সম্পাদকীয় প্রতিবেদন
১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত। পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি।
বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার। তার কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। নজরুল ইসলামকে বিদ্রোহী কবি ও বলা হয় কারণ কাজী নজরুল ইসলাম তারা কবিতার মাধ্যমে পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত করেন। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেন।
যাদের লেখনীতে নবোন্মেষ সাহিত্য পত্রিকার নজরুল জন্ম জয়ন্তীর বিশেষ সংখ্যা "বিদ্রোহী " সম্পূর্ণ হয়েছে তাদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আপনাদের কলম হয়ে উঠুক বিদ্রোহী।
ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার ( সম্পাদক )
শিবশঙ্কর দেবনাথ ( সহ সম্পাদক)
কবি নজরুল
✍️মনচলি চক্রবর্তী
বিদ্রোহী
কবি তুমি নজরুল,
দিয়েছ তুমি অজস্র সুন্দর সৃষ্টি, ভুলায়াছ সবাকার মন
আপোষ করনি কখনো অন্যায়,অবিচারের সাথে
মাথানত হয়নি কখনো
পরাধীনতার শিকলে
তোমার লেখনীখানিই ছিল
তোমার প্রতিবাদের নিরন্তর পথচলার হাতিয়ার
সৃষ্টিতে কবি তুমি অতুলনীয়
প্রতিটি হৃদয় তোমার সৃষ্টিতে আলোড়িত,
প্রনমি তোমায়
হে কবি আমরন
স্মরি তোমারেই চিরন্তন।
কালজয়ী নজরুল
✍️শাশ্বতী দেব
মনীষীদের মধ্যে তিনি অন্যতম,
ভেদাভেদ করতেন না যিনি হিন্দু-মুসলিমের মাঝে
যাঁকে স্মরণ করি তাঁরই কীর্তি দিয়ে,
যিনি মানতেননা মূর্তিপূজো।
সুদূর প্রসারী জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিল যাঁর লেখা,
বিদ্রোহের ছাপ ছিল যাঁর লেখায়
কালজয়ী কবিতা লিখেগেলেন যিনি,
ফুটে উঠত যাঁর লেখায় মানবতার কথা।
জ্ঞান ছিল যাঁর বহুভাষায়,
সাম্যবাদী কবি নামে হলেন যিনি খ্যাত
করলেন যিনি বহু গান রচনা,
স্রষ্টা যিনি বহু কবিতার।
প্রতিভা ছিল যাঁর বহুধা বিস্তৃত
লেখনশৈলী ছিল যাঁর অসাধারণ।
ভূতের খোঁজে শ্মশানে
✍️ প্রীতম ভট্টাচার্য
আজকাল হয়তো আমরা সবাই ইংরেজ হয়ে গেছি। তাই বাংলা ক্যালেন্ডার এর কথা আমাদের মনে নেই। আর তিথি মনে থাকার তো প্রশ্নই নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিকে । প্রথমে ভাবলাম অমাবস্যা। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার ধারনা ভুল। অন্ধকার দূর করার জন্য চাঁদটা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে । কিন্তু মেঘের সাথে লুকোচুরিতে জিততে পারছে না।
জানালা দিয়ে চাঁদের কিঞ্চিৎ আলো আমার ঘরেও ঢুকছে । আমাদের এখানে মশার যন্ত্রণা একটু কম। যদিও আগরতলা শহরে এই কথাটা অবাস্তব শোনাবে। কিন্তু এটাই ঠিক। এমন ও হতে পারে মশারা ভূতকে ভয় পায়। কারণ আমাদের বাড়ি শ্মশান , হেঁটে গেলে মাত্র পাঁচ মিনিট। একেবারে কাছাকাছিই বলা যেতে পারে। আজকাল বিদ্যুৎ খুব চঞ্চলতা দেখাচ্ছে। এমনিতেই মেঘলা আকাশের জন্য ভ্যাপসা গরম। মধ্যরাত হয়ে গেছে কিন্তু ঘুম আসছে না। এমনিতেও একেবারে অন্ধকারে আমার ঘুম আসতে চায় না। বিদ্যুৎ থাকলেও একটা ছোট লাইট জ্বালিয়ে রাখি।
একটা হ্যারিকেনটা মিট মিট করে জ্বলছে টেবিলে ।ঘুম যখন আসছে না। ভাবলাম উঠে যাই। কিছু লেখালেখি করি। ইদানিং ভূতের গল্প লেখার খুব ঝোঁক এসেছে মাথায় । গল্পটা অর্ধেক লেখা হয়ে গেছে । শেষের দিকটা কি লিখবো সেটা ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় একটা প্রশ্ন আসলো, অশরীরী বলতে আসলেই কি কিছু আছে ? মানুষ কে আনন্দ বা ভয় দেওয়ার জন্য আমরা লেখকরা গল্প লিখে থাকি। সেটা ঠিক। কিন্তু...... প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খেলেও সঠিক উত্তর আমার জানা নেই । কিন্তু অনেকেই বলে মধ্যরাতে নাকি শ্মশানে ভূত, প্রেত, অশরীরীরা হেঁটে বেড়ায় । আমার বাড়ির কাছাকাছিই নদীর পাড়ে একটা শ্মশান আছে। কিন্তু রাতে কখনো সেখানে যাই নি। তাই কথাটা কি আদৌ সত্য ? নিজে পরীক্ষা করে দেখিনি।
আজ বাড়িতে কেউ নেই। মা থাকলে হয়তো নিষেধ করতেন। এতো রাতে বাড়ি থেকে বের হতে দিতেন না।ধীর পায়ে শ্মশানের দিকে হাঁটতে লাগলাম । খুব গরম বলে একটা গামছা নিয়ে নিলাম। বার বার ঘাম মোছার জন্য।
সম্পূর্ণ জনমানবহীন রাস্তা । অবশ্য এই রাত বারোটার সময় রাস্তায় কেউ থাকার কথা ও নয়।
নদীর পাড় ঘেঁষে ছোট একটা শ্মশান । কোনোরকমে বেড়া দিয়ে বুঝানো হয়েছে এতটুকু শ্মশানের জায়গা । দু’একটা কুকুর দেখা যাচ্ছে এদিক ওদিকে । মানুষ পোড়ার আঁশটে গন্ধ পুরো শ্মশান জুড়ে । সন্ধ্যার দিকে হয়তো কাউকে পোড়ানো হয়েছে এখানে। চিতা থেকে এখনো হাল্কা হাল্কা ধোঁয়া উঠছে। ভূতের সন্ধানে দশ মিনিট ধরে এদিক ওদিকে ঘুরলাম। কই না কাউকে দেখতে পেলাম না। ভাবলাম কিছুক্ষণ দাঁড়াই। আবার কিছুক্ষণ হাঁটলাম, না। কেউ নেই। কিছুক্ষণ আগে একটা লাশ পোড়ানো হল। শ্রাদ্ধ টাদ্ধ কিছু হয় নি এখনো। ভূত রূপে তো তার দেখা মেলার কথা। ভূতেরা তো শুনেছি শ্মশানেই থাকে। আগের ভূত গুলিই বা কোথায়? নাহ্ , কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না । তাহলে কি ভূত বা অশরীরী বলে কিছুই নাই?"
এ যাত্রায় কোন লাভ হল না। বাড়ি ফিরে এলাম ।
পরদিন দুপুরে খগেন্দ্র দাদুর সাথে দেখা হল পথে । এই এলাকার বয়স্ক লোকদের মধ্যে একজন। বহুদিনের বহু ঘটনা উনার কণ্ঠস্থ। মাঝে মাঝে আমাদের বলে শোনান।
বয়স আশি ছুঁই ছুঁই হলেও আমাদের বয়সী ছেলেদের সাথে উনার ভালই যোগাযোগ। ভালই মেলামেশা।
দাদুকে দেখেই আমি জিজ্ঞেস করলাম - আচ্ছা দাদু , অশরীরী বলতে কি কিছু আছে ?
আত্ম বিশ্বাসের সাথে দাদু জবাব দিল- আছেই তো । থাকবে না কেন?
দাদুর কথা শুনে মনে হল, ভূতেরাও বুঝি মানুষ। আর আমরা যেমন পৃথিবীতে আছি, ভূতদের ও এভাবে থাকতেই হবে।
বললাম- কাল তো মধ্যরাতে আমি শ্মশানে গেলাম । কিছুই তো দেখতে পেলাম না ।
দাদু বললেন - ওদের কি সবসময় দেখা যায় ?তোমার দেখার ইচ্ছে ছিল বলে তুমি শ্মশানে গেছো। তবে ভূতদেরও তো ইচ্ছা থাকতে হবে, তোমাকে দেখা দেবার।
দাদুর কথাটা যুক্তি সঙ্গত মনে হল। কারোর সাথে দেখা করার ইচ্ছা না থাকলে আমরাও তো ব্যস্ততা দেখাই। তবে অমাবস্যার দিন রাতে গিয়ে দেখতে পারো ।
দাদু চলে গেলেন ।
বাড়ি এসে পঞ্জিকা খুলে দেখলাম। আগামী পরশু দিন অমাবস্যা।
মধ্যরাত ।
চারিদিক নিশ্চুপ । গত পরশু দিনের মত আজও শার্টের উপর গামছা গায়ে জড়িয়ে রাত বারোটায় শ্মশানের দিকে হাঁটতে লাগলাম । শ্মশানের আশেপাশে আর কোন বাড়ি ঘর নেই । ঝোঁপ জঙ্গলে ভরা চারপাশ । আমি শ্মশানে ঢুকলাম ।একটা চেয়ার পড়ে আছে । চেয়ারটাতে গিয়ে বসলাম । সম্পূর্ণ নীরব জায়গা । একটা পাখির ডাকও শোনা যাচ্ছে না । দিনের বেলাতেই এই শ্মশানের চারপাশ দিয়ে কেউ হাটেঁ না ভয়ে, আর আমি এত রাতে শ্মশানের ভিতর ঢুকে বসে আছি ।ভূত দেখার আশা নিয়ে। মানুষ শুনলে নির্ঘাৎ আমাকে পাগল বলবে ।
"নাহ্ , বিশ মিনিট তো হয়ে গেল । অদ্ভুত বা ভয়ংকর কিছু তো দেখতে পাচ্ছি না ।"
অগত্যা বাড়ি ফিরে আসলাম ।
অশরীরী দেখার চিন্তা বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ গল্পের দিকে মন দিলাম । কিন্তু অনেক ভেবেও গল্পের শেষ অংশটা মিলাতে পারলাম না ।
লেখার মন মানসিকতা অনেক সময় পরিবেশের উপর নির্ভর করে ।
কথাটা মনে পড়তেই ভাবলাম আবার একবার শ্মশানে ঘুড়ে আসি। এবার নিশ্চয় ভূতের দেখা পাব। সবাই বলে শ্মশানে ভূত থাকে। সবার কথা তো ভুল হতে পারে না।
শ্মশানের সামনে এসেই মনটা পাল্টে ফেললাম। এখান থেকে আরেকটু সামনে একটা জাম গাছ আছে। বছর কয়েক আগে সেখানে নাকি একটা ছেলে ফাসি দিয়েছিল। দ্বাদশের পরীক্ষা ভালো হয়নি বলে । পরে নাকি ফল বেরোনোর পর জানা গেছিল ছেলেটা ৮৭ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। বেচারা! অনেকেই নাকি সেখানে ভূত দেখেছে। একজন দেখলে মনে করতাম মনের ভ্রম। অনেকের তো আর ভুল হতে পারে না। নিশ্চয়ই সেখানে ভূত আছে।
দেখা যাক ভূতের দেখা পাই কিনা। হাঁটা শুরু করলাম সেই দিকে । জায়গাটা অনেক নির্জন ।শ্মশানের মতই। সম্পূর্ণ ভৌতিক একটা পরিবেশ । আমার ধারনা ওখানে গেলে হয়তো গল্পের শেষ অংশটা মাথায় আসতে পারে ।
জাম গাছের তলায় গিয়ে দেখি চাদর গায়ে দিয়ে বসে কে যেন কি লিখছে খাতায় । অবাক হলাম খুব । গাছটা রাস্তা থেকে তিন চার মিটার দূরে। রাস্তার লাইটের যে আলো, তাতে ভালো করে কিছু দেখা যাবার কথা না। এত রাতে লোকটা গাছের তলায় বসে কী লিখছে ?দেখে মনে হল , বয়স বেশী হবে না। সে ও কি আমার মত ভূত দেখতে এসেছে নাকি?
জোর গলায় জিজ্ঞাসা করলাম,"এই যে, তুমি কে ভাই ? এত রাতে এখানে কী করছো ?"
ছেলেটা কিছু না বলে সোজা হাঁটতে লাগলো । আমিও ছেলেটার পিছনে পিছনে হাঁটতে লাগলাম । হাঁটতে হাঁটতে একেবারে শ্মশানের সামনে চলে আসলাম । কিন্তু হঠাৎ করে ছেলেটাকে আর দেখতে পেলাম না । এভাবে কেউ হঠাৎ-ই গায়েব হয়ে পারে? বিশ্বাস হচ্ছিল না । আজ ও শ্মশানে একটা লাশ পোড়ান হয়েছে। চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া । আরে এক্ষণ আবার কে মরলো কিছুক্ষণ আগে আমি এই শ্মশানে এসেছিলাম ভূতের খোঁজে। কই? তখন তো এমন কিছু দেখতে পাইনি। ঘন্টা খানেকের মধ্যে এ কি করে সম্ভব? কিন্তু আমার লেখা অসম্পূর্ণ গল্পটা নতুন এই চিতা নিয়েই ।নিভন্ত চিতাটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম।
হঠাৎ একটা বিড়াল কোথা থেকে না জানি আমার সামনে এসে ঝপ করে পড়ল। কুচকুচে কালো বেড়ালটার চোখ দুটো খুব উজ্জ্বল। সামনে কোন গাছ টাছ ও নেই।
হঠাৎ আমার মনে হল আমার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে । তার নিঃশ্বাসের শব্দ আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি । কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য তার অনুভূতিগুলো কেন যেন আমার অনুভূতিগুলোর সাথে মিলে যাচ্ছে । এই প্রথম ভয়ে আমার শরীর কেঁপে উঠলো । ধীরে ধীরে পিছনে ফিরে তাকালাম । তাকিয়ে দেখি আমার সামনে একটা ছেলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছি ।ছেলেটার চেহেরা একদম আমার অল্প বয়েসের চেহেরার মত। দৃশ্যটা দেখে কাপঁতে কাপঁতে আমার হাত থেকে মোবাইল টা পড়ে গেল । ভয় পেলেও সাহস হারাই নি। রাস্তার লাইট গুলো ও একবার জ্বলছে একবার নিভছে। কি হচ্ছে বুঝতে পারছহিনা। মাটি তে পড়ে যাওয়া মোবাইলটা হাতে তুলে নিলাম। ছেলেটি আবার হাটতে শুরু করল ওই জাম গাছটার দিকে। আমিও তার পিছু নিলাম। ভূতকে যে আমি একেবারে ভয় পাইনা , তা নয়। কিন্তু গলায় পৈতা আছে বলে ভূত আমাকে হয়ত ভয় দেখাতে পারবে কিন্তু স্পর্শ করতে পারবে না । এমন একটা বিশ্বাস আছে।
ছেলেটার পিছে পিছে দৌড়াতে দৌড়াতে আমি চিৎকার করে চলছি, কে তুমি? দাঁড়াও, দাঁড়াও। কে শুনে কার কথা। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে ছেলেটা একেবারে জামগাছটার তলায় পৌঁছে গেল। আগে থেকেই একটা দড়ি ঝুলছিল জাম গাছটায়। ছেলেটা সোজা এই দড়িটাতে গলা গলিয়ে ঝুলে পড়ল। আর এই অবস্থাতে ও চিৎকার করে করে হাসছে।
শ্মশানের সামনে ছেলেটাকে দেখে একটু ভয় পেয়েছিলাম বটে। কিন্তু এখন ভয় কেটে গেছে। আমি এবার নিশ্চিত যে এই ছেলেটাই ভূত। যাক আমার অনেকদিনের ভূত দেখার ইচ্ছা পূর্ণ হল।
ছেলে ভূতটা ও বুঝতে পারল, আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না। তখন ফাঁসির দড়ি খুলে নেমে এলো।
আমি জিজ্ঞেস করলাম- তুমি কে?
ছেলে ভূতটা আবার হাসতে শুরু করল। কি মারাত্মক হাসি। এই হাসি যেন থামতেই চাচ্ছে না। হাসতে হাসতে জবাব দিল- এখনো কি বুঝতে পারছেন না, আমি হলাম ভূত। এখন এই জাম গাছেই থাকি।
- তোমার কথা আমি শুনেছি।
- কি শুনেছেন আমার ব্যাপারে?
- তেমন কিছু না। তুমি ফাসিতে আত্মহত্যা করেছিলে, পরীক্ষার ফল খারাপ হবে ভেবে।
ছেলেটি আবার অট্ট হাসি হাসতে লাগলো। এতো জোরে হাসতে লাগলো যে আমার কান ফেটে আসছে। হাসতে হাসতে বলল- আমি যা ভেবেছি, তাই ঠিক হল। সবাই মনে করেছে আমি পরীক্ষার খারাপ ফলের জন্য ফাঁসি দিয়েছি। যাক একদিকে ভালোই হল।
ছেলেটার কথাবার্তা আমার মনঃপুত হল না। কি বলছে ঠিক ভাবে বুঝতেও পারছি না।
জিজ্ঞেস করলাম- কি বলেছ? বুঝতে পারছি না।
- আসলে পরীক্ষা নয় আমি আত্ম হত্যা করেছি অন্য কারণে।
- পরীক্ষার ব্যাপারটাই তো আমরা জানি। তাহলে?
- আমার আত্ম হত্যার কারণ মৌমিতা।
- কোন মৌমিতা?
- মৌমিতা সরকার।
মৌমিতা সরকারকে আমি চিনি। খুব সুন্দরী আর ভদ্র টাইপের মেয়ে।পড়াশুনায় ও ভালো। তার বাবা দুপুরের স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
সন্দেহের কণ্ঠ্যে বললাম- কিন্তু?
আবার জোরে জোরে হাসতে লাগলো ছেলেটি। বলল- কিন্তুর কী আছে? আমার কথা বুঝি আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না।
- না না, বিশ্বাস হবে না কেন? আসলে আমার মনে হয় তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। মেয়েটার বাড়ি তো আমাদের বাড়ি থেকে কয়েকটা বাড়ি পরে, ছোট বেলা থেকেই চিনি। তাই বলছিলাম।
- আপনি কিছুই জানেন না। মেয়েটা একটা ফাজিল।তাকে আমি খুব ভালবাসতাম। সে যে আমাকে ধোঁকা দেবে বুঝতে পারিনি। কখনো কখনো মনে হয় ওকে শেষ করে ফেলি। কিন্তু পারি না। মন মানে না।
- তা, এসব কথা আমাকে বলছ কেন?
- আগেও সত্য কথাটা কয়েকজনকে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাকে দেখেই সবে ভয়ে পালিয়েছে। এমন কি আমার নিজের বাবাও। আজ অনেক দিন পর আপনাকে পেলাম। আপনি ভয় পান নি। তাই আপনাকে বলছি।
- আমাকে কি করতে হবে?
- আপনি আর কি করবেন? আপনাকে কিছু করতে হবে না। সত্য কথাটা জেনে রাখুন। আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখুন। আপনার মত অনেকেই যেমন জানে মৌমিতা খুব ভালো একটা মেয়ে। এই ধারনাটা বদলাক এটা আমি চাই।
- তা তো ঠিক আছে। কিন্তু নাম টাম ঠিক ঠাক লিখলে। কেউ যদি আমার নাম এ মামলা করে?
- এমন কিছুই হবে না। আমি কথা দিচ্ছি।
- ধরো মামলা হল। তখন ভূতের কথা কি আদালত শুনবে?
- তাহলেও আপনাকে সত্য কথাটা বলবো।
আমরা একই ক্লাসে পড়তাম। আমার তৈরি করা নোট লিখেই ও ভালো রেজাল্ট করত। ক্লাস সেভেন থেকেই আমাদের প্রেম। আমরা দুজন ছাড়া কেউই এই ঘটনা টা জানত না। কিন্তু আমার সাথে ও বিশ্বাস ঘাতকতা করল। একাদশ শ্রেণী তে সাব্রুম থেকে বিজয় নামে একটা ছেলে এসে আমাদের স্কুলে ভর্তি হল। মাঝে মাঝে দেখতাম ওরা দাড়িয়ে কথা বলে। আমি সন্দেহ করিনি। একই ক্লাসে পড়ে কথা তো বলতেই পারে। সন্দেহ করার কি আছে? কিন্তু আমি কি আর জানতাম?
টুয়েলভে উঠার সময় বিজয় আমার কাছাকাছি নম্বর পায়। তখনই আমার সন্দেহ হয়। পরে যখন সৈকত স্যার আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করল- কি কে আকাশ- তুই আর বিজয় কি একই মাস্টারের কাছে পড়িস? আমি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম- কেন স্যার? স্যার বললেন- তোদের উত্তর গুলি দেখি একই রকম। আমার আর বুঝতে বাকি থাকে না। আমার নোটস আমি নিজে তৈরি করি। মৌমিতা আমার খাতা নিয়ে যায়। তাহলে এই নোটস বিজয়ের কাছে গেল কি করে।
আমি বললাম- তুমি মৌমিতাকে এই বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করোনি?
- করেছিলাম, কিন্তু ও অস্বীকার করেছিল। তবু আমার মন থেকে সন্দেহ দূর হয়নি। এভাবেই আরও কয়েক মাস কেটে যায়। টুয়েলভে আমি মৌমিতাকে কোন নোট দিই নি। নোটস এর কথা জিজ্ঞেস করলে বলি, এ বছর আমি কোন নোটস বানাইনি। এ বছর আমি বই থেকে পড়ব।
- আসলে বই থেকে পড়াই ভালো।
- একদম। নোটস কিন্তু আমি বানিয়েছিলাম কিন্তু ইচ্ছা করেই ওকে দেইনি। ওকে দেওয়া মানে তো বিজয়কে দেওয়া। একদিন সন্ধ্যায় বিজয় আমাকে কল করে বলে, ওকে নোটস না দিলে ও মৌমিতাকে লেখা আমার প্রেম পত্র গুলি আমার বাবাকে দেখাবে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে দেখাবে। একই ফোনে মৌমিতা ও ছিল, সে ও একথা বলল। সে নাকি আমার নামে বানিয়ে বানিয়ে উল্টা পাল্টা কথা আমার বাড়িতে আর স্কুলে জানাবে। আমি কি করব কিছু বুঝে উঠতে পাড়ছিলাম না। আমার তেমন কোন কাছের বন্ধু ও ছিল না , যার সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করতে পারি। আর কোন দিন মৌমিতার বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি। এখন বললেই বা কি বলব। সবাই আমাকে খুব ভালো ছেলে বলে জানে। আমি প্রেম টেম করি লোকে জানলে কি বলবে। মৌমিতা দের পাশের গলিতে ওকে একবার চুমু দিয়েছিলাম। ওটার ও নাকি ফটো তোলা আছে বিজয়ের মোবাইলে। আর কি- একদিন রাতে মার শাড়ি নিয়ে চলে আসি এই জাম গাছতলায়।
আকাশের কথা শুনে আমার মনটা ভেঙ্গে গেল। মেয়েরা এভাবে বিশ্বাস ঘাতকতা করলে তো অসুবিধা। মেয়েরাই শুধু নয়। ছেলেরাও অনেক সময় বিশ্বাসঘাতকের কাজ করে। মেয়ে হোক আর ছেলে বিশ্বাসঘাতক দের কঠিন শাস্তি হওয়া দরকার। বিশ্বাস ঘাতকদের আরও অনেক ঘটনা আমি জানি। আমার বন্ধুদের থেকে শুনেছি। কিন্তু তাই বলে কেউ ফাঁসি দেয় নি। আসলে বয়েসের ও একটা ব্যাপার আছে। মানসিক ভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে এসব থেকে দূরে থাকা উচিত।
সান্ত্বনার স্বরে বললাম- তুমি সবাইকে জানিয়ে দিলেই পারতে। খামখা ফাঁসি দিতে গেলে কেন?
- আমার ও এখন তাই মনে হয়। কিন্তু তখন তা মনে আসে নি। তথন মনে হল, এই জীবন রেখে আর লাভ নেই। যে জীবনে প্রেম নেই। বদনাম আর বদনাম।
- তুমি বদলাও তো নিতে পারতে-
- মাঝে মাঝে মনে হয়। কিন্তু হয়ে উঠে না। পারি না। আমি মনে হয় এখনো ওকে ভালোবাসি। কেন জানি না। ও একটা বাজে মেয়ে। বিজয়কে ও ও ধোঁকা দিয়েছে, তারপর নীলাভ বলে একটা ছেলের সাথে প্রেম করত। এখন আবার অলিন্দ নামের একটা ছেলে।
-
হায়রে ভালবাসা......সকাল হয়ে আসছে।একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বাতাস বৈছে। সারা রাত ঘুমাই নি। শরীরটা ও দুর্বল লাগছে।কিছু না বলেই আকাশ অদৃশ্য হয়ে গেল।
বাড়ি ফিরতে খগেন্দ্র দাদুর সাথে দেখা। সকাল সকাল সূর্য না উঠতে তিনি হাটতে বের হন। তাই এই বয়েসে ও শরীরটা ধরে রেখেছেন।
আমি বললাম- কি দাদু? এতো সকাল সকাল-
- আমি তো রোজ সকাল সকাল ই বের হই। তুমি এতো সকালে কোথায় যাচ্ছ?
মজা করে বললাম- শ্মশান থেকে আসছি। একটা পেত্নীর সাথে দেখা করে এলাম। সুন্দরী পেত্নী।
- তা। ঐ পেত্নীর নামটা কি?
- মৌমিতা।
মৌমিতার পেত্নী হবার সম্ভাবনা আপাতত নেই। কারণ সে অনেক বছর বাঁচবে। এই মাত্র তার নাম নিলাম। আর হেলমেট আর মাস্কে মুখ ঢাকা একজনের বাইকের পেছনে করে ও কোথায় যেন যাচ্ছে। বয়েসের হিসাবে এখন কলেজে পড়ার কথা। আঁটোসাটো পোষাকে ওর ভরন্ত যৌবন দেখলে যে কোন কারোরই ওর প্রেমে পড়ার কথা। আমি আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালাম।
বিদ্রোহী নজরুল
✍️ সুমিতা স্মৃতি
বিদ্রোহী কবি নজরুল তুমি, গাই তোমার গান।
তোমার প্রতিবাদী কাব্য সম্ভার জাগায় প্রাণে প্রাণ।।
মানব জাতিকে দেখিয়েছ তুমি নতুন পথের দিশা।
আলো এনেছ তাদের জীবনে, যাদের জীবনে ছিল শুধু অমানিশা।।
সাম্যের গান গেয়েছ তুমি, বুকে রেখে বল।
বিরূপ পরিস্থিতিতেও তুমি হওনি কভু দুর্বল।।
আজীবন গেয়েছিলে তুমি মহামিলনের গান।
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক সমান।।
সাহিত্য, সঙ্গীত সর্বক্ষেত্রেই তোমার সমান অবদান।
সাম্যবাদী ও সর্বহারাতে দরিদ্রদেরকে দিয়েছ প্রধান স্থান।।
তোমার সৃষ্ট রচনাবলী মনে জাগায় শিহরণ।
প্রতিবাদী সাহিত্য রচনার বীজ তুমিই করেছ বপন।।
দুখু মিঞা তোমার দুঃখ কথা শেষ হল না এই জীবনে।
আজও তুমি সমান দীপ্তিতে বিরাজমান বাঙালীর মনন ও চিন্তনে।।
কবি নজরুল
✍️সুপর্ণা মজুমদার
বিদ্রোহী কবি তুমি
তুমি নজরুল,
বিশ্ব বরেণ্য তুমি
তুমি হিল্লোল।
হিমাদ্রি শিখর তুমি
তুমি বহ্নিশিখা,
সাগর কল্লোল তুমি
তুমি রক্ত লেখা।
রাধিকার প্রেম তুমি
শ্যামের বাঁশরী,
কালিকার কীর্তন তুমি
বাংলার কেশরী।
যোদ্ধার কাণ্ডারী তুমি
বাংলার পলাশী,
রক্তে যেথা লাল হল
ক্লাইবের অসি।
তুমি নটরাজ, উদ্যাম তুমি
ভেঙে করো ছাড়খার,
পল্লীজননী,ভাটিয়ালি তুমি
তুমিই মাঝির দাড়।
স্নিগ্ধ কোমল তুমি
তুমিই দামাল,
ইসা-মসির রহিম তুমি
গোঠের রাখাল।
সংগ্রামের হাতিয়ার তুমি
বিজয়ের জয়টীকা,
নূতন প্রভাতের সূর্য তুমি
তুমি দিগন্তের রেখা।
সবার মাঝে রয়ে গেছ কবি
তবু তুমি আজ মুক্ত,
প্রণাম জানায় তোমায় বীর
এ বিনিত চিত্ত।
আবার আসো নজরুল
✍️সাধন নমঃ
তোমা বিনা চলে না কলম,উঠে না হাতে অসি
তোমা বিনা গায় না কেহ সেই উত্তপ্ত অগ্নি গানখানি।
কবে আসবে বলো?কবে গাইবে সেই বিষের গান?
কবে আবার উত্তপ্ত করবে সেই তরুণ তাজা প্রাণ।
দেশ ভরেছে কালো আঁধারে, বলছে কথা কাক
শ্রেষ্ঠ মুখের অধিকারীরা আজ বড়ই নির্বাক।
ভরে গেছে পাপে দেশ,বিষিয়েছে সেই বায়ু
ঘুঙরাতে ঘুঙরাতে হারাচ্ছে প্রাণ সহস্র সরল শিশু।
এসো তুমি হে দূত, বাজাও বিষের বাঁশি
তরুণ প্রাণ হবে উদ্দমী, তুলবে হাতে অসি।
হারিয়ে গেছে শশি কিরণ,হারিয়েছে মমতা
রক্তপায়ীর দল চারিদিকব্যাপী বিছিয়েছে ক্ষমতা।
হবে আবার সেই রক্তক্ষয়ী পতন নেই কোনো ভুল
আজ এই শুভসংকট দিনে আবার আসো নজরুল।
প্রিয়তমা
✍️ডা: রূপক পোদ্দার
তখন তুমি নাই বা আমার প্রিয়, নাইবা রইলে আমার কাছে জানব আমি আমার এই সেই দেহে, এই সেই দেহে গো তোমারই বুকের শরম-ছোঁয়ার আকুল হয়ে কাঁপন যে ধরে আছে আমার সারা দেহে। এতই অসাড় আমি যে তোমার চুম্বন ও বুঝিনি মনে মনে দিয়েছিলে, তাও তো সে বোঝার সাধ্য ছিল না কেন আমার, বাড়িতে কত লোকই না ছিল তাই ঋণ কখনো স্বীকার করিতে পারি নাই। ভয়ে যদি কোন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কি না হয়? কী হতে পারতো? এসবে কী কিছু এসে যায় আমার আর তোমার জীবনে।
চেতনায় নজরুল
✍️গোপাল বনিক
গঙ্গার বুকে মৃত লাশ ছবি আঁকে,
বাতাসে ভেসে আসে বোবা কান্নার সুর।
আস্তাকুঁড়ে উচ্ছিষ্ট খোঁজে ক্ষুব্ধ যৌবন,
আহা মানুষের কি আশ্চর্য সুদিন!
