কলমটা শাণাও কবি

https://drive.google.com/uc?export=view&id=1FHCzh48KJGwrvHOdjumYOPlqKKOGS0Vk
               ✍️আশিস ভট্টাচার্য 

শিশির ভেজা খোলা আকাশ,
পাখির কূজনে ঘুম ভাঙলেও
যে কবির উন্মুক্ত হৃদয় 
ভালোবাসার অনন্ত উৎস
নিভৃতে খুন হয়ে যায় 
দিবালোকে তার নিজালয়ে
প্রেমের এক একটা শব্দ 
প্রত্যেক নতুন প্রত্যুষে ;

মন খারাপের এই বেলায় 
যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা ভেঙে 
বুনে যাবো কবিতার কোলাজ,
দৈত্যের দাপটে অতিষ্ঠ 
দিকে দিকে নিখুঁত প্রেম,
এই যন্ত্রণা ঠেকাতে 
সকল কবির কলমে আজ
ফুটুক রাশি রাশি 
ভালোবাসার অনন্য পদাবলি।

রিচ ডাউন

                ✍️গোপাল দে

কবিতাদের ছুটি দিয়েছি আজ বহুদিন,
কবির সেই পূর্ণিমার চাঁদ আর ঝলসানো রুটির মতোই
কবিতা আজ নিষ্প্রভ,নিশ্চুপ।
শুধু রাতের আঁধারে এসে উঁকি দিয়ে যায়
অজানা কিছু অন্তহীন গল্প,
যে গল্পে ফুটে ওঠে
কিছু নীরব যন্ত্রণা,হতাশা আর
রুদ্ধকন্ঠের কিছু চাপা প্রতিবাদ।
দুমড়ে মুচড়ে যায় যত আবেগ,যন্ত্রণা,
গভীর হয় সব ক্ষত।
কবিতাদের সঙ্গে সেই নিত্য যুদ্ধে
পরাজিত হয় বারবার
এক অর্ধভগ্ন কলম।

                   

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই



            ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায় 

যুগের পর যুগাম্তর সারি বেঁধে চলে যায়, 
যুদ্ধ কথাটি সজীব রয়ে যায়। 
কতো নামে কতো যুদ্ধ! 
যুদ্ধ তো যুদ্ধই বটে। 
শরীরের সাথে শরীরের যুদ্ধ, 
মনের সাথে মনের যুদ্ধ, 
রাজার সাথে রাজার যুদ্ধ, 
শূদ্র জাগরণের যুদ্ধ, 
দেশের মাটি ভাগের যুদ্ধ, জল ভাগের যুদ্ধ, 
মুক্তির যুদ্ধ, ভাষার যুদ্ধ। 
ছাওনির ঘরে জীবন যুদ্ধ। 
ধর্মের সাথে অধর্মের যুদ্ধ 
ভালোর সাথে মন্দের যুদ্ধ। 
ভালোবাসাকে শেষ বিন্দু দিয়ে  জিইয়ে রাখার অদম্য প্রচেষ্টা, 
সেও এক চরম মতদ্বৈধতার যুদ্ধ। 
সুখতলা খুঁয়ে নিজের ছায়ার সাথে যুদ্ধ। 
যুগের পর যুগ যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকে তার ক্ষত চিহ্ন আর বিষন্নতা। 
যুদ্ধ কখনো অবসরে যায় না। 
মৃত্যুঞ্জয়ী যুদ্ধের কোনো মৃত্যু নেই। 
" যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই ", প্রতিটি যুদ্ধের অবসানে স্লোগানটা এক গালভরা মিথ্যা বিলাপের  দুন্দুভি  । 

ভালোবাসা



   
              ✍️সাগরিকা মজুমদার। 

তোমার হাতটা না ধরলে ,
হয়তো জানতাম না ভালোবাসা কি...
তোমার চোখে চোখ না রাখলে,
হয়তো বুঝতাম না ভালোবাসা কি...
তোমায় সামনে থেকে না দেখলে, 
হয়তো অনুভব করতাম না ভালোবাসা কি...
আসলে তোমার মনে মন রেখেছিলাম বলে
আমার নতুন অধ্যায়টি সুন্দর ছিল। 

ভয়ে রাস্তা পার হতে পারিনি, 
তুমিই তো পার করে দিয়েছিলে;
তুমি আমার সাহস, তুমি আমার ভয়—
হারিয়ে যাবে না তো কখনো? 

তুমি আমার অন্ধের যষ্টি,
তুমি ছাড়া কি আমি থাকিতে পারি!

পাগলী


             

                  ✍️বিজয়া শর্মা

চোখ করে জল জল,
হেসেই চলে খল খল।
বললে পাগলী কয় না কথা,
বুঝে ঠিকিই মনের ব্যথা।
কে জানে কি সুখ পায়,
ধুলি মেখে নিজ গায়।
রূপে ভরা যৌবন তার,
পাগলী বলার সাধ্য কার?
ঘুরে বেড়ায় পথে হাটে,
আলো করে রূপের ঘাটে।
সুখে দুঃখে কেবল হাসি,
কেউ বলেনা ভালো বাসি।

সুমলি


                 ✍️চন্দন পাল

সুমলি তোমার মিষ্টি নাম,  দামড়া পাহাড়ে খুললে চোখ, 
বড়মুড়া কোলে লম্ফ ঝম্প,  ত্রিপুরা তটিনীর কনিষ্ঠা মুখ।

'তুইসামা' জোরে ঋতুর শোভা,  ফুলে ফলে ভোঁমরা বাহার!
শিস্ দিয়ে যায় ডাহুক টিয়া,  'বড়কাঁঠাল' জোরে মাছের সাঁতার। 

ছিপ, আন্তায় খোকন ঘুরে,  তিতির ডাকে টিট্টির টি,
আকাশ ফুঁড়ে ছোঁ মেরে যায়  তোমার জলে মাছরাঙাটি।

মোহনপুরে মিহি মাটির শোভা, সোনার ফসল দু'পারে দুলে,
বিদেশ গিয়ে মিষ্টি সুমলি,  সোনাই নামে তিতাসে মিশে।

দুমুটো অন্নের জন‍্য"


           

              ✍️জনার্দন

একটা অন্তবিহীন পথ,
যে পথ খুঁজে বেড়ায় ;
সহস্র আলোকবর্ষের মায়ারেখা।

আমি শুধু কিনারা খুঁজে যাই।

অথৈ জল;
হাবুডুবু খাচ্ছে গেরুয়া সন্ন‍্যাসীরা।

চারদিকে শুধু কৃত্রিম ভালোবাসা;
রাতের জোনাকিরাও খুঁজে যায়,
পায় না কোনো আশ্রয়।

সন্ধ‍্যা ঘনিয়ে এলো,
জীবন নামে যে নৌকাটা এখনো চলছে;
তাও বোধহয় থেমে যাবে।

রাতের পরীরা 
এখন দিবসেও উঁকি দিচ্ছে,
এদিক-ওদিক।

অপরাজিতার বেশে ডাক দিচ্ছে;
এই যে বাবুমশাই, 
আমাদের তো চাই, 
দুমুটো অন্নের জন‍্য 
একটু সহযোগিতা চাই।

এই ভিড়ের মাঝে
আমাদের ঠেলে দিও না,
ক্ষুদার রাজ‍্যে;
আমাদের নাও,
ভাসিয়ে দিও
স্রোতের মাঝে, প্রেমের সাগরে।

নির্জন দ্বীপ


           
                   ✍️শুভ্রা দেব

হালকা বাতাস....... 
এলোমেলো চুল, 
ইশারায়  অদ্ভুত শিহরণ;


নিশ্বাসে নামে ঢেউ
কূল ভাঙে, কূল গড়ে; 
 

এপার ওপার বসতি নদীর
অবিচ্ছেদ্য হৃদপিণ্ডে
আঁচড় কাটে......
নির্জন দ্বীপে রাতপাখির গোপন অভিসার।

মুহূর্ত

   
                ✍️ অন্তরা ভট্ট

যা কিছুই চেষ্টা করি না কেন
বার বার মুছে ফেলার 
তা আবারো ঝাপসা হয়ে ফুটে উঠে 
কালো ফলকে।
খনিকের জন্য চোখের কোণ জলসে উঠে 
ভরাডুবি হতে থাকে কিছু সময়।
মনের গহীনে জেগে উঠে বিশেষ আলাপ।
খুঁজে বেড়াই কিছু শান্ত সময়ের
নিজের সাথে কথা বলার। 
হয়তো নাও পেতে পারি সেই মুহূর্ত 
নেই তো মানা ভাবার। 

                              

মানুষ খুঁজে ফিরি"


         
            ✍️দীপক রঞ্জন কর।
মানুষ খুঁজে ফিরি আমি
হাজার মানুষের ভিড়ে, 
মানুষের ভিড়ে রয়েছে অ-মানুষ
মানুষ চিনবো কি করে ?

