মে মাসের সংখ্যা

প্রকাশিত হল নবোন্মেষ পত্রিকার মে মাসের সংখ্যা। এই সংখ্যাটি কাজী নজরুল ইসলামের চরণে উৎসর্গ করা হল। 

সম্পাদকীয়

আজকের যুবসমাজ আর নজরুলঃ আজকের যুবসমাজের কাছে নজরুল বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক, কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন নজরুলের আদর্শ রাস্তায় রাস্তায় ফেলে যেতে হবে৷ এখনকার যুবসমাজ বলতে হাতে smart phones, দামী রেস্তোরাঁতে প্রেমিকাকে নিয়ে খাবারদাবার, বন্ধুদের নিয়ে সেলফি, সিনেমা দেখা, মা-বাবার উপর চাপ সৃষ্টি করা, beer, Rum কখনোবা নেশার টেবলেট, ব্রাউনসুগার ড্রাগসে আসক্ত হওয়া তাদের সংগ্রাম৷ তাতেও হচ্ছে না বলে সিরিঞ্জ দিয়ে রক্তে ড্রাকস্ নেওয়া দৈনন্দিন জীবনে এই এক যেমন নেশার মেলা শুরু হয়েছে যা আজকের যুবসমাজ ভালো সুনাম অর্জন করছে৷ যুবসমাজের সাথে কিছু কিছু অভিভাবকও যেন হাইব্রিড অভিভাবক হয়ে উঠেছে। যখন মা-বাবার থলিতে দানা শেষ হয়ে যায় তখন দিনদুপুরে চুরি করতে বেড়িয়ে পড়ে৷ আর অন্যদিকে নজরুলের যুবসমাজ ছিল এক অন্য রকম টেস্ট্, রক্তে ছিল সংগ্রামের নেশা, হাতে ছিল একমুঠো দেশি চাল রোজগারের পেশা। না ছিল রেস্তোরাঁ না সিনেমা, তখনকার সময় ধানক্ষেতের আইল ছিল পাঁচ তাঁরা হোটেল। তবুও মা-বাবার রাতে ঘুম হত। ছিল যুবকদের নদীতে মাছ ধরার নেশা, জেলেদের জীবনপেশা। আর আজ বাজারে নেশার মাছ ধরাধরি চলছে, যা রীতিমতো অভিভাবকদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। নজরুলের যুবকরা হাইব্রিড আর বিদেশী সমাজ বর্জন করার জন্য কত জেল কেটেছে তার কোনো সীমা ছিল না, না ছিল প্রাণে ভয়! ছিল শুধু মাতৃভূমি বাঁচানোর নেশা আর সংগ্রামের পেশা। আজ তা যেন স্বপ্নের দেশে, হীরক-রাজার দেশে হারিয়ে গেছে। একদিন নেশার রাত কাটিয়ে সেই স্বপ্নের দেশকে বাস্তবে টেনে আনতে হবে, যেকারণে নজরুল একদিন প্রাসঙ্গিক হবে উঠবে। ধন্যবাদ-
গৌরাঙ্গ সরকার ( সম্পাদক)
শিবশংকর দেবনাথ (সহসম্পাদক)
নবোন্মেষ পত্রিকা, ত্রিপুরা 

পান্থ


                   ✍️চন্দ্রিমা বণিক

দোল দোল দোল..
রঙ্গমঞ্চের মহাযজ্ঞে আত্মহা রায়ে।

বাজে মাদল বাজে মৃদঙ্গ... 
তাথৈ তাথৈ পদধ্বনিতে নৃত্য ছন্দে, 
দোল দোল দোল...

ঐ শোনা যায়, 
বিশ্ব পিতার ডঙ্কা বাজে,
মেঘের আড়ালে বজ্রনাদে,
গুরুগম্ভীর প্রতিধ্বনিতে অস্তিত্বের সুর প্রকাশে।

ঐ দেখা যায়, 
আঁকাবাঁকা বিদ্যুৎ রেখার আনাগোনা, 
দেখাযায় ধ্বংস সৃষ্টির মিলন মেলায় ঘাত প্রতিঘাতের তুলি টানা।

বজ্র বিদ্যুৎ বিদ্ধ ধরণী বিচার মাগে মুক্ত গগনে শূন্য  হাতে...

গগনের নীল আর সাগরের নীল মিশে গেছে যে রেখায়,সেই রেখারই রেশ ধরে কি রঙ্গনাট্য গন্তব্য পায়?

সেই রেখার রেশ ধরে  বুঝি রক্তিম সুরে গাঁথা মালা,

অসীমের পানে অনন্তের টানে চলা...
এই পথ চলা...

      

জীবন ও ভালোবাসা


                      ✍️সঙ্গীতা গুপ্ত


সারারাত ঘুম নেই
হাজার হাজার দু:খ এসে ভীড় করে বুকে,
কত কথা বলার, কিছুই বলা হল না
মনে হয় তুমি আছ, তুমি নেই
জীবন বিচ্ছিন্ন হয়ে ও তোমার ভালবাসা চোখে জেগে থাকে,
কথার ভীড়ে সব কথা জমে পাথর
তোমার নম্র ভাষা, আমার অবিরাম কান্না,
বুকে যেন ভাঙনের ঢেউ,
কাছ থেকে চলে গেলে দূরে, নিজের কান্না নিজে শুনতে শুনতে,
আজ আমার চোখে জল নেই।
নতুন দিনের নতুন সূর্য দেখার
আশায় কত রাত কাটিয়েছি
চাঁদ ডুবেছে ভোর রাতে, বাইরের পৃথিবী দৌড়াচ্ছে
কিন্তু আমার ভাবনার আকাশ রক্তাক্ত
আলোহীন অন্ধকার ঘরের মধ্যে ঘর,
অবচেতন মন যেন আজ ও তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে আছে
ভালোবাসতে দাও।



বায়না


                       ✍️অন্তরা ভট্ট

আমি আমার মতো ভাবতে থাকি সব কিছু
সব এলোমেলো হলো মানি 
বাঁধাদি না তবুও ভাবনা টুকোর।
অবাধ্য মন ভিষণ জ্বালায়
ভিষণ রকম বায়না
আদতে কিছু পাবেনা যেনেও
স্বপ্ন দেখতে ছাড়েনা।
এথায় বসে সেথায় থাকে
গতি আর মাপা যায় না
গন্ডি টুকু বাঁধিয়ে দিলেও
দুরত্ব বাড়াবার বায়না।
ভিষণ রকম একা থাকে মন
বাধ্য হতে চায় না,
সঙ্গ হলে উড়বে তখন 
নীর্ভয়ে পথ যে দিক যায় যাক না।

                              

অচেনা মুহূর্ত


                      ✍️প্রতীক হালদার 

প্রয়োজন নেই, অন্য সময়
তুমি ও আজ অচেনা,
হৃদয়ের মাঝে তুফান ভারী
কেউ তো আমায় খোঁজে না।

চঞ্চল হয়ে উঠি না যে আর 
নীরব হয়েই থাকি,
কেমন যেন স্বপ্ন গুলো
দিল আমায় ফাঁকি!

অস্থিরতা হারিয়ে গেছে
আঁকিবুঁকি কাটে স্মৃতি,
বন্ধ হয়েছে আনাগোনা তার 
ভালোবাসা টেনেছে ইতি!

দূর আকাশের নীল মেঘেরা 
পাঠায় না চিঠি আর,
বদলে গেছে ঠিকানাখানা 
নেই যে আর দরকার।

মুহূর্ত গুলো নতুন এখন 
মানিয়ে নিতেই ব্যস্ত,
জীবনের তাগিদে তারা ও নাকি
কখনও থাকে ত্রস্ত।

অভিজ্ঞ বই


                        ✍️কৃষ্ণ ধন শীল 
                 

পুরনো,নানা জ্ঞানে পূর্ণ  বই গুলির মধ্যে অনেক গুলি এখন আর দেখতে পাইনা,
হয়তো তারা অনেকেই শতাব্দী প্রাচীন!
আর অবশিষ্ট কিছু আছে যাদের ভাষা 
এখন প্রায় বোধগম্য নয় বার্ধক্যের কারণে,
কিন্তু তাদের শৈশব-যৌবন ছিল খুব রঙীন।

আজ গ্রামের পথের মোড়ে কিংবা হাঁটে 
কোনো কীর্তন আসরে বা বাড়ির ঘাটে,
বড়োই করুণ বেশে দেখা হয় আমাদের!
কতকিছু আমার অজানা রয়ে গেছে হায় 
সময় আর ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী তারা, 
সুন্দরী-বলবান যত শয্যায় জৌলুস হারা। 

অভিজ্ঞতার সাহিত্যে তারা সত্যিই রত্নাকর
আমার গ্রামের বিজ্ঞ চেহারার বই গুলি 
একে একে হারিয়ে যাচ্ছে কালের প্রকোপে!
কত কথা গল্প ছড়া আর কত জীবন গাঁথা 
কত ডঙ্কা ঘৃণা ভালোবাসা আর আশঙ্কা, 
সঙ্গে যে হারিয়ে যাচ্ছে মৃত্যু বনের ঝোপে।

নিঃসঙ্গ রাত


                 ✍️দীলিপ মালাকার

যদি কোনোদিন তুমি
অভিমান ঝেড়ে আসো আবার ফিরে, 
এসে দেখবে তুমি
তোমার সাজানো প্রেম এখনো বেঁচে আছে  
মনের তেপান্তরে। 

আমি পারিনি ভুলতে তোমায়
তাই ধরিনি আর কারো হাত, 
তোমার অনুভূতিরা জেগে থাকে রাতের আঁধারে
তাই প্রিয় এই নিঃসঙ্গ রাত। 



শিক্ষকের প্রতি


                       ✍️নয়ন বর্মন

শিক্ষকতা পেশা নয়, এহা যেন নেশা 
ছাত্র-ছাত্রীরা আজীবন পায় নতুন জানার দিশা।।
শিক্ষক মোর পথ প্রদর্শক মোর প্রানের গুরু
জন্মের পর মায়ের দ্বারা  শিক্ষা জীবন শুরু।।

শিক্ষক জাগিয়েছে আমার আমিত্বের বাধ 
বিশ্বজগৎ  তাইতো পেল নবীনত্বের সাধ।।
শিক্ষা ছাড়া কেমন হবে জীবনরূপী বই
হয়তো বলবো মোর জীবনে সুখ গুলো কই?

শিক্ষাগুরুর স্পর্শে মোর জীবন গেল গুছে
সুখগুলো সব জড়ো হল দুঃখ-গেলো মুছে
গুরু তোমার কন্ঠে বেজে ওঠা সংগ্রামের ওই বাণী
সেই আদর্শে সাজিয়েছি মোর জীবন খানি

গুরুর শ্রমের ফসল ভোগে জীবন ভর
তাহাদের সম্মানে তাই ৫-ই সেপ্টেম্বর।।
গুনে স্পষ্ট আদর্শ বক্তা ও শ্রুতা
আরো স্পষ্ট আবেগপ্রবণ  শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষকের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত জীবন
গুরুর ঋন চুকাবে না দিয়ে কোন ধন
শিক্ষক আজীবন অকৃপণতার সহিত বিদ্যাদানে রত
শিক্ষকের চরণে মোর শ্রদ্ধায় মাথা নত।।

বাবা


                   ✍️বিজয়া শর্মা

বাবারা কখনো ভালোবাসি বলে না, শুধু ভালোবেসে দেখায়। কখনো দামি পোশাক পরে না, একটা সস্তা মার্কা ঢিলঢিলে শার্ট হলেই চলে যায় গোটা কয়েক বছর। বিলাসিতা বলতে কিছুই নেই বাবাদের, সারাজীবন কেবল সঞ্চয় করে যান। একা খেতে গেলেও দেখি সস্তা হোটেল খুঁজে ডাল-আলুভাজা দিয়ে কোনোরকম পেট ভরলে চলে। হাঁটতে হাঁটতে ছিঁড়ে যাওয়া জুতোটাতে ও পেরেক মেরে চালিয়ে দেয় কয়েক মাস। বছরের পর বছর গেলেও বাবার হাত ঘড়িটার বদল হয় না। সংসারের ঘানি টানতে টানতে কষ্ট হলেও কখনো মুখ ফুটে বলে না বাবারা। সারাজীবন কেবল অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায় পরিবারের জন্য। নিজের বিলাসিতার ভাগটাও তুলে রেখে দেয় স্ত্রী সন্তানের জন্য। বিশেষ ভাবে বাধ্য না হলে কখনো না বলে না। অথচ এই কিপটে সঞ্চয়ী মানুষটাই তার    পরিবারের জন্য একেবারে বেহিসাবী, বাবার বোধহয়             এরকমই হয়। পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে সামলাতেই চলে যায় পুরো জীবন। এই দুনিয়ায় হাজারো খারাপ পুরুষ থাকলেও, একটাও খারাপ বাবা নেই।

একটি অভিশাপ


                     ✍️অপর্ণা সিনহা

ঝাঁটা দিয়ে ঘর সাফ করতে করতে গৃহিণী হঠাৎ শুনতে পেলেন তীক্ষ্ণ স্ত্রী কন্ঠের ভৎর্সনা! 
- আরে আরে কি রে ! চোখের মাথা খেয়েছিস নাকি?
গৃহিণী প্রশ্ন করে,
 কে? কে বলছেন? তাছাড়া আপনি আমাকে তুই তুকারি করে বলছেন কেন?
স্ত্রী কন্ঠ বলে,
আঃ মরণ ! তুই তুকারি করে বলবো না তো কি পূজা করে বলবো, দেবী সম্বোধনে?
গৃহিণী আবারও বলে,
 আচ্ছা ঠিক আছে। যাই সম্বোধন করুন। কিন্তু আপনি কোথা থেকে কথা বলেছেন ? আর তাছাড়া এটা যে আমার বাড়ি!
স্ত্রী কন্ঠ অসহিষ্ণু হয়ে,
মরণ আমার! তোর বাড়ি তো আমি কি করবো? তাতে আমার বাড়ির দোষ কোথায়? বলা নেই, কওয়া নেই, তুই যে আমার এত বড়ো সর্বনাশ করলি! পোড়ামুখী!
গৃহিণী এবার খুব রাগান্বিত হয়ে বলে,
 আপনি কিন্তু সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন।এক তো আমার ঘরে আছেন লুকিয়ে তার উপর… .

কথা শেষ হতে দিলো না স্ত্রী কন্ঠ, চেঁচিয়ে উঠলো
 বলি চোখের তো মাথা খেয়েছিস! দেখছি তোর মধ্যে মায়া মমতার বিন্দু বিসর্গও নেই। না হলে, একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীর এমন সর্বনাশ করতে পারে কেউ?
গৃহিণী অবাক হয়ে প্রশ্ন করে,
 আমি কি করলাম? সেটাই তো বুঝলাম না!
স্ত্রী কন্ঠ গজগজ করতে করতে বলল,
বুঝবিও না! বলি, এই আকাশ,বাতাস সব কিছুই কি তোর? এই পৃথিবীর সব কিছুতেই কি শুধু তোদের অধিকার? আমরাও তো এই পৃথিবীরই  জীব। তবে আমার বাচ্চাদের মেরে ফেলেছিস কোন আক্কেলে শুনি?কে দিলো এই অধিকার তোকে?
গৃহিণী হতবাক! বলল,
আপনার বাচ্চা? কোথায়? কখন মারলাম আমি?
স্ত্রী কন্ঠ নাকি গলা ভারি (কান্নায় ভেঙে পড়ে বলল),
  দেখ্ ! ঐ নীচে পড়ে আছে আমার বাচ্চারা! তাদের ঝাঁটা মেরে প্রথমে নীচে ফেলে দিয়েছিস। তার পর পায়ে মাড়িয়ে চলে গেলি তুই !  ভালো হবেনা তোর বলে রাখলাম।দেখিস! হায় হায় বাছারা আমার..!
        গৃহিণী তখনই দেখতে পেল,একটি সাদা গোলাকার পিন্ড। বড় বড় মাকড়সার বুকে আটকে ধরে রাখতে দেখা যায় এমনি একটা।এটাই যে দেওয়ালে বসে থাকা প্রাণীটির বাচ্চারা, গৃহিণীর আর বুঝতে বাকি রইলো না। এমন হিংস্র ভাবে, মাকড়সাটি পাগুলো উঁচু করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল, তাতে গৃহিণী কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে পড়ে। আমতা আমতা করে বলে,
কিন্তু,আমি আমার ঘর সাফায় করছি। আপনাদের আমি দেখতে পাইনি। তাছাড়া কোন আক্কেলে ঘরের কোণে এমন বৃহৎ জাল পেতেছিলেন?নিজেই দেখুন কত আবর্জনা করেছেন।ওতে তো অনেক কীট পতঙ্গ আটকে মরে আছে। দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না ঘরে।

স্ত্রী কন্ঠ আবারও বলে
 আচ্ছা! দুর্গন্ধ পাচ্ছিস তুই?আরে ওতে আমার সারা বছরের খাদ্য মজুদ ছিল!এক লহমায় সব শেষ করে দিলি? তুই রাখিস না খাদ্য? সারা বছরের জন্য তোরা মানুষেরা ঘোলা ভরে ধান,গম,আলু পেঁয়াজ রাখিস না বুঝি? তোর বর কি প্রয়োজনের বেশি টাকা মজুদ রাখেন না ব্যাঙ্কে? পৃথিবীর মাটি,জল দখল করে তোরাই তো চাষবাস করে সব নিজেদের জন্য রাখিস?ফ্রিজ ভরে শাক সবজি মাছ , রাখিস না? সেটাতে দোষ নেই ! আমি  আমার সন্তানের জন্য সামান্য কটা কীট পতঙ্গ রাখলে অপরাধ হয়ে যায়? তোদের মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়।জানিস কত কষ্টে তিল তিল করে জাল বুনে সেগুলো আটকানোর ব্যাবস্থা করেছিলাম আমি। মাগী নিজের বেলায় ষোল আনা বুঝিস।তোরা মানুষেরা অন্য কারও ক্ষুধা তৃষ্ণা ,কষ্ট কখনও বুঝিস না!

হতবাক গৃহিণী কথা বলতেই পারছিল না।
তাকিয়ে ছিল ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে!ভাবলো,শেষে কিনা এই ক্ষুদ্র জীব তাকে তর্কে হারিয়ে দেবে? কিছু তো বলতেই হবে ভেবে,বললো
তোমার ঐ বিশ্রি জালে দেখো,কী সব আটকে আছে!মৃত চপা কীট, এছাড়া লাশের সাথে সংসার করছো তুমি। তুমি ছাড়া আরও দুটো তোমার মতো জীব ওতে। তার একটা জীবন্ত। একটা মৃত । তবে মৃত জীবটাও তো তোমার মতোই। এত কী তোমার খিদে? নিজের প্রজাতিও ? ছিঃ!

স্ত্রী কন্ঠ রাগে দুঃখে
   (ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে) কেন?তোরা রাখিসনি অতিরিক্ত জমা? অতিরিক্ত সম্পর্ক? আমি সব জানি। দেখিও! আমার সাথে সতীপনা দেখানোর দরকার নেই। তবে শুন্ ,আজ যেমন অতিরিক্ত ঝঞ্ঝাট ভেবে ধ্বংস করে দিলে আমার সংসার; কাল একজন তেমনই তোদেরকেও অতিরিক্ত ঝঞ্ঝাট ভেবে ছেঁটে ফেলে দিবে এ গ্রহ থেকে!

গৃহিণী হতবাক হয়ে বলে
   মানে কি? কি বলতে চাইছো তুমি?
কখন যে তর্কেতর্কে গৃহিণী আপনি থেকে তুমিতে নেমে গেছে সে টের পায়নি।
স্ত্রী কন্ঠ বলে,
 মানে কিছুই না। তোরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব ভাবিস তো নিজেদের। একদিন তোদের লোভ,আগ্রাসী মনোভাব, অন্য জীবেদের প্রতি অসহিষ্ণুতা, অতিরিক্ত জমানোর নেশার পাপ, এই সব কিছুর জন্যেই পতন হবে তোদের এই সভ্যতা!

গৃহিণীও ছাড়বার পাত্রী নন,সে বলল,
 তোমার মুখের কথায় নাকি? জানো কত মজবুত আমাদের ঘর? আমাদের (কথা থামিয়ে দিয়ে,) 

 স্ত্রী কন্ঠ বলে,
তোদের! তোদের কি? তোদের সম্পর্ক গুলো কি ততটা মজবুত? যেমনটা তোদের বাসস্থান? যে, প্রকৃতির শক্তি,তান্ডবকেও ভয় করিস না? এত স্বার্থপরতা, লোভ বিশ্বাসঘাতকতা তোদের রক্তে ! ধ্বংসই হবি তোরা!

