মে দিবস

   ✍️ সুমিতা বর্ধন

সকাল থেকে পাড়ার মাইকে মাইকে
মে দিবসের টগবগে রক্তমাখা জয় গান
কোন একদিন আট ঘণ্টা কাজ
আট ঘন্টা বিশ্রাম আর বাকি সময় 
নিজেদের মতো বিনোদন,
এই ছিলো দাবি তাঁদের।
দু-শো বছর পেরিয়েও
আজও ওই শিশুটি ইট ভট্টায় কাজ করে,
বাবুদের প্রাসাদ সম ইমারত গড়তে
ভারী হাতুড়ি মারে বড় বড় ইট-পাথরের গায়ে।
বুড়ো লোকটা আজ ও সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত
ভার কাঁধে ইট বোঝাই করে নিয়ে যায় গন্তব্যে,
পরিবার পরিজনের জন্য
দু-মুঠো খাবার আর হার ভাঙা খাটুনি,
ন্যায্য পাওনা  যে সোনার পাথর বাটি ,
আর, সময়ের হিসাব করা যে বৃথা।
কাজের বিনিময়ে দুটো পয়সা নিলেই
ঘরে জ্বলবে  ভাতের হাঁড়ি।
শ্রমিকদের হাড় জল করা পয়সায়
মিটবে পেটের ক্ষুধা,
হাজার হাজার মাইল পারি দিয়েও
আজো যেনো অর্থহীন মে দিবসের ভাবনা।
আর কতকাল নেতা -মন্ত্রীদের- পিঠ চাপড়ানো ভাষণে আর ফেলে দেওয়া 
উচ্ছিষ্টে মিটবে পেটের ক্ষুধা,
ক্ষুধা পেটে মে দিবসের ভাবনা ?
ভীষণই যেনো এক হাস্য কৌতুক
তার চেয়ে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের দল-
চলো না এগিয়ে যাই হাতে হাত রেখে  আর
অর্ধমৃত মানুষ গুলোর বুকে জ্বেলে দিই গনগনে আগুনের লেলিহান শিখা,
আর কতকাল ঘুমিয়ে কাটবে?
দূরে বাজে ওই বিহগলের সুর
সময় এসেছে মে -দিবসের ভাবনায়
আবারো কিছু নতুন সংকলনের।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন