✍️ মনীষ শর্মা
শিল্পীরা বাঁচে
কবিরা বাঁচে।
সুরের কারিগরেরা বাঁচে।
বুকের রক্তে ভেজা ভাষা
ঘামে চুবানো তুলি
মাথাই সুরের জোনাকি
এই সবকিছু নিয়ে- শিল্পীরা বাঁচে,
কবিরা বাঁচে,
গানের জাদুকরেরা আসে।
এইতো সেদিন সূর্যাস্তে,
নিঃশব্দ সন্ধায়, বিষন্ন ঘরে
মহাকবি মিলটন ফেললেন তার শেষ দীর্ঘ নিঃশ্বাস
সেদিনই এই বিপুল মহাবিশ্বে
তরঙ্গে তরঙ্গে হলো কানাকানি-
সৃষ্টির স্রষ্টা ভরসা দিলেন
' ভয়া নেই - আসবেন রবীন্দ্রনাথ!
তাই নন্দনকাননে হারানো বনে,
তিনি শুনিয়ে গেলেন গান
গীতাঞ্জলির সুরহাবারে,
স্তব্ধ হল ইভের শত্রু শয়তান।
চুপটি করে লক্ষীমেয়ে হয়ে বসেছিল মোনালিসা।
সামনে রঙ তুলি হাতে লিওনার্দো।
এক অক্ষয় হাসি তিনি রেখে গেলেন তাঁর ঠোঁটে।
সেই একই তুলি
ঐ একই রং দিয়ে
আজ যখন ওসেন আঁকেন এগ্ন স্বরস্বতী মনে হয়, দেবীর ঠোঁটের কোণে
ঐ বুঝি লেগে আছে,
মোনালীসার সেই হারিয়ে যাওয়া হাসি!
সুরের তোফান তুলেছিলেন বেটোফেন
ঘোর লাগিয়ে দেয়া মোজার্টের অপেরা,
মেঘ মল্লারে তানসেন।
বিন্দু বিন্দুতে,
সুরের সেই সিন্ধু নদী
আজও যায়নি শুকিয়ে,
যখন দেখি শান্ত জ্যোৎস্না
ঝাপসা রাতে,
ভীম সেন যোশী গান ধরেছেন!
তারায় তারায় রয়েছে যোগাযোগ,
যুগে যুগে কবিদের সৃষ্টি কলমে সার্থক হোক।
জীবনের সব রং ফুটে উঠুক তুলিতে,
শিল্পী ছবি এঁকে যায়, মানবতার ক্যানভাসে।
সাত সুরে বাধা সেই যে সহজ সা রে গা মা পা,
ওতেই প্রান পেয়ে জাগে মহাবিশ্বের আত্মা।
ধন্য ঈশ্বর,
ধন্য তাঁর সৃষ্টি,
যুগে, যুগে তাই পাঠিয়ে দেন,
কলম হাতে চিরসজাগ উদাসী এক কবি
ধন্য সে মহাশক্তির মহিমা,
তাইতো, রঙের ক্যানভাস
আজও বিবর্ণ হয়ে যায়না।
সার্থক এই মহিমাময় বিশ্ব,
সুরের বাঁধনে বাঁধা পড়ে যায়
সুগভীর সব অর্থ।
এই তো জীবন,
এটাই বেঁচে থাকা,
এখানেই অমরত্ব।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন