু এখন দায়িত্ব আর কর্তব্যের চাপ
এখন আমিও একজন মা,স্ত্রী
দায়িত্ব,কর্তব্যের বেড়াজালে বেষ্টিত।
ছেড়ে যাওয়া সব পেতাম যদি ফিরে
কি যে আনন্দ আর খুশি হতো।
বলছি কবর থেকে
✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ্য
তোমার প্রেমের প্রেমিক আমি,ঘুরছি শুধু হন্যি হয়ে
চারদিকেতে শত স্বাদের মিষ্টি মধুর ডাকটি আসে।
হরেক রকম বর্ণমালা,কত স্বপ্ন কত আশা
তবুও তোমার মাঝেই স্বর্গসুখ,তোমার মাঝেই মজা।।
প্রথম যেদিন দেখেছিলাম আলো,শুনেছিলাম ডাক
সেদিন থেকেই প্রেমিক হয়ে দিচ্ছি তোমায় হাঁক।
তোমার মাঝেই নাড়ীর বাঁধন তোমার মাঝেই শাসন
তোমার বর্ণেই প্রথম বুলি তোমার সাহসেই চলন।
তুমিই আমার প্রথম ভরসা প্রথম দিনের আকুলতা
তোমার মাঝে শৈশব তোমায় নিয়েই মরণযাত্রা।
তাই তো তোমার কান্নায় আমার ছটফটানি
তোমার মুক্তির দাবীতে রাজপথে বুক পেতে বসি।
একুশ কিংবা উনিশ তোমার লাগি কাঁদে
কবর থেকে আমি আজও দেখি বারে বারে।
বলছি তাই
তোমার মাঝেই স্বর্গসুখ তোমার মাঝেই বাঁচা।
অতিপ্রাকৃত
| ✍️ - মোহাঃ মোস্তাফিজুর রহমান |
| পাশবিক প্রবৃত্তির মনুষ্য অতিপ্রাকৃত চাহিদা মতো হরেক রকম কেউ বিলাসী জীবন পেতে কেউ একটু সুখ। উদ্বন্ধন রজ্জু আঁকড়ে হয়ে ওঠে পাশবিক দুনিয়ার সম্রাট লজ্জা ঘৃণা অনুতাপ জলাঞ্জলি দিয়ে ক্যাকটাসের কাঁটা বিদ্ধ হয়ে বেরিয়ে আসে চন্দ্রালোকে কিম্বা সূর্যালোকে যেথা নীল গ্রহের মনুষ্যলোক। |
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)