জন্তু জানোয়ার সহজে চিনি
মানুষ চেনা কষ্ট ভারী,
মানুষ চেহারায় অ-মানুষ রয়েছে
মানুষেরই মুখোশধারী।

শত্রুকে আমি করি না ভয়
শত্রুর মুকাবেলা করতে যাই,
বন্ধুর বেশে শত্রু যারা
তাদের এড়িয়ে চলতে চাই।

মানুষ সর্বদা মানুষের জন্য
সাহিত্যে জ্ঞানী গুণীদের কথা,
মানুষ হতে অমানুষের আচরণে
তখনই পাই চরম ব্যথা ।

নুডলসের গপ্পো (৫ম পর্ব)

                 
                   ✍️রাজা দেবরায় 


গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম, একটি অতি জনপ্রিয় নুডলস্ কোম্পানি তাঁদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিয়েছে যে তাঁরা মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট বা এমএসজি ব্যবহার করেননা। তার মানে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট যে ভালো সেটা বলা যায়না (যদিও তৃতীয় পর্বে আবার বলা হয়েছে, এটা যে খারাপ এরকম কোনও গবেষণায় বা পর্যালোচনায় পাওয়া যায়নি), তা না হলে এই অতি জনপ্রিয় কোম্পানি এটা লিখতেইবা যাবেন কেনো!

এবার তাহলে একটু পেছন দিকে তাকানো যাক। ১৯৬৮ সাল। নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁয় ডাঃ রবার্ট কুয়ক্ (Robert Kwok) আর পাঁচদিনের মতোই কাঁটায় জড়াচ্ছিলেন নুডলস্। হঠাৎ অনুভব করলেন হাতটা কেমন যেন অবশ হয়ে আসছে। পরে এই অবশ অনুভূতিটা হাত ছাড়িয়ে ঘাড়ে এবং সেখান থেকে শরীরের পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সমস্ত শরীর জুড়ে একটা অবসন্ন ভাব। হৃদপিণ্ডের গতিটা হঠাৎ বেড়ে গেছে। তিনি কোনোক্রমে নিজের বাড়িতে ফিরে এলেন। আরও দুই ঘন্টা এরকম অবস্থা বজায় ছিলো, তারপর ধীরে ধীরে অস্বস্তি আর অবশ ভাবটা কমেছে।

পরে তিনি অনুসন্ধান করে জেনেছিলেন যে যাঁরা চাইনীজ খাবারের খুব ভক্ত, তাঁদের অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। এরপরই ব্যাপারটা নিয়ে আরও অনুসন্ধান শুরু হয় এবং তখনই জানা যায় যে এর পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ রাসায়নিক, যাকে সংক্ষেপে বলে MSG অর্থাৎ Monosodium Glutamate।

(চলবে)

সত্যের পাঠ


                   
              ✍️সঙ্গীতা গুপ্ত

বাল্যশিক্ষায় পেলাম সত্যের পাঠ,
সত্যের অনুসরণে অতিক্রান্ত অনেকটা পথ,
সত্যের পথে একাকী পথিক আমি,
নিভৃতে সত্যের মুখোমুখি এসে বসি,
প্রশ্ন জাগে কতকাল হতে হবে মিথ্যার সম্মুখীন।
সত্য এক আশ্চর্য আনন্দময় অনুভূতি
নিয়ে যায় অচেনা এক পৃথিবীতে,
চোখ মেলে দেখি আকাশ,সূর্য,তারার আলোক সব সত্যি,
চারপাশে শুধু কিছু অনুভূতিহীন মুখোশধারী।
চাওয়া পাওয়ার হিসেবে গরমিল,
তবু সত্যই বেঁচে থাকার প্রকৃত রসদ,
সত্যের মুখোমুখি আমি
এখানে ই পরম তৃপ্তি।

মৃত্যু

           
           ✍️ সুস্মিতা সরকার

মৃত্যু, সে যে এসে গেছে আমার চৌকাঠে
আজ বহুবছর পর যে সাজব নতুন কাপড়,আলতা সিঁদুরে ।
লাগবে নতুন বৌ যে আমায় 
কাঁদবে ছেলে মেয়ে স্বামি আরাল করে মুখখানি ।
গর্বে যে আজ বুকফাটা 
সকলে আজ আসছে যে দেখতে আমায় ।
নাইকো প্রান এই দেহে   
ভাগ্যলক্ষী বলে কত লোক দিচ্ছে যে উপাধি । 
রাস্তায় আজ ভীড় করছে
নাম যে শুধু হরি ।
হরির নামে শেষ বিদায়ে 
দিচ্ছি আজ মহাশূন্যে পারি ।


কাঠগোলাপ


                 
                  ✍️পান্থ দাস

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই কাঠগোলাপ ফুল বর্তমানে ভারতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিছু কিছু রাজ্যে সম পরিমানে বা মুলত গ্রাম ভারতে দেখা যায় এই মিষ্টি ফুল। 

হয়তো সবার জীবনের একটা সময়ে আমরা এই ফুল অবশ্যই কুড়িয়েছি। তার চমৎকার সুগন্ধে নিজেকে হারিয়েছি। অনেক স্মৃতির ছবিও এঁকেছি।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন নামে পরিচিত এই কাঠগোলাপ ফুল। যেমন গুলাচি, গোলাইচ, গোলকচাঁপা, চালতাগোলাপ, গরুড়চাঁপা ইত্যাদি। মুলত ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয় এই ফুল গাছ।

কাঠগোলাপ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির উপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। গ্রীষ্ম এবং শরৎকালে গোলাপী, সাদা ও হলুদ রঙের শেডের সুগন্ধযুক্ত ফুলে শোভিত হয় এই ফুল। 

চমৎকার এই ফুলকে আমরাই পারি সংরক্ষণ করতে। ছোট ছোট টবে কাঠগোলাপ লাগিয়ে শহরাঞ্চলেও এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ কিন্তু গ্রহণ করা যায়। প্রতিটা ছাদে, বালকনিতে, ঘরের কোনায় সৌন্দর্য বাড়াতে কিন্ত এই ফুল অনেক কার্যকর।

ভাবনা


               
              ✍️ চন্দ্রিমা বণিক
       
ভাবনা আমার রামধনু রঙ 
ক্ষুদ্র পরিসরে, 
প্রজাপতির পাখায় পাখায় 
বিশ্বটি জয় করে। 
বেগুনিতে অজানা অনন্ত 
নীলে আকাশ নীল,
আকাশিতে ঢেউ খেলে যায় 
সবুজ অন্তরেই।
হলুদ গাঁদায় বসন্ত গায় 
রঙিন বারোমাস
লাল কমলা কপাল চুমে
দিব্য প্রতিভাস।
রঙে রঙে রঙ বাহারি 
রাঙা আলোর দেশে, 
উষার আলো যেমন রাঙায় 
গোধূলিও সেই রেশে!
ভাবনা আমার প্রাণগুলো সব
ছায়ায় মায়ায় সাধা,
একই বৃত্তে ঘুরছে সবাই
ব্যাসার্ধ যার বাঁধা,
সাত রঙা ঐ রামধনু যদি 
রাঙত সবার মন
বিশ্বজোড়া খিলখিল রব
ভাসত অনুক্ষণ,
থাকতো না যে হিংসাদ্বেষ 
আর গরিব ধনীর ভেদ
অন্যায় মিথ্যা অবিচার আর
মনের যত খেদ।
সবার মাঝেই অবুঝ শিশু 
ঘুমায় সযতনে,
শিশু বোধেই নির্মল মন
খুশি অকারণে। 

        

শৈশবের রাত

              ✍️ রিপন সিংহ 

পৃথিবী আজ ধূসর হয়ে গেছে,
           সারসের পাখাতে
মাশরুমের ছায়ায় বেদনা কিছুটা কমে যায়;
তবুও ---
        রবারের দানার মতো নক্ষত্র ঝরে পড়ে;
ঝরে পড়ে পথে, ঘাটে, মাঠে ---
         ঘাসের বুকে।
তখন সেই পুরনো কথা মনে পড়ে,
এই দানা দিয়ে খেলেছি কত খেলা
আজ হায়! লুপ্ত শৈশবের প্রেমিকা।

কাল সন্ধ্যায় যখন হবে দেখা,
তখন প্রথম সুযোগেই বলে দেবো ;
সেই অপ্রকাশিত সত্য কথা।
কেন তোমাকে এই অপ্রকাশিত কথা,
বলতে হয় বারবার
যে বোঝার নয়, সে বুঝে নিয়েছে
আর যে জানার নয়, সেও জেনে গেছে,
তোমার হৃদয় কি এতই গভীর!

কি মধুর ছিল শৈশবের সেই রাত,
জোনাকির সাথে কত খেলা করেছি অন্ধকারে;
এখন এই রাতে জোনাকির মতো খেলা করো!
         সারারাত জেগে আমার সাথে।

    যেদিন হারিয়ে যাব নক্ষত্রের শহরে,
    সেই দিন খুঁজবে পথের যাত্রীর ভিড়ে।

হিমেল আমেজ

 
 ✍️ সুস্মিতা দেবনাথ 

কনকনে এই শীতল হাওয়া 
কুয়াশা ধোঁয়া ধোঁয়া। 
পরিচ্ছন্ন আকাশ ছবি 
মিষ্টি রোদের ছোঁয়া।।

শীতের আমেজ পুলি-পিঠা 
মন করে খাই-খাই। 
কপি,মুলো,মটরসূটি 
শাক-সব্জির বালাই ।।

খেজুর রসের ঝুলছে হাঁড়ি 
জাগছে ছেলেবেলা। 
দিন যে বেজায় হচ্ছে ছোট 
ছুটছি সারা বেলা ।।

কমলা লেবুর গন্ধে মেতে 
জিভ হয় টল-টল। 
দাঁত কড়-কড় হুঁ-হুঁ হাওয়া 
বরফ স্নানের জল।।

সর্দি-কাঁশি রোজনামচা 
শুষ্ক অতি ত্বক।
আমড়া,তেঁতুল,জলপাই আদি 
দাঁত কির-মির টক।।

বীণাপাণী আসবেন বলে 
কূল গাছেও ফুল।
আম্রমুকুল আসতে দেড়ি 
সাজবে কলেজ স্কুল।।

তোমার আমার ভীষণ প্রিয়,,,
শীত, প্রিয় সবার হয় না ।
গরম কাপড়, কম্বল বিনে 
শীত যে গায়ে সয় না।।

কৃষ্ণচূড়া

             ✍️  বৈশালী নাগ

গ্রীষ্মের দাবদাহে পুড়ে যখন ভুবন
প্রকৃতিতে মোহিনীবেশে মেলে ধরে অনন্য কৃষ্ণচূড়া ফুল।
নিষ্প্রানে প্রাণ ফিরে আসে লাল রূপ দেখে,
ঝরা কৃষ্ণচূড়া পথে পড়ে থাকে যখন
 পুড়ে তখন হাজার প্রেমিক মন,
কৃষ্ণাচূড়ার মোহে আসক্ত বহু ফুলপ্রেমী
সারাদিনের দূর করে ক্লান্তি লালে রাঙা কৃষ্ণচূড়া।
প্রকৃতি তীব্র রোদে সৌন্দর্য ফিরে পায় গহনাস্বরূপ ভুবনমোহিনী কৃষ্ণচূড়া।

সম্পাদকীয়

    ✍️..................................... সম্পাদকীয় 
মনে রাঙিয়ে যায় ত্রিরঙা: আগরতলা, ৩১শে আগস্ট, ২০২৩, "হার ঘর ত্রিরঙা" এই কথাটির খুব বেশি তাৎপর্য থাকলেও অসম্পূর্ণ কিছু রয়ে যায়। সেটা হল, আমরা জাতীয় পতাকা অর্থাৎ ত্রিরঙাকে কতটুকু মন থেকে সম্মান করতে পেরেছি সেটা আজ যাচাই করা দরকার। বাইকে, গাড়িতে কিংবা আপনার নরম গালে তিনটি রং দিয়ে সাজিয়েছেন কিন্তু মনের ভেতর হয়তো সাজাতে পারেননি বা চেষ্টাও করেননি। যার ফলে পতাকাটির সম্মানের চেয়ে অসম্মান বেশি হয়েছে। কারণ, আপনার বাইক, গাড়ি কিংবা গালে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবহার করেছেন তা দেখতে সুন্দর এবং সম্মানের কিন্তু স্বাধীনতা দিবস চলে গেলেই দেখা যায় পতাকার অসম্মান। সেটি হচ্ছে আপনার অন্তরের সম্মানের অভাবের কারণে, কেননা স্বাধীনতা দিবস চলে গেলেই কেউ রাস্তায় কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছেন সম্মানীয় পতাকাটিকে। রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায় পতাকা ধুলোয় লুণ্ঠিত। আমার মনে হয়, আপনি বাহ্যিক কিংবা অন্তরে যেখানেই ব্যবহার করবেন দিবসের পর নিজের মা'র পদচিহ্ন মনে করে সেটিকে যত্নে রাখুন, বুকে তুলে রাখুন। তাহলেই প্রকৃত সম্মান করা হয়েছে বলে মনে হবে এবং দেশভক্তিও সম্পূর্ণ হবে মনে হয়৷ ভারত মাতা কি জয়, বন্দেমাতরম। ধন্যবাদান্তে,
গৌরাঙ্গ সরকার, সম্পাদক 
শিবশংকর দেবনাথ, সহসম্পাদক 
নবোন্মেষ, আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা 

জন্মাষ্টমী


               ✍️ মনচলি চক্রবর্তী 

কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি,
রোহিণী নক্ষত্রে জন্মাষ্টমী।
কংস -বধ, মথুরা, বৃন্দাবন,
সর্বত্র  পালিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মানুষ্ঠান।
রাসলীলা কৃষ্ণের দুষ্টু কর্মকাণ্ড,
শিশু মনে জাগায়  আনন্দ।
 শ্রীকৃষ্ণগোপালের জন্ম, 
হাওয়ায় সবার  আনন্দ। 
দেবকীর অষ্টম সন্তান,
বিষ্ণুর অষ্টম অবতার ।
কংসের কারাগৃহে জন্ম শ্রীকৃষ্ণের,
তবু কারামুক্ত প্রেমে বন্দী রাধিকে!
ননী চোরা, ননী গোপাল ,
মিষ্টি সুরের বাঁশি বাজায় রাখাল ।
গোপিনীদের করে পাগলিনী!
মাখনে আস্বাদিত লীলা ছলকারি। 
জন্মাষ্টমীর পূজা উৎসব
প্রকৃত অর্থে আনন্দোৎসব।

ছিন্ন বীণা

                    
        ✍️ সুখ চন্দ্র মুড়াসিং 

সংসার সমুদ্রের কয়েক কদম আগেই সুখেন বাবুর হৃদয় বীণা বিহাগ রাগে বাজতে শুরু করল । বরযাত্রী নিয়ে সাজানো গাড়ী থেকে নামতেই  বরণ ডালা নিয়ে বরণ করতে এসে শাশুড়ি মার কয়েকটি তির্যক কথায় শোরগোল পড়ে গেল। ঘনিষ্ঠ কয়েক জন ছাড়া বাকী বর যাত্রীগণ  তাদের গাড়িতে  গিয়ে বসে পড়লেন ।
উপস্থিত মান্য গণ্য গণের হস্তক্ষেপে বিয়ে সম্পন্ন হবার পর সুখেন বাবু বর সজ্জায় প্রবেশ করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর হাব ভাবে হতাশা হলেন, বধূ বরণের সময়  স্ত্রীর উদ্বত আচরণে আতরের সুবাস ফিকে হয়ে গেল । ধীরা গমনে গিয়ে স্ত্রী এবং শাশুড়ির নানা তির্যক বাণে ক্ষত বিক্ষত হলেন।শাশুড়ি এবং স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললেন - যদি এতই অপছন্দ রাজি হলেন কেন ? প্রতি উত্তরে শাশুড়ি মা বলেন - তোমাকে নয় তোমাদের ও  ঘনিষ্ঠ জনদের আচার ব্যবহার আমাদের অপছন্দ ওরা অসামাজিক। মানসিক নির্যাতনে বিধস্ত অভুক্ত সারারাত মশার কামড় খেয়ে বারান্দায়  বসে রইলেন কেউ রা করলেন না।
     ভোররাতে এক রাশ অপমান ও দুঃখ নিয়ে শশুর বাড়ী ছেড়ে  বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। সবার অলক্ষে নিজ ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়লেন , শান্তির ঘুম ভঙ্গ হল এক দল পুলিশ এবং পরিবারের লোকদের চেঁচামেচিতে। যৌতুকের জন্য নববধূ নির্যাতনের অভিযোগে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হল। থানায় , শাশুড়ি দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন - যদি ঘরজামাই থাক অভিযোগ উঠিয়ে নেব নয়ত জেলে পচে মর।

আরেকটি বার

                  ✍️ইমরান খান রাজ 

বৃষ্টি এলো 
ভিজিয়ে দিল 
আমার এই মন, 
তুমিহীনা দিনটাতে 
থাকেনা সুখ 
করে শুধু জ্বালাতন। 
দিকে দিকে খুঁজি 
সকাল-বিকাল-সাঝে 
পাইনা কোথাও দেখা, 
তোকে ছাড়া আমি 
শূন্যতায় ভুগি 
কেন জানি লাগে একা৷ 
ছুঁই ছুঁই করে 
তোকে ছুঁতে পারি না 
পালাস কেন বারবার? 
চল ভালোবাসি, 
চল কাছে আসি 
তুই-আমি আরেকটি বার।

শরৎ সৈকতে সে

অনুশোচনা


                     ✍️অধীর কুমার রায।

আমি সেই হিমাংশু ,
যে কুড়ি বছর আগে তোমাকে নামিয়েছিল
নালার পঁচা গলা জলে পানা পুকুরে ।
তুমি কাঁদতে কাঁদতে সেই নালায় নেমে
ভালোবেসে ফেললে কচুরিপানার ফুল।
তারপর ধবল বকের ডানায় দুজনায়
দিগন্ত রেখা ধরে কত উড়েছি নীল নীলিমায়।
দেখিনি সম্পর্কে চির, ছাতা হয়নি ফুটো,
চোখে পড়েনি ভূমিকম্পের চোরা ফাটল।
শুধু ভাবনারা ঘুম থেকে জেগে 
বিবেকের আদালতে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে
প্রশ্ন করেছে বারংবার ,
"সেদিন তুমি ঠিক করেছিলে?"
এই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া
আর একটাই পথ খোলা আছে নীলাঞ্জনা,
আন্দামানের সেলুলার জেলের লোহার গারদ।

স্বাধীনতা


                   ✍️তপন মাইতি

স্বাধীনতা অবশ্যই পাওয়া যাবে 
যদি না 
আমরা আমাদের পাপ্য অধিকার 
থেকে বঞ্চিত না হই 
প্রত্যেকের তার হাতে সাড়ে তিন হাত পেলেই যথেষ্ট
তবু পৃথিবীতে কেউ নিজের জন্য 
একদম একা বাঁচতেই পারে না 
অথচ সবেতে শুনি 
'একা এসেছিস একাই চলে যেতেই হবে 
এত মায়া বাড়িয়ে লাভটা কি?
ধৈর্য ধর
অপেক্ষা কর 
জানো না সবুরে মিঁয়া ফলে 
তোমার ঠিক যা যা দরকার 
যা যা প্রাপ্য 
সবই তা পাবে 
রাজতন্ত্র গিয়ে গণতন্ত্র সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র এল 
অথচ পঁচাত্তর বছর পর স্বাধীন দেশে বসে 
আর কতদিন হা স্বাধীনতা হা স্বাধীনতা করবে?
কবে আমরা স্বাধীনতার মত স্বাধীনতা পাব?

শৈশব


               ✍️সুজাতা পাল।

শৈশব কেনো ডাকেনা আমার আর
সুখস্মৃতির বাহুডোরে
অতীতের সেই উজ্জ্বল মুহুর্তগুলো
আস্বাদন করতাম প্রাণ ভরে।
শৈশব কেনো ডাকেনা আর আমায়
স্মৃতির ঝাঁপি খুলে
চির মধুর দিনগুলো ভাই
পাবো কি কোনো যাদুবলে?
শৈশব এখন বেদনার নাম
পীড়া দেয় অন্তরে,
জীবন সায়াহ্নে এসে তাই
বাঁচতে চাই আরও একবার শৈশবকে ঘিরে।


ডর ডর লাগছে


                   ✍️বিপ্লব উরাং 

ডর ডর লাগছে।
কেমন কেমন জানি
হয়ে যাছে হামার সনার তিরপুরা। 

বাগান ভরা সুগন্ধি ফুলগিলানে
বিষ মাখা বাতাস ঢুকাবেক ন কি কে জানে।
ডর ডর লাগছে।

নাই, নাই বাপধনরা
যা-ই করিস হাত জড় করে বলছি-
সুগন্ধি ফুল গিলানের জীবনটাকে
নষ্ট নাই করিস। 


দেরি হয়ে গেল।শরীরটা ভাল না।

মহারাজা তোমাকে


                ✍️জওহর লাল দাস
 
প্রজ্জ্বলিত সূর্যের আলোয় যেমন আলোকিত হয় তমস্রাবৃত ধরনী
ঘন অরণ্যের এই প্রান্তদেশে তুমিই জ্বালিয়েছো প্রগতির আলোক শিখা-- তুমিই জ্বালিয়েছো আধুনিকতার উজ্জ্বল মশাল।
তুমি জ্ঞানের জলধি, দূরদৃষ্টি,প্রজ্ঞাবান মহানুভব
সপারিষদ তুমি পাড়ি দিয়েছো পৃথিবীর নগর বন্দর চেতনার দীপ্তশিখায় নিজেকে করেছো  ঋদ্ধ।
এই ঘন অরণ্যের প্রজাকুলকে দিয়েছো নবচেতনার সন্ধান। কৃষি -শিল্প-শিক্ষা-স্বাস্থ্যের নবরূপায়নের নতুন দিশা।
তোমার সঞ্চয়ী ফসলের নিশ্চেষ্ট উত্তরাধিকার ভোগ করে চলচি আজো আমরা।
বিদ্যাপত্তন,নীরমহল, বিমান বন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় আরো কত কি!
কিন্তু কালের নিষ্ঠুর সময় তোমাকে সময় দেয় নি।
আরো কত হাজারো স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে পাড়ি দিয়েছো আর না ফেরার দেশে। তোমার স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে আমরা চলেছি আজো অনাগত ভবিষ্যতের দিকে।
তুমি তো শুধু রাজা নও
তুমি মহারাজা ।
রাজদন্ড নিয়েছিলে হাতে শুধু শাসনের জন্য নয়
সেবা যেখানে প্রজা পালন তুমি ছিলে তাই হে মহারাজ!
কিরাতের দেশে তুমি জ্বালিয়েছো শেষ প্রদীপ শিখা।
শতসহস্র তারার মাঝে তুমি এক উজ্জ্বল ধ্রুব তারা।এই পাহাড় উপত্যকার রাজ্যে রেখে গেছো কত স্মৃতির স্বাক্ষর-প্রজা কল্যানের কত আয়োজন।
মহারাজ তুমি আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার।
তোমাকে স্মরণ করি শতসহস্র বার।
তুমি ছিলে, তুমি আছো, তুমি থাকবে আমাদের হৃদয় -মননে ত্রিপুরার প্রতিটি ধুলিকনায় যতদিন থাকবে এই পার্বতী ত্রিপুরা।

এই তো জীবন


               ✍️ অর্ধেন্দু ভৌমিক

জনতার মাঝে একা হাঁটা জীবন
স্নায়ুর বাইরে শত তারার কোলাহল 
বুক আঁকড়ে ধরা মা'র ডাক
সকাল থেকে বিকেল 
শুনতে পাই কোথায়  ! 

বসন্তে বসন্তে উড়ে বিবর্ণ চুল 
মানুষের  খোঁজে 

মানুষ আমায় দেখে হাসে ...

৭৫


                       ✍️পান্থ দাস

৭৫ বছরের 
বয়স তোমার,
পাই আনন্দ
মাথা রেখে তোমাতে, 

৭৫-এর চিন্তায়
মত্ত আমি,
গাই যে তোমার 
স্বাধীনতার সুরেতে। 

বলিদানের ফসলে
ফলাই যে সুখ,
দিনেকের সাথে ভাসি 
দেখি যখন তোমার চাঁদ মুখ ।

অপরিপক্ক


                        ✍️ সমীরন পাল 

অংকে বড্ড কাঁচা আমি
গভীরতাটা মাপতে পারিনি কখনো,
নিয়ম মেনে হিসেব কষতে অপারক।
ভগ্নাংশ গুলিকে জুড়তে কত তোর জোর করি,
অথচ  ভগ্ন অংশ গুলি ঠিক খুঁজেই পাইনা।
কেন্দ্রবিন্দু স্থির রেখে-
বৃত্তের পরিধিটা আঁকতে আমি চরম ব্যর্থ। 
ভালো থাকা আর ভালো রাখার মাঝে 
বক্র রেখাটা দেখতে পেলাম যেদিন,
সেদিন থেকে ভাল রাখার ব্রতে ব্রতী হলাম।
রাখাতে যে আনন্দ থাকাতে সে নেই।

দেশ


                  ✍️ অসীম দেববর্মা
     
যতো দিন বাঁচব ভালোবেসে
       যাবো ভারতমা'কে
  আবার যদি জন্ম হয় ফিরে 
   যেনো আসি ভারতমায়ের 
                 বুকে!
নেই, নেই, নেই এমন আর দেশ 
ভারতমায়ের মতো অরূপ বেশ।
    এই দেশকে সময় সময়ে 
        হানাদারেরা লুটেছে
 কতো প্রাণের আত্ম বলিদানে,
   স্বাধীনতার মুক্ত নিশ্বাস বুক     
              ভরে নিচ্ছে
কতো মায়ের কোল হয়েছে খালি
      এদেশের দিগ্- দিগন্তে 
বীর- বীরাঙ্গনাদের গৌরব কাহিনী
            লেখা আছে!
এসো হাতে হাত ধরি হিন্দু,মুসলমান 
পারসী, বৌদ্ধ, জৈন, খৃষ্টান 
        এক সুরে গাই 
একতার জয়গান চলো সবাই।

ভালোবাসার মৃত্যু


                  ✍️ সংহিতা চৌধুরী
     
রক্ত ভেজা ভালোবাসা হারিয়ে গেছে, 
খুচরো পয়সার মতো ফেলে রেখেছিলাম। 
ভেবেছিলাম যত্নে বুকের লোমকূপে আটকে যাব, 
তা আর হলো না! 

দিন দিন সিগারেটের ধোঁয়া হয়ে উড়েছি, 
অথচ টেরও পাইনি। 

মাঝে মাঝে ক্লান্ত দেহ নীবব নদীতে ভাসতো।
হাওয়া বদলে যায়, আমি স্থির থাকি। 

একসময় দমকা হাওয়া এসে অন্ধকারে তলিয়ে যায়।
খোঁজ পেতে গভীর জলে ডুব দিতাম, 
ঝিনুক, শামুকের ছোঁয়ায় হৃদস্পন্দন বাড়ে
তবুও আশা আমার হাত ছাড়ে না।

ঐ যে ট্রেন থামলো, অপলক চোখ নিমিষে হারিয়ে যায়! 
অবশেষে বগি খালি, ভালোবাসার মৃত্যু দেখেছি খালি চোখে।

ইচ্ছে করে

                                      
                  ✍️ কৃষ্ণ ধন শীল

        ইচ্ছে করে         আদর করে
              তোমায় কিছু বলি,
       কোন শহরে         কতো দূরে 
               সে তুমি মনচলি?
       ভালোবাসা          কতো আশা 
                জমিয়ে এ বুকে,
       বলবো সেদিন      পাবো যেদিন 
                 আমি পরম সুখে। 

       স্বপ্ন বুনি            দিন যে গুনি 
                 আসবে কখন তুমি,
      তোমায় পেলে     মনের জেলে 
                  করবো রানি আমি।
      তোমার আশায়     স্বপ্ন নেশায় 
                   কতো ছন্দ বুনি,
      কতো গানে             রঙীন তানে 
                   সুর ধরে যে আনি।

ইচ্ছে


                 ✍️ সঙ্গীতা গুপ্ত

নিয়মের বেড়াজালে ই বড় হয়েছি,
মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় নিয়ম ভাঙি,
ভালো মন্দ কিছু একটা হবে জানি,
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ কত ইচ্ছে ডানা মেলে উড়তে চায়,
ইচ্ছে গুলো কে আঁকড়ে ধরে থাকার ভয় ভাবায়।
মনের ক্যানভাসে জমা থাকে সব,
চোখের ভেতর অনিশ্চিত সব স্বপ্ন,
চোখের দৃষ্টি কমে আসছে কিন্তু,
মনের ক্যানভাসে কেবল ঝরে পড়া হলুদ পাতা।
নতুন নতুন ভাবনাকে নিয়ে মেতে ওঠা
এ জীবনে হবে কি স্বপ্নের সাকার
অবুঝ মন মানে না কোন বাধা
ইচ্ছে র ডানায় ভর করে ই মন  ভাবতে শেখায়।

             ‌             

ঘাসফড়িং


                 ✍️অনুরাগ ভৌমিক 

চেনা শব্দ অচেনা রঙে মুড়িয়ে দিই,
ভাঁজ করে রাখি শুভ অশুভের মাঝে।

ফাঁকে বিশ্রাম নিক ঘাসফড়িং,

পাশের লতায় ফুল ফুটুক সুন্দর গোলাপী ফুল।

আমার যাবতীয় দ্বিধা গলে পড়ুক নোংরা নালায়,

তারপর উড়ুক প্রেম;গুঞ্জরণে মুখরিত হোক সমস্ত হাওয়া।

ভালোবাসা এক মৌমাছির নাম,
সে শুধু উড়ে উড়ে মধু আহরণ করে...

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি


               ✍️ সম্পা কর্মকার

স্বপ্ন ছিলো ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশুনা করবো । স্বপ্নটা যে কবে বাস্তব হয়ে দুইটি বছর পেরিয়ে আজ আবার পুনরায় স্বপ্নের স্মৃতি হয়ে যায়...ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি । যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় এর মেরিট লিস্ট বেরোয়...আমি জানতামও না । হঠাৎ সন্ধ্যে বেলা এক বন্ধু ফোন করে বলে...সম্পা তুই ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এ চান্স পেয়েছিস । বিশ্বাসই করতে পারিনি । যখন নিজের চোখে দেখলাম নামটা তখন খুশিতে চোখের কোণায় জল এসে যায় । অনুভূতিটা বলে বোঝবার নয় । একদিকে খুশি আবার অন্য দিকে বাড়ি ছেড়ে আসার কষ্ট । প্রথম প্রথম অনেকটাই কষ্ট হয়েছিল । তারপর সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যায় । সপ্তায় সপ্তায় পারি যেতাম । বাড়ি গেলে মনে হতো.. নাহ! আবার ফিরে যাই সেই ভালোবাসার জায়গায় । এতটাই আবেগ জড়িয়ে যায় । বিশ্ববিদ্যালয় এ এসে প্রথম কাউকেই চিনতাম না । পার্বত্য ত্রিপুরার নানান প্রান্তর থেকে সবাই একসাথে বিশ্ববিদ্যালয় এ মিলিত হই । তারপর আস্তে আস্তে সবার সাথে পরিচয় হয়...বন্ধুত্ব হয় । নানান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো । সেই সময় কতো মনোমালিন্য । কিছু কিছু বন্ধু এতোটাই কাছে এসে গেছি যে...প্রত্যেক দিন এক বেঞ্চ এ বসা...এক জন অন্য জনের অপেক্ষা করা...ফোন করা , কি রে আজ আসবি তো ? স্যার মেমদের শাসন, স্নেহ সব কিছু মিলিয়ে এক অন্য অনুভূতি । এই সব কিছুর মাঝে কবে যে দেখতে দেখতে দুইটি বছর পেরিয়ে যায় ঠিক মেনে নিতে পারছি না । সেই ক্লাস রুম, সেই বেঞ্চ, সেই সকল বন্ধু বান্ধব...যাদের কোনো এক সময় চিনতামই না...আজ তাদের জন্যই এতোটা কষ্ট হচ্ছে । চোখের কোণ বেয়ে জল ঝরছে । যখনই মনে হচ্ছে আর সেই ক্লাস রুম এ ক্লাস করবো না , সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে পারবো না...হৃদয়ে এক অব্যক্ত বেদনা মাথাচারা দিয়ে উঠছে । সেই প্রাণ প্রিয় বাংলা বিভাগ যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকছে আজ । ভীষন কষ্ট হচ্ছে এই ভেবে...আজ আর ইচ্ছে করলেও সেই ভালোবাসার ক্লাস রুম এ গিয়ে বসতে পারবো না আড্ডা দিতে পারবো না । এই জগতে সময় খুব বেশি শক্তিমান । কখন যে সময় ছুটে যায় বলা যায় না । আজ দেখতে দেখতে কতো বড়ো হয়ে গেলাম । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সমাপ্তি হয়ে গেলো । ছোট বেলায় ভাবতাম...কবে বড়ো হবো । আর আজ এতোটাই বড়ো হয়ে গেলাম !!! ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় হৃদয়ের এক অদৃশ্য আবেগ । যা কথায় ব্যাক্ত করা অসম্ভব । যা হৃদয়ের অনুভূতি দিয়ে অনুভব করা সম্ভব । ভালো থাকিস তোরা সবাই । সবাই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে কোনো এক অজ্ঞাত সময়ে ঠিক দেখা হবে আবার সবার । সব কিছু স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে আজীবন । এই স্মৃতি ভুলার নয় । ফ্রেম বন্ধি হয়ে রয়ে যাবো সবাই একসাথে । কষ্ট হচ্ছে...তাও সব কিছুই মেনে নিতে হবে । সময়ের যে বড্ড তাড়া...এক পলকেই যেনো ছুটে চলছে । কোনো এক অবসর দিনে ফোনের গ্যালারিতে ছবিগুলি দেখে মনে পড়ে যাবে সেই ফেলে আসা দিন...চোখের কোণায় জমে যাবে জল । আবার ফেলে আসা মজার কোনো ঘটনা মনে হয়ে নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে ফুটবে হাসি । আবার এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখের কোণায় জমে থাকা জল মুছে... ব্যাস্ত হয়ে যেতে হবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে আর প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের জায়গা ধরে রাখতে । বড্ড মিস করবো । কিন্তু কিছু করারও তো নেই...সময়ের সাথে সব কিছুই আমাদের মানিয়ে নিতে হয় নিজের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও । মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে প্রাণ প্রিয় বিভাগ...আমাদের "বাংলা বিভাগ", ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ।

অগোছালো


                   ✍️ কৃষ্ণ দাস

কিসের ভয় , আর কিসের ভীতি,
যার জীবন আছে পরে অগোছালো শাড়ী।।
আলোকে জানান দিল আর আমাকে একটা চুমু খেয়ে বললো শোনাচ্ছি মামা এক অজানা অচেনা রাজ্যের গল্পঃ।
কে ভুলবে আর কাকেই বা ভুলবে , আমার কি কিছু ছিল এই অগোছালো পৃথিবীতে,
আর এ এই যে ভাই শুনছো
কি যেনো নাম তার সাগরিকা, হে হে ওটাই ছিল মনে হলো, 
কি হবে ভেবে উকি দিয়া দেখে।
মাঝ নদীতে ডুব দিয়ে,
যদি মাঝি থেকে যায় নায়ে।

জীবন


                   ✍️সুস্মিতা দেবনাথ

জীবন মানে বেঁচে থাকা
সমান সুখ দুঃখ।
জীবন মানে হাজার চিন্তা
এচিভমেন্ট আর গোল।
জীবন মানে বাঁচার আশায় একটু একটু করে মরে যাওয়া।
জীবন মানে সঠিক ভুলের প্রতিযোগিতায় নিজেকে ডুবিয়ে রাখা।
জীবন মানে সবকিছু হারিয়ে আবার নতুন করে শুরু করা।।
জীবন মানে একলা লড়াই তবে থাকবে পাশে সবাই।  
জীবন মানে চলার পথে পরীক্ষার পর পরীক্ষা।।
জীবন সুন্দর তখন তোমার, যখন তুমি জানো সবটা।
জীবন মানে জানতে হবে শিখতে হবে শিখার নাই শেষ।
জীবন মানে কয়েকটা ডিগ্রীর সার্টিফিকেট এ না।
 আমার কাছে আসল জীবন সন্মান সহিত সুন্দর করে বাঁচা।।

যদি বলি ভালোবাসি


                    ✍️অনুপ দেবনাথ 

যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার কাজল কালো চোখ। 
যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার আলতো হাসি মুখ।
যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার দেওয়া সমস্ত দুঃখ শোক।
যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার নিয়ে ভাবা স্বপ্ন আর প্রেমের অসুখ। 
যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার বলা কথা, আর না বলাও।
যদি বলি ভালোবাসি
তোমার না বলা প্রেম আর প্রেমেপিপাসা ও।
যদি বলি ভালোবাসি 
তোমার ভেতরের তুমি তোমার সর্বাঙ্গ ও।
যদি বলি ভালোবাসি 
ভালোবাসবে তো...?

     
      

শুনছিস কি হৃদ ভাঙার শব্দ?


                ✍️ অমৃকা মজুমদার 

কাছে থেকেও যায়  না চেনা মানুষ বড়োই খল, 
ব্যবহারেই ধীরে ধীরে চিনি বৃক্ষ তোমার ফল।
কোকিল কণ্ঠে মন ভরিয়ে ছড়াও  তব ডানা,
হৃদ অলিন্দের গোপন কোণে কালো কাকের হানা।
শক্ত মুখোশ পরেছিলে মুখ চেনা ছিল  ভীষণ দায়, 
আসল রূপের ঝলক পেয়ে এখন শুধুই হায় হায়!
দক্ষ অভিনয়ে ঢাকা ছিলে আর কুটিলতায় ঘেরা,
সুজন সেজে মনের ঘরে  আঘাত হানলে সেরা ।
টানা সুখের লোভ দেখিয়ে দিলে লেমিনেশন শুধু,
সবুজ শ্যামল মাঠের নামে দেখালে সাহারা ধূ ধূ।
আঘাতের পর আঘাত এড়িয়ে যাওয়া নয় কি ভার?
সুখের স্বপন দেখিয়ে কত হায়!করলে অপকার ।
ব্যথাতুর মন কাঁদে;শুনছো না বধির!হৃদ ভাঙার শব্দ?
আদর সোহাগ ভালোবাসায়ও হও নি তুমি জব্দ।
নতুন করে সাধ জেগেছিলো আবার বাঁধবো ঘর,
গোপন চুক্তি ছলের সাথে! বিশ্বাস ভেঙে করলে পর!
ঝরে মুকুল দিনে রাতে রাখছো কি তার  খবর!আড়ালে আবডালে দিচ্ছ ফাঁকি ভাঙছো আমার ঘর।
চেনা মানুষ হয় অজানা চোখ ধাঁধিয়ে যায়,
বিদ্ধ করে দিবানিশি  কি যে সুখ পায়!
নিত্য খুঁজি মনের কোণে  তোমার প্রথম দাবি,
প্রশ্ন করি যখন তখন তুই কবে আর আমার হবি?

আনন্দধারা


                    ✍️ সুবর্ণা চক্রবর্তী

বৃষ্টিভেজা স্নিগ্ধ সকালে 
     পাখিদের কলতানে
বারতা দিচ্ছে এক নবদিনমানের।।

 সুখের পসরায় সেজে উঠেছে
       মনময়ূরীর  হৃদয় গহীনে
   আনন্দ গান আর সুরতানের ।।

মৃদুমন্দ সুরের দোলায় 
     বরষার প্রেমের সতেজ ছোঁয়ায় 
    পাল তুলেছে জীবন তরী ।।

উদাত্ত কন্ঠে আহ্বান জানায় 
অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে
 নিশ্চুপে জাগে অপেক্ষার বারি ।।

ছন্দে ছন্দে তা‌লে তালে 
পাল তোলা নৌকা 
শুধায় বারেবারে।। 

ধরা দিক একবার 
শ্রাবণের বারিধারা 
তৃষিত হৃদয়ের অন্তরে।। 
             

এসো ভোরের স্বপ্ন হয়ে


                 ✍️রেহানা বেগম হেনা 

কতো দিন কতো কতো  রাত
গেছে বয়ে
কতো যে বছর আমার গেছে হারিয়ে,
শুধু তোমার,
 শুধু তোমারই কথা ভেবে ভেবে।
ভাবনার স্রোতের সঙ্গে সময় নিয়েছো কেড়ে।

তুমি এসেছিলে জীবনে আমার
কোনও এক গোধূলি বেলায়,
প্রেমের কবিতার পঙক্তি হয়ে
তারপর...
পঙক্তির পর পঙক্তি শব্দের মিছিলে ছন্দ তুলে তুলে
ঢেউয়ের পর ঢেউ তুলেছ
আমার নিভৃত মনে, নির্জনে গোপনে।
কতো শত আলাপনে।
সেই ঢেউয়ের রেশ ধরে
ছন্দে ছন্দে সুরে সুরে 
এখনও রয়ে গেছো তুমি 
তবে, তবে তা ভোরের স্বপ্ন হয়ে।

তুমিই আমার প্রেরণা -
অজস্র কবিতা লেখার,
তুমিই আমার জীবনের সুখ-
আমার দুঃখ ব্যথা যন্ত্রণা,
আমার জীবনের দুপুরবেলার নীরবতা।
আমার শ্বাস প্রশ্বাসের বরতা।

এখনও কতো দিন কতো রাত কেটে যায়
শুধু তোমার কথা ভেবে ভেবে,
তুমি রোজ এসো একবার আমার ভোরের স্বপ্ন হয়ে।

স্বাধীনতা উত্তরে বলেছিল


           ✍️ বিশ্বজিৎ মানিক

স্বাধীনতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল--
স্বাধীনতা তুমি কেমন আছ?
স্বাধীনতা উত্তরে বলেছিল,
আমার দিবসে আমি খুব ভালোই থাকি
কিছু সুখী মানুষের নাচে গানে,ভাষণে উপাচারে,
বিজলি পটকা আর মাইকে ধ্বনিত শ্লোগানে
মুখরিত গ্রামে গঞ্জে,শহরে বন্দরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়।
বাকী দিনগুলোতে কেমন আছি তাও বলব
কিন্তু,রাগ করবে না তো!
শোন তাহলে--
যাঁদের আত্মবলিদানে তোমরা আমাকে এনেছ
তাঁদের বাঞ্ছিত লক্ষ্য আজও করোনি পূরণ ।
তোমরা কথায় কাজে একমন হতে নির্ভীক নও
বরং আইন সংহিতার গণতন্ত্রকে অনেকের নিরাশ্রয়ে
কালসিটে ক্ষত করে রেখেছ মলাটের বাইরে ।
আমার দেহের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে
আড়ালে রেখেছ অসাম্য উন্মার্গ প্রতিহিংসার মরণব্যাধি।
উন্নত করো তোমাদের নির্মম মনুষত্ব,
তোমরা কালজ্ঞ হলে সেরে উঠবে আমার মরণ ব্যাধি
আমাকে ভালো রাখলে তোমরাও থাকবে ভালো॥

অভিযোগহীন


                ✍️গোপা রায়।

এখনো চোখের পাতা সমান্তরাল থেকে সরলরেখায় এলে...
 দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে জন্মান্তরের প্রেমিক হয়ে সামনে দাঁড়াও,

 সেই পথ ধরে প্রবল ইচ্ছায় আলোর সন্ধানে বেরিয়ে আসতে চাইলে...
 বাড়িয়ে দাও হাত চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া  দৃশ্যমান আঙ্গুলগুলো ধরবে বলে,

হয়তো  কোন এক মায়ায় আচ্ছন্ন রাত বসে থাকে এ প্রান্তে সামান্য আলোর আশায়...