গৃহিণী নিজেকে সামলে বলে,
 সে না হয় হলো। কিন্তু ঝাঁটা মেরে আমাদের ধ্বংস করে, এমন কি কেউ আছে?

স্ত্রী কন্ঠ বলে,
 আছে ! আছে বৈকি। তোদের জন্যই তো পৃথিবীটার আজ এই অবস্থা। তোদের জন্যই বন্যা,খরা, তোদের জন্যই শ্বাস বায়ু দূষণ। তোদের জন্যই তো আমাজন শেষ হয়ে গেল। তোদের জন্যই সুনামির তান্ডব।এই ধ্বংসের দাবানল থেকে একদিন তোরাও মুক্তি পাবিনা!

গৃহিণীও
 (রেগে গিয়ে বলে) ওওও অভিশাপ দিচ্ছ  আমাদের ! হা হা হা হা !  মানুষদের?এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবদের? তোমার তো সাহস কম নয়? তোমার মতো একজন পরজীবী তুচ্ছ কীট!(বলে হাসতে থাকে গৃহিণী)

স্ত্রী কন্ঠ সাথে সাথেই বলে,
  হ্যাঁ,দিচ্ছি তো অভিশাপ!তবে তার জন্য  নয় । তোদের ধ্বংস তোদের কর্মেই হবে।


   গৃহিণী ভাবলো, এত তুচ্ছ, ক্ষুদ্র কীটের (সামান্য এক স্ত্রী মাকড়সার) আজেবাজে কথা শুনছে কেন সে? তার তো, এতো সময় নেই। তাছাড়া তর্কে এর কাছে হেরে যাওয়ার চেয়ে … … .! কিছুক্ষণ ভেবে মনে মনে ভাবলো,
ঠিকই তো! তার অজান্তেই মেরে দিলেই তো সব শেষ! যেমন ভাবা তেমন কাজ! হঠাৎই ঝাঁটা শক্ত হাতে ধরে, দিল এক প্রহার! সাথে সাথে দেওয়ালে বসে এতক্ষণ অভিসম্পাত  বর্ষণ করতে থাকা স্ত্রী চরিত্রটি লুটিয়ে পড়ল মেঝেতে! মনুষ্য গৃহিণী যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো! আর এক কুটিল হাসি হেসে সংসারে মন দিল।


অবশিষ্টাংশ


                 ✍️অপর্ণা সিনহা

যেতে যেতে একটু খানি ছাই, 
একটু জল আর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া
কিছুই তো রেখে যাবার নেই!
সোনার পালঙ্ক, সুন্দর মুখশ্রী
মসৃণ ত্বক সব নিমেষেই উধাও হবে।
সাথে হয়তো অল্প মাটি পড়ে থাকবে 
দূরের কোনো নদীর তীরের শ্মশান ভূমিতে।
তোমারও প্রাপ্তির কিছু নেই তাতে,
শুধু একটু মিথ্যে অহংকার ও কিছু
অপ্রকাশিত পাপ ছাড়া অবশিষ্ট-
পায়ের নিচে এক টুকরো কয়লাও না।
নদীর জলে তলিয়ে যাবে প্রায় সবই,
তার সামান্যই সাগরে মিশে আমার গান হবে,
বাকি সমস্তই বেসুরো জীবন মাত্র!
                              

সমর্পিতা


                 ✍️মধুমিতা চৌধুরী বর্ধন

আমি ...
শুধু আমি আশ্রিতা
চিরদিন 
তোমাদের ঘরে
আমি লালিতা ও পালিতা
এই পৃথিবীতে
কিন্তু তোমাদের তরে
আমি সয়ে থাকি
 সকল দুঃখ কষ্ট নীরবে 
ফোঁটা ফোঁটা  অশ্রুজল গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে
তোমাদের সুখে কখনো বা দুঃখে
আমি হই সমসাথী
আমি কোমল
 অতি অভিমানী
লুকিয়ে রাখি সযত্নে
সকল রহস্যের উত্তর
আমি দিই  মরুতে প্রাণ
ঝরে পরি বৃষ্টি হয়ে
শুষ্ক মাটিতে
আমি নারী
এসেছি ধরায়
বিলিয়ে দিতে প্রেম
তোমাদের তরে

তাইতো কবি জেগে উঠে


                   ✍️সৌরভ দেবনাথ 

কবিতার প্রতিটি ছন্দে সেঁজে উঠেছে আমার ডাইরির পাতা ,
কবিতা কী প্রেম ভালবাসা আর বিনোদনেই গাঁথা! 
রাস্তার ড্রেন থেকে উঠে আসে ভ্রূণ হত্যার গন্ধ ...
তাই বুঝি কবির কলমে উঠে প্রতিবাদের ছন্দ। 
শত অনাথ শিশুরা ঘোরে আজ শহরের পথে ঘাটে, 
জড়বুদ্ধিসম্পন্ন বাবুরা তা দেখেও মুখ ঘুরিয়ে হাঁটে। 
মেয়েমানুষেরা আজও নিরাপদ নয়...
ধর্ষকরা মুখোষ পড়ে ,
ধর্ষণ তো দূরের নয় কাছের মানুষই করে। 

তাইতো কবি জেগে উঠে 
কলমের কালিতে অবহিত করে।

পরিণাম


                 ✍️ রূপালী রায় 

গাছ নাই, বৃক্ষ নাই 
নাই পশু পাখি ।
যেদিকে তাকাই শুধু ইট পাথরের  ইমারত 
 যানবাহন দেখি ।

গ্রাম নাই, গঞ্জ নাই 
নাই ফাঁকা জমি ।
উন্নতির দৌড় যাপে 
হারিয়েছে আজ সবি ।

মেঘ নাই, বৃষ্টি নাই 
গরম পড়েছে অতি -
যা কিছু ভুগছি  আমরা আজ
সবি এসবেরই পরিণতি ।

দম্ভ তবু কমে না
হায় রে মানব জাতি।
এখন থেকে না শুধরেলে
কি যে হবে গতি ।
প্রকৃতি রুষ্ট আজ
মানুষের প্রতি ।

গরমে পুড়ছে  মানুষ 
রোদ উঠেছে অতি ।
কখনো আবার অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি 
হচ্ছে মানুষের ক্ষতি ।
প্রকৃতি রুষ্ট আজ 
গোটা মানব জাতির প্রতি ।

ক্ষুদ্র চিঠি

  
                          ✍️চিন্ময় রায়

 চারিদিকে  ফাটল ধরেছে,ভূমি মাতার কষ্ট বেশ,
অগ্নি লাভা ছড়িয়ে পড়েছে,তাপের আর নাইকো শেষ।
মানব শরীরে হাহাকার  ভারি,রুদ্ধশ্বাসে   পৃথিবী,
হে নাথ,করো শান্ত , এইটুকুই দাবি।

মানুষ তবুও কাজে মত্ত,পশুরা খুঁজছে শান্তির স্থান, 
সজীববস্তু ঘর্মাক্ত প্রায়,অশান্তির নেইকো  অবসান।
বিশ্বমাতা কাঁদছে এই দাবদাহের ফলে,
দাবানলের মতো জ্বলছে শুধুই নিভেনা শীতল জলে। 

পাপ কাজে লিপ্ত মানুষ ,হয়তো এটাই  অভিশাপ
সূর্যি মামা আকাশেতে তাই দারুণ দিচ্ছেন তাপ। 
তাপের ফলে গাছেরাও প্রাণ নিয়ে হাঁসফাঁস করে
বাইরে বয়না বাতাস, শুধু এ.সির উল্লাস ঘরে।

হে ঈশ্বর,শান্ত করো পৃথিবীরে, প্রার্থনা তোমার কাছে,
এরূপ চিঠি আবার লিখব,অনেক কিছুই বলার আছে।

বৃষ্টিকান্না


                      ✍️ রূপঙ্কর পাল

তুমি আমি ভিজি ইচ্ছে করে
রোমান্টিকতা গায়ে মেখে,
বিনা ইচ্ছেয় জ্বরে পুড়ে শরীর–
তবুও টিপটিপ বৃষ্টির স্পর্শ
শরীর ছুঁতে থাকে প্রতিক্ষণ।
ছাতার মতো বড়ো পাতাটি
মানেনা কোনো বাঁধা...
টাকার অঙ্কে হিসেব মিলিয়ে
না মেলানো হিসেব, নিয়তি নিয়তই বেগতিক;
তখন তার কান্নার নিচে খুঁজতে থাকা সুখ।
সংসারের তাজা প্রাণের ছবি মুখের উপর
দুঃখগুলো দূরে সরিয়ে পাথর চাপা বুক,
মাটির ভেজা গন্ধ লেগে থাকা শরীর
বৃষ্টিকান্না ঠিক অসুখ বয়ে আনে, মনের;
ভালো-মন্দের দায়িত্ব যখন কাঁধের উপর।
পুড়ে যাওয়া দেহ আর ভিজে যাওয়া মন-
একই, অনুভবে কষ্ট, অগোছালো চারদিক,
জলের নৌকা ভাসিয়ে নেয় চারদিক
ফেলে ঠিক দৈন্যের সাগরে, স্বপ্ন বিসর্জন।

আঁধার


                     ✍️গোপাল বনিক

পৃথিবীতে মেঘের আনাগোনা।
সূর্যের তেজে কেমন রক্তাল্পতা ভাব।
চারিদিক ঝাপসা হয়ে আসছে।
গাছের পাতাগুলিও আজ মৌন।
যে পাখি ভোরে উড়ান ভরেছিলো খাদ্যের খোঁজে,
হঠাৎ থমকায়।
ল্যাম্পপোস্টের গায়ে আবছা আলো ঝুলতে থাকে।
আঁধার ভ্রমে সবার এখন বাসায় ফেরার পালা।

মা


                       ✍️অংকিতা বর্মণ

মা হওয়ার প্রথম অনুভূতি;
হাসিতে খুশিতে স্বর্গসুখে পাগলী।
যে-ই মেয়ে কোন একদিন;
হাসপাতাল,ঔষধ, বড়ি,ইনজেকশন;
নামেতেই হত অতি নারাজ ।
আজকাল এতো প্রতিদিনের কাজ।
তবুও খুশিতে পাগলী ভাব।
আজকাল বমি যখন তখন;
এটা খাবিনা ওটা খাবিনা;
এখানে সেখানে যখন তখন;
আসা যাওয়া আর হবেনা।
সব মানে আনন্দে উৎফুল্লে।
নারী বলতেই কেশকে ভালোবাসে;
মা হতে হলে কেশও ঝরে।
জ্বর,সর্দি,কাশি যাইহোক;
ঔষধ নিলে শিশুর আঘাত হবে;
এই ভয়টি সকলের থাকে।
শত ব্যাথা শত যন্ত্রণা;
কখন আসে কখন যায়;
মায়ের মমতায় বলতে পারেনা।
সবচেয়ে বড়ো যন্ত্রণা তখন;
সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে যখন।
৪৫-৪৭ ইউনিটের অধিক ব্যথায়;
মনবজাতিকে প্রাণহীন বানায়।
তবে সন্তান ভূমিষ্ঠের ক্ষণে;
৫৫-৫৭ ইউনিট পর্যন্ত ব্যাথা;
কুড়ি'টি হাড় ভাঙার যন্ত্রণা;
মায়েরাই কেবল সহ্য করে;
সন্তান সুখ দেয় ঘরে ঘরে।
তবুও বড় হয়ে মাকে বলে;
তুমি কি দিয়েছ?তুমি কি করেছ?
আরে বোকা, তোদের প্রাণ দিয়েছে!
তাইতো বলে মায়ের চরণে স্বর্গসুখ রহে।
মা রূপেই ভগবান ধরিত্রীর বুকে।

 

সত্তা


                 ✍️সংগীত শীল

সুখের অসুখ ভীষণ বেড়ে,
এতকাল না হয় রাখঢাক,
সাদা কালো মেঘেদের ভীড়ে।

স্মৃতির কোলাজ খুলে দেখি,
উপেক্ষার সহস্র পথ পেরিয়ে
তৃপ্তির পাড়ে, এবার স্বপ্নের সিঁড়ি।

গতিময় পরাণ,
জীর্ণ শরীরে রূপোলি ঝর্ণা মাখবে গায়ে। 

শৈশবের পেখম, 
শরীরসত্তার বিড়ম্বনার শল্যকলায় মুক্তির পথে।

বুকে ফুটবে গোলাপের কাঁটা
রক্তাক্ত কোমল পাপড়ি,
স্ট্রেচারে গড়াগড়ি। 

নিশ্চিন্ত থেকো আমার শুভার্থী।

নারী দশভূজা


                   ✍️ জয়িতা দে

নারী আমি,যেমন রাঁধি তেমনি বাঁধি চুল।
ভালোবাসার চাদরে যেমন জড়িয়ে রাখি,
তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে করি চরম প্রতিবাদ।
নারী আমি, ছুঁতে পারি যেমন পাহাড়চূড়া,
তেমনি পাড়ি দিতে পারি মহাকাশ।
আমি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী;
নেই কোন অবকাশের সময়।
নারী আমি, সন্তানের সুখে যেমন নিজের সুখ,
তেমনি সন্তানের বিপদ নিতে পারি নিজের উপর।
নারী আমি,তাই তো সংসারের সকলের সুখের জন্য 
দিতে পারি নিজের সকল সুখের বিসর্জন।
                     

শেফালী ফুলের গাছ


                 ✍️ মাধুরী লোধ 

সৈবতী শেফালী ফুলের চারা লাগালো পশ্চিম দিকের বাউন্ডারি র ইটের কোল ঘেঁষে ।বারো ফুট উঁচু বাউন্ডারী দিয়েছে পশ্চিম সীমানার মালিক গঙগারাম সাহা ।সৈবতী ঐ সাহার কাছ থেকে বাড়ির জায়গা কিনেছে । পূর্ব শর্ত মতো টাকা নিলে ও সে পরিমাণ জায়গা দেয়নি গঙ্গারাম ,মাপে কারচুপি করে ম্যাপ পাল্টে দিয়ে সৈবতী কে ঠকিয়েছে ।ধরা পরার পর গঙ্গারাম বলছে টাকা দিয়ে যেটুকু বাউন্ডারী র ভিতরে আছে তা লিখিয়ে নেবে বেল গাছের নামে দান হিসেবে ।
এমন জালিয়াতি কানড কারখানা দেখে আকাশ থেকে পড়ে সৈবতী । মানুষের মুখ খর মুখোশ নিয়ে ভাবে ।তার নাওয়া খাওয়া মাথায় উঠে, সুগার বাড়ে প্রেসার বাড়ে । কয়েক দিনে শুকিয়ে কাঠ হয় ।ওর স্বামী পরেশ বসু বলে মেয়েলোক মস্তান কে কৌশলে হারিয়েছে গঙ্গারাম ।
বাউন্ডারী ওয়াল এর ভিতরে সৈবতীর খতিয়ান এর জায়গা সেটা লিখিয়ে নেবার জন্য গঙ্গারাম আইনী নোটিশ পাঠায়। 
বিমূঢ় সৈবতী পাশের বাড়ির উলিক কে ডেকে এনে আইনী  নোটিশ দেখায় , উকিল আইনী জবাব দেয় ।পরে সৈবতী বুঝতে পারে ঐ উকিল ছেলেটি ও যোগ দিয়েছে গঙ্গারাম এর দলে । সৈবতী বুঝতে পারে তার চারপাশে গঙ্গারাম এর চক্র ব্যুহ ।তার স্বামী পরেশ ও চাইছে টাকা নিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে । আইনী ঝামেলার চাইতে অল্প তেই সন্তুষ্ট হ ওয়া ভালো ।
সৈবতী কে ঠকিয়েছে গঙ্গারাম ।পৌর নিগম এর নিয়ম অনুযায়ী বাউন্ডারী ওয়াল থেকে তিনফুট তিন ইঞ্চি দুরত্বে ঘর তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে জল বা বর্জ্য প্রতিবেশী র বাড়িতে যেতে না পার , কিন্তু গঙ্গারাম এর বাড়ির একটি ঘরের জল বৃষ্টি হলেই এসে পরে সৈবতীর ঘরের ভিতর । বারবার অভিযোগ পত্র দিয়ে ও কোন সুরাহা করেনি পৌরসভা ।সৈবতী বুঝতে পারে পৌরসভার কাউন্সিলর বা অফিসার গঙ্গারাম এর পক্ষে । ওদের আসকারা পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে গঙ্গারাম । এখন সৈবতীর সে ঘরে উই এর বাসা ।ঐ ঘর ওকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে । পূর্ব তম বাড়ির মালিক এভাবে ওকে ঠকাবে ভাবতে ও পারেনি সৈবতী । এখন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে অবস্থায় জায়গা টা আছে ওখানেই নতুন করে ঘর তৈরি করে বসবাস করবে ।পুরান ঘরগুলো ভেঙ্গে চুরে বাড়ির ভোল পাল্টে দেবে ।আর কোন যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখবে না গঙ্গারাম এর সাথে ।
সৈবতীর ছেলে রাস্তার পাশ থেকে তুলে এনেছে একটা শেফালী ফুলের চারা । বলেছে এটা বড় হলে ফুল ফুটবে । ঠাকুর পটে দেওয়া যাবে । শেফালী ফুলের চারা কোথায় লাগাবে জায়গা খুঁজতে থাকে সৈবতী । ছেলে বলে বাউন্ডারী র কাছে লাগাও ।
সৈবতী বলে চার ফুট এদিকে লাগাতে হবে ।
ছেলে বলে ঐ বাড়ির বেল গাছের পাতা তো আমাদের বা বড়িতে এসে পরছে , পৌরসভা র অফিসার চোখে দেখে না ।
সৈবতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে বেল গাছ আমাদের , ওরা জোর করে ওয়াল দিয়ে আটকে রেখেছে ।
ছেলে বলে তুমি শেফালী ফুলের চারা এখানে লাগাও । ফুল ফুটলে ঐ বাড়িতে ও পড়বে ।
ছেলের পরামর্শ মেনে শেফালী ফুলের চারা লাগায় সৈবতী বাউন্ডারী ওয়াল এর কোল ঘেঁষে ।ঐ ছোট্ট চারা বর্তমানে ডালপালা মেলে এ বাড়ি ও বাড়ির দেয়াল ছেড়ে উপর উঠে যাচ্ছে ।
এবারের শরৎ কালে  শেফালী ফুলের চারা য় ফুল ফুটেছে । সন্ধ্যায় ভোরে মৌ মৌ করে সুগন্ধে । প্রজাপতি আসে , মৌমাছি আসে । ফুল তোলে সৈবতী । ফুলের বিছানা পড়ে দু পরিবারের সীমানায় । ফুলের সাজি হাতে ফুল নিতে আসে প্রতিবেশীরা । সার্থক হয় শেফালী ফুলের গাছ ।
সৈবতী অপেক্ষা করে আইনী নোটিশ এর । কিন্তু আসে না উকিল নোটিশ , আসে না পৌরসভার কাউন্সিলর ,শহর কমিশনার ।
পুর চেয়ারম্যানের বলেন শান্তিতে বসবাস করুন ।পৌর আইন সকলের জন্য সমান । আপনাদের সুবিধা অসুবিধা দেখার দায়িত্ব আমাদের ।


স্মৃতিচারণ


          ✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী

স্মৃতির আঙিনায় আঁকা বেলাভূমির বালুচর। 
শৈশবকালের কেটে যাওয়া প্রতিটি প্রহর।।
নদীরজলে পেখম মেলে গভীর সাঁতার কাটা। 
জল তরঙ্গে আপন মনে নিজের ছবি আঁকা।।
সিক্ত মনের বালুয় গড়া সাধের চালের কল। 
 কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে মনের কোলাহল।। 
শীতকালে স্নানের ঘাটে জমতো আসর বেশ। 
হারিয়ে গেছে সেই আনন্দ সুখে আছি বেশ!! 
আমি ছিলাম আমার মনের মুকুটহীন সেই রাজা। 
দিনের পর দিন বেড়েই চলে অবাঞ্চিত কত সাজা।। 
ছোট্টকালের পুরানো দিনগুলি ছিলো কত রঙিন। 
কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে পুরানো সেই দিন।। 

ভালো আছি


                   ✍️বিপ্লব গোস্বামী

বেঁচে আছি স্মৃতি নিয়ে বুকে
ভাবনা নিয়ে দিব‍্যি আছি সুখে।
সে তো চলে গেছে দূরে বহু দূরে
অন‍্যের হাত ধরে নিশ্চিন্তপুরে।

সে  ছিল অপরূপা অনন‍্যা
সারা দেহে যৌবনের বন‍্যা।
জ‍্যোৎস্না ঝরা চাঁদের মতো হাসি
সত‍্যি তাকে আজো ভালোবাসি।

বুঝেনি সে ভালোবাসার দর
মিথ্যা ছলে করেছে যে পর।
চাইতো যদি চাওয়ার মতো করে দিতাম তাকে রাতের তারা ধরে।

কখনো সে ভাবেনি তো আপন
করছি আজ কষ্টে দিন যাপন।
হয়তো সে দিব‍্যি আছে সুখে
আমিও সুখী কষ্ট চাপা বুকে।

মুক্তছন্দ


                ✍️চন্দন পাল

* অনাক্রমণতা
চঞ্চু সুখ শেষে অন্ধ মর্ষকাম ছোটে আপেল উপত্যকার ঢালু বেয়ে। কচি বাদামী তৃণাবৃত শীর্ণ রেখা বরাবর নেমে যেতেই হোঁচট লাগে অগভীর এক ক্ষুদ্র কুন্ডে। অদ্ভুত নেশার ঘ্রাণ জাগিয়ে কুন্ড ঠেলে দেয় ঝিনুক পুকুরের দিকে। ভেসে উঠে উদগ্র ঘ্রাণ আর কিছু দাগ। সর্ব্বোচ্চ সুখ পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখি আরও কত প্রিয়জনের পায়ের ছাপ। আমি ফিরে আসি নিডুব !

* ফাঁদ
শিকারে সময় বিনিয়োগ। অতঃপর কৌশল। ফাঁদ বিছান। আটক শিকার। অতঃ নিজের মত পোষ্য ! রোগগ্রস্ত হালে ছাড় কিংবা ক্রীড়নক । আবার নতুন ফাঁদ, নতুন শিকার, আবার রোগ! ফাঁদের ফাঁদ যেন তোমায় না ছোঁয়! তোমায় বড্ড ভালবাসি।

নদী


                ✍️ কল্পনা দাস (পাল)

ওগো  নদী, তুমি আপন মনে বয়ে চলেছ। 
তোমার  কি কিছু বলার  নেই  ? 
নেই কি কোন  অভিযোগ?
তুমি অসিম শক্তির অধিকারিণী, 
তাই তো তুমি এত  অভিমানী 
তুমি মনে মনে কত স্বপ্নের জাল বোনো , 
আর নিজের কথা নিজেই শুন।
ওগো নদী , তুমি কৃষকের প্রাণের বন্ধু, রাতের চুখের ঘুম।
তোমার বারিধারা বয়ে চলেছে কৃষকের  প্রতিটি ধমনীর 
রক্ত  স্রোতের   সাথে। 
গ্রীষ্ম ও বর্ষায় তুমি পূণ্য যৌবনা শরতে তুমি আবার শান্ত ও রূপবতী কন্যা।
তুমি বডড খামখেয়ালি পনায়  চলো। 
খুব নিরাশ করে তোল। 
যৌবনের উল্লাসে মও হয়ে দাও কড়তালি। 
এ কুল ভেঙে  ও কুল গড়
আবার  দুই কুল ভেঙে প্লাবিত কর। 
ভেসে যায় ঘর বাড়ি, কত পশুপাখি। 
কৃষকের শ্রমের ধন নিয়ে যাও কেড়ে। 
তোমার আনন্দের  প্লাবনে 
কত মায়ের কত সন্তান  যায় ভেসে । 
তুমি একবার পিছন ফিরে তাকাও না তো তায়   ? 
শুধু বিরামহীন ভাবে বয়ে চলেছো। 
কোথায় তোমার ঘর? 
কি তোমার ঠিকানা  ? 
‌এ শুধু তোমারই  জানা।

পাথর চোখ

                 
                  ✍️অনুরাগ ভৌমিক 

গভীরে একটা পিপিলিকার
প্রেম অণ্বেষণ।

পাকা পেয়ারার ভেতর শুয়ে
প্রতিবার দেখি -

বৃক্ষ ছায়ায় বিশ্রাম করে শব্দেরা।

যত ই আস্ফালন, প্রদর্শনীর মাঠে,

শব্দহীন ফুলেদের চেয়ে থাকা,

বৃষ্টি হোক, বৃষ্টির শব হয়ে উঠুক উঠান।

এভাবে মিলিয়ে যাবে শান্ত সম্পর্ক,

এভাবে চুপ হয়ে যাবে নেড়ি কুকুর-সময়।

কারন আরশোলার মৃত্যুতে কোনো শোক সভা হয়না...

বর্ণ মালার বর্ণালী


                 ✍️ মাধরী লোধ 

    অনামিকা পড়ে ছড়ার বই
     আঁচল কষছে অঙ্ক
   ইটের ঘরে চলে রঙ এর কাজ
ঈ 
   ঈশাণ দাদুর উঠেছে হৃদ কম্প ।
  উঠোনে শুকাচ্ছে সিদ্ধ ধান
 ঊষা দিদি শুকায় ভিজে চুল
ঋষভ পুকুর ঘাটে বড়শি বায়
  ৯
লিকার চা খেয়ে বেড়েছে শূল ।
এককা দোক্কা পাঞ্জা খেলার মাঠে
ঐরাবত দলের পড়লো হানা
ওল কপির ঝোল খেলে বল বাড়ে
ঔ 
 ঔষধ খেতে করলো মানা ।

ঊনিশ রইবে বেঁচে


                   ✍️মিঠু মল্লিক বৈদ‍্য

একটা গল্প লিখবো বলে কলম হাতে
ছুটছি তো ছুটছি, কিন্তু লেখা আর হলো কোথায়? ভাবনাগুলি ভাসছে অ-আ-ক-খ র মাঝে।

ভাষার চক্রজ্বাল, হঠাৎ শুনতে পেলুম ঊনিশের ডাক
শহীদ থেকে কমলার হুঙ্কার -"চক্রজ্বাল উড়িয়ে দিতেই 
একদিন বুক দিয়েছিলাম পেতে,
ছুটন্ত বুলেটে ঝাঁঝড়া  হৃদপিন্ড লুটিয়ে পরেছিল বরাকের কোলে। তবুও রক্তাক্ত হাতে আঁকড়ে ধরেছিলাম অ-আ-ক-খ র সেই বর্ণমালা, 
যার মাঝে সমাহিত জাতীর  অস্তিত্ব।
কানাই -হীতেশ- কুমুদ -তরনী এঁরাও হয়েছিল সঙ্গী।।
ঊনিশের ভোর এক কালো আকাশ

রক্তের অক্ষরে লেখা ইতিহাসে বাংলার হলো জয়
আমরা পেলাম শহিদী আখ‍্যা।
বিশের ভোরে আলোর ঢেউ বাংলার আকাশে নতুন সূর্য
ভাষার চক্রজ্বালের ছিন্নতায়।

ঊনিশের  ডাক,নিতে হবে বাঁচিয়ে রাখার দায়
অ-আ-ক-খ র উল্লাস,শত চক্রজ্বাল ছিন্নতায়,
সহস্র কমলা হীতেশ উঠবে জ্বলে; শব্দে শব্দে
গাইবে  ভাষার জয়গান
কলম হাতে ছুটবে গল্প লেখার আশে।
ঊনিশ রইবে বেঁচে যুগেযুগে অনিবার।

শেষবারের মতো


                ✍️দীপক রঞ্জন কর

কয়টা টাকা দিবি মা,ইন্টারভিউ দিতে যাব  
চাকরি পেলে সুদে-মুলে সবই ফিরিয়ে দেব।
তোর জন্য আনবো চশমা,বাবার জন্য ছাতা, 
ভাইয়ের জন্য জামা জুতা,বোনের কলম খাতা।

ঠাকুর ঘরে দেবো পুজো,পাঁচ রকমের ফলে ,      রান্না ঘরের মসলা পাতি,গোলা ভরা চালে।
রাঁধবে মা যে ভালো-মন্দ,খাব পেটটি ভরে, 
খিদের জ্বালায় উঠবোনা রাত জাগা ভোরে ।

কয়টা টাকা দিবি মা,ইন্টারভিউ দিয়ে আসি,  চাকরি পেলে খেতে হবেনা লংকা ভাত বাসি। 
তোর জন্য ঘর বানাবো ইট সিমেন্ট দিয়ে ,
রোদ বৃষ্টিতে ভয় নেই মা,রাখবে সাজিয়ে।

সব বন্ধুদের খাওয়াবো মিষ্টি নিমন্ত্রণ করে  
নতুন কাপড়ে সেজে মা,থাকবি বসে ঘরে। 
কয়টা টাকা দিবি মা, শেষ বারের মতো 
চাকরি পেলে পূরণ হবে চাহিদা আছে যত।

হৃদয়স্পর্শী


                      ✍️বিউটি কর্মকার

একসময় ভেঙে পড়লাম আমি। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে সারা শরীর। চিৎকারের শব্দ আশেপাশের সকলের কানে গেলেও কেউ এগিয়ে আসলো না। একজন অল্প জল ঢেলে দিল ভাঙা পা টার উপর। মনে হল একটু স্বস্তি বোধ হচ্ছে। তবু যন্ত্রণা তো কমার কোনো লক্ষণ নেই। এভাবে কেটে গেল আরো দু তিন ঘণ্টা। এখন আর কাউকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে না। প্রত্যেকেই বুঝি নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। অথবা আমার উপস্থিতি বুঝি বড়ই ব্রাত্য। তাই যেভাবে হোক জঞ্জাল টাকে সরাতে পারলেই বাঁচে। কিন্তু আমার কষ্ট বোঝার অনুভব বুঝি কারো নেই। এদিকে তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে যাচ্ছে। আচ্ছা, এভাবেই কি শেষ হয়ে যাব আমি? আর বুঝি নতুন দিন দেখতে পাবো না। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে কখন যে অজ্ঞান হয়ে গেছি জানি না।
   ঘুম ভাঙলো কিছু অপরিচিত গলার শব্দে। চেয়ে দেখলাম হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। আমার চিকিৎসা করা হয়েছে। ওরা আমাকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছে, "আহারে। এই অবলা প্রাণীর উপর দিয়ে যে বাইক নিয়ে যায়, সে কি মানুষ! ছিঃ!"
হ্যাঁ। সত্যি হয়তো মানুষ নয়। আবার মানুষ। আসলে এখন যে চোখের সামনে মানুষকে দেখছি। প্রকৃত মানুষ, অথবা মানুষরূপী দেবতা।
বেশ কিছুদিন থেকে পুরোপুরি সেরে উঠলাম আমি। মনে হচ্ছিল এদের কাছেই সারাজীবন থেকে যাই। কিন্তু না। আমি যে পথের কুকুর। পথই আমার আশ্রয়। এই মায়ার পৃথিবীতে একবার মায়ায় জড়ানো, আবার একবার হৃদয় ভাঙার খেলা চলতে থাকে। জীবন বুঝি এমনই। আমাকে আবার আমার পুরানো জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হল। আমার চোখের কোলের জল তখনও টলমল করছে।

নির্বাক

          
                      ✍️অসীম দেববর্মা 
             
         রাতের নিস্তবদ্ধতা 
      ভাঙ্গে মনের নিরবতা,
                রাত দিন 
           যন্ত্রণা সীমাহীন।
        ঐ দূরে, এই কাছে
   প্রতিশ্রুতি ভরসায় বাঁচে!
   যাচ্ছে সময়,কাটছে দিন
দুঃখ,কষ্টের ছাঁই উড়ে অন্তহীন।

হাঁসের আঁখি

                ✍️ রিপন সিংহ 

নিঃসঙ্গ এই দুপুরে আমি একা বসে
আছি কোন এক সরোবরের তীরে,
তমাল গাছের নীচে আমি একা শুধু একা।

কোথা থেকে এক শুভ্রতা হাঁস এসে আমার দিকে তাকিয়ে,
যেন কিসের এক বার্তা নিয়ে এসেছে;
সে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু মৃদু হেসে কিছু এক বলছে।

হয়তো আমি সেই হতভাগ্য মানুষ
যে আমি তার ভাষা বুঝতে পারলাম না,
এত সুন্দর আঁখিতে মৃদু মৃদু হাসিতে জানি কিসের বার্তা হতে পারে;
তবুও তার চোখের ভাষা আমার মর্মস্পর্শ আর হল না!

ঊষার বিপরীত হয়ে চলে গেল সেই শুভ্রতা,
তবে একবার ফিরে দেখেছিল আমার দিকে
সরোবরের মাঝেই হারিয়ে গেল;
আমি আবার নিঃসঙ্গ একা শুধুই একা।

শিখল ভাঙার সুর


                  ✍️ শ্যাম মালাকার 

গ্রামের নাম কলিমপুর । মুসলিম প্রধান গ্রাম । গ্রামে কর্তা ধর্তা মৌল্লা মুরুব্বিরাই । গ্রামে একটি মাত্র স্কুল আর সেখানে মেয়েদের তেমন আনা গোনা নেই বললেই চলে , তবে নয় বছরের সুরাইয়াকে তবুও তার আম্মু সাকিনা বেগম ঐ স্কুলে ভর্তি করে দেয় । কারন সাকিনা বেগম কলকাতা শহরের মেয়ে । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স গ্র্যাজুয়েট, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে women studies এ M.A। কিন্তু রক্ষণশীল পরিবারের চাপে M.A পাস করার পরই মুর্শিদাবাদের কলিমপুর আরেক রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে জুবেদ আলির সাথে বিয়ের বাঁধনে পরে যাই সাকিনা বেগম । তাই আর তার পড়াশোনা করা হয়নি। শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন টা তার অধরাই থেকে যায় । যে সাকিনা একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের কে হিজাব নামক কূপ্রথার বিষয়ে সজাগ করতো , সভা সমিতি করতো , বিয়ের পর সেই তাকেই পড়তে হয়েছে হিজাব । প্রথম প্রথম সাকিনা এর প্রতিবাদ করলে স্বামী জুবেদ আলি ও শ্বাশুরি জুলেখা বেগমের অত্যাচারের চাপ এতটাই বেড়ে যাই যে তাকে মেনে নিতে হয় সে খাঁচাই বন্দি এক অচিন পাখি । সাকিনা তাই চাইনা তার মেয়ে এই রক্ষণশীল সমাজের একজন হয়ে উঠুক তাই সে নিজে সব অত্যাচার সহ্য করেও মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দেয় । মেয়ের স্কুলে ভর্তি নিয়েও স্বামীর সাথে কম লড়াই করতে হয়নি সাকিনাকে । 


সালটা তখন ২০২২২ তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর । নয় বছরের সুরাইয়া সেদিন ঘরে টিভি দেখছিল । হঠাৎই সুরাইয়া বলে ওঠে আম্মু আম্মু দেখবে আসো টিভিতে কী দেখাচ্ছে। পাশের রান্না ঘরে রান্না করছিল সুরাইয়ার আম্মু সাকিনা বেগম । ছুট্টে গেলো মেয়ের কাছে । 

সাকিনা বেগম -- কী হয়েছে তোমার আম্মু । 

সুরাইয়া -- আম্মু দেখো টিভিতে দেখাচ্ছে ইরানের একটি মেয়ে কে সেখানকার পুলিশ মেরে ফেলেছে । 

 মেয়ের মুখে এই কথা শুনে হতবাক হলেন সাকিনা বেগম । তিনি ইরানের হিজাব বিরোধী মাহশা আমিনীর লড়াই এর কথা শুনেছেন টিভিতে । কিন্ত মেয়ের মুখে এই কথা তার হৃদয়ে দাগ কাটলো । 

সাকিনা বেগম -- কেনো আম্মু কেনো মেরেছে ! মেয়েটা নিশ্চয়ই বদমাইশি করেছিল ! 

 সুরাইয়া -- না আম্মু মেয়েটা বদমাইশি করেনি । মেয়েটি ভূতের মতো ঐ কালো পোশাকটা পড়বেনা বলেছিল । আর ওটা রাস্তায় পুড়িয়ে দিয়েছিল । তার সাথে অনেক মেয়েও ছিল । তারা মাথার চুল কেটে ফেলে দিয়েছিল । আচ্ছা আম্মু মেয়েটা কী কোনো দোষ করেছিল ? তুমিযে ঐ কালো রঙের পোশাকটা পরো ওটা আমারও পরতে ভালো লাগে না । আমিও যদি ওটা পরবোনা বলি তবে কী পুলিশ আমাকেও মেরে ফেলবে আম্মু ? 

সাকিনা বেগম -- না না আম্মু আমি তোমাকে কিছু হতে দেবো না , তুমি যে আমার কলিজার টুকরা , তুমি যে আমার শিখল ভাঙার সুর ।

সাকিনা বেগম অবসর সময়ে মেয়েকে পশ্চিম ভারতের পণ্ডিতা রমাবাই, মাদ্রাজে ভগিনী শুভলক্ষ্মী ও বাংলার বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন, কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়, চন্দ্রমুখী বসু , রাসসুন্দরী দেবী , নাগেন্দ্রবালা মুস্তাফী ইত্যাদি ঊনবিংশ শতকের মেয়েদের জীবনের গল্প শোনাতেন। দিনটি সেদিন ১৭ অক্টোবর ২০২২ , সুরাইয়ার বাবা জুবেদ আলি ঘরে টিভি দেখছিল । হঠাৎই সে তার স্ত্রী সাকিনা ও মেয়ে সুরাইয়াকে ডাকে । দুজনেই সেখানে যাই ।

জুবেদ আলি - দেখো সুরাইয়ার আম্মু টিভিতে মন দিয়ে খবরটা দেখো । কর্ণাটকের মুসকান হিজাব পরবে বলে জান প্রাণ দিয়ে লড়াই করছে । আর তুমিই কী না সারাক্ষণ এটা খারাপ ওটা খারাপ করে আমার মাথাটাই খারাপ করো । দেখো দেখে কিছু শেখো একটু আর মেয়েকেও শেখাও । হিজাবি মাইয়া তৈরী করো , ওসব পড়াশোনা চুলোয় যাক । মেয়েকে আরবি পড়াও , কোরান পড়াও । ওসব ফিজিক্স কেমিস্ট্রি , হিস্ট্রি পড়ে কোনো লাভ নেই । মেয়েকে আল্লালহের ইবাদত করতে শেখাও ।    

সাকিনা বেগম-- সুরাইয়া আম্মু আমার তুমি একটু বাইরে যাও তো তোমার আব্বার সাথে আমার কিছু কথা আছে । 

সুরাইয়া চলে গেল , তখন স্বামীর মুখের উপর বলে ওঠে সাকিনা বলে ওঠে ।

সাকিনা বেগম--- ওসব করে কি আর ডাক্তার তৈরি হওয়া যায় ? আমি আমার আব্বা আম্মুর কারণে আমার জীবন নষ্ট করেছি তোমার সাথে বিয়ে করে । বিয়ের আগে বলেছিলে যে-- "বিয়ের পর আমাকে পড়তে দেবে " । যেদিন থেকে এই বাড়িতে আসলাম সেদিন থেকে তুমি আর তোমার আম্মু আমার স্বপ্নটাকে কেড়ে নিয়ে আমাকে নিজেদের দাসী করে রেখেছো । আমি চাই না আমার মেয়ে কারোর দাসী হয়ে থাকুক । আমার মেয়েকে আমি- ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, হিস্ট্রি আর সাইন্সই পড়াবো । যা করার আছে করো ভেবো না আমি আর চুপ করে থাকবো । আমার সাথে যা করেছো করেছো । আমার মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে ছেলে খেলা করার চেষ্টা করলে তোমার আম্মু আর তোমাকে জেলের ভাত খাওয়াবো । এই বলে রাখলুম ।

জুবেদ আলি --- সাকিনা বড় বড় কথা হয়েছে তোমার তাই না । ( এই বলে সাকিনার গালে চড় কষিয়ে দেয় জুবেদ আলি ) । বড় বড় কথা শুধু । আমি চললুম মাঠে অনেক কাজ আছে , ধান গুলো সব পড়ে আছে । মাইয়ারে দেখো 

 ছোট্ট সুরাইয়া মন দিয়ে খবরটা দেখেছিলো । দেখছিলো মুসকানের লড়াকু চরিত্র, দেখছিলো তার কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন । জুবেদ আলি চলে গেলে সাকিনা বেগম তার মেয়েকে আড়ালে জিজ্ঞেস করে করে --

সাকিনা বেগম -- আম্মু তুমি বড় হয়ে কার মতো হতে চাস। ইরানের সেই মাহশা আমিনীর মতো না কী কর্ণাটকের মুসকানের মতো ?

সুরাইয়া--- আম্মু আমি কাদম্বিনীর মতো ডাক্তার হতে চাই আর , মাহশা আমিনীর মতো প্রতিবাদী হতে চাই । আমি মুসকান হতে চাই না আম্মু , আমি মুসকান হতে চাই না । মুসকান হলে যে ঐ ভূতের মতো কালো রঙের পোশাক টা আমাকে পড়তে হবে । আমি কাদম্বিনীর মতো সাদা জামা পড়া ডাক্তার হবো আম্মু। 

সাকিনা বেগম-- ( সুরাইয়ার কপালে চুমো এঁকে দিয়ে ) হ্যাঁ আম্মু তুমি ডাক্তার হবেই হবে । আমি যা পারিনি তুমি তা করবে ।

সাকিনা বেগম তার মেয়ে সুরাইয়া কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে মনে মনে বলতে লাগলো আমি কখনোই তোমাকে এই ঘৃণ্য কুসংস্কারগ্রস্থ সমাজের একজন হতে দেবো না আম্মু । তুমি যে আমার কলিজার টুকরা । তুমি যে আমার মুক্ত আকাশের পাখি , মুক্ত বাতাসের গান ,আম্মু তুমি যে আমার শিখল ভাঙার সুর । 

বোবা ভালবাসা


              ✍️হিমাংশুভূষণ  বালো

ঘুমন্ত  কবিতারা জেগে ওঠে
কল্পনার  বাক্য বিন্ন্যাস  মুখোমুখি হাসে
আগুন    ঋণী    টিমটিমে   প্রদীপে
মাধুকরীর ইচ্ছা   তোমার  বুকে ।
প্রত্যয় হাসে তোমার উসকোখুসকো চুলে
আমি বিচরণ করি   ইচ্ছার  দিগন্তে
ভালবাসা ভিক্ষে করি হাতে হাত রেখে
অন্ধকারের  জাল কাটে ইটপোড়া ভাটিতে
নিমিষেই   কঠিন   অংকের  সুরাহা
পূর্ণতায়   হাসে অবুঝ    ভালবাসা ।

স্বস্তির নিঃশ্বাস চাই


                    ✍️ইমরান খান রাজ 

প্রচন্ড যানযট, কোলাহল আর তীব্র দাবদাহে 
চারিদিকটা আজ উত্তপ্ত, মানুষেরা আজ ক্লান্ত। 
জরুরী ভিত্তিতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস চাই সবার 
প্রয়োজন অঝোর ধারায় বৃষ্টি, তবেই মানুষ হবে শান্ত। 
নদীর ধারে মাঝি-মল্লাদের ভাটিয়ালি গান
এখন আর শুনতে পাই না, 
সবুজ মাঠে, ধানের ক্ষেতে, বৈশাখী মেলায় 
এখন আর মন যেতে চায় না। 
ইট-পাথরের শহরে যেনো হারিয়ে গেছে ছোটবেলা 
খুঁজে পাইনা কোথাও আর সোনালী কাব্য, 
পথিক হয়ে তবু বারবার উড়ে যাই অজানায় 
দেখতে চাই, ক্ষানিকটা সম্ভাব্য। 



পথের ভিকারী


                ✍️ যুস্মিতা দাশগুপ্ত

 এক হাতে লাঠি 
আরেক হাতে বাটি,
ঘুরে ঘুরে বেড়ায়
 পথের ভিকারী।

বড়ো লোকের অভিশাপ শুনে
চালাতে হয় দিন,
রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বলতে হয়
আমাকে ভিক্ষা দিন। 

মশার কাপড় খেয়ে 
থাকাতে হয় রাস্তার ধারে
বাবুরা যেতে পয়সা ফেলে 
ভিকারীর উপরে।

লেখিকা- যুস্মিতা দাশগুপ্ত

সত্যের অন্বেষন


                       ✍️অগ্রদীপ দত্ত

   এত কাল চাতক রূপী হয়ে যাকে খুঁজি,
 সে আজ দিয়েছে ডুব !
নিশিথ আঁধারে ধূসর বনে মিথ্যার নগরে৷
 যেথা নেই কোনো বাস্তব সত্য প্রানীর মন-প্রান,
চারদিক থেকে ছুটে আসে মিথ্যার অজস্র বান,
তবুও ঐ নগরী বহুরূপী কপটাধারীর কাছে পবিত্র,
ওদের যশ খ্যাতি লালসা অহংকার সব মিথ্যা জুড়ে৷

 চারিদিকে মিথ্যা যেন ঘর বুনেছে,
 আমারে হাতছানি দেয় অতিথ্য গ্রহনে৷
বশ করিতে জানে আপন সাজিয়ে,
চিনা মুশকিল কে খাঁটি সোনা,
কে সোনালি রং মাখানো৷
সত্যের বস্ত্রে মিথ্যা আজ শরীর ঢাকে,
তাইতো মিথ্যা সত্যরূপী হয়ে সমাজে সৎ সাজে৷

এক প্রশ্নে শত সাজানো উত্তর,
কোথা মাথা ঠেকাইলে সঠিক জবাব?
সঠিক হয়েও অনেক মিথ্যা সত্য হয় মুখে মুখে,
তখনই কত বাক্য ছুরির শানিত ফলার মতো বিঁধে বুকে,
কেন খুঁজি কে জানে,
 আজও সত্য অন্বেষনের পথে হাঁটা পথিক৷
খুঁজে খুঁজে মরি আঁধারে,
 হাতে করোসিনের মিটমিটে দীপশিখায়
অস্পষ্ট চোখে একবার সত্যকে দেখার আশায় ৷

মেহনতি


                  ✍️শুভ্রা দেব

এলার্ম নয়,  ঘুম ভাঙে
রোজ পাখির ডাকে,
দু'মুঠো পান্তা মুখে
কাঠফাটা রোদ্দুর মাথায় করে,
মেহনতি নামের তকমা লাগিয়ে
শুরু হয় যাপনের ব্যস্ততা।

সানস্ক্রিনের ওরা গন্ধ শোঁকেনি; 
সানবার্ন আর সানস্ট্রোক 
এসবের ওরা নাম জানে না,
ঘাম শুকানো শীতল দেহে 
গরম এদের পালিয়ে বেড়ায়।
 
বিবেকহীনের দুয়ারে 
হয় না পরিশ্রমের মূল্য যাচাই ,
বেলাশেষে হিসেবের দরকষাকষিতে 
অপমানের ঝুলি কাঁধে 
রাত নেমে আসে চোখের পাতায়।

শ্রদ্ধার্ঘ্যে কবি কাজী নজরুল


               ✍️মায়া রানী মজুমদার 
 
শ্রদ্ধায় কবি কাজী নজরুলকে করছি স্মরণ,
পুষ্প মাল্যদানে মোরা করে নিলাম বরণ। 
ভক্তির অঞ্জলিতে নাও মোদের সশ্রদ্ধ প্রণতি,
তব অণুপ্রেরণা, বাড়িয়ে দিয়েছে চক্ষু-জ্যোতি।
তব আদর্শকেই রাখবো সবাই মোরা স্মরণ,
বিদ্রোহী কবি স্মরণেই জাগে মনে আন্দোলন।
করেছো মোদের জাগ্রত, তব জাগ্রত চেতনায়,
মনের মাঝে হুঙ্কার ধ্বনিত হয় অবচেতনায়।
ভয়ে শঙ্কিত ছিলাম মোরা করি নি প্রতিবাদ,
পাছে প্রতিপক্ষরা যদি যেচে সাধে বাদ।
বীর সাহসী সংগ্রামী তুমি, দিয়েছো প্রত্যাশা,
লেখণীর মাঝেই পেয়েছি, প্রতিবাদের ভাষা।
সাম্যের কবি তুমি, দুঃখে কেটেছে কাল,
বুলবুলকে হারিয়ে তুমি হয়েছিলে নাজেহাল।
চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে লিখতে কাব্য কথা,
তবেই মিলল কড়ি, শবদেহের সমাধি হল তথা। 
ফিরে এসো বীর, সৎসংগ্রামীর বড়ো প্রয়োজন,
মসির আঘাতে জর্জরিত করে, শক্তি সঞ্চারো অণুক্ষণ। 
বসে আছি আশায়, আসছো ফিরে বলছে মন,
ছোট্ট শিশুটি হয়ে এলেই, সাদরে করিব গ্রহণ।

শাসক তুমি শোসক হইও না


                ✍️সুপর্ণা মজুমদার রায় 

শাসক তুমি শোসক হইও না। 
যে গূঢ় দায়ভার তুলে নিয়েছ নিজস্কন্ধে,
তার ভ্রুণ স্থলকে ভুলে যেও না।
শাসক তুমি শোসক হইও না। 
যে নিস্পাপ, নির্বোধ 
দিনরাত খেটেখাওয়া জনগণ 
তোমাকে দিয়েছে সমাজের সুউচ্চস্থান,
তোমার পদদলনে তাদের হাড়কাট
 শরীরকে গুড়িয়ে দিও না। 
নিশ্চিত গভীর ঘুমন্ত রাতে আতঙ্কের ক্রন্দনরোল ছড়িয়ে দিও না। 
শাসক,তুমি শোসক হইও না। 
যে নারীজাতি দিয়েছে তোমাকে দেবতার আসন,
অন্ধকার কুঠুরিতে লালসা মাখা 
বঞ্চনার জীবন তাদের পোহাতে দিও না। 
শাসক,তুমি শোসক হইও না। 
যে আঠারো বছর তোমাকে দূর হতে জানায় প্রণাম,
রাজপথ হতে তোমার জয়ের ধ্বজা
বহন করে নিয়ে যায় শহরের অলিগলিতে, 
তার হাতে ধ্বংসের অস্ত্র তুলে দিও না।
শাসক, তুমি শোসক হইও না। 
মনে রেখো,সবার অলিন্দে স্ফুলিঙ্গের বীজ রোপিত আছে। 
বঞ্চিতের ফরাশ একদিন  লেলিহান শিখায় জ্বলে উঠবে।
আর তাতে ছারখার হবে তোমার পঞ্চেন্দ্রিয়, তোমার সুষুম্না। 
শাসক, তুমি শোসক হইও না। 

উনিশ

                      ✍️ বিপ্লব গোস্বামী

  উনিশ মোদের স্বাভিমান
  উনিশ মোদের আহংকার,
মাতৃভাষায় লিখতে-পড়তে
উনিশ দিয়েছে যে অধিকার।

উনিশ মোদের আত্মমর্যাদা
উনিশ মোদের মান-সম্মান,
উনিশ মোদের আত্মাভিমান
তাই উনিশের গাই জয়গান। 
  

টগরের আর্তনাদ



                 ✍️পাপিয়া দাস

গ্রীষ্মের আগমনের  সাথে সাথে
টগর, বেলি, চাঁপা ফুঁটিল গাছে গাছে।
পূজা দিতে গিয়ে গাছের সাথে,  ফুলের সাথে 
কথা বলি মাঝে মাঝে।

একদিন দুপুরে টগরের দিকে তাকিয়ে দেখি
কলি হয়ে  রয়েছে,ফুটে নি ফুলের মত,
জিজ্ঞেস  করি এমন হয়ে আছো কেন?
শুনি তারপর টগরের আর্তনাদ  যত।

গ্রীষ্মের দাবদাহে তপ্ত জীবন
বৃষ্টি নেই কে আমায় দেবে জল
প্রকৃতির উপর ভরসা করি 
তাইতো আমি থাকি  উজ্জ্বল।

কিন্তু প্রকৃতি আজ শুকিয়ে আছে
বৃষ্টি নেই  ফুটতে তো ইচ্ছে  আমার 
রোজ জল দিও তুমি আমায়
ফুটব ফুল হয়ে অঞ্জলি  হব দেবতার।

কাঠগোলাপ


                    ✍️পান্থ দাস

অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর এই কাঠগোলাপ ফুল বর্তমানে ভারতে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কিছু কিছু রাজ্যে সম পরিমানে বা মুলত গ্রাম ভারতে দেখা যায় এই মিষ্টি ফুল। 

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন নামে পরিচিত এই কাঠগোলাপ ফুল। যেমন গুলাচি, গোলাইচ, গোলকচাঁপা, চালতাগোলাপ, গরুড়চাঁপা ইত্যাদি। মুলত ৮ থেকে ১৫ মিটার লম্বা হয় এই ফুল গাছ।

কাঠগোলাপ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির উপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। গ্রীষ্ম এবং শরৎকালে গোলাপী, সাদা ও হলুদ রঙের শেডের সুগন্ধযুক্ত ফুলে শোভিত হয় এই ফুল। 

চলুন চমৎকার এই ফুলকে আমরা সংরক্ষণ করি আর ছোট ছোট টবে কাঠগোলাপ লাগিয়ে শহরাঞ্চলেও এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নেই।

গোপন ঘরে



                 ✍️ অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী,
মাথার উপর নিস্তব্ধ নীলাকাশ। 
বুক চিঁড়ে তার শূন্যতা এক রাশ।। 
সবুজের শেষে একাকার তার সাজ। 
গুনছে প্রহর একাকীত্ব আজ।। 
নীলগগনে ভাবনারা আজ সীমা থেকে সীমাহীন। 
কঠোর সূর্যালোক উতপ্ত তাপ বেদনা  অন্তহীন।। 
বেলা অবেলা ভাসে মেঘের ভেলা একা একেলা সঙ্গীহীন। 
 আলো আধাঁরি খেলা রাতের জ্যোৎস্না বেলা জোনাকিরা বেরঙিন।। 
আমি চাই আমার জ্যোতির বিন্দু আজই নিভে যাক। 
কাটছে না দিন, লাগছে না ভালো সম্পর্কের ঘূর্ণিপাক্।। 
মনের মণিকোঠায় সুপ্ত কাজল কালো  ব্যাথা। 
অধর জুড়ে ঢেউ খেলে যায় কত না বলা কথা।। 
আগ্নেয়গিরি গলিত লাভা বেরিয়ে উথলে পড়ে। 
চিল্কাহ্রদের লবনাক্ত জল পাহাড় বেয়ে ঝরে ।। 
 

নুডলসের গপ্পো (দ্বিতীয় পর্ব)

                 
                 ✍️ রাজা দেবরায়

গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম যে সি.আর.এস বা 'চাইনিজ রেস্তরাঁ সিন্ড্রোম' খুব একটা ভালো নয়। এবার বিশেষজ্ঞরা ইংরেজিতে কী বলছেন দেখা যাক-

What is 'Chinese Restaurant Syndrome'?

Tucked between "Chinese red" and "Chinese rose", the disputed entry in Merriam-Webster's is defined as:

"A group of symptoms (such as numbness of the neck, arms, and back with headache, dizziness, and palpitations) that is held to affect susceptible persons eating food and especially Chinese food heavily seasoned with monosodium glutamate."

তাহলে ইংরেজি ভাষাতে সেটা ভালো এরকম কথাও বলা যায়না!

(চলবে)

নব দিশার পৃথিবী

               ✍️রেহানা বেগম হেনা

কালের বিবর্তনে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর এক হাতে হাতুড়ি উঠুক, 
অন্য হাতে তুলে দাও তুমুল শানিত তরবারির ধারালো কলম , 
মুষ্টিবদ্ধ একজোড়া হাতে ওসব ছুঁয়ে শিশুটি বেড়ে ওঠুক অস্ত্র সীমানায়!
ওকে গড়ে উঠতে দাও, 
পৃথিবীর প্রতিটি সমকোণ ভরে আছে আগাছা জঞ্জালের স্তূপীকৃত মনন।
বোধহীন প্রান্তরের নাগপাশে
মানুষে মানুষে হানাহানি,
চলছে কল্প কথার অহেতুক 
গল্প ছুড়ি,
আত্মিক মেলবন্ধনের আকাশ ছেয়েছে ঘনঘটার বিষাক্ত মেঘে,
এ কালো পুঞ্জ সরাতেই হবে।
এসব দোর গোড়ায় আঘাত হানতে দাও শিশুকে,জাগৃতির
হাতুড়ি আঘাতে চুরমার হোক যাবতীয় কুক্ষিগত চিন্তন,
ধূলিসাৎ হয়ে যাক হিংসা ঘৃণা দ্বেষ।
জাতপাত ধর্ম বকলমে যতো প্রাচীর মিনার সরে মনোনিবেশে নামুক এক প্রাঞ্জল আগামী। 
আপামর শিশু কণ্ঠে নিঃসৃত হোক সম্প্রীতির মহার্ঘ বাণী।
গড়ে উঠুক নব দিশার পৃথিবী,বেদনাবিধুর পরিবেশ উবে অঙ্গীকারে থাক সহাবস্থানের পূর্ণতা।
না-হলে কিসের---
চকলেট,হাগ,গোলাপ, ভালোবাসা দিবসের অহেতুক উদযাপন!
শিশুই পারে এ বিশ্ব হতে জঞ্জাল সরিয়ে সুস্থ মননের মানচিত্র উপহার দিতে।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়............................✍️
পহেলা বৈশাখ বা পয়লা বৈশাখ নববর্ষের  প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালি জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে চান্দ্রসৌর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়।

এই উৎসবটি শোভাযাত্রামেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুভেচ্ছা বাক্য হল “শুভ নববর্ষ”। নববর্ষের সময় বাংলাদেশে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ২০১৬ সালে, ইউনেস্কো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত এই উৎসব শোভাযাত্রাকে “মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য” হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলা দিনপঞ্জীর সাথে হিজরী এবং খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিস্টীয় সন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় আকাশে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার পর আর খ্রিস্টীয় সনে নতুন দিন শুর হয় ইউটিসি±০০:০০ অনুযায়ী। পহেলা বৈশাখ রাত ১২টা থেকে শুরু না হয়ে সূর্যোদয় থেকে শুরু এ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, ঐতিহ্যগত ভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এই নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২.০০টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে। আমাদের এই বৈশাখী সংখ্যায় বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছে কবি পান্থ দাস এবং নবোন্মেষ এর অন্য সদস্যরা। 

ধন্যবাদান্তে,

গৌরাঙ্গ সরকার

(নবোন্মেষ সম্পাদক)

শিবশংকর দেবনাথ

( সহসম্পাদক, নবোন্মেষ)

"ডাস্টবিন"

✒️দীপক রঞ্জন কর

পথের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা 
আমি এক ডাস্টবিন,
সৃষ্টি আমার স্বচ্ছতার কাজে 
ব্রতী থাকি রাত দিন।

আমার জনম সার্থক করো
করো যথা ব্যবহার,
পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত
করেই যাব উপকার।

বাগান,মন্দির, বাজার হাটে
সর্বত্রই আমায় পাবে,
পরিবেশ পরিচ্ছন্নতায় সবাই
 যত্নবান হতে হবে।

পরিবেশ সুন্দর নির্মল রেখো
 রেখো দূষণ মুক্ত 
 স্বচ্ছতার সেবায় ডাস্টবিন আমি
 সর্বদা আছি নিযুক্ত ।

নৌকায় আমার প্রিয়া

✒️রিপন সিংহ 

বসন্তের শেষ লগ্নে আমি বসে রইলাম নদীর মোহনায়,
সারসের নরম নরম ডানায় সূর্যের আলো নিভে যায়।

আকাশে অমৃতাংশু তারার সাথে বসন্ত খেলা করে,
কি মনোরম দৃশ্য তোমার সেই ভাব সহসা মনে জাগে।

হঠাৎ দক্ষিণ প্রবাহ হয়ে নৌকা নিয়ে চলে আসলে,
চাঁদের আলোতে তোমার বদনখানি নয়নে নেশা লাগে।

প্রেমের প্রবাহ আমার কর্ণে এসে ছোঁয়া লাগে,
তোমার নেশায় আমি স্বগতে বিভোর হয়ে ওঠে।

নৌকা থেকে তোমার রাঙা হাত বাড়ালে আমার কাছে,
তোমার হাতে হাত রেখে নৌকায় উঠিলাম সনে।

চাঁদনী আঁধারে নৌকায় বসে থাকি তোমার সনে,
রাত জেগে ভেসেছি তোমার আমার প্রেমের স্বপ্নে।

পৃথিবী আজ থমকে গিয়েছে তোমার আমার অনুরাগে,
জোনাকির আলপনায় চারিদিক সেজে উঠে নতুনভাবে।

ক্ষণিকের মধ্যেই আমি তোমার কাছে বন্দী হয়ে গেছি,
প্রেমের স্বপ্ন দেখতে দেখতে দক্ষিণ প্রবাহে ভেসে গেছি।

আমি বারবার হারিয়ে যায় তোমার সেই ছলনা রূপে,
যদি ফিরে পাই তোমারে আবার সেই কূলে।