দন্ডমুন্ডের কর্তারা এখন কারফিউ ছুঁড়ে দেয়
খেটে খাওয়া মানুষ ককিয়ে উঠে বেদনার অশ্রু হাহাকারে।
এইসব দেখে মহাজন মোহাঞ্জনে খঞ্জনি বাজায়,
সুনিপুন চতুরালিতে স্ফীত করে কালো ভান্ড।
প্রিয় নজরুল এখন তোমার থেকে চেয়ে নেবো-
বিদ্রোহের নিপুন ভোজালি,
শিখে নেবো শেকল ভাঙার গান।
ফিরিয়ে আনবো বঞ্চিত মানুষের শাশ্বত সুর,
তোমার চেতনায় নুতন করে উদিত হউক -
পুবকাশের বলয় কুসুম।।
প্রিয় কবি নজরুল
✍️পাপিয়া দাস
দুঃখময় জীবন তবুও
কবিতা সমগ্রে তিনি ।
সুরকার ও গীতিকার হয়ে
মানুষের হৃদয়ে বিরাজমান যিনি।
সুখ স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন
পাননি তিনি কখনও,
জীবনের দুঃখের সাথে লড়াই
তারই কাছ থেকে শেখানো।
কতটুকুই না কষ্ট পাই
যদি কামড়ে ক্ষত করে ভীমরুল,
তার চেয়ে বহু কষ্ট সহ্য করেন যিনি
তিনি আমাদের প্রিয় নজরুল।
অভিমানী বসন্ত
✍️আক্তার হোসেন
অভিমানী বসন্ত বসে আছে বৃষ্টির অপেক্ষায়,
শান্ত শিশির হারিয়ে গেছে উষ্ণ শহরে।
আমার কবিতা হারিয়ে ফেলেছে ছন্দ,
তবুও মনের ভাবনা লিখে রাখি,হোক সে মন্দ।
অক্ষর গুলো হয়তো নিরুদ্দেশ,
অর্থময় শব্দ গুলো হেঁটে চলে যায় অজানা দেশে।
প্রকৃতি থেকে শিখে ছিলাম পঙক্তির বিন্যাস,
এখন তাঁর–ই সাথে 'পা, মিলিয়ে চলেছি ছুটে।
ক্লান্ত শরীরে বেয়ে নামে অশ্রান্ত ঘাম,
আকাশে-আকাশে ডেকে বেড়ায় বিরহী মেঘ।
বিরহী চোখের জল তবুও পড়ে না এ ধারায়,
অভিমানের ফাটলে তৈরী হয় বিচ্ছেদ।
বিরহের জ্বালা সহেও কমে না অভিমান,
অভিমানী বসন্ত বলে মেঘ তুই চির বেইমান।
প্রিয় নজরুল তুমি
✍️সুজন দেবনাথ
প্রিয় নজরুল তুমি শ্রেষ্ঠ কবি
রয়েছো বাঙালির মন মন্দিরে।
তোমার জ্ঞানে আলোকিত ধরা
দীপ্তমান তুমি দুই বাংলা জুড়ে।।
ভেদাভেদ তুমি দূর করেছ ওগো
ছড়ায়ে দিয়েছো অমর বাণী।
সদা দিন দুঃখিরে ভালোবেসেছ
ছিলে তুমি এক অনন্য মহাদানি।।
কাব্যে,গল্পে,গানে,নাটকে তুমি
কলমে নিয়ত করেছো কত সমর।
বিদ্রোহী ভাব প্রকাশে আজও
সাহিত্যে হয়ে রয়েছো অমর।।
তুমি দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়েছো
সর্বদাই কেঁদেছ দুঃখীর তরে।
দুখু মিয়া তোমার নাম হয়েছে
এই নিখিল জগৎ মাঝারে।।
ভুলিবে না কভু জাতি তোমারে
চিরকাল থাকবে সবার অন্তরে।
পথ দিশারী তুমি রয়েছো সাথে
সকল অসহায়ে পথে প্রান্তরে।।
স্মরণীয় নজরুল
✍️সুস্মিতা দেবনাথ।
চুড়ুলিয়া গ্রামে জন্ম তোমর,
ডাকনাম দুঃখুমিয়া।
বাল্য কৈশোর যৌবন তোমার
কাটে দারিদ্র্যতাই ।
শিমাহীন দুঃখ - কষ্টের মাঝেও তুমি বাংলা কাব্য ও সাহিত্যকে ভুলনি।
বিষ্ময়কর প্রতিভা তোমার,
ভুলে যাবার নয়।
আজ কিছু লিখতে যেতে তোমাকে স্মরণ করে মন।
বিদ্রোহী কবি নজরুল তোমি,
লহোগো প্রনাম।
অভিশাপ
✍️শতরূপা
সবই তো অভিশাপ বলো !
এই মহামারী, এই ঝড়
হচ্ছে সব বিনষ্ট
খালি হচ্ছে প্রতিটা ঘর।
কেমন নীরব ছিল প্রকৃতি !
সইতো সব অত্যাচার,
দূষিত আজ মানুষ
প্রতিটা ঘর হলো ছাড়কার।
সেই তো ডেডবডি হচ্ছে প্যাকিং
প্লাস্টিকে মুড়ে, মুড়ে
পেতে হয় কর্মফল
দেখলে তো এই ভবঘুরে।
মানুষ নাকি পাখি
রাখা যায় না আটকে,
ছোট্ট একটা ভাইরাস
দিলো গেম পটকে।
সবই তো কর্মফল বলো !
ওতো শত অ্যাম্বুলেন্সর শোর
প্রকৃতি আজ হাসছে,
হারতে দেখে মানুষের জোড়।
জীবিত দেহের কবর খনন
✍️সুশীল দাস
আমি ভাবি মনে মনে
প্রতিটি ক্ষনে ক্ষনে
যত করেছি পাপ
সবই নির্জনে,নিজ গুনে।
অবহেলা, অত্যাচার শত
শরীর হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত
করেছি নিজ আত্মার হনন
জীবিত দেহের কবর খনন।
হয়নি বিচার আদালতে
তবু বিবেকের কারাগারে
হয়েছে শাস্তি ঘোষণা
ভোগতে হবে জীবন ভর।
ভুল শুধরে নেয়ার সুযোগটা
রয়েছে যৎসামান্য
যেহেতু বিবেক বুদ্ধিকে
করেছিলাম অমান্য।
অত্যাচার, অবহেলা সব
হচ্ছে প্রতিফলিত
ফল সেই রূপ তাহার
যেই রূপ তাঁর কৃত।
তুমি বিদ্রোহী
✍️প্রিয়াঙ্কা আদক
বর্ধমানে জন্ম তোমার গ্রাম চুরুলিয়া,
ছোট বেলায় ডাকনাম, ছিল দুখু মিয়া।
বাল্যকালের শিক্ষা তাঁর মক্তবে হয় শুরু,
কাব্য জগতে শ্রেষ্ঠ আসন, দেয় "বিদ্রোহী" , "ধুমকেতু"।
ধর্মপরায়ণ কাজী ফকির আহমেদ; ছিলেন পিতা,
স্নেহময়ী জাহেদা খাতুন; হলেন মাতা।
বয়স যখন আট বছর বাবা গেলেন মারা,
দরিদ্র পরিবারে আধপেটা খেয়ে, দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
বাঁচার জন্য কাজ জুটল রুটির দোকানে,
দেশপ্রেমের শিক্ষা পেয়ে,ক্ষোভ জাগলো মনে।
১৯১৭ তে পড়া ছেড়ে ; স্বাধীনতার জন্য সৈনিকে যোগ দেন,
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে "আনন্দময়ীর আগমন" লেখার জন্য কারাবাসে যান।
বিদ্রোহী কবি তুমি, প্রমিলা তোমার পত্নী,
কাব্য জগতে এক ঝড় এনেছিলে কালবৈশাখী।
প্রতিবাদী রূপে এসেছিলে তুমি; বাংলার বুকে,
স্বাধীনতার জন্য কলম ধরেছো, রটেছে লোকমুখে।
ধর্ম নিয়ে ভেদাভেদ যাদের তাদের বিঁধাও শুল,
সুনাম নিয়ে ধরনীতে তুমি ফিরে এসো নজরুল।
ঢাকায় তোমার শেষ যাত্রা পক্ষাঘাত শুরু,
শব দেহ শেষ হলো নেইকো আর দুখু।
নামটি তোমার কাজী নজরুল ইসলাম,
আমরা তোমায় করি অজস্র সম্মান।
ফিরে এসো মায়ের এই শুন্য বুকে,
দেশের জন্য আবার দাঁড়াতে হবে রুখে।
ফিরে এসো......হে কবি, ফিরে এসো!
জাগো হে জাগো
✍️ মন্দিরা ভারতী
দেয়না কেউ বিদ্রোহের আহ্বান,
এখন হারিয়ে গেছে সেসব শ্লোগান।
ভুলে সবে লড়াই-এর কথা,
করেছে আপন মৌনতা ও ব্যথা।
চলবে না আর এমনি করে,
সাহস কর তৈরি মনে ওরে।
লড়াই যখন নিজের মোদের,
দিতে হবে ডাক নিজেকেই নিজে বিদ্রোহের।
জাগো হে জাগো তোমরা সবে,
ভরে যাক চারিদিক বিদ্রোহের রবে।
অভ্যেস ছেড়ে জেগেও ঘুমোনোর,
নিয়ে এসো এক নতুন ভোর।
Kazi Nazrul Islam
✍️রাজা দেবরায়
You have suffered a lot in life,
by staying wide awake at nights.
That is why you are successful, 'Dukhu Miah'.
How many things have you done in one life!
Writing and composing songs,
always played in your mind.
You were the first to create Bengali Ghazals.
How many music lovers sang,
Hindu-Muslim all together.
Your wonderful creations are the classical songs.
How many more creations,
your contribution is great!
You also proved that one can be educated
without gaining formal education too,
and the whole world sings and praises the creations
of this legend and thus, he became immortal.
