সম্পাদকীয়
✍️........................................ সম্পাদকীয়
বিগত ৬ বছর ধরে সম্পাদনা করে দেখলাম মানুষ সাহিত্য আজও ভালোবেসে চলেছে। কিন্তু যুগে যুগে সাহিত্যের পরিবর্তন হচ্ছে আর পরিবর্তন হওয়াটা স্বাভাবিক। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটাও সাহিত্য। যাইহোক, এই জুন সংখ্যায় দেখা মিলল নানান রসের সাহিত্য রচনা। আশা করি পাঠকদের আকর্ষণ করবে। সম্পাদকদের সাহিত্য থেকে পাওনা বলতে কিছু নেই। শুধু ভালোবাসা এবং কবি-লেখকদের সহযোগিতা, যার মাধ্যমে সম্পাদকরা সাহিত্যের মহাসাগর তৈরি করে পাঠকদের জন্য একটি সুন্দর পাঠাগার তৈরি করতে পারে। সবার জন্য শুভকামনা রইল।
শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদান্তে
গৌরাঙ্গ সরকার
(সম্পাদক)
শিবশংকর দেবনাথ
(সহসম্পাদক)
নবোন্মেষ, আন্তর্জাতিক পত্রিকা
আমি একটি মেয়ে
| ✍️ রাজেশ ঘোষ |
| আমি জননী, আমি ভগিনী আমি একটি মেয়ে তোমার সৃষ্টি আমার থেকে দেখো পিছন ফিরে চেয়ে, আমি নই কোনো ভোগ্য বস্তু আমি একটি সজীব প্রাণ আমারও আছে অনুভূতি আছে মান-সম্মান তোমার সঞ্জীবনী হয়েছে পূরণ স্তন্য পান করা পথচলা শিখেছো তুমি নারীর হাত ধরে আমি কখনো দূর্গা, কখনো চন্ডি সংসার-কর্তব্য-সন্তান, এই তিন নিয়ে পার হয় জীবনের গন্ডি কখনো কি জানতে চেয়েছো ? আমার মনের কথা কখনো কি লেখা হয়েছে ? আমার জীবন-গাঁথা কত কথা রয়ে যায় অব্যক্ত আসলে আমি চিরকালই ব্রাত্য |
যদি একবার
| ✍️ - পৃথ্বীশ দত্ত । |
| একবার যদি তুমি বলো একদিন ভালো বাসবোই, আমি বহু রূপে বারে বারে পৃথিবীতে আসবোই । একবার যদি তুমি বলো একদিন দেখা হবে তেপান্তরে আলো হয়ে রাজপথ খুলে যাবে অন্তরে অন্তরে। একবার যদি আসো নীড়ে একদিন অতি অল্পক্ষণ নীড়গুলো হয়ে যাবে ত্বরিতে শত শত প্রাসাদ-উপম, একবার যদি তুমি বলো শেষদিনে ব্যথার পাহাড়ে- এসো তবে স্বর্গ গড়ি আজ প্রত্যয়ের বিবিধ বাহারে । অন্তত একবার শেষবার বলো- প্রেমকেই সত্য বলে জানি ! আমার হৃদয়ে এই বীজমন্ত্র এই তবে সভ্যতার শ্রেষ্ঠতম বাণী । |
তুই
✍️শিউলী দাস
বুঝি এক ফালি রোদ্দুরে
অমি দেখেছিলাম তারে
আমি ডেকেছিলাম নাম অজানা ভিড়ে
আমি অঙ্ক কষে যাই
কেনো বার বার হারাই
কেনো শুন্যে ভেসে যাই তবু তোর নিরে
অপলক চেয়ে যতই শূন্য দেখি
তবুও নতুন গল্প লেখি
তবু কল্পনার হাওয়ায় ভাসি
তোকে ই শুধু ডাকি
সব কিছুর মায়া ভুলে
তোর রঙেতে থাকি.
কবিতার ছন্দ না-ই বা হলি
না-ই বা আমার ছবির প্রেরণা
না-ই বা কল্পনার রঙিন ডানা।
তবে জীবন গল্পে প্রতি পাতায় থাকিস
আগলে আগলে রাখিস
আর সুখের নাহলেও তবে কষ্টে কিন্ত ডাকিস।
গ্রীষ্মের সেদিন
✍️অগ্রদীপ দত্ত
বাতায়ন দিয়ে নিঝুম বৃষ্টি দেখছি,
বছর খানেক আগের গ্রীষ্মকালকে ভাবছি।
আজকে স্মৃতিগুলো ভাবনায় পুনরাবৃত্তি,
বন্ধুদের সাথে কতনা করেছি কীর্তি।
গ্রীস্মের দাবদাহ ওই দুপুরে,
স্নানের আনন্দ ছিল পুকুরে।
আম-কাঁঠালের সে সুমিষ্ট গন্ধ,
সকলে মিলে খেতে কি আনন্দ।
দুপুরে মায়ের পাশ বালিশ এড়িয়ে যাওয়া,
পাশের বাড়ির লিচু চুরি করে খাওয়া।
খোলা জমিতে ঘুড়ি নিয়ে দৌড়ানো,
নদীর পারের শীতল হাওয়া প্রাণ জুড়ানো।
বিকেলবেলাবন্ধুদের সাথে খেলা,
সকলে মিলে হইচই করে বাড়ি ফেরা।
এখন আর পাইনা আগের গ্রীষ্মের মজা,
স্মৃতিগুলো মনের কোণে এখনো তাজা।
নিঝুম সে বৃষ্টি ক্ষীন হয়ে পড়লো,
মোর মনের বিকারহীন ভাব ভাঙল,
মেঘ ভেদ করে রামধনুর কিরণ নামল।
পোষ্য
✍️সুমিতা বর্ধন
বিনোদ বিহারী পাল, ওনি বাজে মালের দোকানের বেশ পুরনো ব্যবসায়ীই বলা যায়, তবে সেই অর্থে বলতে গেলে ওনার বাবা পুলিন বিহারী পাল ছিলেন সেই দেশ ভাগের আগে বাংলাদেশের অনেক বড় বাজে মালের ব্যবসায়ী। খুব কষ্ট করেছেন নাকি ওনি ছোট বেলা থেকে ।একটা সময় মহাজনদের ফাই ফরমাস খেটে ওনাদের গা-হাত-পা টিপে মন জয় করতেন। এমনকি মহাজনদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে, রাতের পর রাত জেগে মহাজনদের মাল পাহারা দিয়ে অর্থাৎ ওনাদের মন জয় করার জন্য যা যা করা দরকার সবই করেছেন শুধু একটু রোজগারের আশায়। আর তাতে যা কিছু টাকা পয়সা পেতো সেগুলো জমিয়ে নিজের বুদ্ধি খরচ করে একটু একটু করে নিজের ব্যবসা শুরু করেছিলেন । ছোট বেলায় বাবা মারা যাওয়ায় মা ,ভাই, বোনদের নিয়ে পরেছিলেন অকুল সাগরে। তারপর ধীরে ধীরে ব্যবসা শুরু করলেন ,ব্যবসায় উন্নতি হতে শুরু করলো, একটা সময় বাজারে এক এক করে পাঁচটা ভিট কিনে বাজে মালের দোকান সাজিয়ে বসলো আর ব্যবসায়ও তখন যেনো তুঙ্গে বৃহস্পতি। ঠিক তখনি লাগলো ভারত বাংলার ভয়ানক যুদ্ধ। একটা সময় পুলিন বিহারি বুঝতে পারছিলো বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসতে হবে , এদিকে এতো ব্যবসা। মনটা ক্রমেই ভারী হয়ে আসছিলো তাঁর কারন হিন্দু মুসলিম সব তো তাঁর আপনার জন। কাকে ছেড়ে যাবে কোথায় যাবে। মানুষ হিসাবে পুলিন বিহারী খুবই ভালো ছিলেন, সবচেয়ে বড় কথা যেটা সেটা হলো ওনি কখনোই হঠাৎ বড় লোক হওয়ার ফায়দা নেন নি। কিছু মানুষকে দেখা যায় একটু টাকা পয়সা বা নাম ডাক হলে যেনো ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকে ওনাদের যেনো মাটিতে পা দিয়ে চলতেও কষ্ট , কিন্তু পুলিন বিহারী সব সময় মাটি দিয়েই হাঁটতেন এক কথায় বলা যায় ওনি মাটির মানুষই ছিলেন আজীবন। প্রাচুর্য্যের মধ্যে পড়ে কখনোই অহংকারী হয়ে উঠেন নি তিনি। যাই হোক একটা সময় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা , যুদ্ধ এসবের মধ্য দিয়ে জল গড়ালো অনেকটাই। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাঙ্গা-যুদ্ধ বা দেশ ভাগ "হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই" এই সম্পর্কের ফাটল ধরাতে পারেনি। তথাপি রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে সেলিম মিঞা, মোক্তার আলী ভাইদের সহায়তা নিয়ে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পুলিন বিহারিকে এপার বাংলায় চলে আসতে হলো। কিছু টাকা পয়সাও নিয়ে আসতে পারলো ওপার থেকে , আর সেগুলো দিয়ে আবার নতুন উদ্যোমে ব্যবসা শুরু করলো।