অধিকারের গন্ডিতে থাকা অরণ্য... 
মৃত্তিকার উপর চাহিদা রাখেনা কিছুই,
 এক্ষেত্রে অযাচিত হয় বহির্ভূত চাওয়া ভিখিরীর মত।

জন্মান্তরের ক্ষুধা নিয়ে বসে থাকলে সময়ের দরজায়,
সে শূন্য হাতে ফেরায়নি কোনদিন।

রাজার মতো উপুর করা ভান্ডারে উপচে পরে তার ঝুলি,

আর অভিযোগহীন হয়ে বিনিদ্র রাত কাটায় এ মন।
            

ময়না- চড়াই


                   ✍️ মৌমিতা দাস

ময়না পাখি ডেকে বলে চড়াই,
থাকো তুমি গাছের ডালে আবার কর বড়াই ।
আমি বেশ সুখেই থাকি অট্টালিকার ঘরে ,
কতোই না কষ্ট পাও গো তুমি রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে ।
চড়াই পাখি হেসে বলে- শুনো ভাই ,
তোমার তো নিজের বাসা নাই ।
আমার আবার কষ্ট কিসের ?
আছে আমার বাসা ।
নিজ হাতে তৈরি করা,
লতা - পাতায় ঠাসা ।

স্বাধীনতা


                 ✍️কাজি নিনারা বেগম

স্বাধীনতার  সাতাত্তের অমৃত মহোৎসবে
পশ্চিম আকাশে জ্বলে উঠলো  ধ্রুবতারা
তবু খই-এর মতো নগ্ন জিজ্ঞাসা।
স্বাধীনতা তুমি কি শুধুই রঙের  লহরী? 

হাজারো কবিতার স্তূপের গর্বে
দীর্ঘকালের চাপা পড়া কোনো জিবাষ্ম ! 

হতাশার এলোমেলো ছন্দে ছন্দে লেখি 
স্বাধীনতা তুমি অসংখ্য শহিদের মাথায় ঠেকানো বন্দুক-
শ্বাস- প্রশ্বাস। স্বদেশী অনুভূতি। 
শিরায় শিরায় প্রিয়তমার অস্ফুট কান্না।

স্বাধীনতা তুমি আমার হৃদয়ে জমাট বাঁধা...
রক্ত ক্ষরিত দুর্লভ স্যাম্প-
সাটা নতুন কোন আয়োজনের আলোড়ন।

তুমি এলেই শব্দরা কানে বাজে অহরহ।

মনু নদীর পশ্চিম পার


                  ✍️কাজি নিনারা বেগম

সময়টা ছিল প্রায় 1994  আগষ্ট মাসে আমি তখন বারো ক্লাসে পড়ি। হেমন্ত কালে প্রায় যায় শীতের নিমন্ত্রণে মরসুম  ফুলগুলো যেনো নেচে উঠেছে । দুপুর বেলা সূর্য দেব কিছুটা দোলা চলে মনটা আনচান করছে । আপন মানুষের  আদর সোহাগের জন্য  যাইহোক বুকে ভালো বাসা চেপে লোকালয় ভুলে খানিকটা সময় নিজেকে নিজের মধ্যে হারিয়ে গেলাম। আমাদের বাড়ির সামনে মনু নদী বাধ। সুন্দর চৌরাস্তা সামনে দাঁড়িয়ে আছে    শ্বশ্মান কালি মন্দির টি। পাশে সীমান্ত ঘেষা মসজিদ জোহরের আযানের  মিষ্টি সুর শোনা যাচ্ছে। মনু নদীর উপর বাঁধ খানা শহরের উপর দিয়ে চলেছে পাশাপাশি ছোট একটি পাড়া ঐপাড়াতে  শ্বশান মন্দিরের পূজা দেন  কাজলীর বাবা ঐদিন টি ঘোর অমাবস্যা ছিল ওনি রাতে পূজা দেবার জন্য   ফুল বেলপাতা নদীর পাড়ে  জবা ফুল তুলছেন। নদীতে জল  তেমন নেই পাশের পাড়ার কয়েকটি ছেলে নদী থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে বাজারে বেচা কেনা করে । নদী অপর প্রান্তে একটি বি এস ক্যাম্প আছে।  ওরা প্রায় সময় বৌট দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করা লোকজন  যাহাতে  না যায় কড়া পাহারায় থাকে। ঐদিন ছোট ছোট বাচ্চারা মাথায়  কিছু জিনিস পত্র মানে পণ্যসামগ্রী
 করে  নিয়ে নদী পার হচ্ছিল অবৈধ ভাবে। এমন সময় নদীর অপার থেকে এক জোয়ান   নদীতে উপর থেকে লাফ দিল সীমান্ত বর্তী ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরার জন্য। তখনই হঠাৎ মনু নদীর  তলদেশে চলে গেল
নদীঅতে মাছ ধরছিল বোবা একটি ছেলে  ওর মা আদর করে নাম রেখে ছিল কানু। 
ঐ বোবা ছেলেটি তাকিয়ে আছে নদীর  জলের দিকে হতবাক ও কাউকে বুঝাতে পারে পারছেনা ওকি করল নৌকার মাঝে দাড়িয়ে একটি বাঁশ বা অন্য কিছু দিয়ে শব্দ করছে ওপার থেকে বি এস এফ এর বাকি জোয়ানরা নেমে এল দৌড়া দৌড়ি করে একে একে নেমে এল। নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করতে লাগল নিমিষের মধ্যে কোথায় চলে গেল। উপস্থিত সবাই মিলে চেষ্টা করে কিছু করতে পারছেনা। আমি আগে বলে ছিলাম মনু নদীর পশ্চিম বাঁধে র কোনায় শ্বশান মন্দিরছিল জাগ্রত সবার মনস্কামনা পু্র্ন হয়। এমতাবস্থায় পাড়ার বয়োজেষ্ট একজন জেঠু এসে বলল আপনাদের মধ্যে একজন মনূ নদী স্নান সেরে  মা কালির মন্দির  পূজা দেন। হয়তো সব ঠিক হবে। তাড়াতাড়ি কোলকাতা একজন সৈনিক স্নান সেরে পূজা দিতে বসে গেলেন

যথারীতি সময়ে পুজা শেষ হলো। আর এদিকে নদীতে খুঁজা খুঁজিতে কিছুটা হয়রানি হয়ে গেল। আমরা সবাই দাড়িয়ে দেখছি। এমন সময় একজন সৈনিক চিৎকার করে উঠল মিল গায়া মিল গায়া সবাই হকচকিত সাথে সাথে ওই সৈনিক কে জল থেকে কয়েক জন  সাধারণ লোকজন  সৈনিক রা জল থেকে ধরাধরি করে উপরে উঠালেন। সৈনিক দের  মধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার ছিলেন ওনি লাশের হাত ধরে কিছু পরিক্ষা করলেন বললেন নেই। কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস  আসল নিয়ে গেল হাসপাতালে ডাক্তার বললেন জল খেয়ে ছেন জল বেড়ে হল সুস্থ হয়ে যাবেন। সবাই খুব খুশি যথারীতি সৈনিক টিকে নিয়ে আসলেন ক্যম্পে। ঘটা করে আবার অমাবস্যায়  শ্মশান কালি  মন্দিরে পুজা হল পাড়ার সবাই মিলে।  আমি আবার বলছিবিশ্বাস করলে ঈশ্বর আললাহ ভগবান মানবকল্যাণে সহায়তা করেন। ঐদিন শ্বশান মন্দিরকে জাগ্রত বলে জানে।
এদিকে বিএস এফ কোম্পানি তে কয়েকজন মাইনরিটি জোয়ান জম্মা বার ছিল দলবদ্ধ হয়ে  শ্বশান মন্দিরের খানিকটা পেছনে মনু নদীর বুকে পশ্চিম পারে একটি জামে মসজিদ আছে নামাজ আদায় করেছিল ঐ  বিএস এফ জোয়ানের জন্য অনেক দোয়া করেছিলেন সবাই আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহের বানিতে  ঐ যাত্রা বেঁচে গেলেন ঐ জোয়ান মায়ের কোলে ফিরে গেলেন।

মেঘেদের বারমাস


                       ✍️মাধুরী লোধ

 শ্রাবণের মেঘ ভ্রুকুটি হেসে বলে জল ভরে নাও পুকুর ডোবা খাল বিল নদী নালা
গাল পেড়ে বলো না যেনো জলের ঠেলায় ভেসে যাচ্ছে সব কিছু এ যে ভারী জ্বালা মহা জ্বালা  !
উজানের জল ভাসাচ্ছে নদী মাঠের ফসলের উপর থৈ থৈ দুহাত চারহাত জল
এতো জল এতো জল জলের ঠেলায় অতীষ্ট জন জীবন মানুষ যাচ্ছে শরণার্থী শিবিরে চারদিকে গেলো গেলো কোলাহল ।
শ্রাবণের মেঘ আরো বলে আমাদের কি দোষ পৃথিবীর জলবায়ু মানে না মানুষের নিয়ম কানুন
এখানে ভাসায় ঐ খানে পোড়ায় বুঝি না আকাশের মতি গতি  যার যা আছে কপালে মানতে হবে মানুন ।
আকাশে বারমাস থাকে মেঘ করে ছুটাছুটি হুটাহুটি দৌড়ঝাঁপ দিন রাত মানে শীত গ্রীষ্ম  মানে না পৌষ পাবন বা ভাদ্র আশ্বিন
ক্ষনে ক্ষনে বদলায় সাজ পোশাক  নীল সাদা আকাশী বেগুনী কালো হলুদ সবুজ মেঘ গুলো  ছুটছে আপন খেয়ালে মানে না  কি রাত কি দিন ।
ছয়টি ঋতু বারমাস বদলায় মেঘের রূপ যৌবন বৈশাখী কালবৈশাখী ,আষাঢ শ্রাবণে ঘন কালো শ্রাবণ ধারা আর শরতের আকাশ ঘন নীল সাদা মেঘের ভেলায় মেঘেদের লীলা খেলা
কার্তিক অগ্রহায়ণ এ ঘনকুয়াশা মাঝে মাঝে কার্তিকের তুফান আর পৌষ মাঘের যম শীত  থামিয়ে দেয় মানুষের সহজ চলা
ফাগুনী বসন্তে মেঘেদের আহা কি রঙ্গ জাদু আকাশে বাতাসে  যেদিকে তাকাই যেন উড়ে সাতরঙা আবীর ছটা
মেঘ গুলো উড়ে উড়ে চলে জানিনা সেখানে আছে কিনা বিউটি পার্লার  নয়তো কিভাবে হয় আকাশেরএতো  সাজের  ঘটা ।
বুঝি না যে আকাশের মতিগতি কি কি নিয়মে চলে আকাশের ঘর কে  রাজা কে বা প্রজা কে রাধে কে বাড়ে খাদ্য পরিসেবা
রোদ বৃষ্টির আজব খেলায় কার ক্ষতি কার লাভ  হাট বাজারের কি দশা দুর্দশা পৃথিবীতে বসে কি করে বলবো মেঘেদের কেন এতো দৌড়ঝাঁপ কান্না ।
আলো আঁধার জল বিদ্যুৎ এর অধিকারী তো আমাদের মহাকাশ সেখানে কি কি আজব খেলা ধূলা হয় সে আমাদের আয়ত্বের বাইরে
আমারা মানুষ সীমিত সাধ্য জন্ম বিবাহ মত্যু আর সীমিত আয়ুর পরিধি এ পৃথিবীতে নশ্বর দেহী আকাশের হিসেব নিকেষ শুধু দেখে খুশি ভাইরে ।

স্বাধীন ভারত


                  ✍️দীপক রঞ্জন কর।

দুইশ বছর পরাধীন ভারত ব্রিটিশের
শাসনে, 
রাজত্ব করে কৌশলে ইংরেজ দখল সিংহাসনে,
অত্যাচার অবিচার লাঞ্ছনা কত করে গৌরবে, 
সহ্য করেছে নিত্য ভারতবাসী অসহায়
নীরবে।
তরুণ যুবক গর্জে উঠে আর নয়কো 
পরাধীন ,
বহু তাজাপ্রাণ বিনিময়ে আজ ভারতবর্ষ
স্বাধীন।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ভারতবাসী ভাই ভাই
ব্রিটিশের বিরুদ্ধে করছে প্রাণপণ সংগ্রাম
লড়াই।
দেশের বিনিময়ে দিতে হয় প্রচুর তাজা
 রক্ত,
৪৭সাল ১৫ই আগস্ট ভারত হয় পরাধীন
 মুক্ত।
তেরঙ্গা তলে দাঁড়িয়ে গর্বে বলি আমরা ভারতবাসী,
মাতৃভূমি,জন্মভূমিকে মায়ের মতই হৃদয়ে ভালোবাসি।

স্বাধীন হতে চাই


              ✍️ সুপর্ণা  মজুমদার (রায়)

স্বাধীনতা!!  কথাটি শুনে হয়তো খাঁচার পাখিটি হাসে সেই চেনা বিদ্রূপের হাসি ! 
হয়তো তার ছোট্ট মনের মাঝেও জ্বলে উঠে বিদ্রোহের আগুন!! 
হয়তো সে নিজের মনেই বলে," আমিও তো চেয়েছিলাম মুক্তির স্বাদ,মুক্ত আকাশ, মুক্ত বাতাস, চেয়েছিলাম বন্ধনহীন মুক্ত জীবন!! 
আমিও চেয়েছিলাম বনের পাখি হয়ে নীল আকাশে ডানা মেলে উড়তে ! 
চেয়েছিলাম মেঘ যেমন করে আকাশের বুকে ভেসে বেড়ায়, তার মত ভেসে বেড়াতে !! 
তবে কেন আমার পায়ে পড়ালে পরাধীনতার শৃঙ্খলের বেড়ি? বলো---,বলো---- কেন?  
সভ্য সমাজের স্বাধীন মানুষ, জবাব দাও ---!!!
জানি, তোমার কাছে কোন জবাব নেই। জান, 
তোমরা যখন স্বাধীন দেশের ধ্বজা উড়িয়ে স্বাধীনতার আনন্দে উল্লাসে মাত,আনন্দের বন্যা বইয়ে দাও চারিদিকে, আমারও ইচ্ছে হয় খাঁচা ভেঙে উড়ে গিয়ে বসি ঐ ত্রিবর্ণ পতাকার উপর স্বাধীনতার স্বাদ খোঁজে পেতে। কিন্তু---কিন্তু পারিনা, শুধুমাত্র আমার অক্ষমতার কারণে ।বন্দী জীবনে শুধু নীরব কান্না কেঁদে যাই নিরন্তর,কান্নার শব্দ তোমাদের কানে গিয়ে পৌঁছায় না,হয়তো পৌঁছালেও তোমারা এতটাই বিবেক শূন্য সেই কান্নার শব্দ অনুভব কর না। 
আমি যখন খাঁচাবন্দি হয়ে ছটফট করি,আমার নিদারুণ যন্ত্রণাকে তোমরা তেরে তেরে উপভোগ করো, এতটাই নিষ্ঠুর তোমরা মানবজাতি । 
তোমরা ভুলে গেছ অতীতের ইতিহাস, 
ভুলে গেছ তোমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খলবদ্ধ জীবনের কথা । 
জীবনের প্রতিটি পলে পরাধীনতার যন্ত্রণায় ডুকরে কেঁদেছ, কখনো বা দিয়েছো শানিত হুঙ্কার । 
ভুলে গেছ সেই রক্ত ঝরা স্বাধীনতার রাত!! 
হতে পারে  ভুলে যাওনি !! 
তবে কেন আমার খাঁচাবন্দী জীবনকে তোমার আনন্দের অংশীদার করে নাও ? 
কেন তোমার উপভোগের বিষয় করে নাও আমার নিদারুন কষ্টের জীবনটাকে ? 
আমার মাঝে রক্ত ঝরানোর শক্তি যে নেই মানুষ, 
তাই তো আমি অবলা । 
তবু মানুষ !  ওহে স্বাধীন দেশের সভ্য মানুষ---
আমার যে  বড় স্বাধীন হবার সাধ জাগে মনে  ! 
খাঁচাবন্দি জীবন হতে আমায় মুক্তি দাও। 
আমি আর তোমাদের শিখানো বুলি বলতে চাই না। আমিও যেন তোমাদের মতো মুক্ত কন্ঠে গাইতে পারি, " আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে। " 
ফিরিয়ে দাও স্বাধীনতা আমার জীবনে। 
আমি স্বাধীন হতে চাই, আমি মুক্তি পেতে চাই ---,
        স্বাধীন হতে চাই ------।