নিজস্ব বেলা
✍️মিঠুন দেবনাথ
ভোর হল জীবনের প্রথম ধাপ l
ভোর হল অচেনা,অজানা,
ভোর হল অন্ধকারের আচ্ছন্ন আলো ,
উদিত সূর্যের সাথী ও আলোকের পথিক l
সকাল হল জীবনের দ্বিতীয় ধাপ l
জীবনের ছোট ছোট আশা ,আলো
সকাল হল রূপান্তরিত আলোকে পৌঁছানো ও
অচেনা শহরেই পাড়ি দেওয়া l
দুপুর হল জীবনের তৃতীয় ধাপ l
দুপুর হল জীবনের লক্ষ্য,পথ এবং বন্ধুত্ব,
দুপুর হল অচেনাকে চেনার প্রতিভা,আগ্রহ,
সকলের আশার ও স্বনির্ভরতার আলো l
বিকাল হল জীবনের চতুর্থ ধাপ l
বিকাল হল জীবনের ভালোবাসার পথিক ,
বিকাল হল সকলের প্রতি দায়িত্ব,কর্তব্য পালন
সংসার মোহিত ও সখীকে নিয়ে কাটানো মহুর্ত l
সন্ধ্যা হল জীবনের পঞ্চম ধাপ l
সন্ধ্যা হল নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়া ,
সন্ধ্যা হল নিস্তব্ধতা,ধীরে ধীরে বঞ্চিত হওয়া ও
অস্থিরতা,বঞ্চনা ও লাঞ্ছনা,অতীতকে ভাবা l
রাত্রি হল জীবনের ষষ্ঠ বা শেষ ধাপ l
রাত্রি হল জীবনের ভুলন্ত মন ও বেদনা,
রাত্রি হল জীবনের অন্ধকারে পৌছে যাওয়া ও
সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া l
কাজ
✍️দীপ্র দাস চৌধুরী
দূর থেকে দূর শুধু দেখা যায় লাশেদের স্তূপ
তার মাঝে একা একা দাঁড়িয়ে রয়েছে এক কবি,
সব কিছু দেখে নিজে সাক্ষী থাকছে তার লেখার
আমরা পড়ার নামে চোখে শুধু এঁকে যাই ছবি।
একলা দুপুরগুলো দিয়ে যায় শ্মশানের ডাক,
মৃত মানুষের মতো আমরাও চেয়ে ব'সে থাকি।
কবি তো দাঁড়িয়ে থাকে আকাশে নিজের চোখ মেলে
লিখতে গেলেই কথা আজ স্রেফ দিয়ে যাবে ফাঁকি।
রাত নামে চুপিসারে মুছে দিয়ে দুপুরের ঘাম
একটা একটা ক'রে কথা নামে ডায়রির ভাঁজে...
তারপর পাহাড়াতে ব'সে যায় কবিতার দল-
কবিকে জ্বালিয়ে মারে সারারাত ঘুমহীন কাজে।
মেয়ে মানে
✍️মৌমিতা দাস
চারিদিকে শুধু যন্ত্রণায় ভরা মেয়েদের মন ,
মায়া-মমতা দিয়ে তৈরি করা মেয়েদের জীবন ।
মেয়ে মানে ,
১৮ বছর হলেই বাড়ির বোঁজা।
মেয়ে মানে ,
পরিবারের সবার দুঃখ খোঁজা।
মেয়ে মানে ,
নিজের দুঃখ ভুলে সকলকে সুখে রাখা ।
মেয়ে মানে ,
সবকষ্ট লুকিয়ে রাখা ।
মেয়ে মানে ,
জীবনে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার আশা।
হে ঈশ্বর
তুমিও কী বোঝ না মেয়েদের মনের ভাষা ?
মেয়েদের মনেও থাকে
কিছু স্বপ্ন আর কিছু প্রত্যাশা ।
তুমি আজও কেন আছো চুপ করে ?
বুঝিয়ে দাও মেয়েরাও পৃথিবী গড়তে পারে ।
তুমি, শুধু তুমি
✍️মৌমিতা চক্রবর্তী
যখন কেউ আমায় জিজ্ঞেস করে তোমার নাম
আকাশ দেখাই আমি
তোমার ঠিকানা খুঁজলেই চোখ পৌঁছে যায় লেকের ধারে
ওখানেই রোদ মাখে পরিযায়ীরা
না থেকেও থাকতে পারে কেউ উদয় থেকে অস্তে?
ভাবিনি কোনোদিন হবে বিমূর্ত ক্যানভাসে মূর্তিমান প্রেমিক আঁকা,না ছুঁয়েও যাকে ছোঁয়া যায় অকিল্মিষ বোধে।
আমার হয়েও তুমি আমার নয়
অন্য কারোর?
না কী করে বলবো তা!
হতে পারে স্বপ্ন সত্যি-ভোরের
হতে পারে অতিক্রম-না বলা কথা
হতে পারে সেজে উঠছে-প্রেমিক কাশফুল
ভরাবে আমার শূন্য নদীকুল
হতে পারে লক্ষ্মীর ঝাঁপি খুলে পাবো অজানা ঠিকানার অদেখা প্রেমপত্র
অঙ্ক খাতায় আরশোলার সুখী সংসার
বীণাপাণি গাইতে পারে- ভালোবাসি ভালোবাসি
চাইতেই পারে সমবেত কন্ঠ--- প্রেমিকং দেহি।
চাইবো না আমি। জানি,জানি তো
আছো তুমি।
কল্পে-অনুকল্পে
প্রারম্ভে-ছেদে।
আমি শিক্ষিত
✍️ মোঃ আলামিন
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
দু কেজি ডিগ্রী সার্টিফিকেট নিয়ে
ঘরে বসে আছি।
কিন্তু সুশিক্ষিত হতে পারেনি।
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
সৎ পথে চলতে পারি না, ভালো কাজে সাহস নেই, মনুষ্যত্ব নেই, নিজের স্বার্থ খুঁজে বেড়াই।
ঘরের কোণে বসে খবর দেখতে জানি।
বাহিরে প্রতিবাদ করতে ভয় পাই।
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
কারোর জীবন নিয়ে খেলা করায় কোনো দ্বিধাবোধ নেই আমার।
মানুষের দোষ গুণ, সমালোচনা, কালো সাদা, শিক্ষিত অশিক্ষিত,
বিচার করতে বেশ ভালই লাগে আমার।
মদ্য পান আর নেশাতেই দিনটা কাটিয়ে দেই,
বাকি বন্ধুরাও আমার মতো।
এই ভাবে কেটে যায় সারা দিন।
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
আমি ভবিষ্যৎ চিন্তা নিয়ে ব্যস্ত,
কোথায় ধর্ষন হচ্ছে, কোথায় কি হচ্ছে
সেটা দেখার বিষয় আমার না,
দেখার জন্য পুলিশ আছে আইন আছে!
আমি কেন?
কাউকে রক্ত দান করা মানবতা দেখানো আমার কাজ নয়!
আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে খুঁজুন!
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
নিজের স্বার্থ আগে দেখা,
নিজের খেয়ে অন্যের চিন্তা
সেটা সম্ভব না ভাই!
আমি রাজনীতিবিদ আমি এই পদে
আমি সেই পদে ,
নিজের পদ আর স্বার্থের জন্য মানুষ কে ঠকানো ও বোকা বানানো আমার কাজ!
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
অন্যের বোন ধর্ষন ও কো কোথায়
শিকার হচ্ছে,
আমি চিন্তা করার কে ভাই?
আমার বোন তো ঠিক আছে!
দরিদ্র অসহায় মানুষ অত্যাচারিত ও
শোষিত হচ্ছে।
এইসব প্রতিবাদ করা আমার কাজ না,
আমি ছাড়া প্রতিবাদ করা সমাজে অনেক লোক আছে।
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত,
বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে ও সম্মান দিতে হয়
সেটাও এখন আমার দ্বারা হয় না।
মা-বাবার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সে সংস্কার টুকু হারিয়ে ফেলেছি!
সেই সংস্কার এখন বিলুপ্তের পথে।
হ্যাঁ আমি শিক্ষিত
শিক্ষিত সমাজে মনুষ্যত্ব নামক জিনিসটা এখন বিলুপ্তির পথে।
দুখু মিঞার কাহিনী
✍️অনুশ্রী ভট্টাচার্যি।
মুগ্ধ হাওয়ায় রাতের শেষে উদিত হয় রবি। এ মহান বিশ্বের বুকে কত মহামানবের ছবি।। নব ভোরের, নব আলোকে, বর্ধমানে জন্ম নিলেন আদর্শ মহান কবি।
সেদিন থেকে যেন চারিপাশে সব কালো ছায়া হয়ে গেল রুদ্ধ।।
মহান কবির আবির্ভাবে এই বাংলার মাটি মুগ্ধ। কত কবিতার নতুন বাক্যে বিদ্রোহের সুর ওঠে।। দুখুমিঞার আবির্ভাবে হিন্দু মুসলিম বিভেদ দূর হল বটে।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান, সকলের জন্য সমানাধিকার তাঁর দৃষ্টি।।
অগ্নিবীনা, বিষের বাঁশি, প্রলয় লিখা, মুক্তি প্রভৃতি তার কত সাহিত্য সৃষ্টি।
তাঁর কবিতা, সাহিত্যে ভরে গেল এ ভারত মাতার কোল।।
তাঁর লেখুনিতে কতরকমের অর্থ যুক্ত ছন্দ মাত্রার বোল।
সঙ্গীত যেন বেঁজে ওঠে তাঁর বিদ্রোহের সুরেসুরে।। জাতপাতের সব বিভেদ ভুলে সবার প্রান ওঠে ভরে।
স্বাধীনতার জন্য তাকে লড়াই করতে গিয়েও বন্দি থাকতে হয় ইংরেজদের কারাগারে।। কারগারে বসেও বিদ্রোহের আগুন ঝড়ায় তার লেখুনিতে।
তাঁর এই মহান সৃষ্টি গুলি পারবো কী আমরা ভুলিতে ?
সৃষ্টি তোমার অচল হল,এক অজানা দুরারোগ্য ব্যধিতে।।
বাক্ তোমার রুদ্ধ হল এ কোন নির্মম আঘাতে। অকালে তুমি বিদায় নিলে মোদের দিলে ছেড়ে, হে বিদ্রোহী কবি, তুমি আছো , তুমি থাকবে, চিরদিন মোদের হৃদয় জুঁড়ে।।
ক্যানভাস
✍️ কানু বনিক।
বসন্তের সন্ধ্যায়, আমি যখন
বসি রংতুলি নিয়ে
প্রেমিকের সন্ধান
তখনও পাই নি।
কি আঁকবো,
কি সাঁজাবো,
সবই তো অলংকার
আবেশে মিশে যায়
সব হ্রদয়ের মোড়ে।
খুঁজেছি আমি সেই,
রূপকথার রাজপুত্তর
পঙ্খীরাজে আসবে,
উড়ে এসে
নিয়ে যাবে আমায়,
গগন ছুঁয়ে থাকবে,
থাকবে স্বপনে-মননে,
আমার তুলিতে, আর
ভরিয়ে দেবো মনের ক্যানভাসে।
করোনা বিদ্রোহ
✍️ বিপ্রদীপ চক্রবর্ত্তী
মৃত্যু মিছিলের হাহাকার দেশে,
গঙ্গায় ভাসে লাশ--
পেটের জ্বালায় গরীব জাতির
নেইকো কোনো ত্রাস!
কৃষক সমাজ পায়না তাদের
খাজনার সঠিক মূল্য,
দেশটা আর নেইকো স্বর্গ
একদমই নরক তুল্য।
করোনা কারোর জাত দেখেনা;
গরীব নাকি ধনী!