সেই পুলিন বিহারীর তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান হলো বিনোদ বিহারী। যথারীতি পুলিন বিহারী ব্যবসায় হাল ধরতে বিনোদ বিহারীকে শিখিয়ে পড়িয়ে মানুষ করতে লাগলো, তারপর একটা সময় পরে বাবার মুদি খানার গদি তাঁর হেফাজতেই গেলো, পুলিন বিহারী খুবই দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন , তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিন ছেলেকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে লাগিয়ে দিলেন যেনো বাপের অবর্তমানে ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে কোন বিবাদ না বাঁধে। সেই সুবাদে বিনোদ বিহারী বাপের দোকানের দায়িত্ব পেলো। বাড়ির বড় ছেলে বিনোদ বিহারী একটু শৌখিন মানুষ ছিলেন , শখ বলতে পোষ্য পালনের শখ। তাই বাড়িতে তাঁর নানা রকমের পোষ্য ছিলো যেমন, না না ধরনের পাখি, কুকুর , বিড়াল । একটু সহজ সরল কিন্তু ভালো এবং স্বচ্ছ মনের মানুষ ছিলেন বিনোদ বিহারী। ওনার বাড়িতে কোন অতিথী এলে না খেয়ে যেতে পারতেন না। যেমন ছিলেন বিনোদ তেমনি তাঁর স্ত্রী। অমায়িক এবং দয়ালু বলতে যা বোঝায়। সেই মানুষের যে পোষ্য পালার শখ সেটা সবার মতো আমিও জানি। সেই শখের মধ্যে কুকুর তাঁর খুব প্রিয় , বিনোদ স্বপ্ন দেখতো বড় বড় লোকেদের মতো সে ও বড় লেব্রেডর , জার্মান সেপার্ড ,গোল্ডেন সেপার্ড,ডালমেশিয়ান এর মতো বিলেতি কুকুরদের গলায় বেল্ট লাগিয়ে সে সকালে কিংবা বিকেলে ওয়াক করতে যাবে আর প্রভুভক্ত প্রাণীরা প্রভুর কথায় উঠা বসা করবে , সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবে সে এই সব পোষ্য দের। প্রয়োজনে ট্রেনারও রাখবে। কিন্তু কথা হচ্ছে "শখ" আর 'শখ পূরণ করা" এই দুটোই হচ্ছে সাধ আর সাধ্যের ব্যাপার। বিনোদেরও হয়েছে টা ঠিক তাই। পাঠকরা হয়তো ভাবছেন সবই তো ঠিক ছিলো তবে সাধ পূরণ করতে বাঁধা টা কোথায়। তাহলে ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক। বিনোদের স্ত্রী রাই সুন্দরী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বাড়ির একমাত্র মেয়ে ছিলো। দেখতেও যথেষ্ট সুন্দরী বলা চলে এবং খুবই দয়ালু এবং সুন্দর মনের একজন মানুষ রাই এবং বিনোদের প্রতিও রয়েছে তাঁর অপরিসীম শ্রদ্ধা , ভালবাসা । বিনোদও ঠিক তাই যেনো "মেড ফর ইচ আদার"। সেই সরল মতি বউটিও বিনোদের পোষ্য গুলিকেও খুব ভালোবাসে শুধু কুকুর ছাড়া। কুকুরে রাই এর ভীষন ভয়।আর এনিয়েও একটা গল্প রয়েছে। রাই যখন খুব ছোট্ট তখন মেয়ের আবদারে রাই এর বাবা মেয়েকে একটি বিলেতি কুকুর কিনে দেয়। বড় সাধ করে নাম রেখেছিলো তোজো। সেই তোজো কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ছিলো মন্টু মাস্টার। সেই মন্টু মাস্টার ছিলেন একজন দক্ষ ট্রেনার , ওনি পুলিশ কুকুরদেরও ট্রেনিং দিতেন। সেই মোতাবেক মন্টু মাস্টারের কাছে তোজোও ক্রমে ক্রমে ট্রেনিংপ্রাপ্ত একটি শিক্ষিত সারমেয় হয়ে উঠছিলো। যারপরনাই তোজোর গ্রহনযোগ্যতা সকলের কাছে যেমন বেড়ে গেলো ঠিক তেমনি ট্রেনিংয়ের ঠেলায় বাড়ির লোক কিংবা যারা তোজোকে দেখতে আসতো সকলেই তোজোকে মানুষের পর্যায়ে ফেলার চেষ্টা করতো। পাঠক বন্ধু বুঝলেন না তো ব্যাপারটা আচ্ছা তাহলে আমি একটু খোলসা করেই বলি। দেখুন মানুষ শিক্ষায় উন্নতি করতে হলে একটার পর একটা ট্রেনিং দিয়ে যায় ,যাতে হাতে কলমে বা যে কোন বিষয়ে পাকা পোক্ত হয়ে উঠে ছাত্রটি। আর যত কাজ শিখবে তাঁর তত ডিমান্ড বাড়বে , ততই সে জীবনে উন্নতি করবে আর দশটা মানুষ থেকে ট্রেনিং।প্রাপ্ত মানুষটি একটু বেশিই বুঝবে বা জানবে সেটা আমাদের ধারণা শুধুই নয় এটাই সত্যি। যেহেতু তোজোও একটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সারমেয় তবে সেও মানুষের মতো সব কিছু করতে পারবে অর্থাৎ আমজনতার মতো আমকুকুরদের থেকে সে অনেকটাই আলাদা হবে সেটাই স্বাভাবিক কারন সে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে ।সেটা সেই বাড়ির লোকজনদের মনে গেঁথে গিয়ে গিয়েছিলো। ফলে সারাদিন আর তোজোর বিশ্রাম নেই। তজো এটা করো, ওটা করো। তুমি স্পেশাল কি কি করতে পারো সেটা দাদাকে দেখাও , দিদিকে দেখাও বা যারা বেড়াতে এসেছে ঘরে ওদের দেখাও। আর সে বেচারি তো এই আধুনিক শিক্ষার চাপে এক্কেবারে নাজেহাল। একদিন হলো কি তোজোর খুব জোরে খিদে পেয়েছে, রাইএর মা ওকে খাবার দিয়েছে , আর সে দেখে তোজো মহা খুশি, কিন্তু বাঁধ সাধলো রাই , সে গো ধরলো তোজো আজ থেকে টেবিলে বসে খাবে। যেমন বলা তেমন কাজ, রাই তোজোর বাটি নিয়ে সোজা টেবিলে তুলে দিলো আর তোজোকে বোঝাতে লাগলো ,আজ থেকে তোজো বাবু হয়ে চেয়ার টেবিলে খাবে। কিন্তু তোজোর খুব অস্বস্তি হচ্ছিলো, মনে মনে ভাবছিলো ট্রেনিং এর ওপর আবার ট্রেনিং তাও আবার খিদের সময় , তোজো ভারী রেগে গেলো রাই এর ওপর। তোজো খুব গালি দিতে লাগলো রাইকে কিন্তু রাই কি আর বোঝার পাত্রী। সে তোজোকে খাবার টেবিলে ট্রেনিং দিয়েই যাচ্ছে। একে তো ভর দুপুর ,তার মধ্যে গরমের দিন তারপর খিদের সময় মাথা ঠিক রাখতে পারলো না তোজো । আর তোজো কেনো কেউই পারতো না। রাগের বহিঃপ্রকাশ দেখাতে গিয়ে রাইকে দিলো খুব জোর কামড়ে। রাই এর চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী। বাড়ির সবাই দৌড়ে এলো , হাত থেকে গল গল করে রক্ত ঝরছে সে এক যা তা অবস্থা। রাই তো প্রায় অজ্ঞান হওয়ার পথে। চিল চিৎকারে পাড়া গরম। কিন্তু বেদম ভয় পেয়েছে রাই, তারপর মেজাজ খিঁচিয়ে যাওয়া তোজোর দাঁত বের করে ঘরঘরানীর দৃশ্যে যে কোন মানুষের পিলা চমকাবে এটা খুব স্বাভাবিক , সেখানে রাই এর অবস্থাটা তো বুঝতেই পারছেন।সে এখন মুর্চ্ছা যায় তখন মুর্চ্ছা যায়। সেই ভয়ংকর পরিস্থিতির কথা রাই আজ পর্যন্ত ভুলতে পারে নি। সে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। এই সে কারণে রাই সুন্দরী কুকুর দেখলেই একশ গজ দূরে পালায়।
এদিকে বিনোদ বিহারী পশু প্রেমী , তারওপর কুকুর ভীষন ভালোবাসে। গলায় একটা বেল্ট পরিয়ে কুকুর নিয়ে সকাল সন্ধ্যা একটু ওয়াক করা কেমন একটা বনেদিয়ানা ব্যাপার বলে মনে হয়। তাই বিনোদের খুব ইচ্ছা একটা দামি কুকুর পোষে । কিন্তু বাঁধ সাধে তাঁর প্রিয়তমা রাইসুন্দরী। কুকুরে তাঁর যে আতংক। বিনোদ বিহারীর বাড়িতে কুকুর ছাড়া বাকি মোটামুটি সব পোষ্য ই আছে, হরেক রকম পাখি , নানান জাতের কবুতর, বিদেশি মুরগি , নানা রকমের হাঁস, খরগোস এখন শুধু একটা দামি কুকুর চাই। যাকে নিয়ে বিনোদ সকাল সন্ধ্যা ঘুরবে আর প্রভু ভক্ত প্রিয় পোষ্যটি তাঁর পেছন পেছন ঘুরবে। আহা ভাবলেই বিনোদের প্রাণ পাখি কেমন যেনো নেচে উঠে। কতোদিন যে তাঁর এই প্রিয় পোষ্যটি স্বপ্নে তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছে। কিন্তু স্বপ্ন ভাঙতেই পাশে রাই সুন্দরীর ঘুমন্ত মুখ খানা দেখলে বড় মায়া হয়। শিশুর মতো সরল মুখখানা। কতো দিন এমন হয়েছে কুকুর দেখে ভয়ে বিনোদকে জড়িয়ে ধরেছে। আর সবার সামনে সে কি অস্বস্থি তাঁর।কিন্তু কি আর করা যাবে। উল্টোটাও তো হতে পারতো মানে যে ভয় টা রাই এর সেটা তো বিনোদেরও হতে পারতো। তখনো কি রাই কুকুরের জন্য বায়না ধরতো , কোনদিনই এটা করতো না রাই। কারন বিনোদকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে রাই। তাই স্বামীর খারাপ লাগে এমন কাজ কখনোই রাই করে নি আর ভবিষ্যতেও করবে বলে মনে হয় না। রাই এর ভালবাসার সন্মানে একটা আক্ষেপ থাকুক না এই জীবনে তাঁতে কি। কিন্তু তারপরেও বিনোদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কুকুরের পরিবর্তে এমন কি পোষা যায় যাতে করে রথ দেখা এবং কলা বেচা দুটোই হয়ে যায়। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দিমাগ কা বাতি জ্বলে গেলো আর যেই ভাবা সেই কাজ, বন্ধুর বাড়ি থেকে একটা ছোট্ট বিড়াল ছানা নিয়ে এলো , সেটাকেই বিনোদ কুকুরের মতো পালন করতে লাগলো আর সেই গল্প ও আজ প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো, বিনোদ যখন বিড়ালের গলায় বেল্ট পরিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায় প্রাতঃভ্রমন বা সান্ধ্যভ্রমনে তখন কিন্তু কিছু লোক অবাক চোখে আজও তাকিয়ে থাকে। নিন্দুকেরা অবশ্য আড়ালে বলে কুকুরকে মানুষ বানাতে গিয়ে যা হলো এবার কিনা বিড়ালকে কুকুর বানানোর চেষ্টা চলছে। সাধু সাবধান।
প্রত্যাশা
✍️মাধুরী লোধ
তুমি ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাও লাল শাকের গায়ে ছোঁয়া লাগতেই নিমেষেই লাল রঙ লেপে যায় তোমার ঠোটে
তুমি শশা ঝিঙ্গা র ফুল কে আদর করো ফুল গুলো ফাঁক খুঁজে গোপনে তোমার শাড়ি জুড়ে নক্সা হয়ে ফুটে ।
তুমি পাকা টমেটো তুলবে বলে কোমরে আঁচল গুঁজে উপুড় হলে আধপাকা টমেটো হয় তোমার গাল
তোমার পরনের কলাপাতা রঙের শাড়ি গাজর রঙ্গা ব্লাউজ সীম বরবটি মিষ্টি আলু হয় লজজায় লাল ।
চিত্রাল প্রজাপতি উড়ে কুমড়ো ফুলের আশেপাশে তোমার হৃদয়ে বাজে কোকিল বোল
পাল্্ শাকের পাকা বীচি গুলো চেঁচিয়ে বলে আমায় নাও ঝাঁকায় রেঁধে খাবে ঝোল ।
তুমি ক্ষেতের পাশ দিয়ে যাও ঘাড় ঘুরাতে ঘুরাতে সূর্যমুখীর হয় ঘাড় ব্যথা
তিলফুল বলে আমাকে তুলে নাও সযতনে খোঁপার মালা বানিয়ে নাচবে গাইবে হবে কথকতা ।
তোমার নাকের ডগায় জমে যাচ্ছে কচি কচি ঘাম গাছের ডাব বলে খাও ভাবের জল
লাউ তোল চিচিঙ্গা তোল তোল আলু বেগুন মুলা তাজা তরিতরকারি খেয়ে হাসো খলখল ।
তুমি হাত পাততে গিয়ে ও থমকে দাড়াও মনে হবে লতানো গাছ বাহন হতে চাইছে তোমার
এ যে পরম প্রত্যাশা জীব জড় লতাপাতা মানুষের ও আপন জন কে আঁকড়ে থাকা সকলের জন্য সবার ।
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্তে যে কোন দিন যে কোন সময়ে স্বাগত তোমাকে আমার কৃষি আঙ্গিনায়
তুমি হয়ো সেচের জল , মাটি বা জৈবিক ,সার ঔষধি হয়ো আলো বাতাস পোকা দমন প্রকিয়া আরো আরো ফসল ফলাবার প্রত্যাশায় ।
ভালবাসা ভালবাসার গল্প কথা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মাঠে ঘাটে হাটে ঘরে বাইরে
তুমি রোজ এসে মুছিয়ে দিও ঘাম পুষিয়ে দিও শ্রমের দাম মাঠের ফসলকে নিও আপন করে ।
তোমাকে ঘেরা
✍️ ঈশানী ভট্টাচার্য
আমি না-ই বা পথ হাঁটলাম
তোমার সাথে,
কেননা আমি যে থমকে দাঁড়িয়েছি
তোমার কাছে এসে।
শুধু মনে মনে অনেক কিছু
খেয়াল রেখে,
অনেক স্মৃতি যত্ন করে,
মনের মণিকোঠায় রেখে দিয়েছি।
নদীর ধারে,কিংবা কাশের বনে,
যখন দোলা লাগে,
মনে হয়,
ওই সবকিছুর শুরু আর শেষ,
তোমাকে ঘিরেই।
সবকিছুর মধ্যে "তুমি"।
বিজ্ঞানকে কি অস্বীকার করা যায়?
✍️ রাজা দেবরায়
বিজ্ঞানকে কোনোভাবেই, কোনো অবস্থাতেই অস্বীকার করা যায় না। সমস্ত কিছুর মূলে বিজ্ঞান আছে। বিজ্ঞানকে অস্বীকার করে কুসংস্কারমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তবে এটাও ঠিক যে মুখস্থ করে বিজ্ঞানকে আত্মস্থ করা যায় না। বিজ্ঞানমনস্ক হতে গেলে যুক্তি, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ ইত্যাদি থাকতে হবে। তার জন্যই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেও অনেকেই বিজ্ঞানমনস্ক হতে পারেন না। স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অভাব দেখা যায়। কেউ কিছু বলে দিলেই সেটা না খতিয়ে দেখে বিশ্বাস করাটা মোটেই বিজ্ঞানমনস্ক ব্যাপার নয়। বিজ্ঞান অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ কিছু আবিষ্কার করেছে বলেই আমরা এর সুফল ভোগ করতে পারছি। এই যে বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে পারছি সেটাও বিজ্ঞানেরই দান। প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের কতইনা সুবিধে করে দিয়েছে।
বিজ্ঞান যা কিছুর ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত দিতে পারেনি হয়তো আগামীতে দেবে। কারণ অনেক কিছুই বহু আগে অজানা ছিলো, এখন বিজ্ঞানের দৌলতে জানতে পেরেছি আমরা। তাই বিজ্ঞানের উপর বিশ্বাস হারানো উচিত নয়। বিজ্ঞানই পারে এবং পেরেছে বিশ্বে সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিতে। তবে এর অপব্যবহার করে আমরাই বিজ্ঞানকে বদনাম করার চেষ্টা করি।
পরিশেষে এটাই বলার, বিজ্ঞানের ছত্রছায়ায় আমরা নিজেদের আরও উন্নত, বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলি যেন ভবিষ্যতের পথ আরও মসৃণ, আরও স্বচ্ছ হয়।।
আষাঢ়
✍️ চন্দন পাল
গ্রীষ্মেতে ঘাম ঘাম, গাছে গাছে, আম কাঁঠাল রোদ্দুর,
আষাঢ়েতে ঝিরিঝিরি, সব যেন, থেমে থেমে দে' দৌড়।
ভিজে যায় মাঠ ঘাট ঝোপ ঝাড় বড় গাছ,
ফুলে উঠে খাল বিল লাফ দেয় কত মাছ।
ফোটা ফোটা চুমু খেয়ে শিশু গাছ বেশ চুপ,
খুকুর তরী কেঁপে কেঁপে উঠোন জলে দেয় ডুব।
বাংলার ঋতু শোভায় শ্রাবণও আসবে, শ্যাম দেয়া জেগে।
নাগরিক সুখ দুঃখ নগরপাল দেখবে, জীবন বোধ মেখে।
সুখের নীড়
✍️সুধীর রায়
কোথা গেলে পাবে তুমি ছোট্ট সুখের নীড়?
এ দুনিয়ায় হিংসা, নিন্দা, হানাহানির ভীড়!
চায় না কেহ কারো ভালো, করে কানাকানি!
গুণের চেয়ে মন্দে বেশী, করে টানাটানি!
কে, কাকে জব্দ করবে, কৌশল খোঁজে ছলে!
সুখের নীড়ে দুঃখের আগুন ছড়িয়ে দেবে বলে!
তোমায় যদি নিঃস্ব করে দিতে পারে সে!
তার থেকে আর বেশী খুশী হবে বলো কে?
সত্য এখন দুর্বল হয়ে শুইয়ে কাঁদে ঘরে!
মিথ্যা বুলি দাপিয়ে বেড়ায়, শক্তি হয়ে ঝরে....
যাও না তুমি জাহান্নামে! কার কী আসে যায়?
তোমায় জব্দ করে সে বড় হতে চায়!
ঠকবাজদের এ দুনিয়ায় কোথা সুখের নীড়?
চৌদিকে তে হানাহানি ধান্দাবাজের ভীড়!
সব কিছু দেখে শুনে তাই তো মনে হয়,
দুঃখের নীড় খোঁজে পাবে, সুখের নীড় নয়!
দ্বন্দ্ব ভুলে যাও রে সবে,
হানাহানি আর নয়;
ভালোবাসার প্রাচীর গড়ো,
যেন, দুনিয়াটা শান্ত সুখের নীড় হয়।
অপেক্ষা
✍️সুবর্ণা চক্রবর্তি
আলিঙ্গনের তীব্র দহনে
নিকোটিনের ঘ্রান,
নকল কথার দামে হয় রকমফের
ধোঁয়ার কুন্ডলীরা বোকা বানায়।
ক্ষতরা জেগে আছে আজ ও
জবাবের অপেক্ষায়।
বোবা কান্নারা গুমড়ে কাঁদে
চিলেকোঠার ঘরে,
কথা ও সুর পৌঁছাতে পারেনি সেথা
দুরত্ব রয়ে গেছে.......
এক অর্ধ সমাপ্ত গল্প হয়ে।
বেঁচে উঠতে চায়
ফ্যাকাশে দিনগুলোকে রামধনুতে রাঙিয়ে।।
সুবর্ণা চক্রবর্তি
পুণ্যস্নান
✍️মায়া রানী মজুমদার
পৌষ সংক্রান্তির পূণ্যলগ্নে নদীর তীরে,
পূণ্যার্থীদের সদলবলে ভিড় হয় নীরে।
পূর্বপুরুষদের সদ্গতি লাভে করে তর্পণ,
বিনিময়ে ব্রাহ্মণদের করে দক্ষিণা অর্পণ।
যথাসাধ্য চেষ্টায় ব্রাহ্মণদের করে দান,
পাপ ক্ষয়ার্থে সবাই ভোরে করে পূণ্যস্নান।
দক্ষিণায়ণ থেকেই সূর্যের উত্তরায়ণে আগমন,
ধনুরাশি থেকে সূর্যের মকর রাশিতে গমণ।
মকরসংক্রান্তি বলেও দিনটিকে করে স্মরণ,
দান দক্ষিণা প্রদানেতে হয় পূণ্য সঞ্চয়ণ।
উত্তরায়ণে মৃত্যুতে পুণ্য, ভীষ্মের হল স্মরণ,
পিতামহ ভীষ্মের শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু বরণ।
পূণ্যার্থীরা পূণ্যের আশায় ভীড়ে,নদীর তীরে,
পুত্রার্থীরা পায় পুত্রধন, স্নান করলে নীরে।
মা গঙ্গা এই দিনেই মিশেছিলেন সাগরে,
পূণ্যলাভের আশায় তাই সবাই চলে ধীরে।
পূণ্যস্নানে যায় পূণ্য লাভের আশায় সবাই,
সবাই মিলে আস তাই, পূণ্য স্নানেই যাই।
এইদিনেই হয় নানা পিঠে পুলির আয়োজন,
সবাই মিলে বসে আনন্দেতে করে ভোজন।
স্বপ্নপূরণ
✍️অনিমেষ গোপ
বিদ্যা অর্জন অধ্যায় প্রতিকূল জড়িয়ে !
অসীম আশা নিয়ে নতুনে পদার্পণ।
নতুন স্বাদ গ্রহণে ভাগ্যের বিড়ম্বনা ।
একযুগ অবসানে নতুন স্বপ্ন!
ইচ্ছা শক্তিতে সৃষ্টি হল সাহস!
অসীম সাহসে শব্দ ভান্ডারে পাড়ি।
স্বপ্ন পূরণে সাদাসিধে জীবন যাপন।
প্রতিকূল তুচ্ছ করে শব্দের সন্ধানে!
ভক্তি-সাহসে শব্দ ভান্ডার মন্থন।
মন্থনের ফসল অমূল্য শব্দ।
বিনে সুতায় সৃষ্টি শব্দমালা,
অতি অবিলম্বে সমাদৃত।
ইচ্ছা শক্তিতে প্রতিকূল জয় করে,
সীমাহীন শব্দ ভান্ডার করে মন্থন।
বিধাতা অকৃপণভাবে দিয়েছে শব্দ।
আশিসে পেয়েছে অর্সিপাসম লেখনি।
পিছন-পানে দেখতে হয়নি।
প্রাতঃ - রজনী শব্দের খোঁজে ব্যাকুল।
শব্দগুচ্ছ বয়ে নিয়ে গেল,
স্বপ্নপূরণের সঠিক পথে।
স্বপ্নপূরণের জয়রথ
বায়ুর বেগে ছুটছে।
সীমাহীন গতির কাছে প্রতিকূল হেয়।
চলছে জয় উল্লাস,- স্বপ্নপূরণ !
নিদারুণ প্রেম
✍🏻পূজা মজুমদার
কি নিদারুণ সত্যি! আমি তোমায় ভালোবেসে ছিলেম...
দিন মাস ঘন্টার হিসেব না রেখে!
কি নিদারুণ সত্যি -
কতো সহস্রবার তুমি খুন হয়েছো
আমার চোখ-ঠোট-নাকে - চিবুকে!
কি নিদারুণ সত্যি -
আমরা কখনো বদ্ধ হইনে জীবনে
কতো রোগ-শোক-তাপ
তবুও বড় সাধ সেচ্ছা মরণে!
সত্যি যে বড় নিদারুণ -
হাজার রাত অথবা সহস্রদিন
শেষে কালান্তরে যাত্রা!
এক নশ্বর শরীর ছেড়ে অশরীরী জগতে-
চিনি কি তোমায়?
চেনো কি আমায়??
আত্মা কি কাঁপে বাতাসে?
এ কি নিদারুণ সত্যি,
আমি জন্মান্তরবাদ ভুলেছি ভালোবেসে।।
অনুভূতি
✍️অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী
শৈশবকালে মনে হয় শৈশবের বন্ধুবান্ধবরা ছিলো কত ভালো ।
খেলারছলে কত কোলাহলে
আনন্দের দিনগুলি কেটে গেলো।।
যেদিন থেকে বাল্যকালে হলাম পর্দাপন।
শৈশব ভুলে নতুনত্বে আবার আলিঙ্গন।।
শৈশবেরকালের বন্ধু যত পিছে গেলো ছুটে।
একের পর এক নতুন বন্ধু রোজ সকালে জুটে।।
বাল্যকালের বন্ধুরা সব ছিলো কত ভালো।
কটূ কথায় কভু তারা করত না মন কালো।।
একসাথে ছুটে যাইতাম জিতি কিংবা হারি।
সাত সমুদ্র তেরো নদী দিতাম মোরা পাড়ি।।
আস্তে আস্তে যৌবন যখন করলো আমায় গ্রাস।
নতুন সুরে চলল জীবন নতুন এক প্রয়াস।।
বন্ধু বান্ধব দূরে গেলো আসল প্রেম প্রনয়।
দুঃখের বোঝা বেড়ে গিয়ে সুখের হলো ক্ষয়।।
উন্মাদ পাগল মন জয় করতে চায় বিশ্ব।
বেলাশেষে সব হারিয়ে হলাম আমি নিঃস্ব।।
মাঝপথে পরিবারে সাথে কেটে গেলো দিন।
কর্তব্য আর দায়িত্ব মিলে বন্ধুত্ব বিলীন।।
হলাম যখন বৃদ্ধ আমি কেউ ছিলো না পাশে।
সবাই শুধু সময় করে একটু দেখতে আসে।।
জীবনর এই শেষ বেলাতে হলো অনুভূতি।
সম্পদহীনে দেবে না কেউ, একটু সহানুভূতি।।
বর্ষাকালের বৃষ্টি
✍️ডাঃ রূপক পোদ্দার
হটাৎ করেই ভাবতে থাকি যে মুষল ধারে বৃষ্টি হতে থাকবে।
শুকিয়ে যাওয়া আমার এই গ্রাম ও শহর আবার যে কবে ভিজবে বর্ষার বৃষ্টিতে।
শরীর বেয়ে অঝোরে ধারা কবে যে নামবে বৃষ্টি,
শুকিয়ে যাওয়া রক্ত ঠান্ডা হবে।
একই ছাদের তলায় এসে
ধনী গরীব কাঁপবে আবার,
সারা শহর জুড়ে তখন
প্রচন্ড বৃষ্টি হবে।
অবাধ্য সব প্রেমিক-প্রেমিকা যত ভালোবাসায় ফুটবে কবে,
দিন দুপুরে ভালোবাসার
ভীষণ রকম বৃষ্টি হবে।
কবে আবার বৃষ্টি হবে
ভীষণ রকম ভাবে আবার
নতুন প্রাণের সৃষ্টি হবে।
প্রিয় নজরুল
✍️ গোপাল বনিক
প্রিয় নজরুল
তোমায় দেখিনি, শুধু তোমার বাঙময়ী রূপ শুনেছি।
এই বন্ধ্যা মায়ের নিঃস্বব্দ কান্নার মাঝে তুমি বলেছিলে
"আমি সেইদিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না অত্যাচারীর খড়্গকৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না..."
হায় নজরুল,
তোমার সাম্যবাদী গান এখনো চার দেয়ালে ডুকরে কাঁদে।
ধর্মের ব্যাপারীরা এখনো মন্দির মসজিদে ষড়যন্ত্রের বোমা বাঁধে।
মনে পরে প্রিয় নজরুল, ওই দিন উচ্চস্বরে বলেছিলে:
"প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!"
হায় নজরুল,
তোমার 'কৈফিয়ত ' শোক প্রস্তাব এর মতোই
আজ শুধু দুই মিনিট নীরবতা পালন।
শুধুই মুখ ভরা বুলি আর ক্ষমতার আস্ফালন!
এসো নজরুল, ফিরে এসো
সর্বনাশের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে -
আমরা তোমার মুখেই শুনতে চাই শেকল ভাঙার গান।
হে নজরুল,
তোমায় প্রনাম, তোমায় প্রনাম।।
দূরত্ব
✍️সুচন্দ্রা ভট্টাচার্য্য
কাটানো সময়ের পরিমাণ যখন কমে যায়-
দূরত্বের বীজ বোনা তখনই শুরু হয়ে যায়।
সেই বীজের কোলে জন্মানো গাছের ছায়ায়-
একটা সুন্দর সম্পর্ক নিমেষেই হারিয়ে যায়।
হাজারো অভিমান আর ভুল বোঝাবুঝির ভিড়ে-
শক্ত দড়িতে মোড়া বন্ধন ও যায় ছিড়ে॥
ছেড়ে দিতে নেই সম্পর্ককে ভাঙনের ভিড়ে-
ফেরাতে হয় ভালোবাসায় গড়া মিলনের নীড়ে ॥
তোমাদের ও হবে একই পরিণতি
✍️শ্যাম মালাকার
নতুন সভ্যতার উষালগ্ন
সমাগত প্রায় ।
কিন্তু সংঘর্ষের সর্বনাশে
নতুন সভ্যতা ধ্বংসের প্রান্তে ।
সংঘর্ষ নয় ভারত,
সমন্বয় চায় ।
সঙ্গে সঙ্গে নেমে এলো ,
অতীযের অমোঘ প্রতিশোধ ।
এ প্রতিশোধ নহে ,
ছলনা ।
ঘৃনার অগ্নিতে দগ্ধ যে চীন ,
একথা ভুলোনা ।
জননীর দিকে যেই দিয়েছে আঁচ ।
করতে চীনাদের গুটিয়ে ভাঁজ,
তাগিয়ে জাওয়ান অস্ত্র কামান ,
শহীদ হয়েছে বীর জাওয়ান ।
জেগে উঠেছে সভ্যতার বুকে,
ভারত মায়ের শত সন্তান ।
বীর জাওয়ান ।
শেষ করো চীন রাজ ,
এই হিংসাত্মক বিশ্ব রাজনীতি ।
মনে রেখো চীনা জাওয়ান-
রক্তের বদলে রক্ত ,
তোমাদের ও হবে -
একই পরিণতি ।
সংঘর্ষ নয় -
ভারত সমন্বয় চায়।
জননীর বুকে সন্তানের রক্তে -
রাঙিয়েছো তুমি ।
সমন্বয়ের আশায়,
রুদ্ধ নিশ্বাসে ভারত দিন গুনছে ।
অনেক হয়েছে -
অনেক শুনেছে ,
অনেক ঝরিয়েছো রক্ত ।
ভারত মায়ের বীর সন্তান
এবার অনেক শক্ত ।
ভারত মায়ের বুকে অমৃত গঙ্গার মতো,
রক্তের ধারা বয়েছে ।
ভারত অনেক সহ্য করেছে ।
শেষ করো চীন রাজ -
এই হিংসাত্মক বিশ্ব রাজনীতি ।
মনে রেখো চীনা জাওয়ান ।
রক্তের বদলে রক্ত ।
তোমাদের ও হবে -
একই পরিণতি ।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)