দেখে না কারোর জীবিকার রেকর্ড;
মালিক না শ্রমিকশ্রেণি!
ডাক্তাররা খাচ্ছে হিমসিম যেথা,
মূর্খরা সেথায় জঙ্গি--
অযথা অকারণ জনাকীর্ণতায়,
অসচেতনতার ভঙ্গী।
মাস্ক যেন কোনো ঠাট্টা তামাশা,
যেন গলার আভূষণ।
রাজনীতির তো ব্যাপারই আলাদা!
যেনো উৎসবের তোষণ--
বাড়ছে সংখ্যা, মরছে মানুষ;
দায়ী কি আমরা নই?
আজ যদি তোমরা না শোধরাও;
পাবে কি শেষে থই?
অমূল্য ভালোবাসা
✍️ অন্তরা ভট্ট
আমার ছোট মামনিটা সিঁড়িতে বসে খুব কান্নাকাটি করছে। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই কান্নাকাটি আরো বেড়ে গেল ।কি হয়েছে রে মা? বল আমি শুনি ।মামনি বলছে আমার সবচেয়ে কাছের, আমার ভালোবাসার প্রেমিক, আমার আত্মার আত্মীয় কে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার জীবনসঙ্গী, আমার জীবন যুদ্ধের কখনো মোরচে না ধরা তরোয়াল আর ঢাল কোথায় খুঁজবো তাদের ?
হঠাৎ দেখি আমাদের বাড়ির কুকুরটা ছাদ থেকে খুব ডাকাডাকি করছে। গিয়ে দেখি সে বই আর কলমটাকে আগলে বসে ছিল। যদি কেউ নিয়ে নেয় তাই। বৃস্টি আসাতে হঠাৎ ডাকাডাকি শুরু করে দেয় এগুলো ভিজে যাবে জেনে। মামনি এসে বলে এই যে আমার প্রেমিককে খুঁজে পেলাম। বিকেলে এসেছিলাম ভুল করে এই বই আর কলম গুলি রেখে গিয়েছিলাম।
নজরুল
✍️মুন্সি দরুদ
কবিও গায়ক হয়, কবিও হয় ঈমাম,
কবিও বাজায় বাঁশি, যাঁর বহু সুনাম ।
কবি চুরুলিয়ার দুখু মিয়া নজরুল,
সাম্যের গান গেয়ে ফুটিয়েছেন ফুল ।
স্মরণে বিদ্রোহী কবি
✍️ সুপর্না কর
কালবৈশাখী ঝড়ের ন্যায়
তুমি এসেছিলে এই বাংলায়।
তোমার বিদ্রোহী কলমের নিকট
নতমস্তক হয়েছিল সকল অন্যায়।।
ধর্ম নিয়ে করোনি ভেদাভেদ
করেছো সবাইকে আপন।
তোমার কবিতায় ফুটে উঠেছিল
হিন্দু-মুসলিমের মিলন।।
অন্যায়ের প্রতিবাদে হয়ে উঠেছিলে,
বাংলার বিদ্রোহী কবি।
তোমার কবিতায় ঝলসে উঠেছিল,
নতুন ভোরের রবি।।
তুমি সবাইকে সেদিন, প্রেরণা দিয়েছিলে
জাতিভেদ ভুলে, স্বাধীনভাবে বাঁচার।
তাইতো তুমি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলে
ক্ষান্ত করতে শোষকের অত্যাচার।।
কারাগারে থেকেও তুমি শুনেছ
গোটা বাংলার আর্তনাদ।
তুমিই সেই কাজী নজরুল ইসলাম,
যাঁর গানের মাঝেও ফুটে উঠেছিল অন্যায়ের প্রতিবাদ।।
স্বার্থত্যাগ
✍️প্রবীর পাঁন্ডে
নিঃস্ব দুর্বলের প্রতি এত অত্যাচার
ভালো নয়!ভালো নয়!মানব তোমার।
তাহাদের প্রাণ আছে, আছে অনুভব;
তুচ্ছ হোক, ক্ষুদ্র হোক তারাও মানব।
অর্থ মদে মত্ত হয়ে না করি বিচার
সকলের সাথে একি রূঢ় ব্যবহার।
প্রেমহীন, স্নেহহীন,নিষ্ঠুর- নির্দয়
কঠিন পাষাণ বৎ হে, বজ্র হৃদয়-
ভূলে গেলে শিষ্টাচার,ভদ্র আচরণ;
সংস্কার-সংস্কৃতি, মিষ্ট সম্ভাষণ।
গোটা দুই ভূমিখণ্ড করে অধিকার
আপনার শ্রেষ্ঠতার কর অহংকার;
দরিদ্র,ভিক্ষুক জনে তুচ্ছ করি জ্ঞান
সর্বহারা-সর্বস্বান্ত কর অপমান।
ভালো নয়! ভালো নয়! এত স্বেচ্ছাচার।
ত্যাগ কর এ বাঁধন স্বার্থপরতার,
হিংসা-দ্বেষ পরিপূর্ণ এ নর সংহার।
দাও জলাঞ্জলি যত সব ক্ষুদ্রতার।
বৃথা দম্ভ অহংকার দিয়া বিসর্জন
সকলে আত্মীয় ভেবে কর আলিঙ্গন।
বিশ্বজুড়ে শ্রেষ্ঠ-নীচে একীভূত করে,
বাঁধো সবে একসূত্রে পূর্ণ প্রেম ডোরে।
আকাশ ছোঁয়া
✍️ সীমা দাস
স্বপ্নিল ঘুড়ি,
উড়েছিল সেদিন।
ঘুড়িটির দু_পিঠেই,
রংবেরঙের ছবির আঁকা।
লেজটিও কম নয়,
দেখতে যথেষ্টই সুন্দর।
নেচে_নেচে উড়ে চলে,
এপাশ থেকে ওপাশ।
আর থাকল ঘুড়ির কথা,
এ আবার বলব কী?
একটু পর পরই মনে হয়,
এই আকাশের গা স্পর্শ করেছে।
কিন্তু আজকের দিনে,
হাওয়া তার দিক বদলেছে।
এদিকে থেকে ওদিকে,
ঘুড়িটি বারবার হুচোট খাচ্ছে।
মনে হচ্ছে,
এই বুঝি ছিটকে পড়বে।
লাটাই কিন্তু ধরেছে সুদক্ষ চালক,
তবে হাল ধরা ক্রমশই কঠিন।
হাওয়ার দুর্দান্ত তাণ্ডবে,
যেনো এক্ষুনি লুটিয়ে পড়বে।
হার মানবেনা সে দক্ষ চালক,
আবারও ধরেছে হাল।
এমনই চলছে অনেকক্ষণ,
ঘুড়ি ও চালকের হাওয়াই যুদ্ধ।
যুদ্ধের সেই টানাপোড়েনে,
দিন প্রায় শেষের পথে।
ঘুড়ির লাটাই,
এখনো শক্ত হাতে।
আগামীদিনে ঘুড়িটি,
আবার উড়ে বেড়াবে।
এক অন্তহীন সীমানা ছাড়ায়ে,
একদিন নিশ্চিত আকাশ ছুঁয়ে যাবে।
অনুকবিতা
অনুকবিতা:১
মৌনতা
✍️ গোপাল দে
সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করাটা
তোমার নিত্যদিনের স্বভাব।
অন্নবস্ত্রহীন পথশিশু থেকে শীতাতুর বৃদ্ধ
সবাই তোমার সম্মুখে,
আর তুমি উদাসীনতায়
মুখ লুকাও খবরের কাগজে।
অনুকবিতা:২
লজ্জিত বাক্ স্বাধীনতা
অনেক বিনিদ্র রাত্রি কেটে যায়
আত্মচিৎকার আর লেখনীর তীব্র তান্ডবে।
এদিকে ভাষাহীন সমাজ সভ্যতা।
বাক স্বাধীনতা তোমার অনধিকার চর্চা।
চির অক্ষয়জ্যোতি
✍️ মিঠু মল্লিক বৈদ্য
কতকাল পড়ি না,শুনিনা নতুন করে
দ্রোহের ঝংকার,কবিতার চরণে
কিংবা গানের কলিতে,শুনিনা
শুনিনা,সেই ভৈরব নিনাদ।
ধূমকেতুর মতো এসেছিল সে-ই প্রাতে
অগ্নিবীণায় চেতনার বাণী নিয়ে।
রাতের আঁধারে জ্বালিয়ে অনল
দুর্দিনে দেখিয়েছিলে সুদিনের স্বপন।
ঝড়তোলা তোমার "কান্ডারী হুশিয়ার"
ছিন্ন করে পরাধীনতার শৃঙ্খল
এগিয়ে চলার মন্ত্রে করেছে জাগ্রত
উড়িয়েছে অবচেতন মনে চেতন কেতন।
ব্যাথিত জনের মর্মর রোদন
ফুটিয়েছিলে তোমার করুণ কথামালায়।
মেটাতে জাতীর বিদ্বেষ,গেয়েছিলে
সাম্যের গান,খুলেছিলে সুপ্ত মনের দুয়ার।
বাঙ্গালী মনে জ্বালিয়ে দাবানল
বাংলার পটে গড়েছিলে হোমকুন্ড।
পরাধীনতার জরাজীর্ণতা যত হোত্রী সেজে
ঐ কুন্ডে দিয়েছিলে আহুতি।
হে কবি,লোহার গারদ ভেঙ্গেছিলে
পাষাণ বেদীতে,রুদ্ধ মনের দ্বারে
সজোরে করেছিলে করাঘাত-বিদ্রোহী সেজে।
হে "বিদ্রোহী" তুমি চির অক্ষয়জ্যোতি।
সে জ্যোতিতে দীপ্ত হউক মহান ভারতের
আগামীর সূর,ঘুচে যাক সামাজিক নৈরাশ্যতা।
তোমারি দ্রোহের গানে আবারো লাগুক মুক্তির ফাগুন
মুছে যাক সমুদয় অবক্ষয়, সুখ হাসি হাসুক ভারতী।
কাজী
✍️ কৃষ্ণ দাস
লেখনীর শিক্ষাগুরু নিজ পথের পথিক ।
বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাত ছিল খুব অপেক্ষায় জতিক।।
তব চরণ ধরিতে সক্ষম ,
না জানিনে আমি ও যে কিশোরী মেয়ের বলে ভাবনা অক্ষম ।।
অগ্নিবীণা রচনা তোমার পূরণ করে ভাব ।
নিমড়ানু কিছু লেখা গল্পের মতো সুন্দর প্রকাশ তোমার স্বভাব ।।
লেখনীতে প্রাণ ভরা ,
দেখি গো তোমার ঐ সময়ে ,
যে সময় ছিল আগন্তুক মিলন মেলার ,
যেখানে ছিল অজস্র অজস্র মৃত্যুর কান্না ।
তুমি কবি কাজী উঠেছিলে গর্জে ।
প্রতিবাদ এর সুর উঠে আসলো তোমার বাঁশির সুরে ।।
আলো আঁধারিতে পথ দেখাতে পারলে তুমি কাজী।
নজরুল
✍️পান্হ দাস
ছিলে তুমি
হাজারো কবির প্রেরণায়,
ছিলে তুমি
হাজারো সঙ্গীতের স্রষ্টায়,
ছিলে তুমিই
প্রতিবাদের প্রথম সুরের ধারনায় ৷
বাংলার বুকে হয়েছিলে হাজির
নাম যার বিদ্রোহী কবি,
ধূমকেতুর মতোই অগ্নির তুমি নজির
গড়েছিলে এমনই অগ্নিবীণার ছবি,
প্রকৃতিও সত্যি হয়েযেত জাদুময়
যখন লাগতো ঠোঁটে তোমার বাঁশি ৷
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
অজস্র বিরোধীর দোয়াতে
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
সবার হৃদয়ের মাঝে
তুমি রয়েছো জীবন্ত,
শত শত প্রতিবাদির কলমে ৷
ইডা কেমন বিয়া
✍️ রাজেশ পাল
মিলন - কিগো অনির্বাণের মা বাড়িতে আসোনি তুমি ? কই তুমি ?
শিবানী - ওমা মিলন দি যে , আসুন দিদি আসুন , ঘরে আসুন ।
মিলন - নানা ঘরে আইতাম না , তোমরার ঘরে আইতে ডর লাগে । আচ্ছা কিগো পাড়ার সবাই ইডি কিতা কয় তোমার পুলা বইলে এক পুলারে বিয়া করবো ? ইডা কি সত্যি ?
শিবানী - হ্যাঁ ! দিদি এটা সত্যি কথা , আনির্বাণ , আবির নামের একজন ছেলেকে ভালোবাসে এবং সে তাকেই বিয়ে করতে চায় । আমাদের কোনো অসুবিধা নেই, কারণ ভালোবাসা মনের মিলন । ছেলে সমকামী এবং সমকামিতা কোনো রোগ নয় , ছেলের খুশিতেই আমরা খুশি ।
মিলন - ওমা ইডি আবার কেমন বিয়া ? তারা পুলা না মাইয়া ? জামাই কেডা আর বৌ কেডা ?ইত্তা কিতা হইতাচে আমাদের ভদ্র সমাজে ? মানে ইডা কি সত্যি পুলার লগে পুলার বিয়া হয় ? ওমা কেমনে ? আবার মাইয়া মানুষেরও বিয়া হয় মাইয়ার লগে ? কলি যোগ , পাপে একদম ছাইয়া গেছে গা সংসারটা , এই যে মহামারী এতানের লিগা হইতাচে , ছি ছি , জীবনে ও এমন শুনচিনা । ইতাতো রোগ ওঝা-বৈদ্য দেখাও ভাল হইয়া যাইবো । সর্বনাশ , পুলা দেহি ইডা হিজরা । পাড়ার নাম ডুবছে ।
"মুখ সামলে কথা বলুন , কঠোর আওয়াজে মিলনের সামনে উপস্থিত হলেন অমরেশ রায় অর্থাৎ অনির্বাণের বাবা ।"
অমরেশ - আমার ছেলেকে গালাগালি দেওয়ার সাহস কে দিল আপনাকে , আর কাকে আপনি হিজড়া বলছেন , সমকামী পুরুষ মানে হিজড়া নয় , অশিক্ষিতদের মতো কথা বলবেন না । নিজের ছেলেকে যৌতুক নিয়ে বিয়ে করালেন , ছেলের বউকে দিনরাত অত্যাচার করেন বাপের বাড়ি থেকে সম্পত্তির ভাগ আনার জন্য , মদ খেয়ে ছোট ছেলে রাস্তায় পরে থাকে , নারী জনিত ব্যাপারে দুবার গেলো লাল ঘরে আর এখন আপনি এসেছেন আমার ছেলের দিকে আঙ্গুল তুলতে ।
হ্যাঁ আমার ছেলে গে , সে একজন সমকামী কিন্তু সে একজন অমানুষ নয় । আর পাড়ার নাম ডুবলো মানে , কয়েকদিন আগেতো ননীদার বাড়িতে পুলিশ এসছিলো , ছেলে নাকি ননীদা এবং ইলাদি কে আর রাখতে পারবেনা , ওনাদের বলল বৃদ্ধাশ্রমে চলে যেতে কই তখন কি পাড়ার নাম উজ্জ্বল হয়েছিল ? নারী জনিত ব্যাপারে যখন আপনার ছেলে জেলে গেল তখন এই কথা গুলো কোথায় ছিল ?
আমার ছেলে যেমনই হোক তাকে নিয়ে আমার গর্ভবোধ হয় । একজন নারীকে বিয়ে করে একজন মুখোশধারী পুরুষ সাজার ইচ্ছে আমার ছেলের নেই । প্রকৃত পুরুষ হতে গেলে মেয়েকেই বিয়ে করতে হবে এমনটা নয় ।
আপনাদের মতো শিক্ষিত মূর্খদের জন্যই সমাজে সমকামীরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয় । দোষ আপনার শিক্ষায় আছে , আমার ছেলের অনুভূতির মধ্যে নেই । গুনগত শিক্ষার প্রয়োজন আপনার মতো মানুষের দরকার , হাসপাতালে আমার ছেলেকে নয় আপনাদের বিদ্যালয়ে পাঠানো দরকার ।
মিলন - থাক্ থাক্ ! আমারে জ্ঞান দিতে লাগতোনা , আমার যথেষ্ট জ্ঞান আছে , নিজের পুলারে ঠিক করতে পারেনা আমারে কইতো আইসে । আমার পুলা জেলে গেছে দেইখ্যা কি হইসে , পুলা পান মাইয়ার পিচে ঘুরবো ইডাতো নিয়ম ।
শিবানী - স্ত্রীলতাহানি করাটাও নিয়ম ?
মিলন - আমার পুলা স্ত্রীলতাহানি করছে না , মাইয়া ইডা আমার পুলারে ফাসাইচে ।
অমরেশ - এইট পাশ একজন বেকার ছেলেকে ডাক্তারী পড়ুয়া একজন মেয়ে ফাসালো , wow interesting !
মিলন - এখন কি আমার ছেলের দোষ বাইর করতাসো , নিজের পুলার দোষ ডাকনের লিগা ? নিজের হিজড়া পুলারে বোঝাও ইত্তা যাতে না করে , মাস্টারের চাকুরী করে যেকোনো মাইয়া পাইবো কউ মাইয়ারে বিয়া করতে ,বংশের প্রদীপ পাইবা ।
শিবানী - এইটা না হয় আমরা চিন্তা করবো , অনি কাকে বিয়ে করবে । আর বাকিটা আমরা আবির আর অনির উপর ছেড়ে দিলাম , বিয়ের পর ওরা কিভাবে কি করবে , কে কার সাথে ...Let them decide it ...It's not our concern.
মিলন - এইসব ধর্মের বিরুদ্ধে , ইতা পাপ ।
অমরেশ - তাহলে হরিহর কে ছিল , আয়াপ্পা ভগবান কার সন্তান , শিখন্ডির কে ছিল ?
মিলন - তারাতো ভগবান , তারার সাথে মানুষের তুলনা কেমনে হয় ?
অমরেশ - আমি শুধু আপনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম ।
আমি ডাক্তার অমরেশ পাল কথা দিচ্ছি আমি আমার ছেলের বিয়ে , আবিরের সাথেই দেবো , দেখি আমায় কে আটকায় , আমি এই সমাজের বুকে অপবিত্র কলঙ্কিত ভালোবাসাটাকে পবিত্র এবং কাঙ্ক্ষিত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো । যেই সমাজ নিজেই ঠিক না সেই এসেছে আমার ছেলের সত্বা নিয়ে কথা বলতে ।
মিলন - মাগো মা তোমরারে কেও বোঝাইতে পারতোনা । আমি যাইগা । কলি যোগ , ঘোর কলি যোগ ।
শিবানী - আমাদের কে বোঝাতে আসবেনা দয়া করে , আমরা বোঝার ক্ষমতা রাখি বলেইতো ছেলের পছন্দকে নিজেদের পছন্দে পরিণত করেছি । আপনি এখন আসতে পারেন , নমস্কার ।।
বিদ্রোহী
✍️ অংকিতা বর্মণ ঘোষ
বল মানবী বীর-বীরাঙ্গনা..
করব না মোরা নত শির!
নারীর জয়ে করব সমাজ ভীড়।
নয় কন্ঠে, নয়কো যৌবনে;
করব মোরা ধর্মের কর্মে
নারী বলে স্তব্ধে জয়!
এ কন্ঠের করব ক্ষয়।
পিতৃ পরিচয় স্বামীর পরিচয়
এ আবার কিসের জয়?
গড়ব মোরা শিক্ষা-কর্মে স্ব-জয়।
বিদ্রোহী বীরাঙ্গনা মা বোনেরা..
যখন কন্ঠে কন্ঠে বাঁধবে এ সুর
তখন আর নয়কো পোড়া মুখ।
না লজ্জার চাঁদর, না বিছানার
মিথ্যা স্বামীর অত্যাচারী আদর!
বাঁধবে কেবল নারীর সুখ
যখন তখন ভয়ে কাঁপবে
নারীও আজ বিদ্রোহী বীরাঙ্গনা।
আবার হয়ত দেখা হবে
✍আলমগীর কবীর
হবে হয়ত আবার কোনোদি দেখা হবে সবাই একসাথে
তখন আমরা বিদায় নিবো কি হবে আর তাতে।
বিদায় নিয়ে চলে আসবো যার যার আপন ঘৃহে
কেউবা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ তাকাবেনা পেছন ফিরে।
মনে পড়বে অনেকের কথা যারা প্রিয় ছিল
জানিনা আমি কেমন ছিলাম খারাপ নাকি ভালো।
তবুও জানি তোদের কথা আমারও মনে পড়বে
জীবনটা এমনই হয় মায়ায় ভরা, তাতে কি আর করা যাবে।
এসবের মাঝে আসবে আবার এমন
বিয়ে করে অনেকে আবার, শুরু করবে নতুন জীবন।
এরই মাঝে আবার কেউ প্রতিষ্ঠিত হবে
দেখা হলে বলবে তখন, তুই বিয়ে করলি কবে।
কেউ জানেনা কে, কেথায় থাকবে তখন
কেমন আছিস বলে উঠবে, দেখা হবে যখন।
তখন আরকি হেসে উঠে বলবো ভালো আছি
এখনো যে আমি তোদের, আগের মতই ভালোবাসি।
ভাবনা
✍️প্রসেনজিৎ রায়
আজ এই বিভাবরীতে
বসে আছি নীরবে।
তাকিয়ে আছি ঐ দূর আকাশে।
আকাশের ঐ চাঁদকে দেখে
তোমার মুখটি মনে পরে।
তুমি নেই পাশে
তাই চাঁদের সাথে এ-মন কথা বলে।
মন বলে শশধর তুমি কি
আমার আলয় আসবে না?
আমায় কি ভালোবাসবে না?
চাঁদ কি যেন ভাবে।
লজ্জায় মুখটি কাদম্বিনীর আড়ালে ঢাকে।
চারিদিকে আঁধারি ছেয়ে আসে।
জোনাকিরা মিট-মিট জ্বলে।
ঝিঁ-ঝিঁ পোকারা যেন কাকুতির সুরে ডাকে।
দক্ষিণা হাওয়া এসে কানে কানে বলে।
বামন হয়ে তুই চাঁদকে পাবি কি করে।
হ্যাঁ,আজ আমি হলাম বামন
তুমি হলে নীলিমার ঐ চাঁদ।
তোমার সাথে আমার হাজারো তফাৎ।
তবুও মন শোনে না কোন বারন।
নিশিদিন তোমায় ভাবে অকারণ।
আমি নামহীন কেন নই?
✍️ সুস্মিতা মহাজন
বহুদিন ধরে বহুজনে চেনে আমায়,
এদের বেশির ভাগই 'ভদ্র' ও 'শিক্ষিত' পুরুষ;
আমি থাকি নিষিদ্ধ বিদঘুটে অন্ধকার গলির ঘরে।
বেশ সেজেগুজে সুন্দরীও আমি বটে!
তাদের পিপাসা আর ভোগের জন্যই আমার জন্ম,
নিজেকে তুলে দিই কেনাবেচার পাল্লীতে।
আমার সিঁথিতে সিঁদুর দেয়নি কেউ কোনোদিনও,
তবু প্রতিরাতের অন্ধকারে আমার লাশের উপর -
আঁচড়ের চিহ্ন দিয়ে চলে নতুন নতুন আঙুল।
গর্ভধারিণী হই আমিও জন্মদায়িনী মা!
সন্তান আমার হয়ে যায় অচ্ছুত;
সমাজের বুকে শুধু যেন হেলাফেলা।
রজনীতে যারা আমার কাছে লজ্জা বিসর্জন দেয়,
দিনের আলোতেই তারাই সমাজের উজ্জ্বল মুখ।
আমি কাটাই অন্ধকার গলিতে লুকিয়ে রেখে চোখ,
আমার নামটা না হয় "পতিতা" হয়েই থাকুক।
তোমরা হাজারো তারার ভীড়ে উজ্জ্বল জ্যোতিটি,
আমারবেলায় আমি না হয় শুধু নষ্ট চাঁদই রই!
ঢিল
✍️চন্দন পাল
মারাত্মক একটা ঢিল এসে
বড় বাড়িটার সব গরিমা, নসাৎ করে দিল ।
উৎসে গিয়ে দেখি, অবিচল এক বোবা প্রজন্ম দাঁড়িয়ে ।
চোখে মুখে তার ভ্রূক্ষেপহীন ভাব ---
তবে কি সে, সংক্রমণ বাড়ালো যারা
তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ?
না-কি সে, মারীর চেয়েও
অব্যবস্থা-জনিত মরণে ক্ষুব্ধ !!
একবিংশ শতাব্দীর চাঁদবিজ্ঞান আর
সমাজবিজ্ঞানে বিরক্ত !!
নোংরা মামলায় জড়িয়ে থাকাদের মানুষ ভোট দেয় বলে ক্ষুব্ধ।
না-কি, কেবলমাত্র বাঙালিস্তানে প্রতিহিংসা দেখে, নিজ গ্লানিতে বিরক্ত।
জানি না ----
আরেকটি মারাত্মক ঢিল পাশেই পড়ে আছে । নিসপিস আঙুলে আমি লুব্ধ।
প্রেমে বিদ্রোহে তুমি
✍️সঞ্চয়িতা শর্মা
বক্ষে তোমার অসীম সাহস
মসীতে ছিল বিদ্রোহ,
বিদ্রোহী কবি,তোমার কাব্যে
শিহরণ জাগে প্রত্যহ।
অগ্নিবীণার অধীর সুরে
দিকেদিকে অভিযান,
কান্ডারি আজও পরীক্ষাধীন,
জাত না জাতির করবে ত্রাণ।
বিত্তশালী সভ্য জাতির
কদর্য্য ভরা বেশ,
স্পষ্ট করে দেখিয়েছিলে,
উত্তাল হল দেশ।
ভীতির জেরে অত্যাচারী
মসীতে দিলো যে বাধা।
কাব্যরূপী অস্ত্রে তোমার
ওদের চোখে ধাঁধা।
বিদ্রোহের এত আগুন যেথা
কেমনে এত প্রেম এল সেথা?
কেমনে গাইলে এত প্রেম গাথা
বিদ্রোহের পাষাণ?
ঝর্ণার মতো ঝরে অবিরত
তোমার সকল গান।
পাষাণ গলে যে তোমার গানে
তোমার নিপুন প্রেম বয়ানে,
বিদ্রোহ,প্রেম এক হয়েযায়
ওহে নজরুল, তোমার দানে।।
হিংসার আগুন
✍️পৌষালী ভৌমিক
আকাশে পাতালে, মনেরই আড়ালে
জ্বলছে শুধু হিংসার আগুন,
পুড়তে চলেছে এই আগুনেই কত তরুণ।
সাত ব্যাধি আজ সাত দিকেতে
ছুটছে দাপিয়ে,
তারাই তো দিচ্ছে শান্তির
বিশ্ব প্রদীপ নিভিয়ে।
হিংসার আগুনে হচ্ছে অগ্নিদগ্ধ
কত নির্মল জীবন,
ধরতে গেলে দেয়না ধরা,
দেখা যায় শুধু মরণ আর মরণ।
সত্য পারেনা পেতে প্রকাশ
মিথ্যের বাধ্য চাপে,
ধর্মের আজ আর হয়না অবকাশ
স্বার্থপরতার স্বার্থের কারণে,
বিধাতার আশীর্বাদ আজ শক্তিহীন,
শুভ শক্তির প্রাণ আজ তাই তো ক্ষীণ।
মরণ-বাঁচন তুচ্ছ করে হিংসা হচ্ছে
পরিণত দাবানলে,
সভ্যতার একদিন হবে বিসর্জন
জেনে নিও এই কালে।।
সময়
✍️দীপাঞ্জলি পাল
সময়ের একদিন সময় হয়েছিল
সময় দিয়েছিল তাকে।
সময় ভেবেছিল সত্যি হবে সব
সময়ের ঘেরাটোপে।
সময় কিভাবে বদলে গিয়েছে
সময়ের অন্তরালে
ভাবেনি কখনো জিতে যাবে সে
সময়কে বাদ দিয়ে।
তাই সময় নামের সময় ঘড়িটা
থেমে গেছে বহু আগে
দম দিতে হবে সেই সময়কে
সময় বের করে।
সময়ের আজ সময় নেই যে
কি করে দেবে সময়
সময়কে তাই বদলাতে হবে
তাতেও নেই যে সময়।
সময় আজ ভাবনায় ব্যস্ত
সময়ের ফাঁকে ফাঁকে
সময় কেড়েছে দিনকে
সময়ের প্রতি রাতে।
সময় হয়েছে সময় নেওয়ার
নেই আজ কোনো সময়
মূল্য দাও সময়কে তাই
প্রতি মুহূর্তে সব সময়।
মরুদ্যান
✍️দেবীদাস নন্দী
-না বলে কয়ে এমনভাবে কেউ চলে যায়!আমার দিকটা ভাবলে না একবারও, এতদিনের সম্পর্ক তবে এতোই ঠুনকো? গৌতমের কথায় অভিমান ঝরে।স্বাতীর চুলে বিলি কাটছিল, মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় কাতর মানুষটাকে এমনভাবেই কাছে টেনে নিয়েছে এতদিন।
-বিশ্বাস করো যেতে আমি চাইনি তোমাকে ছেড়ে, ছোট্ট শ্বাস ফেলে স্বাতী, একটু থেমে বলে,তুমিও কিন্তু বোঝনি আমাকে কোনোসময়-
- হয়তো তুমি ঠিক,জানিনা,তবে বিশ্বাস করো, তোমাকে আঘাত দিতে চাইনি কোনোদিন, বেদনার্ত কণ্ঠে গৌতম উত্তর দেয়।
নিশুতি রাত, ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঘরে শুধু দুজন, দুজনেই প্রবীণ।মান-অভিমানের পালা চলে বেশ কিছুক্ষণ, এক সময় ঘুমিয়েও পড়ে।নিশি অবসানে, ভোরের হলুদ আলো রাতের মোহময়ী মেদুরতা ছিন্ন করে হামলে পড়ে বিছানায়। তড়িঘড়ি ধড়ফড় করে ওঠে গৌতম।দেখে স্বাতী নেই,বিষণ্ন হয়।মেনেও নেয় ।অনেক সাধ্য সাধনার পর এসেছিল স্বাতী। আর হয়তো আসবে না কখনও। হঠাৎ, কি ভেবে উজ্জীবিত হয়, গত রাতের মুহূর্তগুলো তো মিথ্যে নয়, সারা জীবনের সঞ্চয় অবশ্যই-
হারিয়ে গেছে
✍️কৃষান নম
ইচ্ছেটা আজ হারিয়ে গেছে
অচিন আকাশের প্রান্তরে।
স্বপ্নটা আজ ফুরিয়ে আসে,
অচিন ঘুমের প্রান্তরে।
আকাশটাও আজ হারিয়ে,
গেছে মেঘের কালো প্রান্তরে ।
চাঁদের জ্যোৎস্নাও হারিয়ে,
গেছে আমাবসার কাছে।
এই জগৎটাও হারিয়ে গেছে,
অবাস্তব জগতের কাছে ।
ভালোবাসাও হারিয়ে গেছে,
ধোঁকা, মিথ্যো ভালোবাসার কাছে।
হৃদয়টাও আজ না হয় কাল,
হারিয়ে যাবে কোন অজানা মেয়ের কাছে।
মানুষ ও হারিয়ে যাচ্ছে,
মনুষ্যত্বহীন সমাজটার কাছে ।
বন্ধুত্ব ও হারিয়ে গেছে,
বাস্তব পরিস্থিতির কাছে।
এই ভাবে এক দিন সব কিছু,
হারিয়ে যাবে এই জগতের কাছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)